অ্যান্টিবডি যেভাবে কাজ করে

আমাদের দেহে যখন বাইরে থেকে কিছু প্রবেশ করে, এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা যদি তাকে ক্ষতিকর সন্দেহ করে তখন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং কাজ করে শুধু বিভিন্ন জীবাণু, কিংবা জীবাণুর তৈরি করা বিষ এধরনের জৈব বা জৈবিক উৎসের পদার্থের বিরুদ্ধে। আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা অজৈব বস্তুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে সময় ও শক্তি নষ্ট করেনা কেননা সেগুলো কদাচিৎ ক্ষতিকর। তাছাড়া সেসব থেকে পরিত্রাণ পেতে তো যকৃত বৃক্কের সমন্বয়ে আরেক ব্যবস্থা রয়েছে। যেসব জীবাণু আমাদের দেহে বসবাস ও বংশবৃদ্ধি করে এবং নানা রকম আবজাব পদার্থ দেহে ছড়িয়ে দেয়, সেসব আবজাব পদার্থ এবং তাদের উৎস জীবানুর বিভিন্ন অংশ আমাদের জন্য অ্যান্টিজেন। যাদের কারণে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জরুরী অবস্থা জারি করে। যদিও এই জরুরী অবস্থায় প্রচুর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, কিন্তু তাই বলে এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে অ্যান্টিবডি তৈরি করা এতই সস্তা যে যেকোন হুমকিতেই ভুর ভুর করে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে থাকবে।

Antibody Structure

চিত্রঃ অ্যান্টিবডির গঠন

একথা সবাইই জানি যে অ্যান্টিবডি তৈরি করে বি-কোষ। কোন অ্যান্টিজেনের সাথে বি কোষের প্রথম সাক্ষাতের পরে দেহে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ৩ দিনের মত সময় লাগে। যদি সেই অ্যান্টিজেন আগে থেকেই চেনা থাকে, তার জন্য তাহলে ১ থেকে দুই দিনের মধ্যেই রক্তপ্রবাহে অ্যান্টিবডি চলে আসে এবং ঘুরে ঘুরে সেই অ্যান্টিজেনগুলো খুঁজতে থাকে। পাওয়ামাত্রই অ্যান্টিবডিরা অ্যান্টিজেনকে বেঁধে ফেলে এবং ঘটনা পরম্পরায় দেহ অ্যান্টিজেন মুক্ত হয়।

কোন অ্যান্টিবডি কোন অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে কাজ করবে সেটা সুনির্দিষ্ট। এই সুনির্দিষ্টতা প্রাকৃতিক ভাবেই ক্লোনাল সিলেকশনের মাধ্যম নামক এক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথিত হয়। যে অ্যান্টিবডি স্মল পক্স ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে, সে কখনোই ডিপথেরিয়া ভাইরাসকে ঘাটাবেনা।

অ্যান্টিবডির সুনির্দিষ্টতা তার V অঞ্চলের হালকা ও ভারী চেইনের অ্যামিনো এসিডের বিন্যাসের ভিত্তিতে হয়। অ্যামিনো এসিডের বিন্যাসের রকমফেরের কারণে V অঞ্চলের ত্রিমাত্রিক গঠন, আধান ও স্নেহগ্রাহী বৈশিষ্ট্যের যে বৈচিত্র্য তৈরি হয়, সেটাই কোন অ্যান্টিবডিকে নির্দিষ্ট কোন অ্যান্টিজেনের জন্য বিশেষায়িত করে তোলে। তাই বলা যায় অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেনের মধ্যেকার মিথস্ক্রিয়া তাদের মধ্যে প্রকৃতিগত কিছু শর্ত সিদ্ধ করলেই সম্ভব। সংক্ষেপে শর্তগুলো হলঃ

১। অ্যান্টিজেনের গঠন মিলতে হবে অ্যান্টিবডির শনাক্তকারী অঞ্চলের সাথে
২। অ্যান্টিজেনের ও অ্যান্টিবডির শনাক্তকারী অঞ্চলের বৈদ্যুতিক আধান একে অপরকে আকর্ষন করতে হবে
৩। অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি উভয়ের স্নেহগ্রাহী অঞ্চল পরস্পরের সাথে ইন্টার‍্যাক্ট করতে পারতে হবে

