কার্বন ট্রেডিং … মুক্তি নাকি ফাঁদ?

Share
   

উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হয়ে উঠছে পৃথিবী। গলছে বরফ, বাড়ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের গড় উচ্চতা, বাড়ছে দূর্যোগ। যার প্রধান কারণ জলবায়ূ পরিবর্তন। কার্বন- ডাই- অক্সাইড, মিথেন, জলীয় বাষ্প, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন ইত্যাদি গ্যাসগুলো জলবায়ূ পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্যাস, যা গ্রীন হাউস গ্যাস নামে পরিচিত। আর প্রতিনিয়ত এ গ্যাসগুলো নিঃসরণ করে জলবায়ূ পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে শিল্পোন্নত দেশ গুলো। তাই ১৯৯৭ সালে কার্বন নিঃসরণ এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে স্বাক্ষরিত হয় কিয়োটো প্রোটোকল। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে এটি কার্যকর করা হয়।

পৃথিবীতে গ্রীন হাউস গ্যাস কমানোর জন্য কিয়োটো প্রোটোকোল একটি আইনগত বাধ্যতামূলক দলিল। এই প্রোটোকোলে, শিল্পসমৃদ্ধ দেশ গুলোর জন্য গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণের একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কিন্তু ধনী দেশগুলো তা মানবে কেন? তারা তখন কার্বন ট্রেডিং নামে নতুন একটি ধারণার জন্ম দেয়। যাতে শিল্পের অগ্রগতি রোধ না হয়, আবার গ্রীন হাউস গ্যাস গুলোও কম পরিমাণে নির্গত হয়। যেহেতু কার্বন নিঃসরণ একটি সীমার মধ্যে বেঁধে দেয়া হয়েছে, তাই যে দেশ সীমার চেয়ে কম নিঃসরণ করবে, সেই অনুপাতে তার নামে কার্বন ক্রেডিট জমা হবে। এই ক্রেডিট সে বিশ্ববাজারে বিক্রি করতে পারবে। আর যারা সীমার চেয়ে বেশি নিঃসরণ করবে, তারা সে ক্রেডিট কিনে নেবে। একেই বলা হয় কার্বন ট্রেডিং

Carbon_trading1

 

Loading...

এ চুক্তির ফলে উন্নত দেশগুলো অর্থের বিনিময়ে তাদের কার্বন নিঃসরণের বৈধতা পাচ্ছে। কার্বন নিঃসরণ তো কোনভাবেই কমছে না বরং কার্বন ক্রেডিট কিনে নিয়ে দায়মুক্তি পাচ্ছে এবং অবাধে কার্বন নিঃসরণ করে যাচ্ছে। অর্থাৎ গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ যেভাবে বাড়ছিল সেভাবেই বাড়ছে। প্রখ্যাত ব্রিটিশ জলবায়ূ-বিজ্ঞানী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইলস্ আ্যলেন এর মতে, “এই হারে বাড়তে থাকলে এটা নিশ্চিত যে আমরা আশঙ্কার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যাবো, যা ২১০০ সাল নাগাদ তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়িয়ে দেবে।

 

এবার আসি বাংলাদেশের কথায়। বাংলাদেশ জলবায়ূ পরিবর্তনের ঝুঁকির শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশ এর জন্য দায়ী নয়। কিয়োটো প্রোটোকোলে কার্বন নিঃসরণের যে মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার চেয়েও কম কার্বন নির্গত হচ্ছে। এদেশে আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুন্দরবন, যার কার্বন শোষণের ক্ষমতা অনেক বেশি। এজন্য সরকার সুন্দরবন ছাড়াও আরো ১১টি বনকে কার্বন বাণিজ্যের আওতায় নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করছে।

কার্বন ট্রেডিং জলবায়ূ পরিবর্তন মোকাবেলায় কোন ভালো উদ্যোগ নয় বরং এটি উন্নত বিশ্বের একটি পরিকল্পিত ফাঁদ। আপাতদৃষ্টিতে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ গুলো আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে বলে মনে হলেও, অদূর ভবিষ্যতে এ দেশগুলো জলবায়ূ পরিবর্তনের ঝুঁকিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

Loading...

সূত্রঃ

১. Change the System, not the Climateবইয়ের “Climate Change: A Marxist Analysis” প্রবন্ধ

২.http://www.indg.in/ruralenergy/environment/9959bf99f9aa9cd9b099f9959b2

৩. Md. Meftaul Islam এর “অভিনব কার্বণ বাণিজ্যে বিপর্যস্ত জলবায়ু”, ৩রা জুলাই, ২০১৩ “দৈনিক প্রথম আলো”।

৪. wikipedia.org/wiki/Carbon_emission_trading

Loading...

ফৌজিয়া আহমেদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশবিজ্ঞানে পড়ছি।

You may also like...

৫ Responses

  1. গুরুত্বপূর্ণ লেখা। ছোট হলেও জানতে পারলাম কার্বন ট্রেডিং আসলে কি। ধন্যবাদ তোমাকে।

  2. Fowzia Ahmed says:

    আপনাকেও ধন্যবাদ। আসলে এ বিষয়ে খুব বেশ আপডেটেড তথ্য পাইনি। তাই লেখাটি ছোট।

  3. লেখাটা পড়ে মনটাই খারাপ হয়ে গেল। এতসব কনফারেন্স টনফারেন্স, মিডিয়া কাভারেজ করে শেষমেশ এমন ফলাফল পেলাম আমরা? :-/

  4. ও হ্যা ভালো কথা, জিরো টু ইনফিনিটি নভেম্বরের সংখ্যাতে আপনার এই লেখাটি ছাপা হচ্ছে। ৭০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য 🙂

আপনার মতামত

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: