কাকতালীয় ঘাতক

মানুষকে আক্রমণ করার জন্য অণুজীবরা বিবর্তিত হয়েছে বলে আমরা ভাবি। তবে আমরা হয়তো আদিকাল থেকে চলমান যুদ্ধে বেসামরিক হতাহত ছাড়া অন্য কিছু নই।   ১. এইচ জি ওয়েলসের ক্লাসিক দ্য ওয়ার অফ দ্যা ওয়ার্ল্ডস (১৮৯৮) উপন্যাসে মঙ্গল গ্রহের প্রাণী কর্তৃক ইংল্যান্ড আক্রমণের আখ্যান পাওযা যায়। উপন্যাসটি কোন চনমনে বীরত্বপূর্ণ বিজয় দিয়ে শেষ হয় না, বরং দৈবভাবে গল্পের শেষ হয়। ভিনগ্রহের প্রাণী  তাপীয়-রশ্মি ও কালো-ধোঁয়া দিয়ে মানুষকে আয়ত্বে আনতে চায়। কিন্তু জয়ের একেবারে কাছাকাছি এসে তারা মারা যায়। মানববিহীন ধ্বংসস্তুপের লন্ডনে তাদের যন্ত্রগুলো অচল হয়ে পড়ে। পাখিরা তাদের পচা দেহাবশেষ ঠোকর দিয়ে খায়। তাদের এই হঠাৎ-পতনের কারণ? ব্যাক্টেরিয়া। উপন্যাসের বেনামী কথক বিস্তারিত

প্রাণ-রসায়নের নন্দন-কানন

জীবনের উদ্ভব কিভাবে হলো বুঝতে হলে আমাদের প্রচলিত ধারণা বদলিয়ে প্রাণকে আণবিক শক্তির প্যাটার্ন হিসেবে দেখার দরকার হতে পারে   ১. ১৯৮৩ সালে গ্লাসগোতে এক উষ্ণ বসন্তের বিকেলে যখন তার এগার বছর বয়সী ছেলে একটি খেলনা ভেঙে ফেলে, তখন মাইক রাসেল তাঁর অনুপ্রেরণার মুহূর্তটি খুঁজে পান। ওই খেলনাটি ছিলো একরকমের রাসায়নিক বাগান। জিনিসটা মূলত প্লাস্টিকের একটি ছোট ট্যাঙ্ক। সেখানে একটি খনিজ দ্রবণে স্ফটিক-বীজ রাখা হলে স্টেলেগমাইট[১]-সদৃশ লতানো টেনড্রিল[২] বেড়িয়ে আসে। বাইরে থেকে এসব টেন্ড্রিল দেখতে নিরেট মনে হয়। তবে খেলনটি ভেঙে যাওয়ার পর এরা তাদের প্রকৃত গঠন উদ্ঘাটন করলো: প্রতিটি টেন্ড্রিইল আসলে অজস্র ফাঁপা নলের জালিকার সমাহার। অনেকটা পানীয় খাওয়ার বিস্তারিত

জীবজগতে ধর্ষণ: একটি বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট

[পাঠ-সতর্কতা: ‘ধর্ষণ’ একটি অপরাধমূলক যৌন আচরণ এবং সামাজিক, আইনগত ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই প্রবন্ধ কোনোভাবেই ‘ধর্ষণ’ এর পক্ষে নয় এবং একে উৎসাহিত করে না। ‘ধর্ষণ’ ব্যাখ্যার নিমিত্তে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান এবং নৃবিজ্ঞানের সমন্বয়ে কিছু তথ্য, তত্ত্ব এবং অনুসন্ধান উপস্থাপন করে মাত্র। পাঠককে ‘ধর্ষণ’-এর ক্ষেত্রে সামাজিক মূল্যবোধকে অবিকৃত রেখে এই প্রবন্ধ পাঠ করার জন্যে অনুরোধ করা হলো।] উৎসর্গপত্র অভিজিৎ রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ঠিক তিন বছর আগে এরকম এক রাতে (ছাব্বিশ ফেব্রুয়ারি, ‘দু হাজার পনেরো) আচমকা তাঁর মৃত্যু সংবাদ পেয়েছিলাম। বইমেলা থেকে ফেরার পথে অসম্ভব প্রতিভাবান এই মানুষটা খুন হয়ে গেল। প্রকাশ্যে, জনসম্মুখে; অথর্ব পুলিশ প্রহরার আশেপাশে। এখন আমরা বিস্তারিত

অনুকরণ ও টিকে থাকার লড়াই

চিত্রঃ আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে টাইগার কানাডীয় সলোটেইল শুঁয়াপোকা। উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটা শুঁয়াপোকা। নাম টাইগার সলোটেইল (Canadian Tiger Swallowtail)।  এরা পাতার মাঝে বসে একটু একটু করে পাতাকে কেটে চলে। অনেক পাখিই এদেরকে ভোজনের জন্য সুস্বাদু খাবার হিসেবে উদরে চালান করে দেয়, আবার অনেক পাখিই এদের দেখা সত্ত্বেও এড়িয়ে চলে। এই ধরনের শুঁয়াপোকারা অসাধারণ একটি প্রতিরোধ ব ব্যাবস্থার মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করে চলে। গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন যে, এরা পাখিদের এমনভাবে ধোঁকা দেয় যেন পাখিরা মনে করে এটা একটা সাপ! এই শুঁয়াপোকারা তাদের শরীরে হলদেটে ও কালো রঙের সমকেন্দ্রিক[1] দুটি বৃত্তাকার ক্ষেত্র এমনভাবে বাড়িয়ে তোলে যেন দেখলে মনে হয় একজোড়া চোখ। হলুদ বলের বিস্তারিত