Antibody antigen

চিত্রঃ অ্যান্টিজেনের সাথে অ্যান্টিবডি সংযুক্ত অবস্থায়

আমাদের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া মাত্রই কিন্তু সে অ্যান্টিজেনের দফারফা করতে লেগে যায়না। তাকে পরিণত হতে হয়, এরপর সেই অ্যান্টিবডি ঠিক ঠাক কাজ করছে কি না, শত্রু মিত্রকে চিনতে পারছে কি না, এসব পরীক্ষা-নিরিক্ষার ধাপ পার হয়ে তবেই সত্যিকারের কাজে নামতে পারে। এত যে আয়োজন, তার উদ্দেশ্য কিন্তু ক্ষতিকর অ্যান্টিজেনকে নিষ্ক্রিয় করে দেহ থেকে দূর করা। কিন্তু অ্যান্টিবডি একা তা করতে পারেনা!

ইমিউনোলজিস্টরা যখন শরীর থেকে শুধু অ্যান্টিবডিকে আলাদা করতে পারলেন তখন তারা আশ্চর্য হলেন। টেস্ট টিউবের ভিতরে অ্যান্টিসিরামে (যেই সিরামে কোন অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে কার্যকর সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি রিয়েছে) যখন কোন অণুজীব নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি থাকে, তখন সেই অনুজীব মরে যায়। কিন্তু সিরাম থেকে অ্যান্টিবডিকে বিশুদ্ধ করে নিয়ে অনুজীবের উপর প্রয়োগ করলে সেটা ঘটেনা। বিশুদ্ধ অ্যান্টিবডি অণুজীবের চারপাশে অ্যান্টিবডির ক্লাম্প তৈরি করলেও, তাকে মারতে পারেনা। আবার বিশুদ্ধ অ্যান্টিবডিকে যখন ব্যাকটেরিয়ার টক্সিনের সাথে রাখা হয় তখনো তা টক্সিনের সাথে যুক্ত হয়ে নিষ্ক্রিয় করে, কিন্তু তা ধ্বংস করার ব্যপারে কিছু করেনা।

ব্যপারটা এমন যে অ্যান্টিবডি শুধু অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে হয়ে জমাট বাধা পিণ্ড তৈরি করছে। ভেবে দেখুন, আমাদের দেহে যে পরিমাণ অনুজীব প্রবেশ করে তার সবই যদি জমে থাক্তো তাহলে কেমন হতো? দেহের শিরা উপশিরায় জ্যাম লেগে গিয়ে নানান জটিলতার সৃষ্টি হতো। কিন্তু না, দেহ থেকে এরা দ্রুতই অপসারিত হয়। কিভাবে হয় সেটা জানা এবং সে প্রক্রিয়ার অ্যান্টিবডির ভূমিকা বুঝতে হলে আরও দুটো জিনিস জানতে হবে, কমপ্লিমেন্ট এবং ম্যাক্রোফেজ।

অ্যান্টিবডির জীবানুকে ঘিরে জড়ো হওয়া কিন্তু জীবানুকে ধ্বংস না করার ধারনা ১৯ শতকের শেষের দিকে প্রথম বর্ণনা করা হয়। তবে এই ধারণাটা আসে অ্যান্টিবডির আরেক দূরবর্তী এবং মনে হতে পারে অসম্পৃক্ত বৈশিষ্ট্য থেকে। যদি জীবানুকে মেরে ফেলতে সক্ষম এমন অ্যান্টিসিরামকে ৫৫ডিগ্রি কিংবা ততোধিক তাপমাত্রায় রাখা হয়, তখন অ্যান্টিসিরামটি তার জীবাণুনাশক ক্ষমতা হারায়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হতো যে তাপের ফলে অ্যান্টিসিরামে বিদ্যমান অ্যান্টিবডি নষ্ট হয়ে গেছে, কারন তাপের প্রভাবে প্রোটিনের কার্যকারীতা হারানো সম্পর্কে সবারই জানা। তাই সবাই ভাবলো অ্যান্টিবডি হয়তো তাপ সংবেদী প্রোটিন।

