স্বাস্থ্য সেবায় আধ্যাত্মিকতার ভূমিকা

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পাঁচ মাসের ভিতরেই বিশ্বের প্রায় সমস্ত ভূখন্ড দখলে নিয়েছে অতিক্ষুদ্র ভাইরাস সার্স-করোনাভাইরাস-২। স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যুক্তরাস্ট্র মৃত্যুর মিছিলেও এগিয়ে। অন্যান্য ডিএন এ বা আর এন এ ভাইরাসের থেকে কম গতিতে নিজেকে পাল্টাচ্ছে এই ভাইরাস। দ্রুত গতিতে পাল্টালে এর বিধ্বংসী ভাব কমে আসতো কিনা তাও বলা যাচ্ছে না। রয়েছে তাপমাত্রা, আদ্রতা,বয়সজনিত ব্যধি এরকম অনেক বিষয় যা এর উপর প্রভাব ফেলছে। মানসিক ও শারীরিক ভাবে অস্থির হয়ে পড়ছে গৃহবন্দী মানুষ। বাড়ছে আতংক। কাজ বন্ধ থাকায় সঞ্চয় কমে আসা মানুষরা বের হতে বাধ্য হচ্ছে। আক্রান্তদের ভিতরে শতকরা হারে মৃত্যু কিংবা জটিল অবস্থার সংখ্যা টা খুব বেশী না বিস্তারিত

গড়গড়ার মাধ্যমে ভাইরাস ধুয়ে ফেলার বিজ্ঞান

শ্বাসতন্ত্রের যেসব ভাইরাস সাধারণ সর্দি, ঠান্ডা অথবা আরো মারাত্মক উপসর্গের জন্য দায়ী তারা মূলত নাক ও মুখ দিয়ে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। নাক ও মুখের গভীরে এই অংশকে ফ্যারিংক্স বলে যেটির সবথেকে উপরের অংশ ন্যাসোফেরিংক্স (নাকের গভীরের অংশ), এরপর অরোফেরিংক্স (মুখ গহ্বর এর ভিতরে) এবং হাইপোফেরিংক্স ( অরোফেরিংক্স এর আরো খানিকটা নীচে)। অন্যান্য ভাইরাসের মতো সার্স-কভ-২ এর প্রাথমিক সংক্রমণে এই অঞ্চল গুলোতে ভাইরাস অবস্থান করে এবং এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভাইরাস পাওয়া ও যায়। যার কারনে এখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়। ঠান্ডা কাশিতে লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া আমাদের ঘরোয়া চিকিৎসা তে একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এতে এই বিস্তারিত

কোভিড-১৯ শনাক্তে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড RT-PCR আসলে কতটা খাঁটি?

কোভিড-১৯ প্যানডেমিকের জন্য দায়ী সার্স-কভ-২ ভাইরাস শনাক্তকরণে বিশ্বব্যাপী রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ পলিমারেজ চেইন রিয়াকশন (RT-PCR) ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য রোগীর নাক বা গলার ভিতর থেকে নমুনা নেয়া হয় যার মধ্যে সক্রিয় ভাইরাস বিদ্যমান। এই নমুনা ল্যাবে এনে পরীক্ষায় কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথমে নমুনার ভাইরাস থেকে এর জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল বা RNA বের করে আনা। এরপর বেশ কিছু উপাদান ব্যবহার করে এইRNA এর একটি নির্ধারিত অংশ কে DNA তে রূপান্তরিত করা এবং সেই রূপান্তরিত DNA এর সংখ্যা বা পরিমাণ চক্র হারে বৃদ্ধি করা। শেষ পর্যায়ে এই DNA এর উপস্থিতি নির্দেশ করে নমুনাতে ভাইরাস টি উপস্থিত ছিল। তখন আমরা বলি ব্যক্তি টি সার্স-কভ-২ পজিটিভ।

