ডাল্টনের চোখ :: বর্ণান্ধতার পরীক্ষা

রসায়নের বিখ্যাত পারমাণবিক  তত্ত্বের জন্মদাতা জন ডাল্টন। তিনি ছিলেন বর্ণান্ধ। তিনি সবুজ রঙ বুঝতে পারতেন না।
আমাদের অক্ষিগোলকের মধ্যে একরকম তরল পদার্থ থাকে। এ জৈব পদার্থকে বলে ভিট্রিয়াস হিউমার। জন ডাল্টন ভাবতেন, তার চোখের ভিট্রিয়াস হিমার অন্যদের মতো স্বচ্ছ নয় – নীল রঙের। এজন্যই তিনি বর্ণান্ধ।
মৃত্যুর পর কি হবে না হবে তা নিয়ে অনেকেই  উইল করে যান। জন ডাল্টন একটি অদ্ভূত ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মৃত্যুর পর যাতে তার চোখের ভিট্রিয়াস হিউমার পরীক্ষা করে দেখা হয় তা নীল বর্ণের কি না।
১৮৪৪ সালে ডাল্টনের মৃত্যুর পর তার এ ইচ্ছাকে সম্মানিত করা হয়। জোসেফ র্যানসম নামের একজন বিজ্ঞানী তার চোখ কাটেন। তিনি দেখেন, ডাল্টের ভিট্রিয়াস হিউমার অন্য সকলের মতোই স্বচ্ছ। এরপর র্যানসম ডাল্টনের চোখগুলো একটি পাত্রে রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষিত করে রাখেন। 
প্রায় দেড়শ বছর পর ইংল্যান্ডের আনবিক জীববিজ্ঞানীরা মাঠে নামেন। তারা ডাল্টনের চোখের রেটিনার নমুনা সংগ্রহ করেন। এ নমুনা থেেক তারা ডিএনএ বের করেন।
এই ফাঁকে একটু চোখ নিয়ে বলা যাক। চোখের মধ্যে দুই রকমের কোষ আছে। রড আর কোন কোষ। এর আলোকসংবেদী।  কোন বিশেষ রঙ চেনার জন্য বিশেষ ধরনের প্রোটিন লাগে। এদের বলে আলোক সংবেদী কণিকা। এ কণিকাগুলোর একটা অংশ হলো অপসিন নামক প্রোটিন।
অপসিন তৈরিতে ডিএনএ-র যে সজ্জা(জেনেটিক সিকুয়েন্স) দরকার হয়, তা বিজ্ঞানীদের জানা আছে। এই আগে থেকে জানা সজ্জা বিজ্ঞানীরা তুলনা করলেন ডাল্টনের ডিএনএ-র সাথে। বিজ্ঞানীরা দেখলেন, ডাল্টনের ডিএনএ-তে সবুজ বর্ণ বোঝার অপসিন তৈরির সজ্জা(জেনেটিক সিকুয়েন্স) অনুপস্থিত। এ কারনে জন ডাল্টন সবুজ রঙ বুঝতে পারতেন না।
জন ডাল্টন বর্ণান্ধতা নিয়ে যে অনুকল্প(হাইপোথিসিস) স্থাপনের মাধ্যমে যে পরীক্ষা শুরু  করেছিলেন, তা শেষ হলো মৃত্যুর দেড়শ বছর পর।
তথ্যসূত্র Lehninger Principle of Biochemistry

২ thoughts on “ডাল্টনের চোখ :: বর্ণান্ধতার পরীক্ষা”

আপনার মতামত

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

গ্রাহক হতে চান?

যখনই বিজ্ঞান ব্লগে নতুন লেখা আসবে, আপনার ই-মেইল ইনবক্সে চলে যাবে তার খবর।