কিন্তু কিছুদিন পরেই কেউ একজন পর্যবেক্ষন করলেন যে তাপানো অ্যান্টিসিরামের অ্যান্টিবডি যদিও জীবানুকে মারছেনা, কিন্তু ঠিকই তার চারপাশে ভীড় করছে এবং ক্লাম্প তৈরি করছে ঠিক না তাপানো অ্যান্টিবডির মতোই। আসলে জীবানুর সংস্পর্শ পেলেই কিন্তু ক্লাম্পিং হচ্ছে, তার মানে অ্যান্টইবডির যে অংশ অ্যান্টিজেনকে শনাক্ত করে তার গায়ে কামড়ে ধরে সে অংশ তাপের কারণে নষ্ট হয়নি।

রহস্যটার কিনারা পাওয়া গেলো জুলস বরডেক্ট নামের এক ফ্রেঞ্চ বিজ্ঞানীর মাধ্যমে। তিনি অত্যন্ত চমৎকার একটা এক্সপেরিমেন্ট করলেন।
১। প্রথমে তাপানো অ্যান্টিসিরামের সাথে জীবানু মেশালেন, দেখা গেলো ক্লাম্পিং হলেও কোন জীবাণু মরছেনা
২। এর পর যখন অ্যান্টিবডি মুক্ত সিরামে জীবানু দেয়া হলো, কোন ক্লাম্পিং হলোনা
৩। কিন্তু, যখন এই একই সিরাম প্রথম এক্সপেরিমেন্টের ক্লাম্পের সাথে মেশানো হলো, জীবানুরা টপাটপ মরে গেলো

ব্যপারটা কেউ আশা করেনি, তাই বহুবার পুনরাবৃত্তি করে এর যথার্থতা যাচাই করা হলো। বরডেট উপসংহার টানলেন, প্রাকৃতিক ভাবেই অ্যান্টিবডি থাকুক আর না থাকুক, সিরামে এমন কিছু একটা থাকে যা অ্যান্টিবডিকে সাহায্য করে জীবানুকে মারতে। এই ‘কিছু একটা’ কে পরবর্তীতে নাম দেয়া হয় কমপ্লিমেন্ট। কমপ্লিমেন্ট এর বাংলা সম্পুরক, কারণ এই বস্তু অ্যান্টিবডির কাজকে সম্পুর্ন হতে কাজে লাগে।

কমপ্লিমেন্টের অস্তিত্ব টের পাওয়ার পর অর্ধ শতক লেগে গেলো কমপ্লিমেন্ট কি সেটা বুঝতে। একটি নয়, দুটি নয়, এক ডজনের বেশি সংখ্যক প্রোটিনের সমন্বয়ে কাজ করা চমৎকার এক ব্যবস্থা কমপ্লিমেন্ট।

কমপ্লিমেন্ট যেভাবে কাজ করেঃ
অ্যান্টিবডি যখন অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়, তখন তার FC লেজটা বাইরের দিকে থাকে। একাধিক অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের গায়ে কাছাকাছি যুক্ত হলে তাদের লেজ গুলো কমপ্লিমেন্ট কমপ্লেক্স তৈরি করার প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। কমপ্লিমেন্ট কমপ্লেক্স তৈরির জন্য যেসব উপাদান প্রয়োজন সেগুলো সিরামে সর্বক্ষন উপস্থিত থাকে, যথেষ্ট পরিমানে। কমপ্লেক্স গঠনের পর তার ভেতরের কল কব্জা কোষটির গায়ে ফুটোর সৃষ্টি করে এবং শেষে কোষটি মারা যায়।

attack of complement complex

চিত্রঃ কমপ্লিমেন্ট কমপ্লেক্সের আক্রমণ

বিবর্তনীয় সময় রেখায় কমপ্লিমেন্ট কিন্তু অ্যান্টিবডির চেয়েও বিলিয়ন বছরের পুরনো। কখনো কখনো কমপ্লিমেন্ট কিন্তু অ্যান্টিবডির সাহায্য ছাড়াই অনুজীব শনাক্ত করে তার বারোটা বাজাতে সক্ষম হয়। সেটা অবশ্য অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ঘটা ঘটনার থেকে কম কার্যকর। অ্যান্টিবডি থাক আর না থাক, উভয় ক্ষেত্রেই কমপ্লিমেন্ট ব্যবস্থার উপাদান গুলো একই এবং তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুজীবের গায়ে ফুটো সৃষ্টি হয়ে তা মারা যায়।

