মস্তিষ্ক যেভাবে বদলায়

[আগের লেখা: আমরা কিভাবে দেখি?]   যদি হঠাৎ দূর্ঘটনায় অন্ধ হয়ে যান, প্রিয় জগতটা দেখার জন্য কোন আশার আলো কি আছে আপনার সামনে?       ১. মস্তিষ্কের নমনীয়তা আপনার দুই-চোখের পেছনের পর্দায় রয়েছে সামনের দৃশ্যের উল্টো হয়ে থাকা এক জোড়া শীর্ণ প্রতিবিম্ব। সামনের দৃশ্য থেকে আলো চোখের রেটিনা-পর্দায় গিয়ে প্রতিবিম্ব গঠনের প্রায় সাথে সাথে, এক সেকেন্ডের চাইতেও কম সময়ে, সামনের ত্রিমাত্রিক জগতের জরুরী তথ্যে ভরপুর একটি বিস্তারিত দৃশ্য তৈরি হয় আপনার মস্তিষ্কে। আপনি দেখতে পান। এই দৃশ্য-প্রতীতির জন্যেই আমরা ক্রিকেট খেলায় বলে-ব্যাটে-সংঘাতে ছক্কা মারতে পারি, সন্ধ্যার আবছায়া অন্ধকারে পরিচিতদের চিনতে পারি, কেউ মুখ বরাবর তাকিয়ে থাকলে হঠাৎ চোখে চোখ ফেলতে পারি। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চোখ থেকে পাওয়া তথ্য মস্তিষ্কে দেখার অনুভূতি তৈরি করে তা বেশ জটিল। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণায়…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্কের কোথায় থাকো, সৃজনশীলতা?

[আগের লেখা: 'মগজ-ঘরে বসত করে কয়জনা?'] ফেব্রয়ারির বিকেলে একুশের বইমেলায় বাংলাএকাডেমি রাস্তার পাশে একদল আঁকিয়ে চেয়ার নিয়ে বসে থাকেন; তাদের সামনে গিয়ে বসলে আঁকিয়েরা আগ্রহীদের মুখায়ব চটপট এঁকে ফেলেন। আঁকিয়েদের মতোই যারা বাদ্যযন্ত্রে অচিন সুর তুলে ফেলেন কিংবা ঝরঝরে শব্দে নিটোল কবিতা লিখে ফেলেন – তাঁদের সৃজনের রহস্যময় ক্ষমতাকে মুগ্ধ আমজনতা সাধারণত খানিকটা সম্ভ্রমের দৃষ্টিতেই দেখি। এই সৃজনশীলতা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই আমাদের। সৃজনশীল মানুষদের অন্যরকম বলেই মনে হয়। সৃজনশীলতা যেন ভোজবাজী, জাদুকর তার টুপি থেকে বের করে আনলেন একটা ধবধবে সাদা খরগোশ। এটা কি কোন জন্মগত ক্ষমতা যেটা সবার থাকে না? সৃজনশীল মানুষদের মস্তিষ্ক কি ভিন্নভাবে গঠিত? আসলেই কি সৃজনশীলতা কোনরকম অদ্ভুত মন্ত্রপূত জাদু, নাকি অজস্র স্নায়ুকোষের প্যাঁচালো গিট থেকে এর উদ্ভব? মস্তিষ্ক ডান ও বাম দুই ভাগে বিভক্ত,…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্ক ও তার ধারণক্ষমতা

ধরুন আপনার বয়স ৪০ বছর। ঘটনাবহুল জীবনে আপনি নানা ধরণের অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন। আর সবই সংরক্ষিত হয়ে আসছে আপনার ঘাড়ের উপরের যন্ত্রটিতে! কিন্তু ঠিক ৪০ বছর ১৩ দিন ২৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডে আপনার মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেল। মানে এরপর থেকে আপনি কিছুই মনে রাখতে পারছেন না কারণ আপনার মস্তিষ্কের হার্ড ডিস্ক পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বিন্দুমাত্র জায়গা খালি নেই! ফলে আপনার জীবন হয়ে গিয়েছে স্থবির! উপরের কল্পনাটি কেবলই কল্পনা! আজ পর্যন্ত কারোও সাথে এমনটি হয় নি। কিন্তু আসলেই কি এমনটা হওয়া সম্ভব। এখন আপনি যদি বলেন একটা মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে x পরিমাণ। তাহলে ‘x’ পরিমাণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পর মস্তিষ্ক পূর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেই পরিমাণ তথ্য সংযুক্তির পর এ ধরণের ঘটনা সম্ভব! আমরা কিন্তু অনেকেই মজা করে বলি…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সিদ্ধান্তের ইতিবৃত্তঃ মস্তিষ্কের গোলোকধাঁধায়

