অঙ্কিতার ফায অভিযানঃ দি বায়ো-মিসাইল

রাত প্রায় একটা পার হয়েছে। টেবিল ল্যাম্পের আলোয়, রুমের এক কোনায় বসে ক্লান্ত চোখে বিড়বিড় করে কি একটা পড়ছিল, অঙ্কিতা। অঙ্কিতা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে, অনুজীববিজ্ঞান বিভাগে, তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছে। তার সেমিস্টার ফাইনাল চলছে, আগামীকাল তার ভাইরাসবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা। পড়া গুলো একবার শেষ করতে পাড়লেও রিভিশন টা এখনও ভালোভাবে শেষ করতে পাড়েনি। ঘুমও পেয়েছে খুব, কিন্তু কিছু পড়া যে বাকি আছে এখনও। পড়তে পড়তে গা এলিয়ে দিলো চেয়ারে। চোখ বুজে মনে করার চেষ্টা করছে, সামনে রাখা বইটায় আঁকা ছবিটার অবয়ব। ছবিটা কেমন যেন, লম্বা দেহ, উপরের দিকে একটা মাথাও আছে ষড়ভুজাকৃতির, নিচের দিকে একটা চাকটির মধ্যে কয়েকটা কাটা রয়েছে এবং তার চার পাশে কিছু পা এর মতো অঙ্গ দেখা যাচ্ছে অনেকটা মশার পা এর মতো। সব মিলিয়ে দেহটা দেখতে অনেকটা রকেট বা মিসাইল আকৃতির। সে মনে মনে ভাবছে, আচ্ছা এইটাও কি রকেট বা মিসাইল মতো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে? আর যদি পারেও, তার গন্তব্যেই বা কি হবে?

আকৃতি যেন রকেটের মতো …

হঠাৎ একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটলো, অঙ্কিতা রকেটের মতো যেই জিনিসটার কথা ভাবছিল, হঠাৎ করেই এটি তার বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে জীবন্ত হয়ে বেরিয়ে এলো এবং এদিকে সেদিকে চলতে শুরু করলো। এটি চলছে কিভাবে? হকচকিয়ে গেল অঙ্কিতা, তার মানে এটা কি কোন জীব, এটি কিভাবেই বা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, অবাক হয়ে ভাবতে থাকল অঙ্কিতা। তাহলে এদের ঐ ষড়ভুজাকৃতির  মাথায় কি মানুষের মস্তিস্কের মতো কোন কিছু আছে নাকি, যা দিয়ে মানুষের মস্তিষ্কের মতো, এটিও তার সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 

বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে বের হয়ে এলো জিনিসটা …

সে যাই হোক, অঙ্কিতা মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকল। এটি কোথায় যাচ্ছে?  মনে হচ্ছে কি যেন খুঁজছে। কিন্তু কি খুঁজছে?  হঠাৎ এটি চলতে চলতে বিশাল বড় ডিম্বাকৃতির একটি বস্তুতে এর পায়ের উপর ভর দিয়ে নেমে পড়ল। অনেকটা মহাকাশে কোন গ্রহ বা উপগ্রহে স্পেসশীপ ল্যান্ড করার মতো। এর পর এটি আবার তাদের মশার পায়ের মতো পা গুলো দিয়ে হাটতে শুরু করেছে। কি খুঁজছে এটি? দেখে মনে হচ্ছে এই বিশাল বড় ডিম্বাকৃতির বস্তুটির ভিতরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। কিন্তু এই বিশালাকার বস্তুটির দেহে তো কোন দরজা দেখা যাচ্ছে না। তাহলে কিভাবে প্রবেশ করবে, ভাবতে থাকে অঙ্কিতা। হঠাৎ অঙ্কিতা, সূক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে লক্ষ করলো বিশালাকার বস্তুটির গায়ে ছোট ছোট অসংখ্য ফুলের ন্যায় কিছু জিনিস রয়েছে। সবগুলো ফুল যে একই রকম তা নয়, নানার রকমের ফুল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই বিশালাকার বস্তুটির দেহে। দেখে মনে হলো যেন, এই বিশালকার বস্তুটির সারা দেহ জুড়ে  নানা প্রজাতির ফুলের বীজ এক সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর তারই ফসল হিসাবে এর দেহ জুড়ে গজিয়েছে নানা প্রজাতির ফুল। আহা কি চমৎকার সেই বুননের শৃঙ্খলা। দেখলেই মনে হয় এ ও কি সম্ভব! 

