কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট : ভবিষ্যতের পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়া!

লেখাটি , বিভাগে প্রকাশিত

আমাদের চারপাশে খুঁজলে এমন মানুষ হয়তো পাওয়া যাবে না, যারা জীবনে একবার হলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করেনি। বর্তমানে মানুষের জীবনের বড় একটা অংশ দখল করে রয়েছে ইন্টারনেট। এই ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আমরা গান শোনা, ছবি দেখা থেকে শুরু করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের খবর পেয়ে যাই খুব দ্রুত এবং স্বল্প খরচে। তাই ইন্টারনেট আমাদের জীবনের একটি আশীর্বাদের মতোই। ইন্টারনেট এর কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে গুগলের কথা। সেখানে বিভিন্ন তথ্য সার্চ করার মাধ্যমে আমরা বিশ্বের খবরাখবর জানতে পারি। গুগলে তথ্য সার্চ করলে সেটি আমাদের অনেকগুলো তথ্যের উৎস প্রদান করে, যেখান থেকে আমরা পরবর্তীতে খুঁজে খুঁজে প্রয়োজনীয় তথ্যটি জেনে নিতে পারি। কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আমাদের কাছে এমন কিছু প্রযুক্তি রয়েছে যার সাহায্যে শুধু একটা সার্চের মাধ্যমেই সাজানো-গোছানো তথ্য পেয়ে যাই আমরা। হ্যাঁ, আজকে আমরা জানব সম্প্রতি আবিষ্কৃত কিছু চ্যাটবট সম্পর্কে।

চ্যাটবট হলো এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গঠন করা হয়। এটি একটি বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল যাকে অসংখ্য ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষিত করা হয়। ফলে কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মানুষের মতো করে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে; অর্থাৎ ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারে। যারা ইন্টারনেট নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করে তারা সবাই নিশ্চয়ই চ্যাটজিপিটি’র সাথে পরিচিত। চ্যাটজিপিটি’র মতো এরকম আরো কিছু চ্যাটবট রয়েছে যেগুলো মানুষের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। এসব চ্যাটবট মানুষের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আসুন জেনে নিই বর্তমান টেক জগতের জনপ্রিয় কিছু চ্যাটবট নিয়ে।

চ্যাটজিপিটি

আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের জগতে ঝড় তোলে বর্তমানের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। এটি চালু করেছে ওপেনএআই। ওপেনআই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কোম্পানি, যার একজন প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইলন মাস্ক। ২০১৫ সালে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইলন মাস্ক এবং স্যাম অ্যাল্টম্যানসহ আরও কয়েকজন। এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল ‘নিরাপদ এবং সুবিধার’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা। চ্যাট জিপিটি-র চ্যাটবটটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে যা ব্যবহারকারীর যে কোনো প্রশ্নের উত্তর গুগলের চেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। গুগলের সাথে চ্যাটজিপিটি’র প্রধান পার্থক্য হলো, আপনি যখন তাকে কিছু জিজ্ঞেস করেন, তখন এটি আপনাকে গুগলের মতো অনেকগুলো লিঙ্ক দেখায় না। তার পরিবর্তে সঙ্গে সঙ্গেই সেকেন্ডের মধ্যে সঠিক উত্তরটি আপনার সামনে রেখে দেয়। ফলে এটি ব্যবহার করে যেকোনো কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

চ্যাটজিপিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অ্যাল্টম্যান

চ্যাটজিপিটি’র পূর্ণরূপ ‘চ্যাট জেনারেটিভ প্রি-ট্রেইনড ট্রান্সফরমার’। এখানে জেনারেটিভ শব্দের অর্থ তৈরি করা, প্রি ট্রেন্ড অর্থাৎ প্রশিক্ষিত ট্রান্সফর্মার। চ্যাট জিপিটিতে ট্রান্সফরমার এমন একটি মেশিন লার্নিং মডেল, যা কোনো কিছুর বিষয়ে সহজেই বুঝতে পারে। এটি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন যাকে বলা হয় ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল টুলস’। চ্যাটজিপিটি’র প্রোগ্রামের বেশিরভাগ অংশই পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। 

