কৃত্রিম বৃষ্টি : প্রকৃতি যখন হাতের নাগালে [৩- শেষ পর্ব]

[২য় পর্বের পর থেকে] নানা কাজে নানা দিকে ব্যবহারঃ কোনো একটি এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টি সে এলাকার বার্ষিক বৃষ্টির ১০%-২০% বৃষ্টি বৃদ্ধি করতে পারে। ফসল নেই এমন সময়ে অধিক বৃষ্টি হলে ঐ দৃষ্টিকোণ থেকে খুব বেশি লাভ নেই। ফসলের প্রয়োজনে ৫% বৃষ্টিই পর্যাপ্ত! সময়মতো অল্প বৃষ্টিপাত দিয়েই ভাল ফসল ফলিয়ে নেয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় বন্ধ্যা জমি মানে যে সকল জমিতে পানির অভাবে কখনোই ফসল করা হয় না এমন জমিতেও ফসল ফলানো সম্ভব। আবার কিছু কিছু এলাকায় এটি ভাল ফলাফল নাও বয়ে আনতে পারে। মানুষ এখনো পরিপূর্ণভাবে প্রকৃতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা শিখে নিতে পারে নি। দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম প্রভাবনঃ মাঝে মাঝে এমনও বিস্তারিত

কৃত্রিম বৃষ্টি : প্রকৃতি যখন হাতের নাগালে [২]

[১ম পর্বের পর থেকে] কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরিঃ কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি নামানোর ক্ষেত্রে প্রধানত দুইটি উপায় দেখা যায়। একটি হচ্ছে ভূমি হতে কামান বা কোনো নিক্ষেপকের মাধ্যমে বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার এলাকা বা মেঘের দেশে ঘনীভবনকারী পদার্থ ছুড়ে দেয়া। কিংবা ভূমি হতে এমন কোনো ব্যবস্থা তৈরি করা, অনেকটা ধোঁয়া যেমন ধীরে ধীরে উপরে ওঠে যায় তেমন করে এই রাসায়নিক পদার্থগুলোও যেন উপরে ওঠে যায়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে বাহকের মাঝে রাসায়নিক ভরা হয়। যেহেতু এটি রকেটের মতো করে ছুড়ে মারা হবে তাই উড়ার জন্য বাহককেও রকেটের মতো করে বানানো হয়। সেই রকেট একটি কামানের মতো নিক্ষেপক যন্ত্রের মাঝে রাখা হয়। পরে দিক ও লক্ষ ঠিক বিস্তারিত

কৃত্রিম বৃষ্টি : প্রকৃতি যখন হাতের নাগালে [১]

মানুষের প্রয়োজন ও সক্ষমতাঃ খ্রিস্টের জন্মের ২১৫০ বছর আগে চীনের ইতিহাসের দিকে একটু ফিরে তাকালে দেখা যাবে সেখানকার সম্রাট ইয়ু তার রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা তৈরি করার মাধ্যমে কৃষকের ফসল রক্ষা করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। কিন্তু আজকের দিনের সেই চিত্র একদমই ভিন্ন। একসময় যে চীনের এক স্থানে নদীর পানি আটকে রাখা শক্ত ছিল আজ এত বছর পরে সেই চীনেই একফোঁটা পানির জন্য নানা কসরত করতে হয়। পানি মানুষের জন্য আশীর্বাদ। একসময় বৃষ্টি হবে, এই আশা করে এখনো অনেক এলাকায় ধান লাগানো হয়। যদি উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হয় তাহলে ধানের জমি কৃষকের মন খুশি করতে পারে না। বাংলাদেশেরই আবহাওয়া বিস্তারিত

সমাজ সচেতনতা বিষয়ক দুটি বই

আমাদের সমাজের প্রায় অধিকাংশ মানুষের মাঝে বিদ্যমান অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার নিয়ে তিন চারটা বই পড়েছি ইদানীং। এদেরই দুটি কাজের বই নিয়ে সামান্য কিছু আলোচনা। বইগুলো হয়তো খুব বেশি ওজনের না, কিন্তু সকলেরই পড়া উচিৎ। আর যাই হোক, জ্ঞান অর্জন করা দূরে থাকুক, অন্তত কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস থেকে তো বের হতে হবে। অতিরিক্ত জ্ঞান আহরণে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা থেকে প্রত্যেকটি মানুষকে বের হতেই হবে। ১ যৌন বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান by বিদ্যুৎ মিত্র (কাজী আনোয়ার হোসেন)   সেবা প্রকাশনীর বই পড়ে যারা বড় হয়েছে তাদের অনেকেই এই বইটা পড়েছে। এই বইটা যদিও সম্প্রতি তেমন একটা পাওয়া যায় না তারপরেও বিস্তারিত