বস্তুটি ল্যান্ড করলো। এটা কি কোন ফুলের বাগান?

এবার অঙ্কিতা তীক্ষ্ম দৃষ্টি দিলো  ঐ রকেটের ন্যায় বস্তুটির দিকে যে একটু আগেই নেমে এসেছে এ বিশালাকার ফুলের বাগানে। সে কি খুঁজছে? তাহলে সে কি এখানে কোনো নিদিষ্ট ফুল খুঁজছে। যা পেলেই সে তা উদ্দেশ্য সফল হবে। হ্যা, ঠিক তাই। এই রকেটের ন্যায় বস্তুটি আসলে নির্দিষ্ট একটা প্রজাতির ফুলই খুঁজছিল। কি করবে সে এই ফুল গুলো দিয়ে, ভাবছিল অঙ্কিতা। মানুষ না হয় ফুল দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে, এই ক্ষুদ্র জীবটি ফুল দিয়ে কাউকে কি ভালোবাসা প্রকাশ করবে? নাহ, একটু আতংকিত হয়ে গেল, অঙ্কিতা। সে দেখলো, এই জীবটি তার পায়ের নখ গুলো একটা নির্দিষ্ট ধরনের কয়েকটি ফুলের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে এবং ফুল গুলো কে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছে। দেখলে মনে হয় যেন, কয়েকটি তালার ভিতরে তাদের চাবি গুলো প্রবেশ করল এবং শক্তভাবে এঁটে বসলো। অঙ্কিতা বিস্মিত হয়ে চেয়ে রইল এই জীবটির দিকে। এবার কি করবে এই জীবটি? নানা প্রশ্ন ঘুরছিলো অঙ্কিতার মনে। মনে মনে বলতে লাগল, দেখি বেটা কি করে এবার। 

এবার ঐ জীবটি তার দেহের নিচের দিকে থাকা চাকতির ন্যায় অংশটির মধ্যে যে কাঁটা রয়েছে তা দিয়ে ঐ বিশালাকার বস্তুটির দেহে ঢুকিয়ে দিল, আর তখনই ঐ চাকতির মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে এলো একটি স্ক্রু-র ন্যায় অঙ্গ, যা দিয়ে নিমিষেই করাতের মতো গোল করে কেটে ফেললো ঐ বিশালাকার ডিম্বাকৃতির বস্তুটির বাইরের দেয়াল। মনে হলো যেন নিজের প্রবেশের জন্য দরজা তৈরি করলো। অঙ্কিতা এবার দারুণ উত্তেজিত, এর পর কি করবে এই রকেটের ন্যায় জীবটা। এবার কি এটি এই বিশালাকার ডিম্বাকৃতির বস্তুটির ভিতরে প্রবেশ করবে? কিন্তু, কিভাবে, এটি যেই গোল দরজাটি তৈরি করেছে তা এর দেহের তুলনায় খুবই ছোট। তাহলে কি অন্য কোন ছোট কিছু কে ভিতরে পাঠাবে? যেমনটা সে অনেকবার দেখেছে বিভিন্ন সাইন্স ফিকশন মুভিতে। যেখানে বড় একটা স্পেসশীপ থেকে ছোট, তবে অত্যধিক বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট পাঠানো হয়, প্রাথমিক পর্যবেক্ষন এর জন্য। ঠিক তাই। ঐ জীবটি এবার তার তৈরি করা সেই গোল গর্তটি দিয়ে তার দেহের ভিতর থেকে একটি ছোট অঙ্গ ভিতরে প্রবেশ করালো। এই ছোট অঙ্গটির আকারও অদ্ভুত। মনে হচ্ছে যেন একটা প্যাঁচানো-মই । এটি ভিতরে প্রবেশ করলো। বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে না আর। অঙ্কিতার আগ্রহ আর বেড়ে গেল। ভিতরে কি হয় তা দেখার জন্য অস্থির হয়ে গেল। সে ঐ রকেটের ন্যায় জীব টিকে তার জায়গা থেকে সরিয়ে রাখল এবং ঐ জীবটির তৈরি করা গর্ত দিয়ে ভিতরে তাকালো।

কিছু একটা ইনজেকশন করা হলো, জিনিসটা কি?

