সিফিলিস: এক অভিশপ্ত যৌনরোগ

সিফিলিস কি সত্যিই সূর্য দেবতা অ্যাপোলোর অভিশাপ ছিল? নাকি ক্রিস্টোফার কলম্বাস এর সমুদ্র অভিযান এর ফসল? কোথা থেকে আসলো এই সিফিলিস? কিভাবেই বা ছড়িয়ে পড়লো সারা পৃথিবীতে? সিফিলিস এর আসল কারন কি? সিফিলিস সম্পর্কে পূর্বের মানুষের ধারনা কি ছিল? কি ভাবে তারা পূর্বে তরল ধাতু পারদ এবং গুয়াইয়াকুম গাছ দিয়ে সিফিলিস এর চিকিৎসা করতো? চলুন জেনে নেয়া যাক এই ঐতিহাসিক রোগটি সম্পর্কে যা মানব জাতিকে অভিশপ্ত করেছিল এবং কিভাবে এই অভিশাপ থেকে আমরা মুক্তি পেলাম।

উৎপত্তি

অনেক বছর আগের কথা। সময়টা তখন আধুনিক যুগের সূচনাকাল মাত্র। পনেরো শতকের প্রায় শেষের দিকে এক ভয়ংকর যৌন রোগসমগ্র ইউরোপ সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল  [1]। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সারা দেহে ব্যথাহীন ঘাঁ দেখা যেত [2]। রোগটি অনেকটা পক্স বা বসন্ত রোগের মতো ছিল বিধায় তখন এর নাম রাখা হয় “গ্রেট পক্স” [3]। রোগটি কোথা থেকে আসল, কিভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেল তা নিয়ে রয়েছে নানা তর্ক বির্তক [4]। অনেকেই মনে করেন, ক্রিস্টোফার কলম্বাস সমুদ্র অভিযান এর সময় তার আবিষ্কৃত নতুন ভূখন্ড থেকে এ রোগটি ইউরোপে নিয়ে এসেছিলেন [5]। ক্রিস্টোফার কলম্বাস, একজন ইতালিয়ান নাবিক এবং অনুসন্ধানকারী, যিনি সমুদ্র যাত্রার মাধ্যমে নতুন নতুন ভূখণ্ড আবিষ্কার করতেন। তিনি দীর্ঘ সময় আটলান্টিক মহাসাগরে অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করেন এবং অনেক দ্বীপ আবিষ্কার করেন [6]। 

চিত্র: ক্রিস্টোফার কলম্বাস (চিত্রসূত্র: 1) চিত্র: ক্রিস্টোফার কলম্বাস এর সমুদ্র অভিযান (চিত্রসূত্র: 2)

আবার, অনেকেই মনে করেন যে, এই রোগ টি ফ্রান্স থেকে এসেছে। যখন ফ্রান্সের রাজা চার্লস-অষ্টম, ইতালি আক্রমন করেন তখন এ রোগটি ফ্রান্স থেকে আসা সৈন্যদের সাথে করে এসেছিলো। ১৪৯৫ সালে ফ্রান্সের রাজা চার্লস-অষ্টম ইতালি আক্রমন করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে রাজা চার্লস ইউরোপের বিভিন্ন স্থান থেকে সৈন্য ভাড়া করে এনেছিল। যাই হোক, এই যুদ্ধের সময় সর্বপ্রথম “গ্রেট পক্স” রোগটি ফরাসী সৈনিকদের মধ্যে দেখা গিয়েছিল। যুদ্ধ শেষে সৈনিকরা এ রোগটি তাদের সাথে করে নিয়ে বাড়িতে যায় এবং সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে দেয় এবং ধারণা করা হয়, এর ফলে প্রায় পাঁচ মিলিয়নের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। যেহেতু এটি সর্বপ্রথম ফ্রান্সের সৈনিকদের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল তাই এটি “ফরাসী রোগ” নামেই সর্বাধিক প্রচলিত ছিল [7] ।

চিত্র: ফ্রান্সের রাজা চার্লস-অষ্টম (চিত্রসূত্র:3)

চিত্র: ফ্রান্সের রাজা চার্লস-অষ্টম এর ইতালি আক্রমন (চিত্রসূত্র:4)

