সংস্কৃতি, মানুষের বিবর্তনের আরেকটি শক্তি

একই বিষয়ে পূর্বপ্রকাশিত লেখার দ্বিতীয় পর্ব। এটিও অনুবাদ।  দ্বিতীয় পর্বের লেখাটি নিউ ইয়র্ক টাইমস এ প্রকাশিত   অন্যান্য  জীবপ্রজাতির মতই মানব প্রজাতিও দূর্ভিক্ষ, রোগ এবং আবহাওয়ার মত সাধারন প্রাকৃতিক নির্বাচন শক্তিগুলি (natural selection force, এর চেয়ে ভাল বাংলা খুঁজে পেলাম না) দিয়ে প্রভাবিত হয়ে তার বর্তমান রূপ পেয়েছে। সম্প্রতি, এরকম আরেকটি নতুন নির্বাচন শক্তি আমাদের গোচরে আসছে। চমৎকার এই ধারণাটি হল- গত প্রায় ২০,000 বছর ধরে মানুষ তার অগোচরেই নিজেদের বিবর্তনকে রূপ দিচ্ছে। মানুষের সংস্কৃতি, বৃহদাকারে ব্যাখ্যা করতে চাইলে বলা যায় অর্জিত আচরণ, এমনকি প্রযুক্তিও আমাদের বিবর্তনের নির্বাচনিক শক্তি। এই শক্তির উপস্থিতির প্রমাণ একটু আশ্চর্যজনক, কারন অনেকদিন থেকেই ভাবা হত যে সংস্কৃতির ভূমিকা মানব বিবর্তনে ঠিক বিস্তারিত

অণুলেখা ৪: বিবর্তন নিয়ে প্যাঁচাল

লেখাগুলি আগে ফেইসবুকে প্রকাশিত ১. বিবর্তন তত্ত্বের একটা সমস্যা ছিল এই প্রশ্ন- যদি বিবর্তনের ফলে বিভিন্ন জীবের উদ্ভব হবে তবে কিভাবে বিভিন্ন মহাদেশে একইধরনের প্রাণীর উদ্ভব হল? যেমন ব্যাঙের মত উভচর প্রাণী সবগুলি মহাদেশে দেখা যায় (এন্টার্টিকা ছাড়া)। আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ আটলান্টিক মহাসাগর দিয়ে বিভক্ত। কিন্তু ব্যাঙের ত্বক পারমিয়েবল বা ভেদ্য, ফলে তারা তো সাঁতার কেটে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যেতে পারবেনা। তবে কি ভিন্ন দুইটি যায়গায় একদম একইরকমের প্রাণীর উদ্ভব সম্ভব? সম্ভবত নয়। ডারউইন ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করেছিলেন এভাবে- হয় ব্যাঙগুলি কোনকিছুর সঙ্গে ভেসে ভেসে অন্য মহাদেশে গেছে অথবা আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকাকে যুক্ত করা কোন বিস্তারিত

সংস্কৃতি কিভাবে মানুষের জিনেটিক্স কে প্রভাবিত করেছে

লেখাটি বিবিসি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি লেখার অনুবাদ।  প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের দুধ খেতে পারার কথা নয়। আপনার পূর্বসূরীদেরও না। মাত্র ৯০০০ বছর আগে থেকে একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ দুধ খেয়ে হজম করতে পারছে, অসুস্থ না হয়েই। শিশুরা সবসময়েই এটা করতে পারতো, কিন্তু যখন থেকে আমরা দুগ্ধখামার শুরু করেছি কেবলমাত্র তখন থেকেই প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ দুধ হজমের ক্ষমতা অর্জন করেছে। এমনটা দেখা গিয়েছে যে যেসব সংস্কৃতির মানুষ দুগ্ধখামার তৈরি করেছিল এবং নিয়মিত দুধ পান করেছিল তাদের দেহে অন্য এলাকার মানুষের চেয়ে বেশি মাত্রায় ল্যাকটোজ হজম বা সহ্য করার এবং এ সংক্রান্ত অন্য জিন আছে। ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ কিভাবে মানুষের বিবর্তনকে প্রভাবিত করতে পারে তার শুধুমাত্র একটি বিস্তারিত

টিউটোরিয়াল: কিভাবে প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক গঠনের ছবি তৈরি করবেন

মাঝেমধ্যেই হয়তো ভাবেন কি করে দারুন সব রেজোলুশন এর প্রোটিনের গঠনের অসাধারণ সব ছবি তৈরি করেন বিজ্ঞান লেখকেরা। এমন সব ছবি যেগুলির মান এতই উচ্চ যে অনায়াসে বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ বা বিজ্ঞান ম্যাগজিনের প্রচ্ছদে ছাপিয়ে দেয়া যায়। আবার অনেকে বই লেখার সময় ছবি তৈরি করতে চান বা প্রেজেন্টেশানের জন্য নিজের মত করে প্রোটিন বা ডিএনএ’র ছবি বানাতে চান। আমাকে প্রায়ই মানুষ জিজ্ঞেস করেন কিভাবে এমন ছবি তৈরি করা যায়। আসলে এমন জিনিস শিখতে হয়েছে নিজের গবেষণা কাজের জন্য। তবে যখন শিখেছি তখন কোন ভিডিও ছিলনা কোথাও, ল্যাবের মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে এবং ম্যানুয়াল দেখে শিখেছি। এখন কিছু ইংরেজী ভিডিও পাওয়া যায় ইউটিউবে। আজকে বিস্তারিত