হ্যা, ঐ তো সেই প্যাঁচানো-মই এর মতো অঙ্গটি। কি করবে এখন ঐ প্যাঁচানো-মই এর মতো অঙ্গটি? আচ্ছা, এই বিশালাকার ডিম্বাকৃতির বস্তুটি, যেটার ভিতরে সে তাকিয়ে আছে এটার ভিতরে এগুলোই বা কি? একটা গোলাকার প্যাঁচানো মই এর মতো অঙ্গ দেখা যাচ্ছে, অনেকটা ঐ রকেট আকৃতির জীব থেকে বেরিয়ে আশা প্যাঁচানো-মই এর মতো অঙ্গটির মতোই, তবে ঐ টা ছিল রৈখিক আর এটা গোলাকার। এছাড়াও নানা আকৃতির অসংখ্য বস্তু দিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এর ভিতরে। এর পরই ঘটলো সবচেয়ে অদ্ভূত ঘটনাটি। ভিতরে প্রবেশ করা সেই রৈখিক প্যাঁচানো-মই এর মতো অঙ্গটি ঐ বিশালাকার বস্তুটির ভিতরে থাকা নানা আকৃতির বস্তু গুলো থেকে কয়েকটি বস্তুকে নিজের দিকে  কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এই বস্তু গুলো রৈখিক প্যাঁচানো-মই এর গায়ে এসে বসলো এবং প্রথমেই প্যাঁচানো-মই টাকে প্যাঁচ ছাড়িয়ে সোজা করে ফেললো। দেখতে অনেকটা ট্রেন লাইনে মতো মনে হলো। এই ট্রেন লাইন দিয়ে কি কোন ট্রেন চলবে এবার, ভাবছিল অঙ্কিতা। অঙ্কিতা অবাক করে দিয়ে ঐ নানা আকৃতির বস্তু গুলো এই ট্রেন লাইন দিয়ে চলতে শুরু করেছে। তার মধ্যে একটা বস্তু তো কি যেন একটা তৈরি করছে, কিছুক্ষন পর অঙ্কিতা বুঝতে পারলো এটি একটা অর্ধেক মই এর মতো বস্তু তৈরি করেছে। একটা মই কে মাঝখান দিয়ে কেটে ফেললে যেনম অনেকটা চিরুনির মতো হয় ঠিক তেমনই। এই চিরুনি টা দিয়ে কি মাথা আচঁড়ানো যাবে, ভাবতেই মিট মিট করে হেসে উঠলো অঙ্কিতা। ছোট বেলা থেকেই বেশ বড় আর ঘন-কালো চুল অঙ্কিতার। তাই চিরুনির সাথে তার একটা মধুর সম্পর্ক রয়েছে।

আবার, মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকলো অঙ্কিতা। এবার কি হবে ঐ চিরুনি টার। হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা আকৃতির  বস্তুগুলোর মধ্যে থেকে কয়েকটি বস্তু ঐ চিরুনি টির গায়ে এসে বসলো, তার মধ্যে একটা বস্তু কি যেন একটা তৈরি করছে ছোট ছোট অসংখ্য বস্তু দিয়ে, অনেকটা মালা গাঁথার মতো। মালা টি ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে চলছে। এই মালা টি বড় হয়ে গিয়ে একটা সময় আলাদা হয়ে গেল। এরপর মালাটি নিজে নিজেই প্যাঁচাতে শুরু করেছে। এটি প্যাঁচিয়ে একটা নির্দিষ্ট আকৃতিতে রুপ নিলেো। এটি দেখতে এই বিশালাকার ডিম্বাকৃতির বস্তুটির ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা আকৃতির বস্তু গুলোর মতোই মনে হচ্ছে। অঙ্কিতার মাথায় হঠাই একটা সূক্ষ্ম উদ্দীপনা খেলে গেল। সে ভাবতে লাগতো, তাহলে এই বিশালাকার ডিম্বাকৃতির বস্তুটির ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা আকৃতির বস্তু গুলোও কি একই ভাবে তৈরি হয়েছে। কিন্তু কিভাবে? তখন অঙ্কিতার নজরে পড়লো সৈই গোলাকার প্যাঁচানো-মই এর মতো অঙ্গটির দিকে। তার মনে তখন আনন্দের একটা ধারা খেলে গেল। মনে হচ্ছে যেন, দুই এ দুই এ চার মিলে গেল। কি পেয়েছে সে? সে ভাবছে ঐ রকেটের ন্যায় বস্তু থেকে প্রবেশ করা রৈখিক প্যাঁচানো-মই এর মতো অঙ্গটি থেকে যদি, বিশালাকার ডিম্বাকৃতির বস্তুটির ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা আকৃতির বস্তু গুলোর মতো নতুন বস্তু তৈরি হতে পারে, তাহলে ভিতরে থাকা গোলাকার প্যাঁচানো-মই এর মতো অঙ্গটি থেকেই নিশ্চয়ই এর ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বস্তুগুলো তৈরি হয়েছে। ভাবতেই সে পুলকিত বোধ করলো। তীব্র আগ্রহ নিয়ে দেখতে থাকল সে। মালা প্যাঁচিয়ে নির্দিষ্ট আকৃতির নতুন যেই বস্তু টি তৈরি হয়েছিল, ঠিক একই ভাবে আর কিছু নতুন বস্তু তৈরি হল। কিন্তু তাদের প্রত্যেকের আকৃতি ভিন্ন, কারন তা প্যাঁচিয়ে কুন্ডলী পাকানোর সময় ভিন্ন উপায়ে প্যাঁচিয়ে ছিল। এই প্রক্রিয়াটি প্রতিনিয়ত চলছে, আর নতুন নতুন নানা আকৃতির বস্তু তৈরি হচ্ছে একের পর এক।

