ভাইরাস কি আসলেই আমাদের ভবিষ্যৎ-সম্ভাবনার দ্বার?

ভাইরাস শব্দটি মূলত আক্রমনাত্মক এবং সংক্রামক স্বভাবেই বেশি পরিচিত। খালি চোখে দেখতে না পাওয়া এই জীবতত্ত্বিক রসায়ন অসংখ্য মৃত্যু এবং অসুস্থতার সাথে জড়িত। একটি ক্ষতিকর ভাইরাস মহামারীর মত প্রতিবেশি, শহর, এমনকি কোন ভৌগলিক এলাকাকে নিদারুণ উদ্ভট আতংকে ফেলতে পারে৷ যার প্রমাণ আমরা এই করোনার কারণে ভালোই উপলব্ধি করতে পারছি৷ আর এই খালি চোখে অদৃশ্য ভাইরাস পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই বিদ্যমান। এরা ছত্রাক, উদ্ভিদ, প্রাণী এবং মানুষকেও সংক্রামিত করতে পারে৷ তবে, সব ভাইরাসই খারাপ নয়৷ কিছু ভাইরাস বিপদজনক ভাইরাসের বিপক্ষে কাজ করে ৷ কিছু মানব দেহের প্রোবায়োটিক-ব্যাকটেরিয়ার (যে ব্যাকটেরিয়া মানুষের উপকার করে) মতই প্রতিরক্ষা-ভাইরাস হিসাবেও কাজ করে। আসলে, আমরা তাদের সম্পর্কে যত বিস্তারিত

গড়গড়ার মাধ্যমে ভাইরাস ধুয়ে ফেলার বিজ্ঞান

শ্বাসতন্ত্রের যেসব ভাইরাস সাধারণ সর্দি, ঠান্ডা অথবা আরো মারাত্মক উপসর্গের জন্য দায়ী তারা মূলত নাক ও মুখ দিয়ে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। নাক ও মুখের গভীরে এই অংশকে ফ্যারিংক্স বলে যেটির সবথেকে উপরের অংশ ন্যাসোফেরিংক্স (নাকের গভীরের অংশ), এরপর অরোফেরিংক্স (মুখ গহ্বর এর ভিতরে) এবং হাইপোফেরিংক্স ( অরোফেরিংক্স এর আরো খানিকটা নীচে)। অন্যান্য ভাইরাসের মতো সার্স-কভ-২ এর প্রাথমিক সংক্রমণে এই অঞ্চল গুলোতে ভাইরাস অবস্থান করে এবং এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভাইরাস পাওয়া ও যায়। যার কারনে এখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়। ঠান্ডা কাশিতে লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া আমাদের ঘরোয়া চিকিৎসা তে একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এতে এই বিস্তারিত

কোভিড-১৯ টেস্টে নেগেটিভ মানেই বিপদমুক্ত নয়

আপনার কোভিড-১৯ এর উপসর্গ বিদ্যমান। টেস্ট করালেন। রিপোর্ট হাতে পেয়ে দেখলেন রিপোর্ট নেগেটিভ। নিঃসন্দেহে খুশি হবেন। খুশিতে বাড়ি ফিরে নির্দ্বিধায় জড়িয়ে ধরলেন প্রিয়জনদের। দূরত্ব বজায় রেখে চলার প্রয়োজন বোধ করলেন না। দিনকয়েকের মধ্যেই আপনার প্রিয়জনদের উপসর্গ দেখা দিল এবং তাদের টেস্ট রেজাল্ট পজিটিভ আসলো! আপনি আসলে করোনা আক্রান্ত হবার পরেও রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছিল, এটাকেই বলা হয় ফলস নেগেটিভ রেজাল্ট। করোনা টেস্টে পজিটিভ আসার চেয়েও ভয়াবহ ফলস নেগেটিভ রেজাল্ট।

উপসর্গ থাকলে টেস্টে নেগেটিভ আসলেও অবশ্যই ডাক্তারের পরমর্শ মেনে নিজ থেকে ৭ দিন আইসোলেশনে থেকে উপসর্গসমূহ পর্যবেক্ষণ করা উচিৎ।

করোনাভাইরাস (SARS-CoV-2) এর স্পাইক প্রোটিন কতটা নতুন সাজে সজ্জিত?

সার্স-কভ-২ কে সার্স করোনাভাইরাসের (SARS-CoV) সবচে কাছের বোন বলা যায়। এ দুই ভাইরাসের নিউক্লিওটাইড বা RNA তুলনা করে দেখা গেল তাদের ৭৯.৫% নিউক্লিওটাইড হুবহু মিলে যায়। দুটি ভাইরাস ই মানবদেহে কোষের যে রিসেপ্টর প্রোটিনে (ACE-2) সংযুক্ত হয়ে কোষের ভিতর প্রবেশ করে সেটিও এক। তাই তারা ধারণা করলেন হয়তো সার্সের জন্য ইতিমধ্যে যেসব ঔষধ মানুষের উপর পরীক্ষার শেষ ধাপে আছে সেগুলো হয়তোবা সার্স-কভ-২ এ কাজ করতে পারে। একদল বিজ্ঞানী সার্স ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন কে শনাক্ত করতে সক্ষম এরকম চার টি মনোক্লোনাল এন্টিবডি সার্স-কভ-২ এ প্রয়োগ করে দেখলেন। ফলাফলে একটি মাত্র এন্টিবডি কাজ করলো, বাকি তিনটি নয়। এ থেকে বোঝা গেলো যে নতুন এই ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের এপিটোপে কিছু পরিবর্তন ঘটেছে তাই বাকি এন্টিবডি গুলো তাকে সনাক্ত করতে পারছেনা।

কোভিড-১৯: এন্টিবডি কি কেবল সুরক্ষাই দেয়?