অভিশাপ

সিফিলিস রোগটির উৎপত্তি নিয়েও নানা প্রগৌতিহাসিক গল্প কথা রয়েছে। যা পুরনো পান্ডুলিপি এবং পাথরে অঙ্কিত নানা চিত্রকর্মে পাওয়াগিয়েছে। এই রকমই একটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে, ইতালীয় চিকিৎসক, কবি এবং গণিত, ভূগোল এবং জ্যোতির্বিদ্যা শাস্ত্রের পণ্ডিত, জিরোলামো ফ্রাকাস্টোরো এর ১৫৩০ সালে প্রকাশিত “সিফিলিস সিভ মরবাস গ্যালিকাস [8]।

চিত্র: জিরোলামো ফ্রাকাস্টোরো এর লিখিত বই Syphilis sive morbus gallicus (চিত্রসূত্র:5)

ঘটনাটি অনেকটা এরকম, সিফিলাস নামের একজন মেষপালক আটলান্টিসের রাজা আলসিথাউসের ভেড়া চড়াতো। সিফিলাস সূর্য দেবতা অ্যাপোলো এর উপাসনা করতো। কিন্তু পরবর্তীতে সে তার মনিব রাজা আলসিথাউসের প্রতি অতিভক্তিমূলক আচরণ শুরু করে এবং সূর্যদেবতা অ্যাপোলোকে বাদ দিয়ে রাজা আলসিথাউসের এর উপাসনা করতে লাগলো। সূর্যদেবতা অ্যাপোলা ভীষণ ভাবে চটে গেলেন সিফিলাস এর উপর। শাস্তি হিসেবে দিলেন ভয়ঙ্কর এক যৌন রোগের অভিশাপ। আটলান্টিয়ানরা এই অভিশপ্ত মেষপালকের নামে এই রোগের নামকরণ করেছিল “সিফিলিস” [8]।

চিত্র: জিরোলামো ফ্রাকাস্টোরো এর লিখিত Syphilis sive morbus gallicus” বইটিতে উল্লেখিত- “সূর্য দেবতা অ্যাপোলো কর্তৃক মেষপালক সিফিলাস কে অভিশাপ প্রদান করা হয়” (চিত্রে সূর্য দেবতা অ্যাপোলোর মূর্তি রয়েছে)(চিত্রসূত্র:6)

এ অভিশাপ এর দায় নিবে কে?

রোগটি মহামারী আকার ধারণ করায় কোন দেশই এর দায় নিতে চাচ্ছিলো না। প্রত্যেকটি দেশ একে অপরকে দোষারোপ করছিল। ফলে বিভিন্ন দেশে এই রোগটি ভিন্ন ভিন্ন নাম পেতে থাকে। যেমনঃ ফরাসিরা একে বলতো “নেপোলিটান রোগ বা ইতালিয় অসুস্থতা; ডাচ, পর্তুগিজ এবং উত্তর আফ্রিকানরা এর নাম দেয় “কাস্টিলিয়ান রোগ বা স্প্যানিশ অসুস্থতা”; রাশিয়ানরা এটিকে বলতো “পোলিশ রোগ বা জার্মান অসুস্থতা”; জাপানিরা একে বলতো “ক্যান্টন র‍্যাশ বা চাইনিজ আলসার” এবং তুর্কিরা এটিকে বলতো “খ্রিস্টান রোগ বা পশ্চিম ইউরোপীয় রোগ” । এই জাতীয় নামগুলি দ্বারা সাধারণত জাতিগুলির মধ্যে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিদ্বেষের প্রতিফলন ফুটে উঠেছে [8]। 

পাপ মুক্তি

এভাবেই সিফিলিস রোগটি, বিংশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত, নানা কল্গগল্প ও কুসংস্কার এর উপর ভর দিয়ে এগিয়ে চলছিল। এটি যৌন রোগ হওয়ার কারণে সেই সময়ে মানুষের মনে আক্রান্ত রোগীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দেখা যেত। ধরে নেওয়া হতো যে আক্রান্ত ব্যক্তি নিশ্চয়ই তার পাপকাজের শাস্তি স্বরুপ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সকল প্রাচীন ভুল ধারনা ও অপবিশ্বাস এর অবসান ঘটিয়ে, 1905 সালে, জার্মান প্রাণীবিদ ফ্রিটজ রিচার্ড শাউডিন এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এরিখ হফম্যান সিফিলিসের আসল কারণ আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। এর কারণ হিসাবে তারা “ট্রিপোনেমা প্যালিডাম” নামক একধরনের ব্যাকটেরিয়াকে দায়ী করেন [9]। এই আবিস্কার এর মধ্যে দিয়ে সারা বিশ্ব সিফিলিস রোগটির উৎপত্তি সম্পর্কে সঠিক ধারনা পায়। যা মানব জাতি কে পাপ মুক্ত করেছিল।

