অণুজীব পরিচিতিঃ Mycobacterium tuberculosis

আমি যে সে শহরে থাকি ওখানে একটা বক্ষ ব্যাধি হাসপাতাল আছে। ছোটবেলায় আব্বু আম্মুর মুখে শুনতাম এখানে টিবি এর চিকিৎসা হয়। আমার কাছে টিবি নামটা কেমন জানি ইন্টারেস্টিং লাগতো কারণ এর সাথে ‘টিভি’ শব্দটার মিল আছে। পরে বুঝতে পারি টিবি আসলে যক্ষ্মা। আর এই যক্ষ্মা রোগের কারণ Mycobacterium tuberculosis নামের অণুজীব। ১৮৮২ সালে রবার্ট কখ (Robert Koch) এই অণুজীবটি আবিষ্কার করেন। তাঁর এই আবিষ্কারের জন্যে তিনি ১৯০৫ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পান। ওনার নাম অনুসারে একে কখ’স বেসিলাস (Koch’s Bacillus) ও বলা হয়! যক্ষ্মা নিয়ে একসময়কার বিখ্যাত ডায়ালগ ছিল ‘যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা’। আর সে সময়টা হলো আঠারো বিস্তারিত

অনুশীলনের মাধ্যমে কি সৃজনশীল হওয়া সম্ভব?

অনুশীলনের মাধ্যমে কি সৃজনশীল হওয়া সম্ভব? সম্প্রতি এ বিষয় নিয়ে সাইন্টিফিক আমেরিকানের মাইন্ড ব্লগ অংশে Scott Barry Kaufman এর একটা লেখা পড়লাম। উনি বলছেন, সৃষ্টিশীল লোকেরা শুধুমাত্র কোন নিদিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যাপারটা এমন নয়। তারা চেনা পথে না চলে নিজেদের জন্যে নতুন পথ তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানী এরিকসন ও পুলের মতে সঠিক অনুশীলন আপনাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা এনে দেবে। সঠিক অনুশীলন বলতে উদ্দেশ্য ঠিক করা, কাজগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে সম্পন্ন করা, নিজের আয়ত্তের জায়গা থেকে বেড়িয়ে নতুন কিছু করা। এধরণের অনুশীলন কাজে লাগতে পারে দাবা খেলতে কিংবা কোন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে। যে ধরণের কাজে একই প্যাটার্নের বার বার ঘুরে ফিরে বিস্তারিত

অণুজীব পরিচিতিঃ Clostridium tetani

ছোটবেলায় নানা রকম দুষ্টুমি করতে গিয়ে কত লোহা পেরেকের গুঁতো খেয়েছি। তখন যে কথাটি অবধারিতভাবে শুনতে হয়েছে তা হলো ‘লোহার গুঁতো খেলে কিন্তু টিটেনাস ইনজেকশন দিতে হবে’। এ অভিজ্ঞতা যে হয় নি তা নয়। লোহার গুঁতো খেয়ে ইনজেকশনের শরণাপন্ন আমাকে হতে হয়েছে। তখন যা জানতাম তা হলো ধনুষ্টঙ্কার হলে ঘাড় মটকিয়ে যায়। তাই ছোটবেলায় পেরেককে ভয় পেতাম খুব। মজার বিষয় হচ্ছে আজ এতদিন পর আমি সেই ধনুষ্টঙ্কারের জন্য দায়ী অণুজীব নিয়েই লিখতে বসেছি! প্রথমে জানা যাক ধনুষ্টঙ্কার সৃষ্টিকারী অণুজীবের নাম টা কি? শিরোনাম থেকে বুঝতেই পারছেন মূল অপরাধী হলো Clostridium tetani. Kitasato Shibasaburo সর্বপ্রথম মানবদেহ থেকে C.tetani আলাদা করেন। C. বিস্তারিত

মানুষ-অণুজীব যুগলবন্দী

যখন ছোট ছিলাম তখন খাওয়ার আগে আর বাথরুম থেকে আসার পর হাত ধোয়ার জন্যে বিটিভিতে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেয়া হত। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতাম। আর মা তো লেগেই থাকতো খাবার আগে ভালো করে হাত ধোয়ার জন্যে। তখন যেটা জানতাম জীবাণু হচ্ছে আমাদের জন্মের শত্রু! এরা আমাদের শরীরে ঢুকে আর আমাদের বারোটা বাজিয়ে দেয়। তাই জীবাণুর প্রতি no ভালোবাসা, Only ঢিসুম ঢিসুম with লাইফবয়! কিছুটা বড় হওয়ার পর দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্যক্রমে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হলাম। দেখি এতদিন যাদের জীবাণু বলে জানতাম তাদের একটা ভদ্র নাম আছে ‘অণুজীব’, ইংরেজিতে Microorganism. মনে মনে বলি micro নামের মধ্যে একটা ব্যাপার আছে, ভাব ই বিস্তারিত

