প্রকাশিত বিজ্ঞানের বই

বিজ্ঞান ব্লগের লেখকদের প্রকাশিত বিজ্ঞানের বইয়ের খবরাখবর
বিস্তারিত মুক্ত ই-বই

ক্লাসিক্যাল মেকানিক্স পর্ব-১: নিউটনের গতিসূত্রের ইতিহাস

আমরা স্কুলে ক্লাস নাইনে ওঠার পরপরই নিউটনের গতিসূত্রের সাথে পরিচিত হই। ১৬৮৭ সালে প্রকাশিত Philosophiæ Naturalis Principia Mathematica বইতে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন তিনটি গতিসূত্র প্রকাশ করেন, যা পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি ঘটনা। নিউটনের তিনটি গতিসূত্রই মূলত বিন্দু ভর (point mass) এর জন্য। বিন্দু ভর মানে এর কোন সাইজ নেই, এটি একটি বিন্দু যার ভর আছে। পুরো ব্যাপারটাই তাত্ত্বিক, কেননা এরকম কোন কিছু আমরা আশে পাশে দেখি না। কিন্তু এই বিন্দু ভরের একটা গাণিতিক সুবিধে আছে। একটা বড় বস্তুতে বল প্রয়োগ করলে কোথায় বল প্রয়োগ করেছি তার ওপর সবকিছু নির্ভর করে। বলের প্রভাবে অনেক সময় বস্তু ঘুরে, অনেকসময় বিকৃত হয়, বিস্তারিত

বিভিন্ন ভ্যাক্সিন নিয়ে আপনার যা জানা প্রয়োজন

ভ্যাক্সিন তৈরী হলে এবার আসে কার্যকারীতার ব্যাপারটি। কোনটি মানুষের দেহে কাজ করবে । একই সাথে অক্ষতিকর ও সহজলভ্য কিংবা কমমূল্যে উৎপাদন করা যাবে ইত্যাদি। এছাড়া, মানুষে অনুপ্রবেশ করানোর আগে ল্যাবে বিভিন্ন ট্রায়ালের/পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা পড়ে৷ সেটির কার্যকারীতা প্রকাশ পেলে এরপর আসে মানুষের মাঝে পরীক্ষামূলক প্রমাণ। এটি আবার ছোট পরিসর, বড় পরিসরে ট্রায়াল/পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এভাবে, সবগুলি ধাপ অতিক্রম করলে তা FDA-এর মত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তারপর, এটি সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয়। আর, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘসময়ের প্রয়োজন হয়।

কোভিড-১৯: এন্টিবডি কি কেবল সুরক্ষাই দেয়?

কিছু কিছু ভাইরাসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, ভাইরাস কে শরীরে নিষ্ক্রিয় করার বদলে এন্টিবডি কোন কোন ক্ষেত্রে ভাইরাস কে মানব শরীরের কোষে প্রবেশে সাহায্য করে যার ফলে ভাইরাসের সংক্রমন আরো গতি পায়। এটাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় এন্টিবডি ডিপেন্ডেন্ট এনহান্সমেন্ট (ADE) অর্থাৎ এন্টিবডির মাধ্যমে সংক্রমন বৃদ্ধি। ADE কিভাবে ঘটে সেটা পুরোপুরি না জানা গেলেও বেশ কিছু সম্ভাব্য কারন বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন। গবেষকরা এই ঘটনাটি ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এইচআইভি, ইবোলা এবং করোনাভাইরাসে ঘটতে দেখেছেন। উদাহরন হিসাবে ডেঙ্গু ভাইরাসের কথা বলা যায়। ডেঙ্গু ভাইরাসের বেশ কিছু সেরোটাইপ আছে, অর্থাৎ সেরোটাইপগুলোর এপিটোপে কিছু পার্থক্য থাকে তাই তাদের সংক্রমনে যে এন্টিবডি তৈরী হয় তাতে ভিন্নতা থাকে। কোন ব্যক্তিকে যখন প্রথম কোন একটি সেরোটাইপ ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমন করে তখন এর বিপরীতে এন্টিবডি তৈরী হয়ে শরীরে থাকে। পরে কোন সময় যদি ঐ একই ব্যক্তি অন্য কোন সেরোটাইপের ডেঙ্গু দ্বারা আক্রান্ত হন তাহলে আগের তৈরী হওয়া এন্টিবডি পুরোপুরিভাবে এই ভাইরাস কে নিষ্ক্রিয় করতে পারেনা। তখন এই এন্টিবডি ই ভাইরাস কে উল্টো শরীরে প্রবেশ করিয়ে সংক্রমন বৃদ্ধি করে। এবং এ কারনেই দ্বিতীয় সংক্রমনে রোগীর জটিলতা এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

কোভিড-১৯ এর সময় গর্ভবতী মহিলাদের যা জানা উচিত

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাধারণ নারীদের থেকে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত বেশ শক্তিশালী হয়ে থাকে । তবে এটা কোন ভাবেই মনে করা যাবে না যে covid-19 থেকে গর্ভবতী মায়েরা কম ঝুঁকিপূর্ণ। বরং তারা অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকে । বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস চলাকালীন সময়ে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে বলে মনে করা হয়। কেননা এ সময় নানা ধরনের শারীরিক পরিবর্তন হয়ে থাকে। যেহেতু ভ্রণ এবং অমরা উভয়ই এই অবস্থায় বড় হতে থাকে তাই SARS-CoV2 ভাইরাস সংক্রমণ যে একটা বড় প্রভাব ফেলতে পারে তা বলাই যায়।

অ্যালকোহলের বাষ্পগ্রহণ কি কোভিড-১৯ সারিয়ে তুলতে পারে?

