কার্ল সাগান : বর্হিজাগতিক প্রাণের সন্ধানে ছুটে চলা এক পথিক

Illustration by Jody Hewgill
পাঠসংখ্যা: 👁️ 379

“The surface of the earth is the shore of cosmic ocean.”

মানে, এই পৃথিবী হল এক মহাজাগতিক সমুদ্রের বেলাভূমি। 

কথাটা বেশ কাব্যিক, তাই না? কিন্তু এই বাক্যটির ভেতরে এই মহাজগতের এক চরম সত্য নিহিত রয়েছে।

সেই আদিকাল থেকেই বর্হিজাগতিক প্রাণ নিয়ে মানুষের আগ্রহের কোন কমতি নেই। অনেক নামকরা বিজ্ঞানীরাও এক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না। আজ যে মানুষটির কথা বলব, তিনি জীবনের বলা চলে বেশিরভাগ সময়ই ব্যয় করেছেন মহাকাশ গবেষণায় এবং বর্হিজাগতিক প্রাণের সন্ধানে। উপরের যে উক্তিটি লিখেছি, তার স্রষ্টা এই বহুগুণে গুনান্বিত মানুষটি। তাকে বলা হয় বিজ্ঞানভিত্তিক সভ্যতার প্রবক্তা।

মানুষটির পুরো নাম কার্ল এডওয়ার্ড সাগান, জন্মগ্রহণ করেন ৯ নভেম্বর ১৯৩৪ সালে। তিনি ছিলেন একাধারে একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী, কসমোলজিস্ট, মার্কিন মহাকাশ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, অ্যাস্ট্রোফিজিষ্ট এবং লেখক। 

বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সাগান, যাকে বিজ্ঞানভিত্তিক সভ্যতার প্রবক্তা বলা হয়।

নিউইয়র্ক শহরে তাঁর বর্ণিল কৈশোর কেটেছে। শহরের এক ছোট এপার্টমেন্টে তারা থাকতেন। তার বাবা ছিলেন একটি গার্মেন্টেসের কর্মী। তাদের পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থা প্রাচুর্যের ভেতর না থাকলেও দারিদ্রসীমার উপরে ছিল। সাগান স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ১৯৩৯ সালের এক রবিবারে তিনি বাবার কাছে অংক করছিলেন। বাবা তাকে পাটিগনিতে শূন্যের ভূমিকা বোঝাচ্ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আসলে বড় সংখ্যা বলে কিছু নেই। প্রতিটি সংখ্যার সাথে এক যোগ করলে নতুন আরেকটি বড় সংখ্যা পাওয়া যায়। 

এই কথাটি তাকে যেন নতুন করে ভাবায়। যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। শিশুসুলভ উৎসাহে তখনই তিনি ভাবলেন এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ১ থেকে ১০০০ পর্যন্ত লিখে ফেলবেন! কিন্তু লিখবেন যে, কাগজ তো কাছে নেই! বাবা তাকে বেশ কিছু কার্ডবোর্ড দিলেন লিখবার জন্য। এগুলো তিনি লন্ড্রিতে পাঠাবার জন্য রেখে দিয়েছিলেন। এক বসাতেই ছোট্ট সাগান লিখে ফেললেন অনেকগুলো সংখ্যা!

সাগানের বাবা মা বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী ছিলেন না। আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকা সত্ত্বেও সাগান যখন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হতে চাইলেন, তখন সানন্দেই তারা এই বিষয়টিকে মেনে নেন। যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে তাদের তেমন কোন ধারণা ছিল না৷ তারপরও তারা কিন্তু কখনই বলেন নি, সাগান যদি ডাক্তারী, ইন্জিনিয়ারিং কিংবা আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন তবে আর্থিক দিক দিয়ে আরও বেশি লাভবান হবেন। মানুষকে দোষ দিয়ে লাভ কি বলেন? আমার বাবা মাই তো সারাদিন বলতেন, তোকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে! এটা অবশ্য শুধু আমাদের দেশ নয়, সমগ্র উপমহাদেশের চিত্র। বাবা মায়ের এই সমর্থনের বিষয়টি সাগানের মনে দৃঢ় ভাবে রেখাপাত করেছিল, তাদের প্রতি প্রতিটি সাক্ষাৎকারেই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ছোট্ট কার্ল সাগান৷ কে জানত এই বাচ্চাটিই হবেন একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একজন?

