জ্যোতির্বিজ্ঞান এর কিছু অভিজ্ঞতা

Share
   
পাঠ সংখ্যা : 370

একদিন এক বন্ধুর কাছে থেকে জ্যোতির বিজ্ঞানের খোশ খবর বই টি নিয়ে পড়তে শুরু করলাম । কতটুকু পড়ার পর মাথা আর কাজ করছিল না, তখন ১০ম শ্রেণিতে পড়ি, এবং মডেল স্কুল এর বিজ্ঞান ক্লাব টাকে গড়ার কাজ করছিলাম । তখন বিজ্ঞান নিয়ে মাথা ঘামাতাম শুধু পুরষ্কার পাওয়ার জন্য। তারপর একদিন কাকতালীয় ভাবে সেলিম ভাই এর সাথে দেখা ও কথা হল এবং আমি “অচ” তে নিজেকে যুক্ত করি। শুরু হয় বিজ্ঞান নিয়ে আলাদা করে পথ চলা।

জ্যোতির বিজ্ঞান বিভাগে কাজ করা শুরু হয় স্পেস টেকনোলজি নিয়ে। আমি সর্বোপরি স্বল্প জ্ঞান এর মানুষ হওয়ায় একদম গোঁড়া থেকে শিখতে হল। প্লেন উড্ডয়ন, বেলুন উড্ডয়ন, ঘুড়ি উড়ার পিছনে কারণ সব জানতে হল। যেহেতু জ্যোতির বিজ্ঞান বিভাগে আছি তাই আকাশ আমাকে চিনতেই  হল। এ ছাড়া কোন উপায় নেই । তারপর শুরু আস্তে আস্তে আকাশ চেনা । তবে কতটুকু চিনেছি জানি না কিন্তু আগা আকাশ দেখতাম সাধারন চোখে এখন দেখি কৌতুহল নিয়ে । ভাবতে অবাক লাগে এখনো আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছে জারা জানেই না যে সূর্যর মত তারাও আকাশে পূর্ব দিকে উঠে আর পশ্চিম এ অস্ত জায় । আমাদের রাশিমালা যে আকাশের তারার কিছু প্যাটার্ন তা অনেকে জানলেও কাগজের ঐ রূপক ছবির সাথে আকাশের তারার প্যাটার্ন এর যে বিরাট পার্থক্য তা জ্যোতির বিজ্ঞানের লোক ছাড়া খুব কম মানুষই জানে। আকাশের যে ৮৮টা তারা মণ্ডলের ভিতরে মাত্র ১২টি কে আমরা আমাদের রাশিমালা হিসেবে চিহ্নিত করি। বাকিগুল তো দূরের কথা ১২টি রাশির তারা মণ্ডলই অনেকে চিনেনা ।  সিংহ রাশি নামে তারা মণ্ডল আছে ২টি, সপ্তর্ষি তারা মণ্ডল বলতে ৭টি তারা একসাথে অনেকি বুঝিয়ে থাকে কিন্তু ৭টি তারা একসাতে থাকলেই টা সপ্তর্ষি হয় না।

প্রথম ঘটা করে আকাশ দেখতে গিয়েছিলাম গাজীপুর , ঐদিনই আকাশ ভালভাবে দেখার চক্ষুখড়ি হয়। তারপর মাঝে মাঝে বাসার ছাদে খাতা কলম নিয়ে উঠতাম আর কাছা কাছি তারার অবস্তা খাতায় বিন্দু বিন্দু দিতাম। তারপর ঘরে এসে বই দেখে তারা মণ্ডল গুলো মিলাতাম।

 

কর্কট রাশির তার গুলো যেভাবে থাকে

আবার হংশ তারা মণ্ডল যেভাবে থাকে

বৃশ্চিক রাশি তো আরও ভয়ানক

অনেকে জানেই না যে ধ্রুব তারা নিয়েও একটি তারা মণ্ডল গঠিত (ছোট ভাল্লুক) । খালি চোখে সবচেয়ে সুন্দর লাগে কালপুরুষ । লম্বা তারা মণ্ডলের ভিতর আছে ড্রাকো, হ্যাইড্রা । ক্যাসিওপিয়ার এম বা ডাবলু জাই বলি না কেন তাও যে সুন্দর কল্পনার ছবি তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না ।

এ পর্যন্ত যতবার আকাশ দেখেছি (আগেও দেখতাম তবে রোমাঞ্চ নিয়ে নোয়) তার ভিতর সবচেয়ে সুন্দর আকাশ ছিল পদ্মার পাড়ে আকাশ দেখা । ঐ রাতের আকাশ টা ছিল কাল কাপড়ের মধ্যে হীরা বসানোর মত। ২টি স্যাটেলাইট যখন একসাথে ক্রস করতে দেখলাম জীবন টাকে সার্থক মনে হল। ঐ রাতে অনুসন্ধিৎসু চক্রের সেলিম ভাই , আরাফাত ভাই, নিয়াজ ভাই , ইসমাইল ভাই সবাই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম । সারা রাত আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করি। ঐ রাতে প্রায় অনেকগুলো তারা মণ্ডল দেখেছিলাম । টেলিস্কোপ দিয়ে নিকটবর্তী গ্যালাক্সি এন্দ্রোমিডা দেখি ।

অনেকে বলতে পারে এতে লাভ কি ? আমি বলব প্রশ্ন কর্তার জন্য সময় নষ্ট আর আমাদের মত মানুষদের জন্য জ্ঞান আহরণের নির্মল আনন্দের জায়গা ।

ছড়িয়ে দেয়ার লিঙ্ক: https://bigganblog.org/2013/12/জ্যোতির্বিজ্ঞান-এর-কিছু/
0 0 ভোট
Article Rating
আলোচনার গ্রাহক হতে চান?
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

2 Comments
পুরানো
নতুন সবচেয়ে বেশি ভোট
লেখার মাঝে মতামত
সকল মন্তব্য