কার্বন ট্রেডিং … মুক্তি নাকি ফাঁদ?

উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হয়ে উঠছে পৃথিবী। গলছে বরফ, বাড়ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের গড় উচ্চতা, বাড়ছে দূর্যোগ। যার প্রধান কারণ জলবায়ূ পরিবর্তন। কার্বন- ডাই- অক্সাইড, মিথেন, জলীয় বাষ্প, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন ইত্যাদি গ্যাসগুলো জলবায়ূ পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্যাস, যা গ্রীন হাউস গ্যাস নামে পরিচিত। আর প্রতিনিয়ত এ গ্যাসগুলো নিঃসরণ করে জলবায়ূ পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে শিল্পোন্নত দেশ গুলো। তাই ১৯৯৭ সালে কার্বন নিঃসরণ এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে স্বাক্ষরিত হয় কিয়োটো প্রোটোকল। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে এটি কার্যকর করা হয়। পৃথিবীতে গ্রীন হাউস গ্যাস কমানোর জন্য কিয়োটো প্রোটোকোল একটি আইনগত বাধ্যতামূলক দলিল। এই প্রোটোকোলে, শিল্পসমৃদ্ধ দেশ গুলোর জন্য গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণের একটি নির্দিষ্ট সীমা বিস্তারিত

বৃষ্টির পেছনের বিজ্ঞান [৪] (শেষ পর্ব)

তৃতীয় পর্বের পর থেকে।  শেষ গল্প: বিজ্ঞান কংগ্রেসের প্রস্তুতি কর্মশালা শুরু হয়েছে মে মাসে। সে উপলক্ষে বিজ্ঞান-প্রেমী স্বেচ্ছাসেবীদের দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়েছে। স্কুলে স্কুলে প্রস্তুতি কর্মশালার একটিভেশনের কাজে আমাদের এলাকায় এসেছিলেন আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ভাই [আমি উনাকে ভাই বলে ডাকি]। কাজ শেষে বিকেলে আমরা তিতাস নদীর পারে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আর যাওয়া মাত্রই আকাশ কালো করে সে কী হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি! পাশেই ছিল টিনের চালের আশ্রয়। আর সে টিনের চালাতে হয়েছিল “মন্দ্রসপ্তক”। টিনের চালা আছে কিন্তু বেড়া নেই। বৃষ্টির এতই তোড় যে আশ্রয়ের মাঝে এসে সবাইকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। ভিজলেও কারো খারাপ লাগা নেই। সবাই আনন্দ পাচ্ছে। সেই দৃশ্য আমার এমন ভাল বিস্তারিত

বৃষ্টির পেছনের বিজ্ঞান [৩]

বৃষ্টি : মেঘ মাদলে ভরা বাদলে …দ্বিতীয় পর্বের পর থেকে।  শিশির, কুয়াশা, তুষার: বায়ুমণ্ডলের উপরে সৃষ্টি হওয়া মেঘ আমাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে হলেও আমাদের হাতের কাছেই আছে মেঘের ছোট ভাই! কুয়াশা। বৃষ্টি, তুষার, কুয়াশা, শিশির এদেরকে আমরা আলাদা হিসেবে চিনলেও এরা আসলে একই জিনিস। এদের যেকোনো একটার ব্যাপারে জেনে গেলে সবগুলো সম্পর্কে জানা হয়ে যায়। আবহবিদগণ এই জিনিসটাকে বলেন Precipitation বাংলায় এর পরিভাষা হতে পারে বারিপাত। এই প্রেসিপিটেশনের কয়েকটা প্রকারভেদের মাঝে একটা হচ্ছে বৃষ্টি। আরেকটা কুয়াশা। শীতের সময়ে ভূমি তাপ বিকিরণ করে খুব দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ভূমির কাছাকাছি যে বাতাস থাকে সেগুলোও ভূমির সাথে সাথে ঠাণ্ডা হয়। ঠাণ্ডা হলেই ঘনীভূত হবার প্রবণতা দেখা যায়। আর বিস্তারিত

বৃষ্টির পেছনের বিজ্ঞান [২]

…প্রথম পর্বের পর থেকে।  বাতাসে ভাসমান পানির কণাগুলো যখন ঘনীভূত হবে তখন তার একটা আশ্রয় বা অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। নিচের বায়ুমণ্ডলীয় স্তর থেকে পানির কণা সহজে ঘনীভূত হতে পারে কারণ সেখানে অবলম্বন হিসেবে সমুদ্র কিংবা অন্য কোনো আধার আছে। উপরের স্তরে সমুদ্র নেই, গাছপালা নেই, মাটি নেই, বাড়িঘরের পৃষ্ঠ নেই, কিছু নেই। সেখানে আধার হিসেবে কাজ করে বায়ুতে মিশে থাকে ধুলাবালি। বায়ুর তুলনায় ধুলাবালি আসলেই হিসেবের বাইরে নগণ্য একটা জিনিস। কিন্তু নগণ্য হলেও সেটাই বৃষ্টি সংঘটনের মূল হোতা। পানি চক্রের যে ধারা না থাকলে মানুষের পক্ষে জীবন ধারণ করা সম্ভব হতো না সে পানি চক্র এক নিমেষে শেষ হয়ে যেত বিস্তারিত

বৃষ্টির পেছনের বিজ্ঞান [১]

