ফিউশন পারমাণবিক শক্তি (অণুপোষ্ট)

পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিয়ে নানারকম ঝক্কি-ঝামেলার কথা আমরা অহরহ শুনতে পাই। কয়েকবছর আগে জাপানের ফুকুশিমার পারমানবিক বিপর্যয় জাপানসহ সারা পৃথিবীতেই দুর্যোগ বয়ে এনেছিলো। তাছাড়া ইতিপূর্বে ইউক্রেইনের চেরোনোবিল বিপর্যয় এবং আরো কিছু বিপর্যয়ের বিষয়েও আমাদের জানা। পারমানবিক বিপর্যয়ের একটি বড় সমস্যা হলো এটি বিপর্যয় ঘটার পরে দীর্ঘ সময় ধরে তার প্রভাবে বিস্তার করে যেতে থাকে। এসব কারণে পৃথিবীর অনেক দেশই নতুন করে প্রচলিত ধারার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ করে দিচ্ছে। অথচ পারমাণবিক বিদ্যুৎ হতে পারতো শক্তি চাহিদা মেটানোর একটা নির্ভরযোগ্য উৎস। বাংলাদেশের মতো অতি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যেখানে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর জন্য বিপুল পরিমান বিদ্যুৎকেন্দ্র বিস্তারিত

অপেক্ষার সমীকরণ! (অণুপোস্ট)

আমরা কি কখনো আমাদের সৌরজগৎ ছেড়ে অন্য কোনো নক্ষত্র ব্যবস্থায় পৌঁছাতে পারব? সূর্যের পরে আমাদের সবচেয়ে কাছের তারটিও আমাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে চার আলোকবর্ষ দূরে। অর্থাৎ আলোর গতিতেও যদি আমরা রওনা দিই তাহলে সবচেয়ে কাছের তারাটির ব্যবস্থায় পৌঁছাতে আমাদের সময় লাগবে সাড়ে চার বছর। আবার আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা সূত্র অনুযায়ী ভরযুক্ত কোনো বস্তুই আলোর গতিতে যেতে পারবে না, তাহলে তার শক্তি হতে হবে অসীম (আপাতত ওয়ার্মহোল জাতীয় বিশুদ্ধ তাত্ত্বিক ব্যাপার-স্যাপার উপেক্ষা করছি)। আমাদের সবচেয়ে দ্রুতগামী মহাশূন্যযানটির বেগই আলোর বেগের মাত্র ০.০২ %। এমতাবস্থায় সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রটিও এখনো সূদুর পরাহত। তাই এতদূর রাস্তা যদি পেরোতেই হয় তাহলে আগে-ভাগেই রওনা দিয়ে দেওয়া বিস্তারিত

গণিতর সৌন্দর্য- পর্ব ২৩: অভিপ্রেতানভিপ্রেত কাকতাল

কাকতাল বলতে কী বোঝায় আর কাকতালে কেনই আমরা বিস্ময়াভীভূত হই? অভিধান ঘেঁটে কাকতাল অর্থ পাওয়া গেল এমন: “কার্যকারণ সম্বন্ধ নাই অথচ একসঙ্গে সঙ্ঘটিত দেখিয়া মনে হয় পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত”। এবার বিষয়টি একটু ব্যখ্যা করা যাক। ধরা যাক আপনার সাথে আপনার অফিসের বসের বেশ রাগারাগি হলো। আপনি তাঁর প্রতি বেশ অসন্তুষ্ট হওয়ায় বাসায় ফিরে ঠান্ডামাথায় সেটি নিয়ে ভাবলেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার বসের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন এবং তাঁর মৃত্যু কামনা করে বসলেন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আপনার বসের মৃত্যু সংবাদ শুনতে পেলেন! এই ঘটনাকে আপনি কীভাবে ব্যখ্যা করবেন? আপনি হয়তো মনে করতে পারেন আপনার নিশ্চয়ই বিস্তারিত

রহস্যাবৃত নিকোলা টেসলা (অণুপোস্ট)

গত ১০ জুলাই নিকোলা টেসলার জন্মদিন গেল। টেসলা আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার প্রবর্তক। টেসলা একজন রহস্যময় মানুষ; তাঁকে নিয়ে যতটা জল্পনা-কল্পনা, গল্প ও গুছব ছড়িয়েছে ততটা অন্য কোনো গবেষককে নিয়ে ছড়িয়েছে বলে মনে হয় না। ১৮৮২ সালে টেসলা, টমাস আলভা এডিসনের অধীনে কাজ শুরু করেন। এডিসনের অনুন্নত DC বিদ্যুৎ জেনারেটরের উন্নতি সাধনের জন্য তিনি নিয়েজিত হন এবং এই কাজের জন্য তাঁকে ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হবে বলে এডিসন তাঁকে জানান। কিন্তু যন্ত্রগুলোর নতুন ডিজাইন তৈরির পর এডিসন দাবী করেন তিনি টেসলার সাথে রসিকতা করেছিলেন, এবং পরিবর্তে তাঁর সাপ্তাহিক পারিশ্রমিক ১০ ডলার থেকে উন্নীত করে ১৮ ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব বিস্তারিত

