ভাইরাস কি আসলেই আমাদের ভবিষ্যৎ-সম্ভাবনার দ্বার?

ভাইরাস শব্দটি মূলত আক্রমনাত্মক এবং সংক্রামক স্বভাবেই বেশি পরিচিত। খালি চোখে দেখতে না পাওয়া এই জীবতত্ত্বিক রসায়ন অসংখ্য মৃত্যু এবং অসুস্থতার সাথে জড়িত। একটি ক্ষতিকর ভাইরাস মহামারীর মত প্রতিবেশি, শহর, এমনকি কোন ভৌগলিক এলাকাকে নিদারুণ উদ্ভট আতংকে ফেলতে পারে৷ যার প্রমাণ আমরা এই করোনার কারণে ভালোই উপলব্ধি করতে পারছি৷ আর এই খালি চোখে অদৃশ্য ভাইরাস পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই বিদ্যমান। এরা ছত্রাক, উদ্ভিদ, প্রাণী এবং মানুষকেও সংক্রামিত করতে পারে৷ তবে, সব ভাইরাসই খারাপ নয়৷ কিছু ভাইরাস বিপদজনক ভাইরাসের বিপক্ষে কাজ করে ৷ কিছু মানব দেহের প্রোবায়োটিক-ব্যাকটেরিয়ার (যে ব্যাকটেরিয়া মানুষের উপকার করে) মতই প্রতিরক্ষা-ভাইরাস হিসাবেও কাজ করে। আসলে, আমরা তাদের সম্পর্কে যত বিস্তারিত

অণুজীববিজ্ঞানে ভাইরাসের প্রথম সূচনা ও বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম

বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারী পেক্ষাপটে “ভাইরাস” একটি বহুল আলোচিত ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী শব্দ। কিন্তু, কখনো কি মনে হয়েছে নামটির উদ্ভব কিভাবে হলো? কিংবা কেনই বা একে আমরা ভাইরাস বলি?  আসলে, ভাইরাস শব্দটি এসেছে ইতালির একটি শব্দ “ওয়েইস-ও-(এস-)” থেকে যাকে ল্যাটিন শব্দে রূপান্তরিত করলে “ভাইরাস” নামটি পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ল্যাটিন ভাষা হতে ধার করা একটি শব্দ হলো এই ভাইরাস। ইতালিয়ান শব্দটির অর্থ ছিলো বিষাক্ত তরল।  কিন্তু, ভাইরাস শব্দটির অর্থ হলো, বিষ কিংবা গাছের রস কিংবা, আঠালো-তরল কিংবা, এক ধরনের শক্তিশালী জ্যুস। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোন বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। প্রথম আবিষ্কারের  ঘটনাটি পড়লে এ নামের পিছনের বিষয়টা সহজে  অনুধাবণ করা বিস্তারিত

বিভিন্ন ভ্যাক্সিন নিয়ে আপনার যা জানা প্রয়োজন

ভ্যাক্সিন তৈরী হলে এবার আসে কার্যকারীতার ব্যাপারটি। কোনটি মানুষের দেহে কাজ করবে । একই সাথে অক্ষতিকর ও সহজলভ্য কিংবা কমমূল্যে উৎপাদন করা যাবে ইত্যাদি। এছাড়া, মানুষে অনুপ্রবেশ করানোর আগে ল্যাবে বিভিন্ন ট্রায়ালের/পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা পড়ে৷ সেটির কার্যকারীতা প্রকাশ পেলে এরপর আসে মানুষের মাঝে পরীক্ষামূলক প্রমাণ। এটি আবার ছোট পরিসর, বড় পরিসরে ট্রায়াল/পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এভাবে, সবগুলি ধাপ অতিক্রম করলে তা FDA-এর মত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তারপর, এটি সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয়। আর, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘসময়ের প্রয়োজন হয়।

অ্যালকোহলের বাষ্পগ্রহণ কি কোভিড-১৯ সারিয়ে তুলতে পারে?

সম্প্রতি একাত্তর টেলিভিশনে দেয়া একটি সাক্ষাতকারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলাম দাবী করেছেন, ইথানল বাষ্প শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে করোনা সহ শ্বসনতন্ত্রের অন্যান্য রোগ ভালো হবে। তিনি নিজের এবং তার ছাত্রদের উপর এটি পরীক্ষা করেছেন বলে দাবী করেছেন। বস্তুত, নিশ্বাসের মাধ্যমে অ্যালকোহলের বাষ্পগ্রহণ অত্যন্ত বিপদ্জনক ও ক্ষতিকর। কোন গবেষণা ছাড়াই এ ধরনের দাবী জনসম্মুখে করার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এ বিষয়টি যাচাই করার জন্য এই লেখাটি লিখেছেন অণুজীববিজ্ঞানের ছাত্র আশিক মাহমুদ। – আরাফাত রহমান

দাবা আবিষ্কারক ও করোনা (অনুজীবের) মহামারী!

এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে যতগুলো দাবা খেলা হয়েছে তার কোনটার সাথে কোনটার হুবুহু মিল নেই। ঠিক কোথায় সর্বপ্রথম দাবা খেলার উৎপত্তি, সেটি নিয়েও বিতর্কের শেষ নেই। কিছু প্রাচীন আমলের হরফে দাবা খেলার প্রারম্ভিক কাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, পাশাপাশি খেলাটির আদি অস্তিত্বের প্রমাণস্বরূপ কিছু কিছু দাবার গুটিরও হদিশ মেলে। একারণেই, এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা, তত্ত্ব ও মতামতের অভাব নেই। বেশিরভাগ ইতিহাসবিদের ধারণা ভারত, পারস্য কিংবা চীনই দাবার জন্মস্থল। ইউরোপে দাবার যে রূপ অনুপ্রবেশ করে তা আদপে প্রায় ১,৩৫০ বছর আগেই পারস্যে খেলা হতো। এখন, আসল প্রসঙ্গে আসা যাক। দাবা আবিষ্কারককে নিয়ে একটা পৌরাণিক গল্প আছে। যা খুব সম্ভবত বিখ্যাত গণিতবিদ “ইয়াকভ পেরেলমান” এর লেখা।

ব্যক্টেরিয়ার রাজত্বে বসবাস

সাধারণভাবে, রাজত্ব দ্বারা বোঝায় কোন রাজ্যের রাজা কিংবা সম্রাটের দ্বারা রাজ্য পরিচালনা করা । যেখানে রাজা হবে একজন আর তার থাকবে বিশাল জনসংখ্যার প্রজা। তবে ‘ব্যক্টেরিয়ার-রাজত্বের’ সাথে মানুষের রাজত্বের কিছুটা অবশ্যি পার্থক্য রয়েছে। যেমনঃ ব্যাকটেরিয়ার রাজত্বে রাজা হলো একক কোন ব্যক্টেরিয়া নয় বরং পুরা প্রজাতির সকল ব্যক্টেরিয়া। যেন আমরা সবাই রাজা মেনে চলে। আর সেখানে রাজত্বের বিস্তৃতি হলো মানুষ থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রাণী, মাটি, পানি, বায়ু অর্থাৎ চারপাশের পুরা পরিবেশ টাই। সে এক ভিন্ন ধরণের রাজ্য। যেখানে রাজ্য পরিচালনা করেন সম্রাট “ব্যাকটেরিয়া” । কেননা পরিবেশের সকল জায়গাতেই তার উপস্থিতি মিলে। সামান্য এক গ্রাম মাটির কথায় চিন্তা করা যাক। সেখানেও বিস্তারিত

অণুজীবদের কি নৈতিকতা আছে?

মানুষের বিবেক আছে। মানে আমরা কোন কিছু করার আগে ভালো মন্দ চিন্তা করি। তারপর আমাদের মানসিক অবস্থা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিই। খারাপ মানুষ হয়তো কারো ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নেয় আর ভালো মানুষ অন্যের উপকারের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই হিসেবে আমরা কোন মানুষকে ভালো কিংবা খারাপ মানুষ বলি। তার কাজকেও আমরা ভালো কাজ কিংবা খারাপ কাজ বলতে পারি। যেসব জীব অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক তাদের কি এই বিবেক ও নৈতিকতা আছে। এখানে কথা বলছি অণুজীবদের নিয়ে।

ভাইরাসও কিন্তু ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে

ভাইরাস শব্দটা শুনলেই আমাদের রোগের কথা মনে পড়ে। ভাইরাস আমাদের রোগ সৃষ্টি করে। ভাইরাস আমাদের কোষকে আক্রান্ত করে আবার কোন কোন ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকেও আক্রান্ত করে। তবে আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হল ভাইরাসও ভাইরাসকে আক্রান্ত করে ; অর্থাৎ ভাইরাসও ভাইরাসের রোগ সৃষ্টির কারণ হতে পারে । এই ভাইরাসের ভাইরাসকে আবিষ্কার করেন Bernard La Scola এবং Christelle Desnues. তারা এর নামকরণ করেন সেই চিরচেনা স্যাটেলাইট স্পুটনিক এর নামে। ব্যাকটেরিওফেজের নামের সাথে মিল রেখে এদের অনন্যতার কারণে তাদের অন্য গোত্র (Family) ‘ভাইরোফেজ’ এর অন্তর্ভুক্ত করেন। এই স্পুটনিক এর গল্প আসলে শুরু হয় ১৯৯২ সালে ইংল্যান্ডে। একদল গবেষক অ্যামিবা নিয়ে গবেষণার সময় একটি আণুবীক্ষণিক দৈত্য বিস্তারিত