চিত্র: জার্মান প্রাণীবিদ ফ্রিটজ রিচার্ড শাউডিন (চিত্রসূত্র:7)

চিত্র: চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এরিখ হফম্যান(চিত্রসূত্র:8)

অভিশাপের অন্ধকারে বিজ্ঞানের আলো

সকল কুসংস্কার ও অবিশ্বাসের অবসান ঘটিয়ে বিজ্ঞান আমাদের মাঝে সিফিলিস এর সত্যিকার কারণ খুঁজে বের করে এনেছিল এবং আমাদেরকে অভিশাপ মুক্ত করেছিল। সঠিক ধারনা অনুসারে, সিফিলিস হলো ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত একটি রোগ। এই রোগ সাধারণত যৌনাঙ্গ, মলদ্বার বা মুখে ব্যথাহীন ঘা হিসাবে শুরু হয় এবং পরে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে [10]। ট্রিপোনেমা প্যালিডাম” নামক একধরনের ব্যাকটেরিয়া এ রোগের জন্য দায়ী [9]। ট্রিপোনেমা প্যালিডাম ব্যাকটেরিয়া সাধারণত সর্পিল আকার, ৬-২০মি.মি. লম্বা, স্ক্রু এর মতো ঘুরে ঘুরে চলাচল করে [11]। 

চিত্র: ডার্কফিল্ড মাইক্রোইস্কোপ এর নিচে ট্রিপোনেমা প্যালিডাম ব্যাকটেরিয়ার ছবি (চিত্রসূত্র:9)

সিফিলিস রোগটি কিভাবে ছড়ায়?

সিফিলিস প্রাথমিকভাবে যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে বা গর্ভাবস্থায় একজন মা থেকে তার শিশুর মধ্যে ছড়ায় [4]।  ট্রিপোনেমা প্যালিডাম অক্ষত  মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লি অথবা ক্ষত ত্বকের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম। এটি ক্ষতস্থান বা এর কাছাকাছি চুম্বন, মুখ, যোনি, এবংপায়ূ পথে যৌন মিলনের সময় সংক্রামিত হতে পারে [4, 12]।  এছাড়াও এটি রক্ত বা অঙ্গ প্রতিস্থাপন, একই সিরিন্জ দিয়ে একাধিক ব্যক্তি মাদকগ্রহণ করলে ছড়াতে পারে। সাধারণত দৈনন্দিন কাজকর্ম, টয়লেট সিট,বাথ-টব, খাওয়ার পাত্র বা পোশাক ভাগাভাগি করলে সিফিলিস ছড়ায় না (যদি না শরীরে কোন ক্ষত থাকে)। কারণ ট্রিপোনেমা প্যালিডাম ব্যাকটেরিয়াটি শরীরের বাইরে খুব দ্রুত মারা যায় [13]।

চিত্র: সিফিলিস রোগ ছড়ানোর উপায় (চিত্রসূত্র:10)

সিফিলিস রোগী কিভাবে দেহে রোগ সৃষ্টি করে?

সিফিলিস রোগ সৃষ্টিকারী ট্রিপোনেমা প্যালিডাম ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশের পর সংখ্যা বাড়াতে থাকে। তারপর লসিকার মাধ্যমে বাহিত হয়ে রক্তনালীতে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে এরা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পৌছায় এবং ঐ অঙ্গে সংক্রমণ করে। বিশেষ করে হৃদপিণ্ড এবং স্নায়ুতন্ত্রে সংক্রমণ করতে দেখা যায় [14, 15]।

সিফিলিস এর সংক্রমণের বিস্তৃতি ব্যপকতা ও বৈশিষ্ট্য বা লক্ষন

সংক্রমণের বিস্তৃতি ও ব্যপকতার উপর ভিত্তি করে সিফিলিস কে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে।যথা-

১. প্রাথমিক (প্রাইমারী) সিফিলিস 

২. মাধ্যমিক (সেকেন্ডারী) সিফিলিস 

৩. সুপ্ত (লেটেন্ট) সিফিলিস

-প্রারম্ভিক সুপ্ত সিফিলিস 

-বিলম্বিত সুপ্ত সিফিলিস 

৪. তৃতীয় (টারশিয়ারি) সিফিলিস [16]