দুপুরে ভাত খেতে গিয়ে আপনি হঠাৎ খেয়াল করলেন একটা পোকা আপনার প্লেটের চারপাশে ভনভন করছে। পোকাটির গায়ের রঙ এবং গতি উভয়ই আপনার প্রতিক্রিয়া নির্ধারন করতে পারে, পোকাটিকে আপনি মারবেন নাকি প্লেট ছেড়ে লাফ দিয়ে উঠে পরবেন! এখন যদি পোকাটি কালো আর হলুদ রংয়ের হয় আপনি বুঝে নিবেন যে এটা একটা মৌমাছি হতে পারে। মৌমাছি যেহেতু কামড় দিতে পারে আপনি প্রতিবর্তী ক্রিয়ার কারণে তাই হয়তো লাফ দিয়ে সরে দাঁড়াবেন অথবা হয়তো আপনি পোকার ভনভনানিতে বিরক্ত হয়ে ফু দিয়ে কিংবা কিছু দিয়ে বাড়ি দিয়ে পোকাটি দূরে সরাবেন। আপনি রঙ এবং গতি উভয় সম্পর্কেই সঠিক এবং একই ধারনা পাওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির ভিন্নতায় আপনার প্রতিবর্তী ক্রিয়াও ভিন্ন হয়ে গেলো। আমাদের মস্তিষ্ক এমন প্রাসংগিক সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র একটা হৃদস্পন্দনের সময় ব্যায় করে। রহস্য এখানেই! কিভাবে?…
বিস্তারিত পড়ুন ...

“মগজ-ঘরে বসত করে কয়জনা?”

কুসংস্কার জিনিসটা থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করলেও চিন্তা-ভাবনায় আধুনিক, বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী অনেকের মাঝে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের ভুল ব্যাখ্যা কিংবা ধারণা সহজেই বাসা বাঁধে। 'সহজেই' বাসা বাঁধা সম্ভব হওয়ার কারণ হলো এই কুসংস্কারেরা বিজ্ঞানের ছদ্মবেশ ধরে সামনে আসে। এসব কুসংস্কার অনেক সময সত্যের অপলাপ; প্রকৃত-তথ্য বিকৃত করে তৈরি। অনেকক্ষেত্রে এরা গঠিত হয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা-ফলাফলের অপব্যাখ্যা ও ভুল বিশ্লেষণ থেকে। তাই দেখতে-শুনতে আধুনিক বলে বেশিরভাগ সময় কোন প্রশ্ন ছাড়াই এদেরকে মেনে নেওয়া হয়। মস্তিষ্ক নিয়ে এমন বেশ কিছু 'বৈজ্ঞানিক' কুসংস্কার প্রচলিত আছে আমাদের মধ্যে। এর মধ্যে একটা জনপ্রিয় কুসংস্কার হলো বেশির ভাগ মানুষ মস্তিষ্কের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ ব্যবহার করেন, আর খুব প্রতিভাধরেরা সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের মতো ব্যবহার করতে পারেন। মস্তিষ্কের বাকি অংশটুকু নাকি সারা জীবন অব্যবহৃত থেকে যায়। প্রকৃত…
বিস্তারিত পড়ুন ...

তিন মস্তিষ্কের টানাপোড়ন

তখন অনুসন্ধিৎসু চক্রের আজীবন সদস্য মোস্তাক ভাইয়ের বাসা ছিলো ঢাকার দক্ষিণ মুগদাপাড়ায়। সেসময় তিনি বিড়ালছানা আর একটি কালনাগিনী সাপ পুষতেন। সাপটি থাকতো একুইরিয়ামে। সাপ কখনো দুধ-কলা খায় না। ওকে মাঝে মাঝে টিকটিকি খাওয়ানো হতো। আমি স্কুলে পড়তাম। ঐ বিড়ালছানা-র সাথে খেলা ও সাপ ধরার আকর্ষণে কোন কোন বিকালে চলে যেতাম মোস্তাক ভাইয়ের বাসায়। সাপটা ধরতাম লেজের দিক দিয়ে। ছোট সাপটি ধরলেই সে হাতকে পেঁচিয়ে ফেলতো। ওর সামনে আরেকটি হাত দিলে সে ছোবল মারার চেষ্টা করতো। বেশিরভাগ সাপের মতোই এটি ছিলো নির্বিষ। নির্বিষ হলেও ছোবল দেয়াটা ছিলো তার বিপদ-সময়ে প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থার অংশ। মোস্তাক ভাই বলতেন, বিড়াল পোষ মানলেও সাপ কখনো পোষ মানে না। কারণ সাপের পোষ মানানোর মতো কোন উন্নত মস্তিষ্ক নেই। সাপের মস্তিষ্ক আদিম, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও টিকটিকি-সরবরাহকারী প্রতিপালক চেনার কোন…
বিস্তারিত পড়ুন ...