ক্ষতিগ্রস্থ মস্তিষ্ক কি ঠিক করা সম্ভব ?

পাঠসংখ্যা: 👁️ 202

মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। স্নায়ুবিক রোগ বা অন্য যে কোন কারনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে, নিউরণের কোষে ক্ষতিসাধন হয়।

বাহ্যিক বা স্নায়ুতন্ত্রের রোগের জন্য নিউরণের কোষ ক্ষয় হলে, তা সাধারণত আর প্রতিস্থাপন করা যায় না। যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী ঘাটতি থেকেই যায় মস্তিষ্কে। পার্কিন্সন রোগে ভোগা রোগীদের অনেক সময় কোষ প্রতিস্থাপন করা হয় সার্জারির মাধ্যমে। কিন্তু সেসময় করা ইম্যুউনো সাপ্রেশন ( immunosuppression) রোগীদের দেহের প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়াকে দুর্বল দেয়।এর দরুন স্বাভাবিক সংক্রমণ( infection) এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতাও হ্রাস পায় রোগীর।

এই বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন বেশ কয়েক জন গবেষক। ২০১২ সালে অধ্যাপক বেনেডিক্ট বারনিনগার’র ( Prof. Benedikt Berninger ) নেতৃত্বে এক দল গবেষক সফল হয়েছেন,মস্তিষ্কের পেশী টিস্যু কোষকে নিউরণ কোষে রুপান্তরিত (reprogramming) করতে। পেরিসাইট নামক কোষ কে প্রভাবিত করে নিউরণ কোষে কার্যকর করা সম্ভব।

পেরিসাইট হচ্ছে এমন এক প্রকারের কোষ, যা ক্ষত পূরণে এবং রক্ত-মস্তিষ্ক জালিকা সংরক্ষনে ভূমিকা রাখে।

পেরিসাইট কোষ থেকে নিউরণ কোষ- এই রুপান্তর চলাকালীন সময়ে পেরিসাইট এক মধ্যবর্তী ( intermediate) অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। এই মধ্যবর্তী অবস্থায় মানে স্টেম কোষের মতো হুবুহ দেখার সময়ে, তাদের সংকেত আদান-প্রদানে প্রভাবিত করতে পেরেছেন গবেষক দলটি।

কোষের নিউক্লিয়াসে উপস্থিত দুইটি প্রোটিন যথাক্রমে Asc1 এবং Sox2 কে নির্দিষ্টভাবে পেরিসাইট কোষে সূচনা ঘটাতে – সমর্থ হয়েছেন গবেষক বারনিনগার। যার ফলে, পেরিসাইট কোষ স্নায়ু কোষের আকৃতি প্রাপ্ত হতে শুরু করে এবং সেরকম কার্যকলাপ প্রকাশ করতে থাকে । এই দুই প্রোটিনকে ট্রান্সক্রিপশান ফ্যাক্টর ও বলা হয়ে থাকে।

আরেক দল গবেষক আছেন যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক ম্যাগডালেনা গটস ( Prof Magdalena Gotz )। তিনি কাজ করছেন LMU Munich and Helmholtz Zentrum Munchen এর Biomedical center এ। এই গবেষক দাবি করেন তারা নতুন একটি পদ্ধতি বের করেছেন এবং ২০০২ সালে সফলভাবে প্রথম ল্যাবে স্থানীয় মস্তিষ্ক কোষ থেকে নিউরণ কোষে রুপান্তর প্রক্রিয়া(direct reprogramming) পর্যবেক্ষন করেন। তারা দেখান যে, ইদুরের ট্রমাটিক (Traumatic) মস্তিষ্ক কোষে ওই প্রক্রিয়ায় গ্লিয়াল কোষ ( Glial cell ) সরাসরি রুপান্তরিত হয়ে নিউরণ কোষের বিভিন্ন রকম কাজ করছে। মস্তিষ্কে ক্ষতি হলে; গ্লিয়াল কোষে অবস্থিত এস্ট্রোসাইট – যারা বিভিন্ন মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্তরে আছে, তারা রুপান্তরিত হতে পারে কার্যকরী ভূমিকায়।যদি সঠিকভাবে এই স্তরীভূত গ্লিয়াল কোষ গুলোকে চিহ্নিত করা যায় এবং তাদের সাথে মস্তিষ্কে সংযোগ ঘটানো যায় তবেই সম্ভব এটা।

অতি সম্প্রতি এক গবেষণা পত্রে , এই গবেষক দল প্রকাশ করেছেন নতুন এক চমকপ্রদ তথ্য।। তারা স্টেফাল স্ট্রিকার (stefan Stricker) এবং ওল্ফগ্যাং ওয়ার্স্ট (Wolfgang Wurst) দলের সাথে সম্মিলিত ভাবে ক্রিস্পার/কাস-৯ প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখেছেন – কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াল প্রোটিন কে সক্রিয় করে তোলা যায় একদম প্রথম ধাপেই, যখন এস্ট্রোসাইট কোষ নিউরণ কোষে রুপান্তরিত হতে থাকে। শুধুমাত্র এক বা একাধিক মাইটোকন্ড্রিয়াল প্রোটিনকে প্রভাবিত করে চারগুণ বেশি রুপান্তরিত নিউরণ কোষ পাওয়া যায়। গবেষণা দলটি আশাবাদী – তারা এমন কিছু ভবিষ্যতে আবিষ্কার করবে নির্দিষ্ট অঙ্গাণুর কোষকে লক্ষ্য করে, যা সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত রুপান্তরকে প্রভাব ফেলে।

তথ্যসুত্রঃ-

১) neuronal reprogramming by mitochondria

২) neuronal loss

৩) conversion of non neuronal cell

মিঠুন পাল
পড়াশোনা করছি অণুজীব নিয়ে। স্নাতক শেষ করেছি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে। একই বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত আছি। কবিতা লিখি অবসরে। বই পড়ি। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ- বিমূর্ত বিজয়িনী(২০২০), প্রস্থানেই দেবো না বিদায়(২০২১)