ইগ-নোবেল পুরষ্কার ২০১৩

    সবাই হয়তো জানেন- অদ্ভুত ধরনের আবিষ্কার বা কীর্তির জন্য প্রতিবছর  ইগ-নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয় ১০ টি ক্যাটাগরিতে। এটা আসলে চালু হয়েছিল আমেরিকাতে, আসল নোবেল পুরষ্কারকে ব্যাঙ্গ করে। Annals of Improbable Research নামের রসাত্মক ম্যাগাজিন প্রতিবছর আয়োজন এবং বিতরণ করে এই পুরষ্কার। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যান্ডার্স থিয়েটারে এই পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। মজার বিষয় হল আমি মাত্র গতকাল (১২ সেপ্টেম্বর) এই থিয়েটারের আশেপাশে দিয়ে ঘুরে এসেছি। কিন্তু তখন জানতাম না এই তথ্যটার কথা। আর ১২ তারিখ রাতেই এখানে ২০১৩ সালের পুরষ্কার বিতরণ করা হয়! পুরষ্কারের পরে এমআইটি তে পুরষ্কার বিজয়ীদের বক্তৃতার ব্যবস্থা করা হয়। আসুন জেনে নেই কি কি বিষয়ে, বিস্তারিত

আগুনখাকি দানবের সঙ্গে ১৭০ বছর

  (বলা হয় বিজ্ঞানকে তাড়া দেয়া যায়না। যদিও নিবন্ধ প্রকাশের প্রতিযোগিতা বা ফান্ডিং এর সুযোগ এই ব্যাপারটাকে ঠিক সাহায্য করেনা। কিন্তু কিছু কিছু বিজ্ঞানের পরীক্ষাকে চাইলেও তাড়া দেয়া যায়না। যেমন মানুষের জীবন-দৈর্ঘ্য নিয়ে গবেষণা বা মহাজাগতিক পরীক্ষা। এদের জন্য সময় দিতে হয়। এমনই দীর্ঘ সময় ধরে চলা কিছু পরীক্ষা নিয়ে এই সিরিজ। তৃতীয় পর্ব)   সর্বদাই সক্রিয় হলেও প্রতি কয়েক হাজার বছরে প্রচন্ড অগ্নুৎপাতে ফেটে পরে ভিসুভিয়াস পর্বত। ৭৯ খ্রীষ্টপূর্বে শেষবার যখন এটা ঘটেছিল তখন পম্পেই নগরীকে ঝলসে দিয়েছিল আগুনে; আর তারও আগে, ৩৮০০ বছর আগে এটা বর্তমান নেপলস শহরকে ধোঁয়া এবং গলিত পাথরে ঢেকে ফেলেছিল (সূত্র ২)। অগ্নুৎপাতের ফলে তৈরি বিস্তারিত

কলঙ্ক গুণছি ৪০০ বছর ধরে

(বলা হয় বিজ্ঞানকে তাড়া দেয়া যায়না। যদিও নিবন্ধ প্রকাশের প্রতিযোগিতা বা ফান্ডিং এর সুযোগ এই ব্যাপারটাকে ঠিক সাহায্য করেনা। কিন্তু কিছু কিছু বিজ্ঞানের পরীক্ষাকে চাইলেও তাড়া দেয়া যায়না। যেমন মানুষের জীবন-দৈর্ঘ্য নিয়ে গবেষণা বা মহাজাগতিক পরীক্ষা। এদের জন্য সময় দিতে হয়। এমনই দীর্ঘ সময় ধরে চলা কিছু পরীক্ষা নিয়ে এই সিরিজ। দ্বিতীয় পর্ব)   গত ৪০০ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা সূর্যের পৃষ্ঠদেশে দাগ, মানে সৌর-কলঙ্ক গুণছেন! অর্থাৎ যখন প্রথম গ্যালিলিও দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন তখন থেকেই। গ্যালিলিও এমনকি সূর্যের গায়ের দাগগুলি ছবি এঁকে লিপিবদ্ধ করে রেখে গেছেন। নিচের ছবিতে দেখুন গ্যালিলিওর নিজের হাতে আঁকা সৌর-কলঙ্ক। গ্যালিলিও থেকে নাসা- সূর্যের কলঙ্ক গোণা এটাই বিস্তারিত

৮৫ বছর, ড্রপগুলির অপেক্ষায়!

  (বলা হয় বিজ্ঞানকে তাড়া দেয়া যায়না। যদিও নিবন্ধ প্রকাশের প্রতিযোগিতা বা ফান্ডিং এর সুযোগ এই ব্যাপারটাকে ঠিক সাহায্য করেনা। কিন্তু কিছু কিছু বিজ্ঞানের পরীক্ষাকে চাইলেও তাড়া দেয়া যায়না। যেমন মানুষের জীবন-দৈর্ঘ্য নিয়ে গবেষণা বা মহাজাগতিক পরীক্ষা। এদের জন্য সময় দিতে হয়। এমনই দীর্ঘ সময় ধরে চলা কিছু পরীক্ষা নিয়ে এই সিরিজ। প্রথম পর্ব)   গত ২৩ আগষ্ট হ্রদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মারা গেলেন অষ্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মেইনস্টোন। এই বিজ্ঞানী বিখ্যাত কিন্তু অতি ধীরগতির এক পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন গত ৫০ বছর ধরে। ১৯৬১ সালে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার ২য় দিনে একটি ক্ষুদ্রাকার পরীক্ষার সংস্পর্শে আসলেন যেটা একটি শেলফের ভেতরে ৩৪ বছর বিস্তারিত