বৃষ্টি : মেঘ মাদলে ভরা বাদলে “মেঘ মাদলে ভরা বাদলে বরষা বুঝি আসে ওই। জল বরণে তৃষিত মন ভিজিয়ে হাসে ওই।” বৃষ্টির সৌন্দর্যের দিক থেকে আমাদের বাংলাদেশের মানুষের মত ভাগ্যবান মানুষ মনে হয় পৃথিবীর আর কোথাও নেই। সব দেশে তেমন বৃষ্টি হয় না। প্রায় দেশেই তুষারপাত হয়। বরফে ঢাকা, কিংবা মাইলের পর মাইল মরুভূমি। আবার সব দেশে টিনের চাল নেই। বাংলাদেশের মানুষদের জন্য আশ্চর্য এক সমাবেশ ঘটেছে ফোটায় ফোটায় বৃষ্টি আর টিনের চাল। ঝমঝম করে যখন টিনের চালে বৃষ্টি পড়ে তখন যে কী স্বর্গীয় এক সুখানুভূতি হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বৃষ্টি এতোটাই পাগলকরা যে তার প্রেমে একজন পাকিস্তানিকেও বাংলাদেশে থেকে যেতে দেখা যায়। [১] বৃষ্টি ব্যাপারটা এতই সুন্দর মনোহর আর গ্রহণযোগ্য যে অনেক বিস্তারিত

ভূমিকম্পের বিজ্ঞান [৩]

…দ্বিতীয় পর্বের পর থেকে। কিভাবে বোঝে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল কোথায়: ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল কোথায় সেটি বের করতে বিজ্ঞানীরা অংকের সাহায্য নেন। অত্যন্ত চমৎকার একটি উপায়ে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নির্ণয় করা হয়। সিসমোমিটারে প্রাইমারী তরঙ্গ ও সেকেন্ডারী তরঙ্গ রেকর্ড হবার সাথে সাথে সময়ও রেকর্ড হয়। এ থেকে বোঝা যায় কোন তরঙ্গ কতটুকো দেরিতে এসে পৌছেছে। প্রাইমারী তরঙ্গ ও সেকেন্ডারী তরঙ্গের একটি নির্ধারিত বেগ আছে। সেকেন্ডারী তরঙ্গের বেগ প্রাইমারী তরঙ্গের প্রায় অর্ধেক[৬০%] । প্রারম্ভিক সময়ে কিন্তু দুটি তরঙ্গ একই সময়ে বিমুক্ত হয়। যাত্রা পথে একটু একটু করে তাদের মাঝে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। সিসমোমিটারে কত সময় পর দুটি তরঙ্গ ধরা পড়েছে সেটা হিসাব করে এই সময়ে বিস্তারিত

ভূমিকম্পের বিজ্ঞান [২]

….প্রথম পর্বের পর থেকে। যে স্থানে ভূমিকম্প উৎপন্ন হয় সে স্থানটা ভূ-পৃষ্ঠের যত কাছাকাছি হবে ভূমিকম্পের ভয়াবহতা তত বেশি হবে। প্রতিনিয়ত কত শত ভূমিকম্পই তো হয়, তার মাঝখানে অল্পপরিমাণই মানুষের জন্য অভিশাপ রূপে আবির্ভূত হয়। তার মানে বেশিরভাগ ভূমিকম্পই হয় ভূমির বেশ নিচে। একদম শতশত কিলোমিটার নিচে। ৭০ কিলোমিটার থেকে ৭০০ কিলোমিটারের মাঝে বেশিরভাগ ভূমিকম্পের সূত্রপাত হয়ে থাকে। এমনিতে ভূমিকম্প সংঘটনের সীমা ধরা হয় ৫-১১০০ কিলোমিটার। তার মাঝে বেশি সবচে বেশি হয় ৭০-৩০০ কিলোমিটারের মাঝে।[২] সবচে বেশি হওয়ার এই সীমানাকে ধরা যেতে পারে মাঝারি দূরত্ব। এই মাঝারি দূরত্বের দূরত্বের মাঝে যেগুলো অপেক্ষাকৃত দূরে সংঘটিত হয় সেগুলোর তীব্রতা আমরা অনুভব করতে বিস্তারিত

ভূমিকম্পের বিজ্ঞান [১]

মাস কয়েক আগে আমি আমার খাটের উপর বসে কিছু একটা কিছু একটা করছিলাম এমন সময়ে হঠাৎ করে মনে হল যেন খাটটা নড়ে উঠেছে। আমি যেন স্পষ্ট অনুভব করলাম চলন্ত ট্রেনের সিটে বসে থাকলে যেমন একধরনের দুলুনি হয় তেমন একটা দুলুনি বয়ে গেছে সামান্য সময়ের জন্য। তখন তখনই মনে মনে ভেবে নিয়েছিলাম এটা একটা ভূমিকম্প। টর্নেডো সাইক্লোন জলোচ্ছ্বাস বন্যা এসব দুর্যোগের আগাম খবর পাওয়া গেলেও ভূমিকম্পের আগাম খবর সাধারণত পাওয়া যায় না। ঘটনা ঘটে যাবার বেশ কিছুটা সময় পর জানতে পেরেছিলাম এটি আসলেই ভূমিকম্প ছিল এবং সেটি হয়েছিল সুদূর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। আমার শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ত্রিপুরা রাজ্য কাছে হলেও খুব বিস্তারিত