প্যাঁচানো মই

নতুন যেই নানা আকৃতির বস্তুগুলো তৈরি হয়েছে তার মধ্যে থেকে কিছু বস্তু গিয়ে বসলো ভিতরে থাকা সেই গোলাকার প্যাঁচানো-মই এর মতো অঙ্গটির উপর এবং নিমিশেই কেটে ফেলল অনেক গুলো খন্ডে। যা থেকে অনেকগুলো নতুন রৈখিক প্যাঁচানো-মই তৈরি হলো। এরপর আবারও নানা আকৃতির তৈরি হওয়া বস্তু গুলো থেকে আরও কিছু বস্তু সদ্য তৈরি হওয়া খন্ড খন্ড রৈখিক প্যাঁচানো-মই গুলোতে এসে বসলো। এরা এই মই গুলোর মাঝে মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন করে ফেললো। মই পুরোনো হয়ে গেলে যেমন মাঝখান থেকে কয়েকটা পা রাখার লাঠি গুলো পরিবর্তন করা হয় ঠিক সেরকম। মই গুলো পরিবর্তনের পর মনে হচ্ছে যেন হুবুহু ঐ রকেট আকৃতির বস্তু থেকে প্রেরণকৃত রৈখিক প্যাঁচানো-মই এর সাথে মিলে গেছে। অঙ্কিতা এবার কিছুটা আচঁ করতে পেড়েছে। এই রকেট আকৃতির বস্তুটির আসল উদ্দেশ্যে নিজের মতো আরও রকেট সদস্য তৈরি করা। কিন্তু এখনও তো এদের দেহ গঠন হয়নি। এবার কি তাহলে এরা এদের রকেট আকৃতির দেহ তৈরি করবে, কিন্তু কিভাবে, ভাবছে অঙ্কিতা। কিছুই ভেবে পেল না। তাই আবারো কৌতূহল নিয়ে তাকালো কি হয় দেখার জন্য।

প্যাচানো মই থেকে কি আরো রকেট তৈরি হবে?

