বাজিছে দামামা জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের

অনেকেই জানতে চান জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হবে? শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি ঠিক কিভাবে নিতে হবে, তা নিয়ে এই লেখা।
smart kids learning cell structure
Photo by Katerina Holmes on Pexels.com

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এরকম কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। কিন্তু সেই শিক্ষাকে যদি আমরা আনন্দময় করে তুলতে না পারি তাহলে আমাদের শিক্ষাকে ঘিরে আমাদের জাতির প্রত্যাশা কখনোই পূরণ করা সম্ভবপর হবে না। শিক্ষাকে আনন্দময় করার এক কঠিন মিশন নিয়েই বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বে বিভিন্ন ধরণের বিজ্ঞানভিত্তিক সংস্থা ও সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখনো কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজই হলো বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে সহজলভ্য করে উপস্থাপনা করা এবং একে অবলম্বন করেই যেন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে একজন বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও দশের সেবা করতে পারে সে ব্যবস্থা করা। এছাড়াও বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও তাদের শিক্ষার্থীদের সাথে যাতে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়ে যেন নিজের ও দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারে সেজন্য মূলত অলিম্পিয়াডের সূচনা।

Bangladesh Biology Olympiad (bdbo)

বাংলাদেশে বর্তমানে যেসকল অলিম্পিয়াডগুলো নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে তার মধ্যে জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অন্যতম। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যারা এখন আমার এই লেখাটি পড়ছ তাদের কেউ কেউ হয়তো এই ম্যারাথন দৌড়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ। কিন্তু কিভাবে প্রস্তুতি নিবে তার পর্যাপ্ত গাইডলাইন খুঁজে পাচ্ছ না। তাদের জন্য আজকের এই লেখাটি। প্রথমেই বোমাটা ফাটিয়ে দেই। তাহলো- জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের জন্য রেজিস্ট্রেশন চলছে http://bdbo.org/  সাইটে। চলবে ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ। তাই তোমরা যারা রেজিস্ট্রেশন কর নি অতিদ্রুত রেজিস্ট্রেশন করে ফেলো কিন্তু!

এবারে আসি প্রস্তুতির বিষয়ে। যেহেতু অলিম্পিয়াডের দামামা বাজতে শুরু করেছে চারদিকে। আঞ্চলিক অলিম্পিয়াডেরও তারিখ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়ে গেছে। আর আমরা এখন যে প্রস্তুতিই নেব সেটাকে বলতে পারি শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। তাই এবার আসি তোমাদের সবার কমন প্রশ্নে: ভাইয়া শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি কিভাবে নেব?

১. পাঠ্যবই থেকে শুরু করো

সর্বপ্রথম যে টিপসটি দিবো সেটা থকে একেবারে নিজের পাঠ্যবইটি ভালো করে পড়বে। পুরো বইটি একেবারে রিডিং দিয়ে নেবে। এসময় থেকে বায়োলজির ইংলিশ টার্মগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া শুরু করবে। এরপর আস্তে আস্তে প্রতিটি বিষয় বুঝতে চেষ্টা করবে। কখনোই না বুঝে মুখস্ত করতে যেয়োনা কিন্তু!

২. দৃষ্টি রেখো উপর দিকে

নিচ তলায় বসবাসকারী হিসেবে উপর তলায় সবসময় তোমার দৃষ্টি থাকা জরুরি। এই যেমন, তুমি যদি জুনিয়রের হও তাহলে সেকেণ্ডারির বই সংগ্রহ করে পড়বে। আবার সেকেণ্ডারির শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই হায়ার সেকেণ্ডারির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই থেকে টুকটাক জ্ঞানার্জন করবে। এখন প্রশ্ন করতে পারো, তাহলে হায়ার সেকেণ্ডারীরা কি করবে? সহজ উত্তর! তারা নিচের ক্লাসের বইগুলো রিভিশন দিবে এবং আরো উচ্চতর কিছু বই পড়ার চেষ্টা করবে। তবে নিজের ঘর না গুছিয়েই পরের ঘরে হাত দিতে যেও না কিন্তু!

Amazon.com: Campbell Biology (Campbell Biology Series): 9780134093413:  Urry, Lisa, Cain, Michael, Wasserman, Steven, Minorsky, Peter, Reece, Jane:  Books