আমরা রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে নক্ষত্রদের দেখা পাই। তিনিও একই ভাবে আকাশের দিকে তাকাতেন। ওই দূর আকাশের তারাদের দেখা পেয়ে বিস্মিত হতেন। ভাবতেন, এগুলো আসলে কি হতে পারে?তার বাবাকেও প্রশ্ন করেছিলেন আকাশের ওই তারাদের বিষয়ে। উত্তরে বাবা বলেছিলেন, ” বাছা, ওগুলো হল আকাশের আলো। ” কিন্তু সেই ক্ষুদে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এই উত্তরে সন্তুুষ্ট হতে পারেন নি। এক অজানাবোধ তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। তিনি শুধু তার উত্তর খুঁজে চলেছেন সারাটি জীবন ধরে। 

বিজ্ঞানকে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে দারুণ ভাবে জনপ্রিয় করেছেন। তার বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে অন্যতম ছিল, তিনি তেজস্থিয়তা ব্যবহার করে প্রাথমিক জৈব রাসায়নিক পদার্থ থেকে অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি করেন। তিনিই প্রথম মহাকাশে ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড এর মাধ্যমে একটি সর্বজনীন বার্তা পাঠান। 

ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড হল দুটো ফনোগ্রাফ রেকর্ড, যেগুলো ভয়েজার মহাকাশযানের সাথে ১৯৭৭ সালে মহাশূন্যে প্রেরণ করা হয়। এখানে যে ছবি এবং শব্দগুলো পাঠানো হয়েছিল, সেগুলো পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। এই রেকর্ড পাঠাবার মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল কোন বুদ্ধিমান  বহির্জাগতিক সত্ত্বা যদি এই রেকর্ড হাতে পায়, তাহলে তারা যেন পৃথিবীবাসীদের সম্পর্কে জানতে পারে। একে আমরা কিছুটা টাইম ক্যাপসুলের সাথে তুলনা করতে পারি। 

গোল্ডেন ভয়েজার রেকর্ড। 

অসম্ভব প্রতিভাধর এই মানুষটি বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা যেমন জ্যোর্তিবিদ্যা, জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যা, কসমোলজি, এস্ট্রোবায়োলজি প্রভৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। স্বীকৃতিস্বরুপ জিতেছেন অসংখ্য পুরষ্কার যেমন  ক্লুম্প রবার্টস পুরষ্কার (১৯৭৮), পুলিৎজার পুরষ্কার (১৯৭৮), অস্ট্রেড মেডেল (১৯৯০), ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্স পাবলিক ওয়েলফেয়ার পুরষ্কার (১৯৯৪) ইত্যাদি। 

মহাকাশ গবেষনায় তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মঙ্গলগ্রহের মাটিতে নামা পাথফাইন্ডার মহাকাশযানের নতুন নামকরণ করা হয় কার্ল সাগান স্বারক কেন্দ্র

কর্মজীবনে কর্নেল ইউনির্ভাসিটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মত পৃথিবীর বিখ্যাত সব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। তার প্রকাশিত সায়েন্টিফিক পেপার এর সংখ্যা ৬০০ এর বেশি, ২০ টির বেশি বই লিখেছেন মহাকাশের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর। তার জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে কসমস, দ্যা ড্রাগনস অব ইডেন, ব্রোকাস ব্রেইন, কন্টাক্ট, পেল ব্লু ডট খুবই বিখ্যাত। 