অনুমান ও কোয়ান্টাম বিক্ষিপ্ততা (অণুপোস্ট)

‘অনুমান’ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। অনুমানের মাধ্যমে আমরা বৈজ্ঞানিক গবেষণা শৃঙ্খলায়িত করে নিতে পারি। একটি গবেষণার ফলাফল কেমন হতে পারে বা কি ধরনে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করলে একটি কোনো একটি গবেষণা থেকে কাঙ্খিত ফলাফল আসতে পারে তা অনেকসময় পুর্ববর্তী জ্ঞান ও গবেষণাসমূহ হতে বেশ নির্ভুলভাবে অনুমান করা যেতে পারে। এতে অনেক মূল্যবান সময়, অর্থ, শ্রম ইত্যাদি বেঁচে যেতে পারে। কতটা নির্ভুল ভাবে অনুমান করা যাবে তা নির্ভর করে কী পরিমান তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং সেই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা কত তার উপর। একজন দক্ষ বিজ্ঞানী, শুধু বিজ্ঞানী বলছি কেন, বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে অনেক বিস্তারিত

নীলচে আলোয় নোবেল জয়

  ইলেক্ট্রোলুমিনেসেন্স (Electroluminescence) বা বৈদ্যুতিক প্রতিপ্রভা নামক একধরনের ঘটনা সম্বন্ধে পদার্থবিদগণ ১৯০৭ সাল থেকে অবগত আছেন। এধরনের ঘটনায় একটি বস্তুর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা আলো নির্গত করে। তবে এই ঘটনা কৃষ্ণবস্তু নিঃসরণের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। আমরা সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চালিয়েও আলো পেয়ে থাকি। বৈদ্যুতিক বাতিতে একটি ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং তার ফলে এটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আলো উৎপন্ন হয়। ইলৈক্ট্রলুমিনেসেন্স এ ধরনের ঘটনা নয়। বরং এই ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রন সরাসরি দৃশ্যমান আলো নির্গত করে যখন সে একটি অর্ধপরিবাহীর মধ্য দিয়ে গমন কালে একটি ‘হোল’ এর দেখা পায়। সহজ কথায় ‘হোল (hole)’ হচ্ছে বিস্তারিত

কান ফাটানো শব্দ এবং তার চেয়ে বেশী কিছু

জেট ইঞ্জিন কিংবা নিউক্লিয় বোমার আঘাত এদের কোনটির শব্দ বেশী জোরালো? পৃথিবীতে এসবের সৃষ্ট শব্দই কি সবচেয়ে জোরালো? সম্ভাব্য সবচেয়ে তীব্র শব্দ কতটা তীব্র হতে পারে বা তীব্রতার কি কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে? চলুন দেখা যাক। শব্দ হলো একপ্রকার চাপীয় তরঙ্গ যা কোনো মাধ্যমের, যেমন: বায়ুর মধ্যে এর অণুগুলোর নির্দিষ্ট স্থানে সংকোচন আর তার পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রসারণ এবং ক্রমশঃ সংকোচিত এলাকার অণুর প্রসারণ এবং প্রসারিত এলাকার অণুর সংকোচনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে চলে।  পরপর একটি সংকোচন ও একটি প্রসারণ মিলে একটি পুর্ণ স্পন্দন তৈরি করে। একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমে যেহেতু শব্দের বেগ নির্দিষ্ট তাই সম্পন্দের হার বৃদ্ধি পেতে থাকলে কম্পাঙ্ক বৃদ্ধি পেতে বিস্তারিত

ডার্ক ম্যাটারের সহজ পরিচিতি

কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে এগোনো যাক। কেন এই ম্যাটারের (পদার্থের) নাম ডার্ক ম্যাটার? বিজ্ঞানীরা কি এই ম্যাটার শনাক্ত করেছেন? উত্তর হচ্ছে, না! এই ম্যাটার অন্য সাধারণ ম্যাটারের মত দেখা যায় না বা যন্ত্রপাতি দ্বারাও কখনো শনাক্ত করা যায় নি। তাই এদের অন্ধকারাচ্ছন্নতা থেকেই এই নামকরণ। যদিও সাধারণ ম্যাটারও অন্ধকারাচ্ছন্ন হতে পারে, কিন্তু সেসব আমরা খালি চোখে দেখতে না পেলেও যন্ত্রপাতি দিয়ে শনাক্ত করতে পারি। যদি দেখাও না যায়, শনাক্ত ও করা না যায় তাহলে কেন আমরা এটি নিয়ে এত আলাপ আলোচনা করি? এর উত্তরে তুলনামূলক চিত্র হিসেবে বলা যায়, পরমাণুও দেখা যায় নি, এবং একশতাব্দী আগে পরমাণুও শনাক্ত করা যায় নি, বিস্তারিত