২০২২ সালের ৩০ শে নভেম্বর ‘ওপেনএআই’ সবার জন্য চ্যাটজিপিটি’কে উন্মুক্ত করে দেয়। মুক্তি পাওয়ার মাত্র পাঁচ দিনেই চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা হয়েছিল ১০ লাখেরও বেশি। বর্তমানে চ্যাটজিপিটি’র দুইটি ভার্শন রয়েছে। একটি ফ্রি (চ্যাটজিপিটি ৩.৫) এবং অন্যটি পেইড (চ্যাটজিপিটি ৪)। অন্য সার্চ ইঞ্জিনের মতো চ্যাটজিপিটি ৩.৫ এখনো লাইভ বা সরাসরি ইন্টারনেটে কাজ করে না। ইন্টারনেটে জানুয়ারি ২০২২ সাল পর্যন্ত যেসব তথ্য রয়েছে, শুধু সেগুলোই তার তথ্যভাণ্ডারে রয়েছে। তবে চ্যাটজিপিটি ৪ একেবারে সরাসরি ইন্টারনেট থেকে তথ্য প্রদান করতে পারে। এছাড়াও এটি জিপিটি ৩.৫ এর তুলনায় অনেক নির্ভুল উত্তর প্রদান করে। পাশাপাশি বিভিন্ন ছবিও জেনারেট করতে পারে।

চ্যাটজিপিটি তৈরি করেছে “ওপেনএআই” নামক প্রতিষ্ঠান

চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে দৈনন্দিন জীবনে অনেক কাজ করা যায়। বিশেষ করে কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় টুলস। চ্যাটবটটি শিক্ষার্থীর পছন্দের যেকোনো ভাষায় সম্পূর্ণ প্রোগ্রাম লিখতে সাহায্য করতে পারে। যেকোনো সমস্যা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সমাধান করে দেয় এবং এই প্রোগ্রামিং লেখার পিছনে যে যুক্তি বা লজিক সেটিও উপস্থাপন করে। এছাড়াও একাডেমিক লেখাপড়ার ক্ষেত্রেও এটি অনেক সাহায্য করে। যেকোনো এসাইনমেন্ট কিংবা গবেষণাপত্র লেখার ক্ষেত্রে অহরহ এর ব্যবহার হচ্ছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমি আমার এই লেখাটার অনেকটা অংশই চ্যাটজিপিটি’র সাহায্য নিয়ে সম্পন্ন করেছি। বর্তমান সময়ে ইমেল, বিজ্ঞাপন, পণ্যের বিবরণ, ল্যান্ডিং পৃষ্ঠার অনুলিপি ইত্যাদি লেখা ও খসড়া তৈরি করতে সহায়তা করছে চ্যাটজিপিটি। এছাড়াও অনেকে চ্যাটজিপিটি’র সাথে পারস্পরিক কথোপকথনও সম্পন্ন করতে পারে। প্রায় মানুষের মতো করেই উত্তর দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এর। পাশাপাশি নতুন ক্রিয়েটিভ আইডিয়া তৈরি করতে পারে এটি। কাউকে কিছু উপহার দেওয়া, নতুন ব্যবসায়িক ধারণা বা ব্যবসা সম্প্রসারণের ধারণা, পণ্যের নাম এবং আরও অনেক কিছু করতে চ্যাটজিপিটি সাহায্য করতে পারে।

জেমিনি

আসুন জেনে নিই আরও একটি চ্যাটবট সম্পর্কে। বলতে গেলে একরকম চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবট ‘বার্ড’ চালু করেছিল গুগল। চ্যাটজিপিটির মতোই ‘বার্ড’ চ্যাটবট হিসেবে যেকোনো বিষয়ের উপর সাম্প্রতিক তথ্য দিয়ে থাকে। চ্যাটজিপিটি’র সাথে এর প্রধান পার্থক্য হলো, ‘বার্ড’ তথ্য প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে উক্ত তথ্যের উৎসও দেখায়। ২০২৩ সালের ২১ মার্চ গুগল এই চ্যাটবট’টি উন্মুক্ত করে দেয়। প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মানুষ ব্যবহার করতে পারলেও বর্তমানে এটি সারা বিশ্বের মানুষ ব্যবহার করতে পারছে।

২০২৩ সালের ২১ মার্চ গুগল বার্ড উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়

গুগলের এলএএমডিএ (ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ফর ডায়ালগ অ্যাপ্লিকেশন) প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ইংরেজি ভাষায় করা যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দ্রুত দিতে পারে বার্ড চ্যাটবট। এছাড়াও নির্দেশনা দিলে সুন্দর ছবিও তৈরি করে দিতে পারে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই জানিয়েছেন, গুগল এর সার্চ ইঞ্জিনেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করছে। বার্ডকে আরও উন্নত করা হচ্ছে। এতে থাকা সুবিধাগুলো চ্যাটজিপিটির জনপ্রিয়তাকেও ছাড়িয়ে যাবে। বার্ড এআই এর আপডেটেড ভার্সন হলো ‘জেমিনি এআই’। বার্ড এর পরবর্তী জেনারেশন হিসেবে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর গুগল ‘জেমিনি’কে লঞ্চ করে। 