কার্ল সাগানের সবচেয়ে বিখ্যাত বই কসমস। এই বই থেকেই কসমস : এ পারসোনাল ভয়েস তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছিল।

১৯৮০ সালে আমেরিকায় একটি জনপ্রিয় টিভি সিরিজ প্রচারিত হয় যেখানে তিনি ছিলেন একাধারে সহকারী লেখক ও বর্ণনাকারী। বর্হিজাগতিক প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে কসমস: এ পারসোনাল ভয়েজ নামে টিভি সিরিজটি প্রকাশিত হবার সাথে সাথে অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করে। আমেরিকার টেলিভিশনে এটি ছিল সবচেয়ে বেশি দেখা টিভি সিরিজ। পৃথিবীব্যাপী ৬০টি দেশের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মানুষ অনুষ্ঠানটি তখন দেখেছে! ব্যাপারটি আপনি কল্পনা করতে পেরেছেন? 

আমাদের বাংলাদেশেও ১৯৮৫ সালের দিকে এই বিজ্ঞান ভিত্তিক টিভি সিরিজটি প্রচারিত হয়েছিল। সিরিজটি ২ বার অ্যামি এওয়ার্ড, পিবডি এওয়ার্ড এবং হুগো এওয়ার্ড লাভ করে। আমি মূলত এই সিরিজটি দেখেই এই মহান বিজ্ঞানী এবং তার বইগুলোর ব্যাপারে জানতে পারি। আমার বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহ এবং লেখালেখির এক অনুপ্রেরণার নাম কার্ল সাগান নামের এই মানুষটি।

তবে এই টিভি সিরিজটি তার কসমস বইটির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। সেই বইটিও অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করে। বলা হয় ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি পঠিত বিজ্ঞানের বইগুলোর ভেতর এটি অন্যতম। সেই সময় বইটির  প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি আমাদের বাংলাদেশেও বইটির অনুবাদ রয়েছে। তাকে এক্সোবায়োলজি এবং মহাজাগতিক প্রাণ সন্ধানের অন্যতম সংগঠন, সে টি  এর অন্যতম পথিকৃৎ মনে করা হয়। 

সাগান আমেরিকার মহাকাশ অভিযানের শুরু থেকেই সংযুক্ত ছিলেন। অ্যাপোলো মিশনের সময় তিনি নাসাতে ছিলেন, তাঁর অন্যতম দায়িত্ব ছিল চাঁদে এই অভিযান সম্পর্কে নভোচারীদের ধারণা দেয়া । সাগানের একটি অন্যতম আবিষ্কার হল সূর্যের নিকটবর্তী গ্রহ ভেনাসের উচ্চ তাপমাত্রা সর্ম্পকে ধারণা প্রদান। কারণ ১৯৬০ এর আগে এই ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের তেমন কোন ধারণাই ছিল না। সাগানই প্রথম ধারণা দেন যে শনির চাঁদ টাইটানে উপরভিাগে তরল মিথেনের সমুদ্র এবং বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপার মাটির সামান্য নিচেই সাগর থাকতে পারে। পানি থাকবার কারণে ইউরোপা হয়ত প্রাণীকূলের বসবাসের যোগ্য হতে পারে। সাগান যে ধারণা বা হাইপোথিসিস দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে মহাকাশযান গ্যালিলিও ইউরোপাতে সেই সাগরের পরোক্ষ অস্তিত্ব খুঁজে পায়।

তিনি সারাটি জীবন একক্ট্রাটেরিস্ট্রিয়াল লাইফ বা বর্হিজাগতিক প্রাণের খোঁজে কাজ করে গেছেন।

বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা মানুষগুলোকে অনুরোধ করেছেন রেডিও টেলিস্কোপের বার্তাগুলো শোনা এবং অনুধাবন করার জন্য। হয়তো সেই বার্তাগুলোতে সুপ্ত বুদ্ধিমান বর্হিজাগতিক প্রাণের সন্ধান পাওয়া যাবে। তিনি বলতেন, ” যদি শুধুমাত্র আমরাই থেকে থাকি, সেটি হবে এই বিশাল মহাশূন্যের ভয়াবহ অপচয়। “