কিছু কিছু ভাইরাসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, ভাইরাস কে শরীরে নিষ্ক্রিয় করার বদলে এন্টিবডি কোন কোন ক্ষেত্রে ভাইরাস কে মানব শরীরের কোষে প্রবেশে সাহায্য করে যার ফলে ভাইরাসের সংক্রমন আরো গতি পায়। এটাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় এন্টিবডি ডিপেন্ডেন্ট এনহান্সমেন্ট (ADE) অর্থাৎ এন্টিবডির মাধ্যমে সংক্রমন বৃদ্ধি। ADE কিভাবে ঘটে সেটা পুরোপুরি না জানা গেলেও বেশ কিছু সম্ভাব্য কারন বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন। গবেষকরা এই ঘটনাটি ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এইচআইভি, ইবোলা এবং করোনাভাইরাসে ঘটতে দেখেছেন। উদাহরন হিসাবে ডেঙ্গু ভাইরাসের কথা বলা যায়। ডেঙ্গু ভাইরাসের বেশ কিছু সেরোটাইপ আছে, অর্থাৎ সেরোটাইপগুলোর এপিটোপে কিছু পার্থক্য থাকে তাই তাদের সংক্রমনে যে এন্টিবডি তৈরী হয় তাতে ভিন্নতা থাকে। কোন ব্যক্তিকে যখন প্রথম কোন একটি সেরোটাইপ ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমন করে তখন এর বিপরীতে এন্টিবডি তৈরী হয়ে শরীরে থাকে। পরে কোন সময় যদি ঐ একই ব্যক্তি অন্য কোন সেরোটাইপের ডেঙ্গু দ্বারা আক্রান্ত হন তাহলে আগের তৈরী হওয়া এন্টিবডি পুরোপুরিভাবে এই ভাইরাস কে নিষ্ক্রিয় করতে পারেনা। তখন এই এন্টিবডি ই ভাইরাস কে উল্টো শরীরে প্রবেশ করিয়ে সংক্রমন বৃদ্ধি করে। এবং এ কারনেই দ্বিতীয় সংক্রমনে রোগীর জটিলতা এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

প্রাণ-রসায়নের নন্দন-কানন

জীবনের উদ্ভব কিভাবে হলো বুঝতে হলে আমাদের প্রচলিত ধারণা বদলিয়ে প্রাণকে আণবিক শক্তির প্যাটার্ন হিসেবে দেখার দরকার হতে পারে   ১. ১৯৮৩ সালে গ্লাসগোতে এক উষ্ণ বসন্তের বিকেলে যখন তার এগার বছর বয়সী ছেলে একটি খেলনা ভেঙে ফেলে, তখন মাইক রাসেল তাঁর অনুপ্রেরণার মুহূর্তটি খুঁজে পান। ওই খেলনাটি ছিলো একরকমের রাসায়নিক বাগান। জিনিসটা মূলত প্লাস্টিকের একটি ছোট ট্যাঙ্ক। সেখানে একটি খনিজ দ্রবণে স্ফটিক-বীজ রাখা হলে স্টেলেগমাইট[১]-সদৃশ লতানো টেনড্রিল[২] বেড়িয়ে আসে। বাইরে থেকে এসব টেন্ড্রিল দেখতে নিরেট মনে হয়। তবে খেলনটি ভেঙে যাওয়ার পর এরা তাদের প্রকৃত গঠন উদ্ঘাটন করলো: প্রতিটি টেন্ড্রিইল আসলে অজস্র ফাঁপা নলের জালিকার সমাহার। অনেকটা পানীয় খাওয়ার বিস্তারিত

জীববিজ্ঞানের জন্যে ভালবাসা ( আমি তব মালঞ্চের হব মালাকর )

“আকাশ ভরা, সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারই মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান…….” সত্যি তাই। আকাশ জুড়ে অনন্ত নক্ষত্রের মেলা, যুগপৎ ভাবেই মহাবিশ্বে প্রতিটি জীবের অবস্থান কি অনন্ত বিস্ময়ের আর কি অপরিসীম তাৎপর্যের ! ভাবতেও অবাক লাগে। ভাবনার সাথেই মনের কোণে জেগে ওঠে অসংখ্য প্রশ্ন, শত ধারায় উৎসারিত হয় অফুরন্ত আবেগ। হৃদয়ের গভীরতম সেই তৃষ্ণার্ত প্রশ্ন গুলিকে জীববিজ্ঞান দেখাচ্ছে আলোর পথ।  অপরিসীম সৌন্দর্যে ভরপুর বিজ্ঞানের এই  শাখাটির চর্চার বদান্যতায়ই বিশ্বকে আমরা দেখতে পাচ্ছি নতুন রূপে। মহাবিশ্বে সকল জীবকে উপলব্ধি করছি এক নতুন চেতনার সংমিশ্রণে! রবিঠাকুরের “আবেদন”…… ১৩০২ বংগাব্দের কথা। বাইশে অগ্রহায়ণ শিলাইদহ অভিমুখে যাত্রা অভিমুখে লিখেছিলেন তাঁর আবেদন কবিতাখানি । যার বিস্তারিত

মস্তিষ্কে প্রাচীন ভাইরাসের নতুন কাজের সন্ধান

মানব জেনোমের মধ্যে থাকা ‘জিনেটিক জঞ্জাল’ ভাবা হয়েছিল যেসব রেট্রোভাইরাসের জেনোম, তারা আসলে গ্রাহক জেনোমে এসে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব পেয়েছে; যেমন, একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে একধরনের রেট্রেভাইরাসের জেনোম মস্তিষ্ক গঠনে কাজ করে।