বার্ড এআই এর আপডেটেড ভার্সন হলো ‘জেমিনি এআই’

জেমিনি’র তিনটি ভার্সন রয়েছে- আল্ট্রা, প্রো এবং ন্যানো। ন্যানো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে কাজ করবে যখন প্রো গুগলের পরিষেবাগুলোতে কাজ করবে। একই সময়ে, জটিল কাজের জন্য কোম্পানি আল্ট্রা প্রস্তুত করেছে। ‘জেমিনি’ অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চেয়ে ভাল কাজ করে। গণিত, আইন, ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে এটি মানুষের চেয়ে দ্রুত। এটি একই সময়ে অনেক ধরনের কাজ যেমন টেক্সট, অডিও, ইমেজ, কোড ইত্যাদি করতে পারে। তবে ওপেন এআই এর চ্যাটজিপিটি তা পারে না। গুগলের সিইও ‘সুন্দর পিচাই’ জানান,

“এখনও অবধি কোম্পানির সবথেকে বড় বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং কীর্তি এই জেমিনি। ৮ বছর ধরে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছি আমরা। জেমিনি বানানোর ক্ষেত্রে, গুগলের প্যারেন্ট সংস্থা অ্যালফাবেটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগ ডিপমাইন্ডের বড় অবদান রয়েছে।”

এছাড়া গুগল জেমিনির মাধ্যমে ব্যবহারকারী তাদের গুগল অ্যাকাউন্ট, জিমেইল অ্যাকাউন্ট, ইউটিউব এবং অন্যান্য পরিষেবাকেও আরও উন্নত করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সম্প্রতি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তাই গুগল এই টুলটিকে আরও ভালভাবে প্রশিক্ষিত করছে। আর যাতে এতে কোনও রকম ভুল না থাকে, সেদিকেও নজর রাখছে।

বিং এআই চ্যাটবট

চ্যাটজিপিটি’র মতো আরেকটি চ্যাটবট হলো মাইক্রোসফট এর ‘বিং এআই চ্যাটবট’। মাইক্রোসফট তাদের এই চ্যাটবট এ চ্যাটজিপিটি-৪ এর প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফলে এটি একেবারে সাম্প্রতিক তথ্য দিতে পারে। এছাড়াও চ্যাটজিপিটি-৪ এর মতো এটিও ছবি তৈরি করতে পারে। সব উইন্ডোজ কম্পিউটারেই ‘এআই কো-পাইলট’ হিসেবে বিং চ্যাটবট সংযুক্ত করে দিয়েছে মাইক্রোসফট। ফলে আলাদা করে ডাউনলোড কিংবা রেজিষ্ট্রেশন করার প্রয়োজন হয় না!

বিং এর সর্বশেষ ভার্সনটি খুবই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিং শুধু প্রাসঙ্গিক লিঙ্কগুলিই দেখায় না, এমনকি বিস্তারিত উত্তরও দেয়। ব্যবহারকারীরা তাদের জিজ্ঞাসা সম্পর্কে ভাল ধারণা পেতে বিং এর সঙ্গে কথাও বলতে পারবেন। যে কোনও প্রশ্নের আরও প্রাসঙ্গিক উত্তর সার্চ পেজের ডান দিকে দেখানো হয়।

বিং চ্যাটবট এ চ্যাটজিপিটি-৪ এর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে বলা হয়েছে, “এই পদক্ষেপটি ওয়েব বা তথ্য অনুসন্ধানে গুগলের আধিপত্যের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে কাজ করবে। উভয় টেক জায়ান্টের মধ্যে এআই যুদ্ধের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।”

লামা

গুগল,মাইক্রোসফট এর মতো বড় বড় কোম্পানি যখন একে অপরের সাথে প্রযুক্তিগত লড়াইয়ে ব্যস্ত ঠিক তখনই বাজারে নতুন চ্যাটবট উন্মুক্ত করে দেয় ‘মেটা’। সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির উদ্ভাবিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম লামা (Llama 2)। তবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করছে মেটা ও মাইক্রোসফট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা অন্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপরীতে অনেকটা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে লামা নিয়ে কাজ করছে মেটা ও মাইক্রোসফট।

এর ফলে বিভিন্ন কোম্পানি ও গবেষকরা নিজস্ব এআই ব্যবস্থা তৈরির জন্য লামার ডেটা ও কোড দেখার সুযোগ পাবেন। এই লামা ব্যবহার করার জন্য ব্যবহারকারী’কে সর্বপ্রথম তার ডিভাইসে এপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করতে হয়। এরপর বিভিন্ন সেটআপ দেওয়ার পর সেটি ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত হয়। ১৮ জুলাই ২০২৩ এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল মেটা। এআই মডেল ‘লামা’ যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সর্বোচ্চ ১ মিনিট পর্যন্ত সময় নেয়। তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরো নতুন আপডেট আসার মাধ্যমে চ্যাটবটটি উন্নত হবে।

