মস্তিষ্কের কর্মকান্ডঃ অভ্যন্তরীণ বাচন

ধরুন, আপনি বাজার করতে গিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা শেষে দাম মিটিয়ে দিয়ে চলে আসছেন। হঠাৎ আপনার মাথার ভেতর কেউ বলে উঠলো, “মরিচ তো কেনা হয়নি!!” পড়িমড়ি করে আবার বাজারে ছুটলেন মরিচ কিনতে। কেউ একজন আপনাকে মনে করিয়ে দিয়েছে মরিচ কেনার কথা। অথবা একটুপর বসের সাথে আপনার একটা জরুরী মিটিং আছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখে শান্ত মনে হলে ও ভিতরে ভিতরে আপনি নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন সেই মিটিং এর জন্য, নিঃশব্দে মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন আর উত্তর তৈরি করে। এরকম মগজ ঘরে কথা বলা, আওয়াজবিহীন শব্দ আর বাক্য তৈরির প্রক্রিয়ার অনেক উদাহরণ আমরা আমাদের চারপাশে পাই। রাশিয়ান মনস্তত্ত্ববিদ লেভ ভিগোতস্কি সর্বপ্রথম ১৯৩০ বিস্তারিত

মাইক্রোস্কোপের নিচে মানবদেহ

আমাদের মানবদেহ এক চলমান বিস্ময়। ক্ষুদ্র স্কেলে এটি আশ্চর্য জটিলতায় ভরা। প্রতিটা কদমে, প্রতিটা পলকে, প্রতিটা নড়াচড়ায় ঘটে যাচ্ছে পদার্থবিদ্যার দারুণ কিছু প্রয়োগ। প্রতিটা ভাবনায়, বিন্দু পরিমাণ ভালোবাসায়, বেড়ে ওঠায় খেলা করছে রসায়নের বিশাল কারসাজি। এখানে ক্ষুদ্র স্কেলের দেহের স্থাপত্যের কিছু নিদর্শন দেখে নেই। মেদকলা বা চর্বির কোষগুচ্ছ: বিশেষ ধরণের রঞ্জকে রঞ্জিত ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নিচে দৃশ্যমান  ছবি এটি। মেদ কোষের বেশিরভাগ অংশ শুকনো থাকে, সাইটোপ্লাজম থাকে না বললেই চলে। তাই ছবিতে এদের এমন মধুপোকার বাসার কুঠুরির মতো দেখাচ্ছে। ত্বকের নিচের তুলতুলে অংশে থাকা এই মেদকলা আমাদের সহ সকল প্রাণীর দেহের শক্তির সংগ্রহশালা। প্রয়োজনের সময় দেহ, চর্বি হতে শক্তি গ্রহণ করে। সেজন্যই বিস্তারিত

হাঁচি! এটা স্বাভাবিক

শুরুতেই বলি, আমি নিজেই একজন ঘনঘন সিরিজ হাঁচির কষ্টে ভোগা মানুষ। নিজে বাঁচার জন্যে জ্ঞান নিতে যেয়ে এই লেখাটা তৈরি হয়ে গেল। অনেক সময় ব্যয় করে, ঘাঁটা-ঘাঁটি করে অবশেষে লেখাটাকে যখন দাঁড় করালাম তখন দেখি এটা হাঁচির রচনা হয়ে গেছে। এটাকে ছোট করতে গেলেই মনে হচ্ছে নিজের জন্যই কিছু একটা তথ্য বাদ পড়ে যাচ্ছে। অবশ্য জ্ঞানটা নিয়ে উপকার পেয়েছি বটে। কিন্তু তারপরও মাঝেমধ্যে ফেক্সোফেনাড্রিন জাতীয় ওষুধ খাই। তবে সেটা আগের থেকে কম। ওষুধ শরীরের জন্যে মোটেও ভাল না। আর আমার তো মাঝেমধ্যে ওষুধ খেয়েও ভাল কাজ হয় না। তাই আমার হাঁচি কেন হচ্ছে, কিভাবে হচ্ছে আর কার জন্যে হচ্ছে তাই বিস্তারিত

আমরা কেন স্বপ্ন দেখি?

স্বপ্নের স্নায়ুবিজ্ঞান সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় ঘুমের সময় মানুষজনের মস্তিষ্কের বিভিন্নধর্মী সক্রিয়তা মাপা হয়েছে ব্রেন স্ক্যানার দিয়ে। স্বপ্নের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মাথায় রেখে সেসব গবেষণার ফলাফল দেখে নেয়া যাক। গল্প বলা স্বপ্নেরা রেম ও গভীর নন-রেম দুই ধরনের ঘুমেই দেখা দিলেও রেম-ঘুমেই এসব স্বপ্নের প্রাদুর্ভাব বেশি। তাই রেম ঘুমের সময়ে মস্তিষ্কে কি কি শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন হয় তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে গল্প বলা স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করবো আমরা। প্রাণীদের উপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা থেকে আমরা জানি ব্রেনস্টেমে রেটিকুলার এক্টিভেটিং সিস্টেম রেম ঘুমের সময় সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকে। এই সিস্টেমের সাথে সম্পর্কিত স্নায়ুদের সক্রিয়তা PET স্ক্যান করে দেখা সম্ভব। এই স্ক্যান থেকে পাওয়া ছবির একটা বিস্তারিত

স্বপ্নের কি কোন মানে আছে?