তবে যেসব জীবাণু বিবর্তনের মাধ্যমে কমপ্লিমেন্টকে ফাঁকি দেয়া শিখে ফেলেছে তাদের নিয়ে কি হবে? অ্যান্টি বডি যদি কোন জীবানূকে শনাক্ত করে তার গায়ে লেগে যায়, এবং কমপ্লিমেন্ট যদি তখন কাজ না করে তখন তাদের বিতাড়নের জন্য আছে আরেক পান্ডব, নামেই যার পরিচয় ‘বড় খাদক’ তথা ম্যাক্রোফেজ।

ম্যাক্রোফেজও কিন্তু প্রকৃতিদত্ত ইমিউনো সিস্টেমের অংশ। আসলে, বেশির ভাগ বহুকোষী প্রাণীরই ম্যাক্রোফেজের মতো কোষ রয়েছে যারা দেহের মধ্যে টহল দিয়ে বেড়ায় এবং বহিরাগত কিছু পেলেই টপ করে গিলে নেয়।

ম্যাক্রোফেজ যদিও নিজে থেকে সামনে অপরিচিত যা পায় তাকেই গিলে নেয়। কিন্তু তার সরাসরি গলধঃকরনের পদ্ধতিটা তুলনামূলক ততটা পটু নয়, যেমন অপটু কমপ্লিমেন্টের একা একা জীবাণু ধ্বংস করা । তবে যদি, সেই বহিরাগতর গায়ে অ্যান্টিবডির সিল থাকে, তখন সে বেশ দ্রুত এবং দক্ষতার সাথে কাজটা সাড়তে পারে। একটা ম্যাক্রোফেজ কয়টা অ্যান্টিজেন গিলতে পারে? সেটা ক্ষেত্র বিশেষে ডজন থেকে শতকের মধ্যে আসা যাওয়া করে।

ম্যাক্রোফেজ অ্যান্টিবডির সিল খাওয়া অনুজীব, অনুজীব নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ এসব সরাতে সাহায্য করে বলেই অ্যান্টিবডি এদের নিষ্ক্রীয় করে ফেলার পরও এরা দেহের মধ্যে জমে জমে ভেজাল করেনা।
ম্যাক্রোফেজ যখন কোন অ্যান্টিজেনকে গিলে ফেলে তখন তার ভেতরে লাইসোজোম নামের চেম্বারে সেসবের ভাগ্য নির্ধারন হয়। লাইসোজোম পূর্ন থাকে বিভিন্ন জীবানুনাশক ও হজমকারী এনজাইমে, যেসবের সংস্পর্শে যেকোন অ্যান্টিজেন তার জটিল স্বরূপ থেকে সরল অ্যামিনো এসিড, শর্করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থে ভেঙ্গে যায়। ম্যাক্রোফেজ নিজের খোরাকির জন্য কিছুটা রেখে বাকিটা আশেপাশের অন্যান্য কোষের জন্য বের করে দেয়।

অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি ও তার সংগীসাথীদের প্রতিক্রিয়া আমাদের অভিযোজিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার(Adaptive Immunity) অংশ। অভিযোজিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার অভিযোজন ঘটেছে দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবাণুর বিরুদ্ধে জেনেটিক যুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য। অভিযোজিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রতিক্রিয়া অ্যান্টিজেনের চরিত্রের ভিত্তিতে পরিবর্তন হয়, যদিও মূল জেনেটিক উপাদান প্রজন্মান্তরে প্রায় পরিবর্তন হয়না বললেই চলে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। সবচেয়ে পরিচিত হলো অন্তর্নিহিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা(Innate Immunity) আর অভিযোজিত প্রতিরোধ (Adaptive immunity)। তবে এটা ভাবার কোন কারণ নাই যে এরা সম্পুর্ন আলাদা। প্রকৃতপক্ষে এই দুই ব্যবস্থাই একসাথে যেকোন সংক্রমনের সময় কাজ করে, একে অপরের কলাকৌশলকে আরো চৌকশ ও জোড়ালো হতে সাহায্য করে। ।

২ thoughts on “অ্যান্টিবডি যেভাবে কাজ করে

  1. চরম একটা লেখা! এন্টিবডি নিয়ে এত কিছু আমি জানতাম না! বিশেষ করে এন্টিবডি যে আসলে ব্যাক্টিরিয়া মারে না, কম্প্লিমেন্ট মারে, এটা নতুন! অনেকগুলো টার্মিলোজি সহজভাবে বুঝিয়েছো, আর ছবিগুলো বাংলা লেবেলে দারুণ লাগছে|

আপনার মতামত

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.