সম্প্রতি একাত্তর টেলিভিশনে দেয়া একটি সাক্ষাতকারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলাম দাবী করেছেন, ইথানল বাষ্প শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে করোনা সহ শ্বসনতন্ত্রের অন্যান্য রোগ ভালো হবে। তিনি নিজের এবং তার ছাত্রদের উপর এটি পরীক্ষা করেছেন বলে দাবী করেছেন। বস্তুত, নিশ্বাসের মাধ্যমে অ্যালকোহলের বাষ্পগ্রহণ অত্যন্ত বিপদ্জনক ও ক্ষতিকর। কোন গবেষণা ছাড়াই এ ধরনের দাবী জনসম্মুখে করার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এ বিষয়টি যাচাই করার জন্য এই লেখাটি লিখেছেন অণুজীববিজ্ঞানের ছাত্র আশিক মাহমুদ। – আরাফাত রহমান

দাবা আবিষ্কারক ও করোনা (অনুজীবের) মহামারী!

এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে যতগুলো দাবা খেলা হয়েছে তার কোনটার সাথে কোনটার হুবুহু মিল নেই। ঠিক কোথায় সর্বপ্রথম দাবা খেলার উৎপত্তি, সেটি নিয়েও বিতর্কের শেষ নেই। কিছু প্রাচীন আমলের হরফে দাবা খেলার প্রারম্ভিক কাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, পাশাপাশি খেলাটির আদি অস্তিত্বের প্রমাণস্বরূপ কিছু কিছু দাবার গুটিরও হদিশ মেলে। একারণেই, এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা, তত্ত্ব ও মতামতের অভাব নেই। বেশিরভাগ ইতিহাসবিদের ধারণা ভারত, পারস্য কিংবা চীনই দাবার জন্মস্থল। ইউরোপে দাবার যে রূপ অনুপ্রবেশ করে তা আদপে প্রায় ১,৩৫০ বছর আগেই পারস্যে খেলা হতো। এখন, আসল প্রসঙ্গে আসা যাক। দাবা আবিষ্কারককে নিয়ে একটা পৌরাণিক গল্প আছে। যা খুব সম্ভবত বিখ্যাত গণিতবিদ “ইয়াকভ পেরেলমান” এর লেখা।

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আপনার যা কিছু জানা উচিত

– ঘনঘন হাত ধুয়ে ফেলুন এবং একবারে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হালকা গরম পানি এবং সাবান দিয়ে আপনার হাত ধুয়ে ফেলুন। ২০ সেকেন্ড সময় পার কার জন্য গান, দোআ, সূরা, লেখাপড়া মনে করা বা ক-খ, ABCD পড়তে পারেন ।
– আপনার হাত নোংরা হয়ে গেলে আপনার মুখ, চোখ, নাক স্পর্শ করবেন না।
– আপনি অসুস্থবোধ করছেন অথবা সর্দি বা ফ্লুর লক্ষণ দেখা দেয় তহলে বাইরে যাবেন না।
– কাশি বা হাঁচি দিচ্ছে এমন কারও থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরে অবস্থান করুন। [10]
– আপনি নিজে যখনই হাঁচি বা কাশি দিচ্ছেন তখন আপনার কনুইয়ের ভিতর মুখ ঢেকে হাঁচি দিন। আপনার ব্যবহৃত টিস্যু যতদ্রত সম্ভব সঠিক স্থানে ফেলে দিন।
– আপনি নিয়মিত স্পর্শ করা যে কোনও বস্তু পরিষ্কার করুন। ফোন, কম্পিউটার, বাসন, ডিশওয়্যার এবং ডোরকনবসের মতো বস্তুগুলিতে জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।

বইমেলা ২০২০: বিজ্ঞানবই পর্যালোচনা – ২; রোগ জীবাণুর গল্প

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের রোগ জীবাণুর গল্প বইটার সবচেয়ে চমৎকার যেদিকটা আমার মনে হয়েছে তা হলো এখানে সচেতনভাবে বিজ্ঞানের গল্পগুলোকে সহজ করার একটা প্রয়াস আছে। আমার সবসময়ই মনে হয় আবিষ্কারের ইতিহাসের গল্প দিয়ে যদি কোন বিজ্ঞানকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় তবে তার চেয়ে মজার এবং সহজতম উপায়ে শেখার আর কিছু হয়না। সঞ্জয় বেশ কিছু জায়গায় আবিষ্কারগুলোর ইতিহাসকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। সেটা এই বইয়ের অন্যতম শক্তি। বিজ্ঞানের ঘটনাগুলিকে গল্পে গল্পে তুলে আনার প্রয়াসের সাথে বইটার শিরোনাম একদম মিলে যায় বলে এই বইটা শিরোনামে যথার্থতা নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলা সম্ভব নয়। যদিও জীবানুরা বেশিরভাগই মানুষে রোগ তৈরি করেনা, চতুর্থ অধ্যায়েই যার কিছু আঁচ দেয়া আছে, তারপরও যারা রোগ তৈরি করে তাদের নিয়েই এই বই।