তিনি বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক ড্রেককে অ্যারিসিবো বার্তা তৈরিতে সহায়তা করেন। এটি সম্ভাব্য এলিয়েনদের পৃথিবীর সম্পর্কে জানাতে ১৬ নভেম্বর ১৯৭৪ সালে মহাশুন্যে পাঠানো হয়। 

ভয়েজার ১ যখন তার প্রাথমিক মিশন শেষ করে সৌরজগতের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন নাসার নির্দেশে সেটি তার ক্যামেরা ঘুরিয়ে পৃথিবীর দিকে নির্দিষ্ট করে। সাগানের অনুরোধে তখন তোলা হয় মহাজাগতিক বেলাভূমিতে ছোট্ট বালির দানার মত পৃথিবীর একটি ছবি। এটিই বিখ্যাত পেল ব্লু ডট

এই নামে পরবর্তীতে এই অসাধারণ বই লেখেন।

সাগানের অনুরোধে ভয়েজার ১ থেকে পৃথিবীর এই ছবিটি তোলা হয়েছিল। যা পরবর্তীতে পেল ব্লু ডট নামে পৃথিবীব্যাপী বিখ্যাত হয়।

শেষ জীবনে ক্যান্সারের সাথে দুটি বছর তাকে লড়তে হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ২০ ডিসেম্বর মাত্র ৬২ বছর বছর বয়সে এই মহান বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়। 

তার কাজগুলো বির্তকের উর্ধ্বে ছিল এমনটা নয়। বিভিন্ন সময় অনেক বিজ্ঞানী তার গবেষণার সমালোচনাও করেছেন। তিনি সারাজীবন অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের ব্যবহারকে উৎসাহিত করেছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানকে তিনি আমাদের দোরগোড়ায় এনে হাজির করেছেন।

সামগ্রিকভাবে কার্ল সাগানের গবেষণা ও আবিষ্কার বর্তমান সময়ের জ্যোতির্বিদ্যা এবং বর্হিজাগতিক প্রাণ সন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তথ্যসূত্র ::

  1. https://www.smithsonianmag.com/science-nature/why-carl-sagan-truly-irreplaceable-180949818/
  2. https://www.goodreads.com/book/show/55030.Cosmos
  3. https://voyager.jpl.nasa.gov/golden-record/
  4. https://www.planetary.org/worlds/pale-blue-dot

এমরান আহমেদ
এমরান আহমেদ,পেশায় একজন চিকিৎসক।জন্ম ১৩ অক্টোবর,১৯৮৮ কুষ্টিয়ায়,নানা বাড়িতে।খুলনা বিদুৎকেন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক,খুলনা নৌবাহিনী কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ভর্তি হন খুলনা মেডিকেল কলেজে।পরে একটি স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কাজ করেছেন।বর্তমানে বি সি এস এ গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহকারী সার্জন পদে কুষ্টিয়ায় কাজ করেছেন। মহাকাশবিদ্যা,আর্কিয়োলজি নিয়ে তার প্রচন্ড আগ্রহ।মেডিকেল ছাত্রাবস্থায় তার লেখালেখির শুরু।বর্তমানে বিজ্ঞানচিন্তা,রহস্যপত্রিকা সহ বেশ কিছু স্বনামধন্য পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। মহাজাগতিক প্রাণের খোঁজে নামে তার একটি বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে।তাছাড়া মাইল এইট্টি ওয়ান এবং আইসফল নামে দুটি বই অনুবাদ করেছেন।প্রকাশিত হয়েছে গল্প সংকলন, এনাটমি ডিসেকশন রুম।প্রখ্যাত বিজ্ঞানলেখক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর সাথে যৌথ ভাবে সম্পাদনা করেছেন, এলিয়েন : কল্পনা ও বাস্তব।