মস্তিষ্ক ও নিউরোসায়েন্স

  • মস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের জটিলতম বস্তু

    আপনার-আমার দেড় কেজি মস্তিষ্কের মধ্যে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন (কারও মতে ১০০ বিলিয়ন) নিউরন রয়েছে। আপনি গর্ব করে বলতেই পারেন যে মহাবিশ্বের যতটুকু পর্যবেক্ষণ করা এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে, তাতে যত গ্রহাণু পাওয়া গিয়েছে, তার চাইতেও হাজার গুণ বেশি নিউরন আপনার মস্তিষ্কে রয়েছে। এছাড়াও এই ছোট্ট মস্তিষ্কের মধ্যে ৮৫ বিলিয়ন অন্যান্য কোষ ও নিজেদের মধ্যে প্রায়…

  • স্মৃতির এনগ্রাম কীভাবে তৈরি হয়

    যখন আমরা কোন ঘটনা-অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাই, বিভিন্ন ইন্দ্রিয় থেকে আসা তথ্য মস্তিষ্কের একটা বড় সংখ্যক স্নায়ুকে আলোড়িত করে। কিন্তু এই “বড় সংখ্যক” স্নায়ুর মধ্য থেকে মাত্র অল্প একটা অংশই দিন শেষে এনগ্রামের অংশ হয়। এতগুলো আলোড়িত স্নায়ুর মধ্য থেকে ঠিক কোন স্নায়ুকোষ এনগ্রামের অংশ হিসেবে নির্বাচিত হবে এটা কিসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়? এখানে কি…

  • কোটার্ড সিনড্রোম: নিজেকে মৃত ভাবার অদ্ভুতুড়ে অসুখ

    হেড অফিসের এক বড়বাবুর কথা কবিতার ছন্দ-সুরে আমাদের জানিয়ে গেছেন কবি সুকুমার রায়। একনাগাড়ে চেয়ারে বসে থাকতে থাকতে যার কিনা সহসাই মনে হয়েছিল, তার গোঁফজোড়া চুরি হয়ে গেছে। কিন্তু জানেন কি, এই ধরণীতে এমন কিছু সত্যিকার মানুষেরও দেখা মেলে, যারা কি-না বেখেয়ালি মনে যোগ দিয়েছেন এই কল্পিত বড়বাবুরই দলে? কেবল গোঁফ-দাড়ি নয়, হাত-পা, পেট-মাথার মতো…

  • এনগ্রাম: স্মৃতির গাঠনিক একক

    স্মৃতি আমাদের কাছে একটা সহজাত প্রবৃত্তি বলে মনে হয়। কোন একটা অভিজ্ঞতার তথ্য সযত্নে জমা রেখে পরবর্তীতে মনে করতে পারার যে ক্ষমতা, তাকে আমরা স্মৃতি বলে জানি।  কখনো কি মনে হয়েছে মস্তিষ্কের মধ্যে স্মৃতি ঠিক কিভাবে তৈরি হয়?  এনগ্রামকে বলা হয় স্মৃতি তৈরির গাঠনিক একক।এই লেখাতে আমরা এনগ্রাম নামক একটা ধারণার সাথে পরিচিত হবো। এর…

  • হিপ্পোক্যাম্পাসের সময়-ভ্রমণ: স্মৃতি ফিরে দেখা

    ঘুম, যে কাজে আমরা জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় ব্যয় করি, বেঁচে থাকার জন্য তার অতীবগুরুত্ব ভূমিকা থাকতেই হবে। না হয় সে কাজ বিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে বোধগম্য না।  ঘুমের অনেকগুলো জরুরী কাজের মধ্যে সম্ভবত অন্যতম প্রধান হলো স্মৃতি সংহতিসাধন (Memory consolidation)। নিউরোসায়েন্সের ভাষায় মেমরি কনসলিডেশন বলতে বোঝায় নতুন গঠিত হওয়া স্মৃতিকে দৃঢ়করণ, স্থিতিশীলতা বাড়ানো, ও স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি…

  • মস্তিষ্ক যেভাবে অবস্থান নির্ণয় করে

    কোন নতুন শহরে জীবনে প্রথমবার গেলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে খাবি খেতে হয়। নতুন কোন পাড়ায় গেলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছাতে আমাদের বারবার গুগল ম্যাপ দেখতে হয়, বা স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞেস করতে হয়, “ভাই এই জায়গাটা কোন দিকে?”। গন্তব্যস্থানে পৌঁছানোর বদলে কয়েকবার পথ হারানোর দশা! অথচ মস্তিষ্ক ঠিকই সক্রিয়ভাবে জায়গাটা চিনে…