মাইক্রোস্কোপের নিচের দুনিয়া (মাইক্রোফটোগ্রাফি)

অনেকদিন আগে মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে অ্যামেচার হাতে নিন্মমানের ক্যামেরা দিয়ে কিছু জিনিসের ছবি তুলেছিলাম। বিজ্ঞান ব্লগ হাতড়িয়ে দেখছি সেগুলো আপলোড করা হয় নি। কিংবা বিজ্ঞান ব্লগ যখন ওয়ার্ডপ্রেসের সাবডোমেইন ছিলো তখন আপলোড করা হয়েছিলো, পরে বাদ পড়েছে। আজ সেগুলো নিয়ে এই পোস্ট। আশা করি ছবিগুলো আপনাদের খারাপ লাগবে না।

১. Microchip: CDROM Drive থেকে খুলে নেয়া। এটি স্বচ্ছ চিপ হওয়ায় উপর থেকে ভিতরের কলকব্জা দেখা যাচ্ছে। চিপ সাধারণত অস্বচ্ছ এবং কালো রংএর হয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে বিশেষ রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করে উপরের কালো অংশটুকু দ্রবীভূত করে ছবি নেওয়া যায়।
যে কোন মাইক্রচিপের ভিতরে আসলে অনেক জটিল একটি সার্কিট খুব ক্ষুদ্রাকারে পুরে দেয়া থাকে। যদি মাইক্রোচিপের আবির্ভাব না হতো তাহলে হয়তো এর ভিতরের পুরো সার্কিটটি আলাদাভাবে বিশাল আকারে তৈরি করতে হতো। (দ্রষ্ট্যব্য: প্রথম ছবিটিও বেশ খানিকটা বিবর্ধিত। আঙ্গুলের মাপ মেলালে অনুমান করতে পারবেন।)

imteaz_bengalansis_1289148790_1-microchip_1

২. চিনির ক্রিস্টাল: প্রতিটি চিনির ক্রিস্টালের আকৃতি নির্দিষ্ট।

imteaz_bengalansis_1288720378_2-SUGAR

৪. খবরের কাগজ: চাররঙ্গা প্রিন্ট কথাটা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। যে কোন রঙ্গিন প্রিন্টেই আসলে কেবল মাত্র চারটি রঙ থাকে। এই চারটি রঙের combination এ বিভিন্ন রং তৈরি হয়। এই রংগুলো হলো: ফিরোজা(cyan), ম্যাজেন্টা(magenta), হলুদ(yellow), এবং কালো(black)।  মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখলে এই চারটি রং আলাদাভাবে চোখে পড়ে। প্রথম তিনটি রংই আসলে যেকোনো রং তৈরির জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তথাপি কালো আলাদা ভাবে ব্যবহার করা হয় কারন অন্য তিনটি রং দিয়ে তৈরি কালো খুব একটা উজ্জ্বল দেখায় না। আর তাছাড়া এতে খরচও হয় কম। নিচের ছবিটি একটি খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন কেটে নেওয়া।

imteaz_bengalansis_1289149585_2-Newsprint

৫. তুলা: তুলা আসলে সেলুলোজের তন্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।

imteaz_bengalansis_1289149674_3-cotton

৬. ইলেক্ট্রনিক ডিসপ্লে: আজকাল সব ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতিতেই রঙ্গিন ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়। নিচে কয়েকটি রঙ্গীন ডিসপ্লে অনেক গুন বিবর্ধিত করে দেখানো হলো।
. মোবাইল ফোন-১:

imteaz_bengalansis_1290968337_2-mobile_2

খ. ২.মোবাইল ফোন-২:(প্রথমটির ডিসপ্লের সাথে পার্থক্য খেয়াল করুন)

imteaz_bengalansis_1290968208_1-mobile_1

আসলে প্রতিটা রঙ্গিন ডিসপ্লেতেই রঙের উৎস হিসেবে মাত্র তিনটি রং ব্যবহৃত হয়। এগুলো হচ্ছে লাল, সবুল ও নীল। এই তিনটি রং কে মৌলিক রং বলা হয়। এই তিনটি রঙ্গের বিভিন্ন উজ্জ্বলতার সমন্বয়ে যে কোন দৃশ্যমান রং তৈরি করা যায়। প্রতিটি ডিসপ্লকে অনেকগুলো ক্ষুদ্রভাগে ভাগ করা হয়। একটি ক্ষুদ্রভাগে কেবলমাত্র একটি রং দেখা যায়। প্রতিটি ক্ষুদ্রভাগে লাল, নীল ও সবুজ দেখানোর জন্য এই তিন রংএর তিনটি আলোর উৎস ব্যবহার করা হয়। তিনটি আলোর উৎস মিলে একটি রং প্রদর্শন করে। দূর থেকে দেখলে এগুলোকে একটি রংই দেখা যায়, কিন্তু কাছ থেকে বড় করে দেখলে পার্থক্য ধরা পড়ে। এবার আরও দুটি ছবি দেখুন:

গ. কম্পিউটারের CRT মনিটর: এই ক্ষেত্রে তিনটি রংএর একেকটি ইউনিক ত্রিভুজাকারে থাকে।

imteaz_bengalansis_1290968484_3-monitor

৪. টেলিভিশন:

imteaz_bengalansis_1290968568_4-tv

৭. পাথরের গুঁড়া:প্রতিটি পাথরের মাঝে অনেকগুলো অতি ক্ষুদ্রাকার ক্রিষ্টালের গুঁড়া থাকে। এই ক্রিষ্টালগুলো এককভাবে স্বচ্ছ কিন্তু অনেকগুলো একত্রে যখন পাথর তৈরি করে তখন ক্রিষ্টালগুলো বিভিন্ন দিকে মুখ করে থাকে বলো আলো বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়। একারনে সামগ্রিকভাবে অস্বচ্ছ মনে হয়।

imteaz_bengalansis_1290968775_5-stone

৮. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট: বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট কিন্তু আসলে বেশ লম্বা। একধিক ধাপে পেঁচিয়ে খাটো করে রাখা হয়।

imteaz_bengalansis_1290968919_6-tungsten_filament

১ thought on “মাইক্রোস্কোপের নিচের দুনিয়া (মাইক্রোফটোগ্রাফি)”

আপনার মতামত

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

গ্রাহক হতে চান?

যখনই বিজ্ঞান ব্লগে নতুন লেখা আসবে, আপনার ই-মেইল ইনবক্সে চলে যাবে তার খবর।