বিটি বেগুন : আসলেই কি ক্ষতিকর

পাঠসংখ্যা: 👁️ 550

সম্প্রতি বিটি বেগুন এর ব্যাবহার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন বিটি বেগুন যখন পোকা মাকড়ের জন্য বিষাক্ত, তাহলে নিশ্চয়ই সেটা মানুষের জন্য ও ক্ষতিকর হবে। ব্যাপারটা একটু আলোচনা করা যাক।

Bt অথবা Bacillus thuringiensis হচ্ছে একধরনের ব্যাক্টেরিয়া যারা বায়ো-পেস্টিসাইড হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এই জীবাণু একধরনের ক্রিস্টাল প্রোটিন প্রস্তুত করে যা বেশকিছু পোকামাকড়ের জন্য বিষাক্ত। কিছু নির্দিষ্ট পোকার জন্য প্রাণঘাতী এই বিষ মানুষের জন্য ও বিষাক্ত কিনা সেটা বুঝতে হলে এই বিষের কাজ করার প্রক্রিয়া টা বোঝা দরকার। বিটি’র ওই ক্রিস্টাল প্রোটিন যখন লেদা পোকার অন্ত্রে প্রবেশ করে তখন অন্ত্রের ক্ষারীয় পরিবেশে এক ধরনের জৈব রসের (protease enzyme) উপস্থিতিতে ক্রিস্টাল প্রোটিন টি ভেঙ্গে গিয়ে ডেল্টা -এন্ডোটক্সিন প্রস্তুত হয় যেটা লেদাপকার জম। এই ডেল্টা -এন্ডোটক্সিন কে গ্রহন করার জন্য লেদাপোকার অন্ত্রের কোষে এক ধরনের গ্রাহক রস (receptor) থাকে। ডেল্টা -এন্ডোটক্সিন যখন ঐ গ্রাহক এর সাথে যুক্ত হয় তখন লেদাপোকার অন্ত্রে ছিদ্র তৈরি হয়। এক পর্যায়ে পোকার মৃত্যু হয়।

বেগুন গাছের জিনে ঐ বিষ উৎপাদনকারী বিটি’র জিনটি ঢুকিয়ে বিটি বেগুন তৈরি করা হয়। লেদাপোকা যখন বিটির জিন বহনকারী বেগুন গাছের পাতা খায় তখন পাতার সাথে ঐ বিষ ও তার শরীরে প্রবেশ করে, যার ফলাফল হচ্ছে নিশ্চিত মৃত্যু।

এখন আসা যাক মানুষের কথায়। মানুষের অন্ত্রে যদি বিটি’র ক্রিস্টাল প্রোটিন প্রবেশ করে তাহলে কি হবে? প্রথমত, মানুষের অন্ত্রের পরিবেশ হচ্ছে অম্লীয়, লেদাপোকার মতো ক্ষারীয় নয়। যে কারনে ক্রিস্টাল প্রোটিন ভেঙ্গে ডেল্টা -এন্ডোটক্সিন তৈরি হবেনা, বরং অন্ত্রের গ্যাস্ট্রিক রসের উপস্থিতিতে ঐ প্রোটিন এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে।  আর যদি কোনভাবে ডেল্টা -এন্ডোটক্সিন নিজেই মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করে তাহলে ও ভয়ের কিছু নাই কারন মনুষ্য অন্ত্রে ডেল্টা -এন্ডোটক্সিন গ্রহন করার কোন গ্রাহক (receptor) নাই। এই বিটি টক্সিন যে মানুষ সহ অন্য স্তন্যপায়ীর জন্য ক্ষতিকর নয় সেটা শত শত বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত সত্য।

বিটি বেগুন বিষাক্ত- এই কথা শুধুমাত্র লেপিডপ্তেরা গোত্র ভুক্ত নির্দিষ্ট কিছু কিট পতঙ্গের জন্য প্রযোজ্য, স্তন্যপায়ীদের জন্য নয়।

Success of insect resistant Bt eggplant in Bangladesh opened door to GMOs  in the developing world | Genetic Literacy Project
বাংলাদেশে পোকামাকড় প্রতিরোধী বিটি বেগুনের সাফল্য উন্নয়নশীল বিশ্বের জিএমওগুলির জন্য দরজা খুলেছে। সূত্র

সবকিছুর উপকারি-অপকারি দিক থাকে। বিটি এন্ডোটক্সিন এর ও কিছু ক্ষতিকর প্রভাব আছে। অপকারী পোকা দমনের পাশাপাশি বেশকিছু উপকারী প্রজাতি ও বিটির কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশে বায়োলজিক্যাল কীটনাশক এর তুলনায় রাসায়নিক কীটনাশক এর ক্ষতিকর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শতগুন বেশী ভয়ংকর। এসব বিবেচনায় বাংলাদেশে বিটি বেগুনের গবেষণা এবং প্রয়োগ কে উতসাহিত করা উচিত।

বিজ্ঞাপন