রহস্যাবৃত নিকোলা টেসলা (অণুপোস্ট)

Share
   
পাঠ সংখ্যা : 793

গত ১০ জুলাই নিকোলা টেসলার জন্মদিন গেল। টেসলা আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার প্রবর্তক। টেসলা একজন রহস্যময় মানুষ; তাঁকে নিয়ে যতটা জল্পনা-কল্পনা, গল্প ও গুছব ছড়িয়েছে ততটা অন্য কোনো গবেষককে নিয়ে ছড়িয়েছে বলে মনে হয় না।

নিকোলা টেসলা

১৮৮২ সালে টেসলা, টমাস আলভা এডিসনের অধীনে কাজ শুরু করেন। এডিসনের অনুন্নত DC বিদ্যুৎ জেনারেটরের উন্নতি সাধনের জন্য তিনি নিয়েজিত হন এবং এই কাজের জন্য তাঁকে ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হবে বলে এডিসন তাঁকে জানান। কিন্তু যন্ত্রগুলোর নতুন ডিজাইন তৈরির পর এডিসন দাবী করেন তিনি টেসলার সাথে রসিকতা করেছিলেন, এবং পরিবর্তে তাঁর সাপ্তাহিক পারিশ্রমিক ১০ ডলার থেকে উন্নীত করে ১৮ ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। টেসলা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এডিসনের কোম্পানী ত্যাগ করেন।
১৮৮৭ সালে টেসলা আলফ্রেড ব্রাউনের সাথে যৌথভাবে টেসলা ইলেক্ট্রিক কোম্পনী চালু করেন এবং AC ডায়নামো উদ্ভাবন করেন। বিদ্যুৎ পরিবহন ও বিতরনের জন্য AC বিদ্যুৎ খুবই উপযোগী ছিলো কারণ এতে অপচয় হতো কম। সেই সময় বিদ্যুৎ বিতরনের জন্য এডিসনের DC লাইনগুলো চালু ছিলো যাতে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যেই অপচয় হয়ে যেত। এ নিয়ে টেসলা এডিসনের সাথে পুনরায় দ্বন্দে জড়িয়ে পড়েন। এডিসন দাবী করেন টেসলার AC বিদ্যুতে অপচয় কম হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত AC কারেন্টই বিজয়ী হয় এবং অদ্যাবধি বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনে AC বিদ্যুৎই ব্যাবহৃত হয়ে আসছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ ছাড়াও টেসলা এক্স রে, রেডিও, তারবিহীন সঞ্চালন ব্যাবস্থা, কৃত্রিম বর্জ্রপাত এসব নিয়েও কাজ করেন। তিনি আমেরিকা থেকে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ইউরোপে একটি তারহীন যোগাযোগ ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
১৯১৫ সালের নভেম্বরে রয়টারে প্রকাশ করা হয় সেবছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কার টমাস এডিসন এবং নিকোলা টেসলাকে যৌথভাবে প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো সেই নোবেল দেওয়া হয়েছে হেনরী ও লরেন্স ব্র্যাগসকে তাঁদের এক্সরের ক্রিস্টালোগ্রাফির সূত্র আবিষ্কারের জন্য। যদিও টেসলার জীবনীকারেরা বিভিন্ন সময় দাবী করেছেন যে টেসলা এবং এডিসন নোবেল প্রাইজের দাবীদার ছিলেন কিন্তু তাদের পারস্পরিক শত্রুতার কারণে তাঁদের পুরস্কার দেওয়া হয়নি। নোবেল কমিটি অবশ্য এই বিষয়গুলো অস্বীকার করেছে।
টেসলা একজন বহুভাষাবিদ ছিলেন। তিনি আটটি ভাষা ব্যবহারে দক্ষ ছিলেন। শোনা যায় তিনি দিনে দুই ঘন্টা ঘুমাতেন এবং অনেক সময় বিরামহীনভাবে একটানা তিনচারদিন কাজ করতেন। তিনি বিয়ে করেননি, কোনো সম্পর্কেও জড়িয়েছেন বলে শোনা যায় না এমনকি স্থায়ী বাসস্থানও ব্যবহার করতেন না। তাঁর জীবনের বিরাট অংশ কেটেছে নিউইয়র্কের বিভিন্ন হোটেলে।
টেসলার মৃত্যুর পর একটি ধারনা ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি বায়ুমন্ডল থেকে কয়েলের মাধ্যমে মুক্ত শক্তি সংগ্রহ করে তা বিদ্যুতে রূপান্তর করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রযুক্তি বড় বড় শক্তি উৎপাদন কোম্পানীগুলোর স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় বলে তারা কখনো এটিকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেয় নি। কিন্তু এটি একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বৈ কিছুই নয়। তিনি বায়ুমন্ডল থেকে বিদ্যুৎ নিষ্কাশন করেছেন বটে তবে তা ব্যাবহারিক শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহারের মতো যথেষ্ট নয়।

Loading...
ছড়িয়ে দেয়ার লিঙ্ক: https://bigganblog.org/2015/07/রহস্যাবৃত-নিকোলা-টেসলা-অ/

bengalensis

পোস্টডক্টরাল গবেষক: Green Nanomaterials Research Center Kyungpook National University Republic of Korea.

অন্যান্য লেখা | অন্তর্জাল ঠিকানা
0 0 ভোট
Article Rating
আলোচনার গ্রাহক হতে চান?
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

3 Comments
পুরানো
নতুন সবচেয়ে বেশি ভোট
লেখার মাঝে মতামত
সকল মন্তব্য