থ্রিডি জ্যামিতি : নিম্ন মাত্রা হতে উচ্চ মাত্রায় উত্তরণ

বাস্তব জগতে আমরা যত ধরনের জ্যামিতিক বস্তুর সম্মুখীন হই তার সবগুলোই ত্রিমাত্রিক জ্যামিতিক বস্তু বা থ্রিডি জ্যামিতিক ফিগার। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে যে জ্যামিতিগুলো করানো হয় তার প্রায় সবই দ্বিমাত্রিক জ্যামিতি। দ্বিমাত্রিক জ্যামিতিকে বলা হয় ইউক্লিডীয় জ্যামিতি। এই দ্বিমাত্রিক জ্যামিতির ভীত ইউক্লিড নামের একজন গণিতবিদ তৈরি করেছেন বলে এই জ্যামিতিকে ইউক্লিডীয় জ্যামিতি বলা হয়। ইউক্লিড হচ্ছেন একজন ইতিহাসবিখ্যাত গ্রীক গণিতবিদ। স্কুল কলেজে পঠিত জ্যামিতির প্রায় সবই ইউক্লিড রচিত ‘এলিমেন্টস’[1] নামের ১৩ খণ্ডের বই থেকে উৎসারিত। ইউক্লিডের এই বইটি একটা বিশেষ দিক থেকে সেরা। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত সবচে নির্ভুল বই।[2] ইউক্লিডীয় জ্যামিতির নিয়ম-নীতি শুধু দুই মাত্রার তল বা সমতল বিস্তারিত

ছেলেদের কেন স্তন আছে?

সকল পুরুষেরই স্তন-গ্রন্থি আছে। মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার সহ অন্য কোনো সমস্যা না হলে কোনো পুরুষই সাধারণত সে স্তন থেকে দুধ উৎপন্ন করতে পারে না। যদি সন্তান সন্ততিদের দুধ খাইয়ে সাহায্য নাই করতে পারে তাহলে কোন লাভের জন্য এই অপ্রয়োজনীয় জিনিষ সারাজীবন ধরে থেকে যায় প্রত্যেকটি পুরুষের মাঝে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে মানুষের ভ্রূণ দশার মাঝে। ভাল করে বললে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণে লাগা সময়কালের মাঝে। মানুষ স্তন্যপায়ী প্রাণী, আর প্রত্যেক স্তন্যপায়ী প্রাণীই হয়ে থাকে উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট, লোমশ, মেরুদণ্ডী, নিঃশ্বাস হিসেবে বায়ু গ্রহণ করে এবং অবধারিতভাবে সকল শিশুই স্তন পান করে বড় হয়। যেমন মানুষ, কুকুর, গরু ইত্যাদি। মায়ের গর্ভে মানব বিস্তারিত

বইঃ প্রাণীজগতের বিবর্তন, মানুষ যখন থাকবে না

বইটির দুইটি অংশ। মূল অংশটাকে গুছিয়ে আনতে প্রথম অংশটাকে লিখেছেন। প্রথম অংশটা পড়ে শেষ করে লেখককে খুব বড় মাপের বিজ্ঞান লেখক বলে মনে হল না। আমার অভিজিৎ রায়, ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর লেখা পড়ে অভ্যাস, তাই সম্ভবত এমন মনে হচ্ছে। আমি আগে ভাগেই উঁচু মানের লেখা পড়ে অভ্যস্ত হয়ে আছি, তাই এই বইটা কিঞ্চিৎ অন্য রকম লাগছে। এর আগেও এই লেখকের একটা বই “আগামী প্রজন্মের বিজ্ঞান” নামের একটা বই পড়েছিলাম। একই অবস্থা, একটু পড়ার পর আর এগিয়ে যাওয়া যায় না। বইটি মূলত মানুষ যখন থাকবে না, তখন মানুষের অনুপস্থিতিতে অন্যান্য প্রাণীদের কী ধরনের শারীরিক পরিবর্তন আসতে পারে তার কাল্পনিক বর্ণনা। তিনি বিস্তারিত

বইঃ বস্তুর গভীরে

জিরো টু ইনফিনিটির সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদের তৃতীয় বই। বইটির সবচে দারুণ দিক হচ্ছে এর প্রকাশনার মিষ্টতা। ৮০ পৃষ্ঠার বই কিনতে গেলে ১২০ টাকা গুনতে হয়। আজকালকার বইয়ে প্রতি পৃষ্ঠার দাম পড়ে দেড় টাকা থেকে দুই টাকা। নিয়মিত পাঠকদের জন্য এটা একটা মোটা দাগের সমস্যা। কিন্তু এই বই মাত্র ৫০ টাকা। এখানেই শেষ নয়। এর পৃষ্ঠাগুলো দিয়েছে গ্লসি পেপারে। খুবই মূল্যবান কিছু গ্লসিতে ছাপানো হয় এবং তা হয় অনেক খরচবহুল। কিন্তু প্রকাশনী হিসেবে জিরো টু ইনফিনিটি খুবই অল্প মুনাফা করছে, বা যতটুকু সম্ভব কম দাম রাখছে। আর এই বই বিক্রি হয়েছে, হচ্ছে ফুটপাতের দোকান হতে অভিজাত লাইব্রেরীতে। যে বই অভিজাত বিস্তারিত