এআই মডেল ‘লামা’ যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সর্বোচ্চ ১ মিনিট পর্যন্ত সময় নেয়

Grok এআই

ইলন মাস্কের সাম্প্রতিক উদ্ভাবন এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট। ‘ওপেনএআই’ কোম্পানিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ইলন মাস্ক। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারণে ২০১৮ সালে কোম্পানিটি ছেড়ে দেন তিনি। সেসময় চ্যাটজিপিটি তৈরি করে ফেলে কোম্পানিটি এবং ২০২২ সালে সেটি লঞ্চ করে। পরবর্তীতে সেটিরই উন্নত ভার্সন চ্যাটজিপিটি-৪ রিলিজ করে কোম্পানিটি। এরই ধারাবাহিকতায় চ্যাটজিপিটি’র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অন্য একটি ‘চ্যাটবট’ তৈরির ঘোষণা দেন ইলন মাস্ক।

তিনি সেটির নাম দেন ‘ট্রুথজিপিটি’। অবশেষে ২০২৩ সালে সেই চ্যাটবট লঞ্চ করে ইলন মাস্কের কোম্পানি xAI। তখন অবশ্য এর নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হয় ‘Grok’ এআই। ২০২৩ সালে উন্মুক্ত করা হলেও তখন সেটি শুধুমাত্র টুইটারের প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যবহারকারীরাই চালাতে পারত। তবে প্রথম থেকেই ইলন মাস্কের ইচ্ছা ছিল এসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। অর্থাৎ ওপেন সোর্সড করে দেওয়া হবে এসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ফলে যেকেউ সহজেই নতুন ফিচার এড করতে পারবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’য় ব্যবহৃত কোড নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারবে। 

Grok AI লঞ্চ করে ইলন মাস্কের কোম্পানি xAI

Grok এআই এ মূলত পাইথন এবং ‘রাস্ট’ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়েছে। ১১ মার্চ ২০২৪ সালে ইলন মাস্ক ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে Grok এর সোর্স কোড উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এর ঠিক ৬ দিন পর, ১৭ মার্চ সেটি গিটহাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। যেকেউ সহজেই সেটি ব্যবহার করতে পারবে এই লিংকে গিয়ে (https://github.com/xai-org/grok-1)Grok মানুষের সাথে কথাবার্তা চালানোর ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি’কেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। যেখানে চ্যাটজিপিটি খুব সাধারণভাবে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয় সেখানে এটি প্রায় মানুষের মতো করেই উত্তর দেয়। মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুবই মজার সাথে দেয় এটি। চ্যাটজিপিটিতে ভাষাগত অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও এটি সেগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ভবিষ্যতে Grok কে আরো উন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে xAI

বার্ড, বিং, লামা, Grok ছাড়াও আরো অনেকগুলো এআই চ্যাটবট রয়েছে। তবে সেগুলো তেমন জনপ্রিয় না হওয়ায় সেগুলোর ব্যবহার খুবই কম। বর্তমানে সব বড় বড় কোম্পানি’ই তাদের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’সম্পন্ন চ্যাটবট তৈরি করছে। ফলে সেগুলো দ্বারা তারা খুব দ্রুতই ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ করা ছাড়াও নানা তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে। সাধারণ মানুষও বিভিন্ন কাজে তাদের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে পারছে। বিভিন্ন সায়েন্স ফিকশনে বর্ণনা করা উন্নত বুদ্ধিসম্পন্ন কম্পিউটারের মতোই মানুষদের সাহায্য করছে এই চ্যাটবট’ গুলো। চ্যাটবট এর ব্যাপারে বিশ্ববাসীর আগ্রহ দেখে আমরা এটা বলতে পারি যে, শিগগিরই চ্যাটবটগুলো একটি ভালো অবস্থানে যাবে এবং মানুষের উপকারে অনেক ধরনের কাজে আসবে।

তথ্যসূত্র-

লেখাটি 34-বার পড়া হয়েছে।

ই-মেইলে গ্রাহক হয়ে যান

আপনার ই-মেইলে চলে যাবে নতুন প্রকাশিত লেখার খবর। দৈনিকের বদলে সাপ্তাহিক বা মাসিক ডাইজেস্ট হিসেবেও পরিবর্তন করতে পারেন সাবস্ক্রাইবের পর ।

Join 904 other subscribers