“বোবায় ধরা” বা ঘুম-পক্ষাঘাত কেন হয়

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। তখন আমি সপ্তাহদুয়েক ধরে অসুস্থ। ডাক্তারের সন্দেহ টাইফয়েড, পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। একদিন মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল। চারপাশ ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকার। টের পেলাম, বুকের উপরটায় যেন চেপে বসে আছে কেউ। হাত-পা-দেহ নাড়াতে পারছিনা একেবারেই। তখনই বুঝলাম আমাকে বোবায় ধরেছে। তবে একেবারেই ভয় পাই নি, কারণ আমি বোবায় ধরার বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা জানতাম। বোবায় ধরাকে বলে Sleep Paralysis। জানতাম, ঘুমের এই পক্ষাঘাত সাময়িক। একটু পরেই সেরে যাবে। ঠিক তাই হলো। কিছুক্ষণ পর আমার শরীর নড়াচড়া করার ক্ষমতা ফিরে এলো। আসলে ‘বোবায় ধরা’-য় কিছুই ধরে না। এটা বলতে গেলে ঘুমের সমস্যাও নয়। বরং আমাদের মস্তিষ্কে স্বপ্ন দেখা সম্পর্কিত প্রক্রিয়ার বিস্তারিত

স্বপ্ন কি ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী?

স্বপ্ন মরমী অর্থে পূর্বাভাস নয়। তবে স্বপ্নের ভিন্নধর্মী মানসিক পূর্বাভাসের শক্তি আছে।   ১. সম্ভবত বাইবেলে স্বপ্নে ভবিষ্যদ্বানীর সবচেয়ে বিখ্যাত কথা পাওয়া যায়। ফারাও (কুরআনের ফেরাউন – অনুবাদক) স্বপ্নে দেখেন তিনি নীল নদের তীরে দাঁড়িয়ে আছেন। সাতটি মসৃণ, তরতাজা স্বাস্থ্যবান গরু নদী থেকে উঠে আসলো। তারপর আরো সাতটি হাড্ডিসার, কুৎসিত গরু পিছু নিয়ে সামনের হৃষ্টপুষ্ট গরু সাতটিকে খেয়ে ফেলে। কিন্তু এ স্বপ্নের মানে কি? এখানে একটা ধাঁচ লক্ষ্যণীয়, তাই না? খারাপ ভালোকে অনুসরণ করে এসে গ্রাস করে ফেললো। আর সংখ্যা ছিলো সাত। ফেরাউন যোসেফকে (কুরআনের ইউসুফ (আ.) – অনুবাদক) তলব করলে তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যাটি ছিলো টানা সাত বছরের বিস্তারিত

দেহ-ঘড়ি টিক টিক ছন্দঃ সার্কাডিয়ান ক্লক

১. একটি চাবি মাইরা দিলা ছাইড়া জনম ভইরা চলিতেছে মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি কোন মিস্তরী বানাইয়াছে … আবদুর রহমান বয়াতির দেহতত্ত্বের গান। দেহ সম্পর্কে অপরিসীম কৌতুহল বাউলদের, সেই আগ্রহ বার বার ফিরে এসেছে তাঁদের গানের কথায়, সাধনায়, দর্শনে। বাউলদের গানের একটা বৈশিষ্ট্য হলো রূপকের ব্যবহার, যেমন এই গানে দেহ ঘড়িকে আবদুর রহমান বয়াতি তুলনা করেছেন ঘড়ির সাথে, সেখানে চাবি মেরে দেয়া আছে। এখনকার ঘড়ি যদিও ব্যাটারির শক্তিতে চলে, একসময় ঘড়িকে প্রতিদিন চাবি দিতে হতো। ঘড়িতে থাকতো একটা স্প্রিঙ, সেই স্প্রিঙকে ঘুরিয়ে যে বিভব শক্তি সঞ্চিত করা হতো চাবি ঘুরিয়ে, সে শক্তিকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে ঘড়ি ছন্দে ছন্দে সময় বিস্তারিত