সার্স-কভ-২ ভাইরাস RNA এর যেই অংশ টুকু কে নির্ধারন করে পুরো টেস্ট টি সাজানো হয় সেটি খুব সতর্কতার সাথে বাছাই করা হয়। যাতে ঐ অংশ টি কাছাকাছি অন্য কোন ভাইরাসের সাথে না মিলে যায়। কারন মানব শরীরে সার্স-কভ-২ ছাড়াও অন্য অনেক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েও সর্দি, কাশি বা জ্বরের মত উপসর্গ থাকতে পারে । তাই সার্স-কভ-২ ভাইরাসের RNA এর ঐ বিশেষ অংশ টি কোন ভাবেই যেন অন্য করোনাভাইরাস, সার্স ভাইরাস, মার্স ভাইরাস বা অন্য শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের সাথে মিলে না যায় সেটি নিশ্চিত করা হয়। ফলে এই পদ্ধতিতে খুব কম ক্ষেত্রেই সার্স-কভ-২ ভাইরাস ছাড়া ভুলক্রমে অন্য ভাইরাসের RNA শনাক্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। শরীরে সার্স-কভ-২ ভাইরাস না থাকার পর ও অন্য ভাইরাস এর RNA ভুলক্রমে শনাক্ত হয়ে সার্স-কভ-২ হিসাবে ফলাফল (যাকে বলা হয় ‘ফলস পজিটিভ’) খুব একটা আসে না।

করোনাভাইরাস (SARS-CoV-2) এর স্পাইক প্রোটিন কতটা নতুন সাজে সজ্জিত?

সার্স-কভ-২ কে সার্স করোনাভাইরাসের (SARS-CoV) সবচে কাছের বোন বলা যায়। এ দুই ভাইরাসের নিউক্লিওটাইড বা RNA তুলনা করে দেখা গেল তাদের ৭৯.৫% নিউক্লিওটাইড হুবহু মিলে যায়। দুটি ভাইরাস ই মানবদেহে কোষের যে রিসেপ্টর প্রোটিনে (ACE-2) সংযুক্ত হয়ে কোষের ভিতর প্রবেশ করে সেটিও এক। তাই তারা ধারণা করলেন হয়তো সার্সের জন্য ইতিমধ্যে যেসব ঔষধ মানুষের উপর পরীক্ষার শেষ ধাপে আছে সেগুলো হয়তোবা সার্স-কভ-২ এ কাজ করতে পারে। একদল বিজ্ঞানী সার্স ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন কে শনাক্ত করতে সক্ষম এরকম চার টি মনোক্লোনাল এন্টিবডি সার্স-কভ-২ এ প্রয়োগ করে দেখলেন। ফলাফলে একটি মাত্র এন্টিবডি কাজ করলো, বাকি তিনটি নয়। এ থেকে বোঝা গেলো যে নতুন এই ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের এপিটোপে কিছু পরিবর্তন ঘটেছে তাই বাকি এন্টিবডি গুলো তাকে সনাক্ত করতে পারছেনা।

কোভিড-১৯: এন্টিবডি কি কেবল সুরক্ষাই দেয়?

কিছু কিছু ভাইরাসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, ভাইরাস কে শরীরে নিষ্ক্রিয় করার বদলে এন্টিবডি কোন কোন ক্ষেত্রে ভাইরাস কে মানব শরীরের কোষে প্রবেশে সাহায্য করে যার ফলে ভাইরাসের সংক্রমন আরো গতি পায়। এটাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় এন্টিবডি ডিপেন্ডেন্ট এনহান্সমেন্ট (ADE) অর্থাৎ এন্টিবডির মাধ্যমে সংক্রমন বৃদ্ধি। ADE কিভাবে ঘটে সেটা পুরোপুরি না জানা গেলেও বেশ কিছু সম্ভাব্য কারন বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন। গবেষকরা এই ঘটনাটি ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এইচআইভি, ইবোলা এবং করোনাভাইরাসে ঘটতে দেখেছেন। উদাহরন হিসাবে ডেঙ্গু ভাইরাসের কথা বলা যায়। ডেঙ্গু ভাইরাসের বেশ কিছু সেরোটাইপ আছে, অর্থাৎ সেরোটাইপগুলোর এপিটোপে কিছু পার্থক্য থাকে তাই তাদের সংক্রমনে যে এন্টিবডি তৈরী হয় তাতে ভিন্নতা থাকে। কোন ব্যক্তিকে যখন প্রথম কোন একটি সেরোটাইপ ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমন করে তখন এর বিপরীতে এন্টিবডি তৈরী হয়ে শরীরে থাকে। পরে কোন সময় যদি ঐ একই ব্যক্তি অন্য কোন সেরোটাইপের ডেঙ্গু দ্বারা আক্রান্ত হন তাহলে আগের তৈরী হওয়া এন্টিবডি পুরোপুরিভাবে এই ভাইরাস কে নিষ্ক্রিয় করতে পারেনা। তখন এই এন্টিবডি ই ভাইরাস কে উল্টো শরীরে প্রবেশ করিয়ে সংক্রমন বৃদ্ধি করে। এবং এ কারনেই দ্বিতীয় সংক্রমনে রোগীর জটিলতা এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।