স্টিফেন হকিং-এর শেষ তত্ত্ব

গতবছর ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন স্টিফেন হকিং। তার প্রায় দেড় মাস পরে ২ মে, জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্সে (Journal of High Energy Physics) তাঁর একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি লিউভেনের কসমোলজির অধ্যাপক থমাস হারটগের সাথে যৌথভাবে লেখা এই গবেষণাপত্রে মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশের নতুন তত্ত্ব নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। গতবছরের জুলাইতে, হকিংএর ৭৫তম জন্মদিনে হারটগ, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সম্মেলনে নতুন তত্ত্বটি নিয়ে আলোচনা করেন। মহাবিশ্বের বিকাশের পূর্বের তত্ত্বটি হলো চিরস্থায়ী স্ফিতি (eternal inflation) তত্ত্ব। এই তত্ত্বের আলোকে বিগব্যাং এর পরবর্তীতে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ের মধ্যে মহাবিশ্ব একটি পর্যায়ক্রমিক সুচকীয় স্ফীতির (exponential inflation) মধ্য দিয়ে যায়। অতপর এই প্রক্রিয়া ধীর বিস্তারিত

ধনু মন্ডল (Sagittarius)

তারামন্ডলের আরেকটি বড় সৌন্দর্য হল এই ধনু। নামটা শোনার সাথেই ধনুক এর কথা মনে হবে। SAGITTARIUS একটি ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ তীরন্দাজ। ধনু মন্ডলকে দেখলে মনে হবে কোন সেন্টর কাউকে নিশানা করে তীর হাতে দাঁড়িয়ে আছে। এখন মাথায় আসতে পারে, সেন্টর কি! গ্রীক পুরাণমতে সেন্টর হল স্বর্গরাজ্যের এক অদ্ভুত প্রাণী যাদের উপরের অংশ মানুষের মত, আর নিচের অংশ ঘোড়ার মত। তারা বেশিরভাগ যোদ্ধা ছিল। তাদের মধ্যে কিরণ ছিল সবচেয়ে বড় ধনুর্বিদ। বয়োজ্যেষ্ঠ এই ধনুর্বিদের সমকক্ষ আর কেউ হতে পারেনি শত চেষ্টাসত্ত্বেয়। বড় বড় বীরেরা, একিলিস, হেক্টর, জ্যাসন, হারকিউলিস প্রমুখ ছিল তার ছাত্র। একদিন সেন্টরদের সঙ্গে যুদ্ধ করার সময় নিজের অজান্তেই বিস্তারিত

নক্ষত্রের তিন ধরনের মৃত্যু (জামাল নজরুল ইসলাম)

নক্ষত্র কীভাবে সৃষ্টি হয় তা সঠিকভাবে এখনো জানা যায়নি। মহাকাশে বিভিন্ন নক্ষত্রের মাঝে যে জায়গা তা শূন্য মনে হলেও আসলে তা শূন্য নয়। বরং সেখানে পাতলা এবং হালকা বাষ্পীয় মেঘ থাকে যা বেশিরভাগ হাউড্রোজেন দিয়ে তৈরি। এই বাষ্পীয় পদার্থ সব জায়গায় একই পরিমাণে থাকে না। কোথাও এই ঘনত্ব কম কোথাও বেশি। অধিকাংশ জায়গায় তার ঘনত্ব খুব কম, প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ১০^-১৯ কিলোগ্রাম। এক ঘনমিটারে পানির ওজন প্রায় ১০^৩ বা ১০০০ হাজার কিলোগ্রাম। অন্যভাবে বলা যায় যে, মহাকাশে এক ঘনমিটারে প্রায় ১০ কোটি পরমাণু থাকে। আমরা জানি যে, দুটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল নির্ভর করে দূরত্বের ব্যস্তবর্গের উপর এবং দুটি ভরের বিস্তারিত

গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং

মানুষের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর জন্ম দিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান। মহাবিশ্ব কী দিয়ে গঠিত, কীভাবে গঠিত হয়েছিল, এর সত্যিকার বয়স কত, এর ভবিষ্যৎ কী, কেনইবা মহাবিশ্ব দেখতে এরকম ইত্যাদি দার্শনিকসুলভ প্রশ্নগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানের চর্চার ফলেই জন্ম নিয়েছে এবং উত্তর পেয়েছে। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ এই ধরনের প্রশ্ন করে আসছে কিন্তু কেবলমাত্র গত শতকে আমাদের শক্তিশালী টেলিস্কোপ, কম্পিউটিং দক্ষতা ও নিরলস গবেষণা এই প্রশ্নগুলোর গ্রহণযোগ্য উত্তরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের বর্তমান উপলব্ধি নিচের পাই-চার্টটির মাধ্যমে প্রকাশ করা যেতে পারে। এই চার্টটি সমগ্র মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ ভর-শক্তিকে প্রকাশ করছে। আইনস্টাইনের ভর-শক্তি উপপাদ্য থেকে জানা যায়, ভর ও শক্তি উভয়ে আসলে একই। এই হিসেবে বিস্তারিত