কোষীয় বিবর্তনে এন্ডোসিম্বায়োসিস

কোষ জীবদেহের একটা অপরিহার্য উপাদান এবং জীবদেহ গঠনের ক্ষুদ্রতম একক। বর্তমান পৃথিবীর সকল জীবই এক প্রকার কোষ থেকে বিবর্তন (Evolution) প্রক্রিয়ায় আজকের অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। এজন্য পৃথিবীর সকল প্রাণী বা উদ্ভিদ কোষ দ্বারা গঠিত। যদিও উদ্ভিদ বা প্রাণীর ক্ষেত্রে এই কোষের প্রকৃতি ভিন্ন আবার এককোষী এবং বহুকোষী প্রাণীদের ক্ষেত্রেও কোষের গঠন ভিন্ন। তাহলে এখানে প্রশ্ন থাকে যে যদি এক ধরনের কোষ থেকেই পৃথিবীর সকল জীবের উদ্ভব হয় তাহলে জীবের ধরনভেদে কোষের এই ভিন্নতা কেন! সত্যি বলতে এইসব প্রশ্নের অতি উত্তম ব্যাখ্যা থাকলেও সেটা দিতে গেলে আমাকে বেশ কয়েকটি বই লিখে ফেলতে হবে যা আপাতত করা যাচ্ছেনা। এই লেখাতে আমি কোষীয় বিস্তারিত

জীববিজ্ঞানের জন্যে ভালবাসা ( বিবর্তনের ডানায় উড্ডয়নের ইতিকথা)

আমরা আসলে এমন একটা পৃথিবীতে বাস করি যেখানে বিস্ময়ের উপকরণের কমতি নেই। অসম্ভব বৈচিত্র্যের আধার সমুদ্রের তলদেশে কি অসাধারণ প্রাণিবৈচিত্র্য। অমেরুদন্ডী থেকে মেরুদন্ডী- বিচিত্রতার কমতি নেই একটুও। কিন্তু এই অসম্ভব বিস্ময়কর প্রাণস্পন্দনের কতগুলিই বা আমরা নিজের চোখে দেখেছি! কখনও দেখেছি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে কিংবা কখনও বা ডিসকভারির পাতায়। কিন্তু আমরা যেমন বায়ুসমুদ্রে ডুবে থেকেও ভুলে যাই বায়ুর সমুদ্রের কথা, তেমনিই আমাদের প্রতিদিনের বিস্ময়কর প্রাণচাঞ্চল্য, প্রাণস্পন্দন – সবকিছুই বিস্ময়ের উপকরণ। নিজের দেহের দিকে তাকালেই আমরা সেটি উপলব্ধি করতে পারব । আর এসকল বৈচিত্র্যের পেছনে ব্যখ্যা আর যুক্তি খুঁজতে আমরা যখন যাই, তখন আমাদের শরণাপন্ন হতে হয় বিবর্তনমূলক জীবনবিজ্ঞানের। বিজ্ঞানী থিওডসিয়াস ডবঝানস্কি বলেছিলেন- বিস্তারিত

ছেলেদের কেন স্তন আছে?

সকল পুরুষেরই স্তন-গ্রন্থি আছে। মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার সহ অন্য কোনো সমস্যা না হলে কোনো পুরুষই সাধারণত সে স্তন থেকে দুধ উৎপন্ন করতে পারে না। যদি সন্তান সন্ততিদের দুধ খাইয়ে সাহায্য নাই করতে পারে তাহলে কোন লাভের জন্য এই অপ্রয়োজনীয় জিনিষ সারাজীবন ধরে থেকে যায় প্রত্যেকটি পুরুষের মাঝে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে মানুষের ভ্রূণ দশার মাঝে। ভাল করে বললে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণে লাগা সময়কালের মাঝে। মানুষ স্তন্যপায়ী প্রাণী, আর প্রত্যেক স্তন্যপায়ী প্রাণীই হয়ে থাকে উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট, লোমশ, মেরুদণ্ডী, নিঃশ্বাস হিসেবে বায়ু গ্রহণ করে এবং অবধারিতভাবে সকল শিশুই স্তন পান করে বড় হয়। যেমন মানুষ, কুকুর, গরু ইত্যাদি। মায়ের গর্ভে মানব বিস্তারিত

বইঃ প্রাণীজগতের বিবর্তন, মানুষ যখন থাকবে না

বইটির দুইটি অংশ। মূল অংশটাকে গুছিয়ে আনতে প্রথম অংশটাকে লিখেছেন। প্রথম অংশটা পড়ে শেষ করে লেখককে খুব বড় মাপের বিজ্ঞান লেখক বলে মনে হল না। আমার অভিজিৎ রায়, ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর লেখা পড়ে অভ্যাস, তাই সম্ভবত এমন মনে হচ্ছে। আমি আগে ভাগেই উঁচু মানের লেখা পড়ে অভ্যস্ত হয়ে আছি, তাই এই বইটা কিঞ্চিৎ অন্য রকম লাগছে। এর আগেও এই লেখকের একটা বই “আগামী প্রজন্মের বিজ্ঞান” নামের একটা বই পড়েছিলাম। একই অবস্থা, একটু পড়ার পর আর এগিয়ে যাওয়া যায় না। বইটি মূলত মানুষ যখন থাকবে না, তখন মানুষের অনুপস্থিতিতে অন্যান্য প্রাণীদের কী ধরনের শারীরিক পরিবর্তন আসতে পারে তার কাল্পনিক বর্ণনা। তিনি বিস্তারিত