১. স্বপ্ন-অভিধান সবাই স্বপ্ন নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসেন। ঘুমে দেখা স্বপ্ন জেগে উঠে খুব অর্থবোধক বলে মনে হয়। স্বপ্ন কেন দেখি? স্বপ্নের কি কোন মানে আছে? পৃথিবীর প্রতিটি সংস্কৃতিতেই এই প্রশ্নের উত্তরে বিস্তৃত ভাবনা খুঁজে পাওয়া যাবে। অনেকেই খোয়াবনামা বইটি দেখেছেন। খোয়াবনামাকে বলা যেতে পারে স্বপ্ন অভিধান যেখানে প্রতিটি স্বপ্ন দৃশ্যর রূপকঅর্থ বলে দেয়া আছে। অনেক সময় স্বপ্নকে দেখা হয়েছে ঐশ্বরিক বার্তা হিসেবে। খ্রিষ্টীয় বাইবেল, মুসলমানদের কুরআন আর হিন্দু-বৌদ্ধদের পুরাণে স্বপ্নের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বানীর কথা পাওয়া যায় । কোন কোন প্রাচীন গোষ্ঠী ভাবতো যে ঘুমের সময় আত্মা দেহ থেকে বের হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় – যে ভ্রমণকাহিনী আমরা স্বপ্ন বিস্তারিত

চিকিৎসাবিদ্যায় ২০১৪ সালের নোবেল: মস্তিষ্কের অবস্থান-নির্ণয়-ব্যবস্থা

ছবি বাম থেকে ডানে যথাক্রমে এডভার্ট মোজার, জন ও’কেফে, মে-ব্রিট মোজার স্মার্টফোনের কল্যাণে অনেকেই জিপিএস-ব্যবহার করেছেন। জিপিএস হলো পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে থাকা কিছু স্যাটেলাইটের সাহায্য নিয়ে ভূমির স্থানিক তথ্য সুনির্দিষ্ট জানার একটি পদ্ধতি। কোন বস্তু ভূমির ঠিক কোথায় আছে সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয় জিপিএস সিস্টেম। এই তথ্য আসলে স্থানাঙ্ক; অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের হিসাব। জিপিএস-এর উপর ভিত্তি করে আধুনিক টেলিযোগাযোগ থেকে শুরু করে রকেট উড্ডয়ন প্রযুক্তি গড়ে ওঠেছে। জিপিএস মানেই হলো Global Positioning System, বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা। চিন্তা করুন, কোন এক দুপুর বেলা আপনি ফার্মগেট থেকে শাহবাগ হয়ে চাঙ্খারপুল যাবেন নান্নার বিরিয়ানি খেতে। এজন্য স্মৃতি ও ইন্দ্রিয়ের তথ্য থেকে আপনি মনে বিস্তারিত

দেহ-ঘড়ি টিক টিক ছন্দঃ সার্কাডিয়ান ক্লক

১. একটি চাবি মাইরা দিলা ছাইড়া জনম ভইরা চলিতেছে মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি কোন মিস্তরী বানাইয়াছে … আবদুর রহমান বয়াতির দেহতত্ত্বের গান। দেহ সম্পর্কে অপরিসীম কৌতুহল বাউলদের, সেই আগ্রহ বার বার ফিরে এসেছে তাঁদের গানের কথায়, সাধনায়, দর্শনে। বাউলদের গানের একটা বৈশিষ্ট্য হলো রূপকের ব্যবহার, যেমন এই গানে দেহ ঘড়িকে আবদুর রহমান বয়াতি তুলনা করেছেন ঘড়ির সাথে, সেখানে চাবি মেরে দেয়া আছে। এখনকার ঘড়ি যদিও ব্যাটারির শক্তিতে চলে, একসময় ঘড়িকে প্রতিদিন চাবি দিতে হতো। ঘড়িতে থাকতো একটা স্প্রিঙ, সেই স্প্রিঙকে ঘুরিয়ে যে বিভব শক্তি সঞ্চিত করা হতো চাবি ঘুরিয়ে, সে শক্তিকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে ঘড়ি ছন্দে ছন্দে সময় বিস্তারিত

নিউরন, আলো এবং অপ্টোজেনেটিক্স

আমাদের মগজটা অসাধারন একটা বস্তু। অসাধারন এর প্রয়োজনীয়তা, অসাধারন এর জটিলতা। ছোট্ট-বদ্ধ একটা কোঠরে থেকেও, একটি কোয়ান্টাম কণার স্পন্দন থেকে মহাবিশ্বের নিঃসীমতা- বহু কিছুই ধারন করতে পারে। ভালো লাগা, খারাপ লাগা, চলাফেরায় ভারসাম্য রাখা- এই ব্যাপারগুলো মগজের নিউরনের মধ্যে ছড়ানো কিংবা সাজানো থাকে। মন ভালো নাই- নির্দিষ্ট কিছু নিউরন কাজ করছে। সুন্দর একটি গান শুনে মন ভালো হয়ে গেল, অন্য এক গুচ্ছ নিউরন এখন সক্রিয়। কিংবা ভাইভা দিতে গিয়ে সব ভূলে যাওয়া, তখন সব নিউরন নিষ্ক্রিয়। মাত্রাতিরিক্ত সরলীকৃত করে বলা যায় যে, নিউরনের সক্রিয়তা/নিষ্কৃয়তাই আমাদের আবেগ-অনুভূতি, আচরনের ভৌত রূপ। মানুষের স্বভাবই হচ্ছে শর্টকাট খোজা। সমুদ্র দেখতে মানুষের ভালো লাগে, তাই বিস্তারিত