এবার আবারো, প্রতিনিয়ত তৈরি হওয়া নানা আকৃতির বস্তু গুলো সদ্য রুপান্তরিত হওয়া মইগুলোতে বসলো এবং আগের মতোই চিরুনি তৈরি করল এবং তা থেকে মালা তৈরি করল। এই মালা গুলো আবার আগের মতো প্যাঁচিয়ে কুন্ডলী পাকিয়ে নানা আকৃতির  অসংখ্য বস্তু তৈরি করল। কিন্তু এবারের তৈরি হওয়া বস্তু গুলোর আকৃতি গুলো যেন অঙ্কিতার বড্ড চেনা মনে হচ্ছে। কোথায় যেন দেখেছে বলে মনে হচ্ছে। হ্যাঁ, মনে পড়েছে, ঐ যে রকেটের ন্যায় বস্তুটির অঙ্গ প্রতঙ্গের মতো, কিন্তু এরা আলাদা আলাদা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সবগুলো জুড়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে ঐ রকেট বা মিসাইল এর মতো জীব। কৌতুহলি হয়ে ভাবছে অঙ্কিতা, তাহলে কি এগুলো এখন আয়রন-ম্যান এর মতো হাত, পা, মাথা, বুক, ও পিঠের অংশ গুলো একত্রিত হয়ে নতুন কোন আয়রন ম্যান তৈরি করবে? হ্যা, ঠিক তাই, সদ্য তৈরি হওয়া রকেটের অঙ্গ প্রতঙ্গের মতো অঙ্গগুলো একের পর এক জুড়ে তৈরি করছে তার দেহ, তার ষড়ভূজ আকৃতি মাথার মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে নতুন তৈরি হওয়া সেই রৈখিক প্যাঁচানো-মই গুলোর একটি করে। মনে হচ্ছে যেন মাথার মগজ। তাহলে এরা কি সত্যিই  কোন আয়রন ম্যান?  না, এগুলো তো আয়রন দিয়ে তৈরি না, আয়রন ম্যান বলা যাবে না। কি নাম দেয়া যায় এর, ভাবছিল অঙ্কিতা। এরা তো দেখতে অনেকটা রকেট বা মিসাইল এর মতো, আবার এরা আবার জীবের মতোও আচরন করে। কি নাম দিবে ভাবতে ভাবতে হঠাৎ বলে উঠলো, “বায়ো-মিসাইল”। হ্যা, ঠিক তাই, এটি তো মিসাইলের মতো গিয়েই, ডিম্বাকৃতির সেই বস্তুটি কে আক্রমণ করেছে এবং এর ভিতরে যা খুশি তান্ডব চালিয়েছে। 

প্যাচানো মই যেন কিভাবে নিজের অনুলিপি করা শুরু করলো।
যেভাবে আরো নতুন ফায-রকেট তৈরি হলো

যাই হোক, নাম তো ঠিক হলো, কিন্তু নতুন এই বায়ো-মিসাইল গুলো কাকে আক্রমণ করবে, এরা কি নতুন কোন ডিম্বাকৃতির বস্তুকে আক্রমণ করবে, ভাবছে অঙ্কিতা। হ্যা, সত্যিই তাই, এই বায়ো-মিসাইল গুলো এখন জীবীত হয়ে উঠেছে, ছিন্নভিন্ন করে বেরিয়ে গেল বিশালাকার ডিম্বাকৃতির বস্তুটিকে। শুধু ধংসাবশেষ পড়ে রইল ডিম্বাকার বস্তুটির। 

এবার বায়ো-মিসাইল গুলো যাচ্ছে নতুন কোন শিকারের সন্ধানে। ছেড়ে যাচ্ছে অঙ্কিতাকে। ওরা চলে যাচ্ছে বলে মন টা কেমন করছে অঙ্কিতার, ভাবছে, ইশ ওরা যদি নিয়ে যেত আমাকে। হটাৎ একটা বায়ো-মিসাইল অঙ্কিতার দিকে তাকিয়ে বললো যাবে আমার সাথে? উঠো আমার পিঠে, উঠো উঠো.. উঠোনা..

আরো অনেক রকেট এখন নতুন শিকারের সন্ধানে

ঘুম ভেঙে জেগে উঠে দেখলো তার, বান্ধবী খাদিজা তাকে ডাকছে। বলছে সারারাত এই চেয়ারে বসেই ঘুমালে, উঠো, অযু করে আসো। ফজরের আযান গেছে, নামাজ পড়বে না? বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলে থাকে সে। অঙ্কিতা উঠে দাড়ালো, চোখ কচলাতে কচলাতে অযু করার জন্য রোম থেকে একটা হাসির ফুলকি নিয়ে বেরিয়ে গেল।

রেদোয়ান ফরাজী
বর্তমানে আমি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত আছি। প্রকৃতি ও জীবের সূক্ষাতিসূূক্ষ গঠন ও পরিচালনা, সুশৃঙ্খল ও সংঘবদ্ধ বিষয়গুলো আমার কৌতুহল ও আনন্দের জায়গা। আমার ভালোবাসার অনুজীব বিদ্যার জ্ঞান সবার মাঝে বাংলা ভাষায় ছড়িয়ে দিতে চাই।