স্মার্ট হবার ঔষধ

‘কোথায় কাজ? কি কাজ আছে মানুষের? অংক কষা, ইঞ্জিন বানানো, কবিতা লেখা? ওসব তো ভান, কাজের ছল। পৃথিবীতে কেউ ওসব চায়না। একদিন মানুষের জ্ঞান ছিল না, বিজ্ঞান ছিল না, সভ্যতা ছিলনা, মানুষের কিছু এসে যায় নি। আজ মানুষের ওসব আছে কিন্তু তাতেও কারো কিছু এসে যায়না। তার মধ্যে যে বিপুল শূন্যতা আছে সেটা তাকে ভরতেই হবে…’ –মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, দিবারাত্রির কাব্য এই শূন্যতা পূরনের আয়োজন চলছেই। মানুষের চাহিদা যেন বিশাল ব্ল্যাকহোলের মত। যদি শুধু ভালো দিকটাই দেখি, জ্ঞান বিজ্ঞান সভ্যতায় উন্নতি তো কম হলোনা। উন্নতির এক পর্যায়ে মানুষ নিজের অক্ষমতা গুলো আর মেনে নিতে পারলোনা। আমরা মানুষেরা উড়তে পারিনা, তাই আমরা বিস্তারিত

ফ্রেডরিক স্যাঙ্গারঃ কাজে বিশ্বাসী মানুষটি…

মেরী কুরি, জন বারডীন, লিনাস পলিং এবং ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার। চারজন বিজ্ঞানী, নিজ নিজ ক্ষেত্রে অতুলনীয়। তবে তাদের মধ্যে একটা মিল হল, এই চারজনই দুই বার নোবেল পুরষ্কার অর্জনের বিরল সম্মানের অধিকারি। তবে এই লেখাটি শুধুই ফ্রেডরিক স্যাঙ্গারকে নিয়ে। সম্পুর্ন কর্মজীবন নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন এই বিজ্ঞানী। বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহনের সময় আসার আগ পর্যন্ত নিজের কাজ ব্যাতীত অন্য কিছুতেই তার আকর্ষন ছিলোনা। প্রোটিন এবং ডিএনএ সিকোয়েন্সিং এ তার অবদান বৈপ্লবিক। আধুনিক প্রোটিওমিকস এবং জিনোমিকসের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে তার হাত ধরেই। তার এই সাফল্যের রহস্য কি? তার আত্নজীবনীতে একটি মূল্যবান সূত্র পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বলেছেনঃ “বৈজ্ঞানিক গবেষনার সাথে বিস্তারিত

পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব: শুধু কি আকস্মিক ঘটনা, নাকি অন্য কিছু?

পৃথিবীতে প্রাণ বিকাশের বিজ্ঞান অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু প্রথম প্রাণ কিভাবে প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে গড়ে উঠলো এই বিষয়টি এখনো কুয়াশাময় রহস্যে ঘেরা।  প্রাণের উদ্ভব সম্পর্কিত একটি গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব এখনো উপস্থাপন সম্ভব হয় নি। একগুচ্ছ নিষ্প্রাণ যৌগ থেকে কীভাবে প্রাণের উৎপত্তি হয় সেটা এখনো রহস্যময়। শতকোটি বছর পরে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়াটা খুব সহজও নয়। প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগের পৃথিবী কেমন কিছু সেটা অনুধাবন করাটাও বেশ কষ্টসাধ্য। বর্তমানে পৃথিবীতে যেসব জৈব অণুসমূহ পাওয়া যায় সেগুলোর দিয়েই আমরা প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে প্রাণের উদ্ভবের একটা ধারনা পেতে চেষ্টা করছি। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এধরনের একগুচ্ছ জৈব অণু বিস্তারিত