ডার্ক ম্যাটার তৈরি হতে পারে মানবকোষের মত বড় অতিভারী কণা দিয়ে

সাধারণত যখন কোনো নতুন কণা আবিষ্কৃত হয় বা কণার অস্তিত্ব অনুমান করা হয়, সে কণাটি এত ক্ষুদ্র বিবেচনা করা হয় যে আকার কল্পনা করাই দুষ্কর হয়ে থাকে। সর্বশেষ গবেষণা ডার্ক ম্যাটারের সাথে কণার আকারের ধারণা বদলে দিয়েছে। গবেষকরা প্রস্তাব(hypothesis) করেছেন যে, ডার্ক ম্যাটার যে কণা দিয়ে তৈরি তা মানবকোষের এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ ভরের হতে পারে। আর একই সাথে যথেষ্ট ঘন যেন ছোট ব্ল্যাক হোল তৈরী হয়ে যায়। উল্লেখ্য, ডার্ক ম্যাটার আমরা দেখতে পাই না, কিন্তু স্পষ্টত এর প্রমাণ রয়ে গেছে প্রকৃতিতে। যদিও ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় পাঁচ-ষষ্ঠাংশ তবুও সত্যিকার অর্থেই আমরা জানি না ডার্ক ম্যাটার কী? কী দিয়ে বিস্তারিত

জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনন্য ইতিহাস গ্রন্থ “ইউডক্সাসের গোলক ও অন্যান্য প্রসঙ্গ”

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে লেখা অনন্য একটি বই। মানুষ জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত তখন থেকেই যখন থেকে মানুষ আকাশ দেখতে শুরু করেছে। আর আকাশ যেহেতু সর্বক্ষণের সঙ্গী তাই মানুষের বুদ্ধিমত্তার বিকাশের শুরু থেকেই মানুষ জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা করে আসছে। হতে পারে তারা ভুল কিংবা আংশিক সঠিক, তবুও জ্যোতির্বিজ্ঞানের শুরুটা তারাই করে দিয়েছিল। এটা নাহয় ধরে নেয়া গেল মানুষ পর্যাপ্ত বুদ্ধিমত্তার শুরু থেকেই আকাশ পর্যবেক্ষণ করতো কিন্তু কেমন ছিল তাঁদের সেই আকাশ চিন্তা? আর সেই মানুষগুলোই বা কারা? তারা পৃথিবীর কোথায় থাকতো? কেমন ছিল তাঁদের রীতিনীতি এইসব নিয়ে চমৎকার এবং তাক লাগানো আলোচনা পাওয়া যায় এই গ্রন্থে। আজকালকার প্রায় সকল পত্রিকায় থাকা রাশিচক্র কত বিস্তারিত

অপেক্ষার সমীকরণ! (অণুপোস্ট)

আমরা কি কখনো আমাদের সৌরজগৎ ছেড়ে অন্য কোনো নক্ষত্র ব্যবস্থায় পৌঁছাতে পারব? সূর্যের পরে আমাদের সবচেয়ে কাছের তারটিও আমাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে চার আলোকবর্ষ দূরে। অর্থাৎ আলোর গতিতেও যদি আমরা রওনা দিই তাহলে সবচেয়ে কাছের তারাটির ব্যবস্থায় পৌঁছাতে আমাদের সময় লাগবে সাড়ে চার বছর। আবার আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা সূত্র অনুযায়ী ভরযুক্ত কোনো বস্তুই আলোর গতিতে যেতে পারবে না, তাহলে তার শক্তি হতে হবে অসীম (আপাতত ওয়ার্মহোল জাতীয় বিশুদ্ধ তাত্ত্বিক ব্যাপার-স্যাপার উপেক্ষা করছি)। আমাদের সবচেয়ে দ্রুতগামী মহাশূন্যযানটির বেগই আলোর বেগের মাত্র ০.০২ %। এমতাবস্থায় সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রটিও এখনো সূদুর পরাহত। তাই এতদূর রাস্তা যদি পেরোতেই হয় তাহলে আগে-ভাগেই রওনা দিয়ে দেওয়া বিস্তারিত

শুরুর কথাঃ বড় বিষয় ছোট গল্প

গল্প বলতে আর শুনতে কার না ভাল লাগে। আর সে গল্প যদি হয় নিজেদের তাহলে তো কোন কথাই নেই। তাহলে চলুন শোনা যাক আমাদের নিজেদের গল্প। একটা বিখ্যাত উক্তি আছে যে, “আমরা সবাই নক্ষত্রের সন্তান”। তাহলে বলা চলে যে আমাদের গল্প মানেই হল নক্ষত্রের গল্প, আমাদের মহাবিশ্বের গল্প। আজ গল্প বলব আমাদের চারপাশের, গল্প বলব আমাদের আবির্ভাব আর সৃষ্টি নিয়ে; আমাদের উদ্ভব নিয়ে। কেমন ছিল শুরুটা? কি ছিল সেখানে? এর আগেই বা কি ছিল আর কিই বা থাকবে এর পরে? এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস; যদিও বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর এখনো আমাদের আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে অজানা! তবুও আপাতত যা বিস্তারিত