ভ্যাক্সিন, এক স্বর্গীয় আশীর্বাদ

এ বছরে ‘The Croods’ নামে একটা অ্যানিমেটেড মুভি বের হয়েছিল। মুভিটা অনেকেই দেখেছেন। Croods রা মূলত গুহামানব। সারা পৃথিবী থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। গুহাতেই তারা তাদের জীবনের প্রায় পুরোটাই কাটিয়ে দেয়। প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার সাথে তারা দিন রাত যুদ্ধ করে টিকে থাকার জন্যে। প্রকৃতির ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা তারা জানে না। তাই তারা ঘটনাগুলোকে নিজের মত করে ব্যাখ্যা করে। আর তৈরি হয় নান মিথ।   মানুষের ইতিহাসও অনেকটা Croods দের মত। মানুষের কাছে যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগে নি। তখন তারা প্রকৃতির কাছে এমনটাই অসহায় ছিল। আর মানুষের চরম শত্রু ছিল নানা প্রাণঘাতী রোগ। এমন একটি রোগ হলো গুটি বসন্ত বা Smallpox। যে রোগ বিস্তারিত

মস্তিষ্ক ও তার ধারণক্ষমতা

ধরুন আপনার বয়স ৪০ বছর। ঘটনাবহুল জীবনে আপনি নানা ধরণের অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন। আর সবই সংরক্ষিত হয়ে আসছে আপনার ঘাড়ের উপরের যন্ত্রটিতে! কিন্তু ঠিক ৪০ বছর ১৩ দিন ২৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডে আপনার মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেল। মানে এরপর থেকে আপনি কিছুই মনে রাখতে পারছেন না কারণ আপনার মস্তিষ্কের হার্ড ডিস্ক পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বিন্দুমাত্র জায়গা খালি নেই! ফলে আপনার জীবন হয়ে গিয়েছে স্থবির! উপরের কল্পনাটি কেবলই কল্পনা! আজ পর্যন্ত কারোও সাথে এমনটি হয় নি। কিন্তু আসলেই কি এমনটা হওয়া সম্ভব। এখন আপনি যদি বলেন একটা মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে x পরিমাণ। তাহলে ‘x’ পরিমাণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পর বিস্তারিত

জেলিফিশে আলো, আর একি চমৎকার দেখা গেলো!

একটা গাছের পাতা দেখেই কি বলে দেয়া যায় পাতার কোষে কি হচ্ছে? উদ্ভিদের কোষের ভিতরের প্রোটিন কি দেখা যায়? এই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া গিয়েছে আলোক নিঃসরণকারী এক ধরণের জেলিফিশ থেকে। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে এই জেলিফিসের সাথে উদ্ভিদ কোষের কার্যকলাপ দেখতে পাওয়ার সম্পর্ক কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে চলুন একটু জানার চেষ্টা করি কেন ও কিভাবে এই জেলিফিশ আলো নিঃসৃত করে! এ থেকে হয়তো আমরা আমাদের কাঙ্খিত উত্তরের কাছে পৌঁছে যাব। শুরু করি একটুখানি ইতিহাস দিয়ে। ১৯৬০ সালে Osamu Shimomura প্রাকৃতিকভাবে আলোক নিঃসরণকারী জেলিফিশ নিয়ে গবেষণা করার জন্যে জাপান থেকে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে চলে আসেন। Shimomura এবং তাঁর সহযোগী বিজ্ঞানীদের বিস্তারিত

রোগের জীবাণুতত্ত্ব

রোগ বালাই তো মানুষের লেগেই থাকে। তখন আমরা দৌড়াতে থাকি ডাক্তার কবিরাজের কাছে। অবশেষে পথ্য নিয়ে সুস্থ হই। কিন্তু আমরা কিভাবে রোগে আক্রান্ত হলাম তা কিন্তু চিন্তার বিষয়! আমরা এখন জানি রোগ সৃষ্টির সাথে অণুজীবের গভীর সম্পর্ক আছে। আমাদের সবার কাছে পরিচিত ও ভয়াবহ একটি রোগ হল এইডস। আর যে কারণে এইডস হয় তা হল HIV ভাইরাস। একইভাবে আমাদের অনেকেরই জলবসন্ত হয়। এটার কারণও অণুজীব। কোথাও ব্যথা পেয়ে কেটে ছিঁড়ে গেলে অনেক সময় ইনফেকশন হয়। এটাও কিন্তু অণুজীবের কারণে। এভাবে চোখের সামনে নানা ভাবে আমরা অণুজীবের কারণে রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। তবে সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো এখন আমরা রোগের সাথে অণুজীবের যে বিস্তারিত