L-ফর্ম ব্যাকটেরিয়াঃ আদিজীবের উদ্ভব, বেঁচে থাকা এবং বিভাজনের কৌশল

গল্পটার শুরু একজন জার্মান জীববিজ্ঞানী এমি নোবেল (Emmy Klieneberger-Nobel) কে নিয়ে। গ্রাজুয়েশানের পর তিনি গবেষণা করতেন জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফুট বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু জন্মগতভাবে ইহুদী হওয়ায় ১৯৩৩ সালে জার্মানি থেকে বহিস্কৃত হন নাজি বাহিনীর নির্দেশে। অগত্যা এই মহতি লন্ডনে পাড়ি জমান এবং যোগ দেন বিখ্যাত লিস্টার ইনস্টিটিউটে; মাইকোপ্লাজমা (Mycoplasma) নামক ব্যাকটেরিয়া-প্রজাতির উপর কাজ করা শুরু করেন। কিন্তু খুব বেশি দেরি হয়নি একটা অদ্ভুত এবং দারুণ জিনিস খুঁজে পেতে। আমরা জানি প্রায় সব ব্যাকটেরিয়াতেই সাধারণ অবস্থায় কোষপ্রাচীর থাকে এবং এর রকমফেরের উপর নির্ভর করে গ্রাম-পজিটিভ বা নেগেটিভ প্রকারভেদ করা হয়। কিন্তু এমি এমন একধরনের ব্যাকটেরিয়ার প্রকার খুঁজে পেলেন যার কোন কোষপ্রাচীর নেই! এই ব্যাকটেরিয়া ফর্মটির বিস্তারিত

এনজাইম

বকবক করার জন্যে আপনাদের সামনে আবার চলে এলাম। আসার কারণ কয়েকদিন ধরে একটা বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি। বিষয়টা হল এনজাইম (Enzyme) । প্রশ্ন আসতেই পারে এনজাইম কি? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে চলুন একটু গল্প করে নিই। আমরা প্রতিদিন এত এত খাবার খাই। এই সকালে নাস্তা করছি তো দুপুরে মোরগ পোলাও খাচ্ছি। বিকালে আবার চা নাস্তা। তারপর আবার রাতের পেট পূজা। আচ্ছা আমরা যে খাবারগুলো খাচ্ছি এবং অনবরত খেয়েই চলছি খাবারগুলো আসলে যাচ্ছে কোথায়? বলতে পারেন হজম হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু কে করছে একাজ বলুন তো? হা ঠিক বলেছেন, এনজাইম! এনজাইম আমাদের খাবারগুলোকে ভেঙ্গে দেহের গ্রহণের উপযোগী করে তুলছে। আমরা সকালে বিস্তারিত

সিলিকন ভিত্তিক জীবনঃ বাস্তবতা আর সম্ভাবনা

সিলিকন ভিত্তিক কাল্পনিক  প্রাণ প্রাণ! এক অদ্ভুত বিস্ময় আমাদের পৃথিবীর জন্য। এই প্রাণ থাকাতেই আমরা মানুষ আমরা যর বস্তুর থেকে আলাদা। আমাদের হাসি-কান্না আনন্দ বিস্ময় সব কিছুই নিরধারন করে যেন এই প্রাণ আর সেটার স্পন্দন। এমনিতে প্রাণ বলতে আমরা মূলত বুঝি বাম হাতি অ্যামিনো এসিড আর প্রোটিন এর সমন্বয়ে গঠিত এক অজানা কুহেলিকা কে। যদিওবা এই প্রাণ এর রহস্য দিয়ে ঘেরা ডিএনএ আমরা বহন করে নিয়ে চলেছি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। চার ধরন এর ক্ষার আর এক ধরনের চিনি নিয়ে গঠিত এই ডিএনএ এর সবথেকে বড় অভিব্যাক্তি হচ্ছে বা এর সবথেকে বড় সত্য হচ্ছে এর মধ্যেকার কার্বন যৌগ। আমাদের দেহ এর বিস্তারিত

জীবনের অন্ধকার অঞ্চল – প্রাণের নতুন ডোমেইন?

পদার্থবিদ্যার এক রহস্যজনক বিষয় হলো ডার্ক ম্যাটার। মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় হিসেব মতো যে বস্তু ও শক্তি তৈরি হওয়ার কথা, বিজ্ঞানীরা তার মাত্র ৪%-র হিসেব পেয়েছেন। বাকি ৯৬% বস্তু-শক্তির অস্তিত্ব এখনো বোঝা যাচ্ছে না। এদেরকে বলা হয় ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি নামে। মহাবিশ্বের যেমন ৯৬% জিনিসকে আমরা জানি না। ঠিক তেমনই ১% অণুজীবকে আমরা কালচার মিডিয়াতে চাষ করতে পারি। বাকি ৯৯% অণুজীব কালচার মিডিয়ামে দেখা দেয় না। তাই এদেরকে জীববিজ্ঞানের “ডার্ক ম্যাটার” বলে ডাকা হয়।