৩.  দ্য বাইবেল অব বায়োলজি এণ্ড আদার্স

Campbell Biology এর কথাই বলছি। এটাকে দ্য বাইবেল অব বায়োলজি বলা হয়ে থাকে। বইটি বি-শা-ল বড়! তাই বলে ভয় যেয়ো না কিন্তু! এ বইটি পড়ার জন্য কিছু নিয়ম-পদ্ধতি অনুসরণ করবে তোমরা। যেমন তোমার নিজের টেক্সবইয়ের কোন কনটেন্ট তুমি পড়লে। কোষ বিভাজন অধ্যায়টির কথাই ধরো। অধ্যায়টি পড়ার পর এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে ক্যাম্পবেল বায়োলজির Cell Division অধ্যায়টি পড়বে। তাহলে তোমার পক্ষে জীববিজ্ঞানের ঐ অধ্যায়টি বুঝা সহজ হবে। অবশ্যই সেন্ট্রাল থিম সম্পর্কে তোমার কনসেপ্ট ক্লিয়ার রাখতে হবে। আচ্ছা একটা কথা বলে নি বাংলায় যে ক্যাম্পবেল বায়োলজির সংস্করণ বের হয়েছে সেটায় তুমি মূল রস পাবে না। কিন্তু মূল বইয়ের সাথে বইটিতে যথাসম্ভব সামঞ্জস্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই সে বইটিও পড়তে পারো। তবে মূল বইটির উপর জোর দিবে বেশি। বিশেষত: ইউনিটগুলো পড়ার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে তোমাকে। বায়োকেমিস্ট্রির অধ্যায়গুলো ভালোভাবে না পড়ে সেল বায়োলজি বা জেনেটিক্স ধরা ঠিক হবে না আবার জেনেটিক্সের বেসিক না জেনে ইভোল্যুশন পড়তে যাবে না। আবার তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো আগে পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে চ্যাপ্টার ১-১০, ১২, ১৩-২১, ২২-২৬, ৩৫-৫৫। বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০-২৬ অনেক দরকারী জ্ঞান। এই অধ্যায়গুলো একবার শেষ করে আবার রিভিশন দিতে পারো। ক্যাম্পবেল বায়োলজির পাশাপাশি তোমরা মানুষ নিয়ে বিজ্ঞান, জীনজগতে আরেকবার ইত্যাদি বই দেখতে পারো। আরো কিছু বইয়ের তালিকা পেয়ে যাবে সৌমিত্র চক্রবর্তী স্যারের ‘জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড সংকলন’ বইটিতে।

৪. পুরাতন প্রশ্নে মিলতে পারে সমাধান

অলিম্পিয়াডে ভালো করতে হেলে আগের বছরের প্রশ্নপত্রগুলো দেখতে পারো। এরপর এ প্রশ্নপত্রের উপর নিজে নিজেই পরীক্ষা দিয়ে প্রস্তুতি ঝালিয়ে নাও। https://biolympiads.com/past-papers/ সাইটে এরকম অনেক প্রশ্ন পাবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ইত্যাদি দেশের জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রশ্নও দেখতে পারো। এতে অন্যান্য দেশের প্রশ্নপত্র সম্পর্কে ধারণা পাবে। এছাড়াও এখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রশ্নপত্রও পেয়ে যাবে।

৫. দেখো, বুঝো এবং শিখো

আজকাল বিভিন্ন ধরণের ইউটিউব চ্যানেলে জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতির জন্য ভিডিও দেখতে পারো। Somu’s Biology, 10 minute School, Crash Course, Khan Academy, অন্যরকম পাঠশালা ইত্যাদি চ্যানেলের ভিডিও তোমাকে প্রস্তুতি গ্রহণে এগিয়ে রাখবে অনেকধাপ। অন্যদিকে, শুধুমাত্র ইউটিউবে নয় বরং তুমি বিভিন্ন ধরণের সাইটেও ঢু মারতে পারো। সর্বপ্রথমে আমি পরামর্শ দিবো রেজিস্ট্রেশন করার পর মাঝেমাঝেই অনলাইনে ঢুকে https://biolympiads.com/ এবং http://bdbo.org/ সাইটে ঘনঘন ভিজিট করতে। কারণ এখানেই তুমি নিউজফিড ও আপডেট পেয়ে যাবে। এছাড়াও Quora ও StackExchange ইত্যাদি প্রশ্ন-উত্তরভিত্তিক সাইটেও তুমি যেকোন ধরণের প্রশ্ন করতে পারো। তবে শুধুমাত্র এ সাইটগুলোর লিংক দিলাম তার মানে এই নয় যে, শুধুমাত্র এ সাইটগুলোই তোমাকে সাহায্য করবে। বরং আরো অনেক অ-নে-ক সাইট আছে যেগুলো হয়তো ঘাটাঘাটি করলেই তোমরা পেয়ে যাবে।

৬. দেখো জীববিজ্ঞানের চোখে

এই যে, এতোগুলো কথা বললাম। তোমরা হয়তো ভেবেছ যে, শুধুমাত্র এগুলো অনুসরণ করলেই তোমাদের সব প্রস্তুতি এক্কেবারে সুন্দরভাবে ১০০% কুল্লু খালাস (সবশেষ) হয়ে যাবে। বরং সবচেয়ে মূল বিষয় হলো- তোমাকে চারপাশের পরিবেশকে দেখতে হবে জীববিজ্ঞান এবং এর থিওরির আলোকে। সকল কিছুকে এর আলোকে গবেষণা করতে হবে।

অনেক কথাই বলে ফেললাম মনে হচ্ছে। আজ আর নয়। সবার প্রস্তুতি হোক ভালো। বিজ্ঞানের সাথে থেকো। প্রথিবী বিজ্ঞানের হোক। জীববিজ্ঞানের জন্য ঘাঁটাঘাঁটিও শুরু হোক।

তথ্যসূত্র :

১. http://bdbo.org/

ক্যুইজ!

বিজ্ঞান সম্পর্কে আপনি কতোটা জানেন?

নিজেকে বিজ্ঞানপ্রেমী মনে করেন? তাহলে চলুন পরীক্ষা করে দেখা যাক! মাত্র ৫টি প্রশ্নের এই কুইজ দিয়ে মেপে দেখি আপনি কতোটা বিজ্ঞান ভক্ত?

রহমাতুল্লাহ আল আরাবী
রহমাতুল্লাহ আল আরাবী ২০০৭ সালের ২১ এপ্রিল পিরোজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস রাজশাহী জেলায়। তিনি রাজশাহীর স্বনামধন্য সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে তৃষ্ণাতুর সাময়িকীতে। বর্তমানে তিনি অনলাইনসহ আরো বিভিন্ন ধরণের পোর্টালে লেখালেখি করে যাচ্ছেন। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হওয়ায় বিজ্ঞান নিয়ে তার তুমূল আগ্রহ।