ঘুম-চক্রের কাজের খোঁজে

It is a common experience that a problem difficult at night is resolved in the morning after the committee of sleep has worked on it. জন স্টেইনবেক (১৯০২-১৯৬৮), নোবেল জয়ী আমেরিকান সাহিত্যিক গত “ঘুম-গবেষণার আশ্চর্য-আরম্ভ” লেখায় আমরা ঘুমচক্র সম্পর্কে মোটাদাগে কিছু তথ্য জেনেছি। এখন তাহলে আগের প্রশ্নে ফেরত যাওয়া যায় — ঘুম কেন দরকার? অনেক সময় সহজ-সরল-ছোট প্রশ্নও মাথা ঘুরিয়ে দেয়। সোজা প্রশ্নের উত্তর দেয়া তাই আনায়সের কাজ নয়। আফ্রিকায় একটা প্রবাদ আছে — প্রতিবার এক-লোকমা মুখে দিয়ে একটা বড়ো হাতি একাই খেয়ে ফেলা সম্ভব। মানে একটা দুরূহ কাজ প্রথমে অসম্ভব মনে হলেও যদি কেউ সেটাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ বিস্তারিত

ঘুম-গবেষণার আশ্চর্য-আরম্ভ

”ঘুম কেন জরুরী” লেখাটিতে ঘুমের মতো জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় নষ্ট করা আপাত-দৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় একটা বিষয়ের কাজটা কি হতে পারে তা  আমরা সাদা চোখে বোঝার চেষ্টা করেছি। আমরা ঘুমানোর যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাই, তা ভালোমতো বুঝতে পারলে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এই প্রশ্নটার বাঁকা পথে আরো ভালো উত্তর পাওয়া যাবে, এরকম একটা সম্ভাবনার কথা উল্লেখ ছিলো গত লেখাটিতে।  উত্তর-খোঁজার আগে ঘুম-গবেষণা আর ঘুমের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। ইউজিন আরিয়েনস্কি ঘুম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার শুরুটা ছিলো বেশ উদ্ভট। উনবিংশ শতাব্দীতে বেশ কয়েকজন ফরাসী গবেষক  ঘুমের প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। ঘুমের মধ্যে কি ঘটে তার সবচেয়ে সরল পর্যবেক্ষণ হতে পারে কোন ঘুমন্ত মানুষের পাশে বিস্তারিত

ঘুম কেন জরুরী?

পূর্বের লেখা:  মস্তিষ্ক যেভাবে বদলায় আমরা জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় ঘুমের মধ্যে কাটাই। এটা কি সময়ের অপচয়? এ প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা একটু কঠিনই বটে। চলুন, কোন ভালো ব্যাখ্যার খোঁজে একটু ইতিহাস ঘেঁটে দেখি।   ১৯৫২ সাল। চলছিলো কোরিয়ান যুদ্ধ। সে সময় আমেরিকার সামরিক বাহিনী একটা অপ্রস্তুত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো। কারণ চলমান যুদ্ধে বিপক্ষীয় চীনা বাহিনী কর্তৃক আটক হওয়া আমেরিকান সেনাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি যোদ্ধা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যাবহারের মতো উল্টোপাল্টা সব যুদ্ধাপরাধের স্বীকারোক্তি দিচ্ছিলো। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার আমেরিকাকে ত্যাগ করে কম্যুনিজম গ্রহণ করে দলিলে স্বাক্ষর দিচ্ছিলো। বোঝাই যাচ্ছে যে তখন এসব ঘটনা চীনাদের পক্ষে খুব শক্তিশালী প্রচারণার মালমশলা হিসেবে বিস্তারিত

উন্নত স্মৃতিশক্তি প্রাপ্তি ও হতাশা দুর করার সহজ ও সুলভ উপায়

চমৎকার স্মৃতিশক্তি আমাদের সকলেরই কাম্য, এর জন্য আমরা কত আয়োজনই না করে থাকি, কিন্তু এতসব আয়োজনে হয়ত একটি পরিচিত নিত্যসঙ্গীর কথাই ভুলে যায়আবার কর্মব্যাস্ত ও ক্লান্তিকর একটা দিন অতিবাহিত করার পর আমাদের দেহ মন দুইয়েরই একটু আরাম প্রয়োজন। কারন আগামীদিন আর একটা নতুন কর্মস্পৃহা নিয়ে জীবন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু কোন জিনিসটা যোগাবে এই নতুন কর্মস্পৃহা এবং শানিত করবে আমাদের স্মৃতিশক্তি ? উত্তর হল ঘুম ! একটা ভাল ঘুম। আসুন তাহলে জেনে নেই, ঘুম আমাদের জীবন টাকে কিভাবে স্বাচ্ছন্দময় করে তোলে। স্মৃতিশক্তি উন্নয়ন জাগ্রত অবস্হায় যে কাজ আপনি অনুশীলন বা শিখতে চেষ্টা করেন, ঘুমের সময় তা আপনার স্মৃতি তে ভাল ভাবে বিস্তারিত