টারশিয়ারি সিফিলিস, যারা কারণে মুখমন্ডলের অস্থি ও কলা ক্ষয়ে গেছে।

১. প্রাথমিক (প্রাইমারী) সিফিলিসঃ ট্রিপোনেমা প্যালিডাম ব্যাকটেরিয়া আক্রমণের  ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ব্যথাহীন, গোলাকার গভীরক্ষত  সৃষ্টি করে (যা চ্যাঙ্কার নামেও পরিচিত) [16-18]। প্রথমে একটি ছোট ব্রন এর ন্যায় ফুসকুড়ি দেখা যায়। যা পরবর্তীতে চ্যাঙ্কার এ রুপ নেয় [19]।  চ্যাঙ্কার সাধারণতযৌনাঙ্গ,পায়ু ও মুখ বা তাদের পাশ্ববর্তী স্থান গুলোতে দেখা যায় [16, 19]।  যদি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না নেওয়া হয় তাহলে চ্যাঙ্কার গুলো গুরুতরআকার ধারন করে। 

২. মাধ্যমিক (সেকেন্ডারী) সিফিলিসঃ যদি চিকিৎসা না নেওয়া হয়, সিফিলিস এর ব্যাপকতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং ৪-১০ সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন লক্ষন প্রকাশ পায় [17]। লক্ষনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সারা দেহে রেশ দেখা যাওয়া, ক্ষত, চুল পরা, জ্বর, দুশ্চিন্তা, অবসাদ, ক্ষুধা-মন্দা ইত্যাদি [19, 20]। এছাড়াও দেহের অভ্যন্তরের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ অঙ্গে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

 

৩. সুপ্ত (লেটেন্ট) সিফিলিসঃ সিফিলিস এর এই ধাপে কোন লক্ষণ দেখা যায় না। সাধারনত রোগী ধারনা করে যে তার রোগ সেড়ে গেছে। বিশেষ করে, কোন চিকিৎসা না নিয়ে নিজে থেকেই ক্ষত ভালো হয়ে গেলে, পরবর্তী এই সুপ্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে এই রোগ পুনারায় প্রকাশ পায়। তখন তা মারাত্নক আকার ধারন করে। এটি সাধারণ সেকেন্ডারী ও টারশিয়ারি সিফিলিস এর মাঝখানে ঘটে। আবার কখনো কখনো এটি প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী সিফিলিস এর মাঝখানেও ঘটতে দেখা যায়। তবে প্রারম্ভিক সুপ্ত সিফিলিস এর ক্ষেত্রে আক্রান্ত হবার এক বছরের মধ্যেই দেখা যায়।। আর যদি এক বছর এর পর দেখা যায় তাহলে তাকে বিলম্বিত সুপ্ত সিফিলিস বলে [21, 22]।

৪. তৃতীয় (টারশিয়ারি)সিফিলিসঃ টারশিয়ারি সিফিলিস সাধারনত খুব কম রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়। অনেক সময় দেখা যায় প্রাইমারী ও সেকেন্ডারি সিফিলিস কোন রকম চিকিৎসা ছাড়াই ভালো হয়ে যাচ্ছে। আসলে এটি স্থায়ী ভাবে সেড়ে উঠা নয়। এটি রোগের সুপ্তাবস্থা। সুপ্তাবস্থা কেটে গেলে পুনরায় রোগটি দেখা দেয়। একে টারশিয়ারি সিফিলিস বলে। এই সুপ্তি কাল ২-৫০ বছর পর্যন্ত হতে পারে [16, 19]। এই ধাপে সিফিলিস আগের চেয়েও ভয়ংকর রুপ ধারণ করে। এ সময় এটি শরীরের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমনঃ ফুসফুস, হৃদপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্র, চোখ, হাড়, দাঁত ইত্যাদি  আক্রমণ করে [23-25]।  যা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

চিত্র: সিফিলিস এর সংক্রমণের বিস্তৃতি, ব্যপকতা ও বৈশিষ্ট্য বা লক্ষন (চিত্রসূত্র:11)

সিফিলিস রোগ হলে কিভাবে আমরা নিশ্চিত হবো (রোগ নির্ণয়)?

আগে যেভাবে রোগ নির্ণয় করা হতো 

সিফিলিস নির্ণয় এর জন্য ব্যবহৃত সর্বপ্রথম (১৯০৬ সালে, আগষ্ট পাল ভন ওয়াসসারম্যান [26] পরীক্ষা হলো ওয়াসসারম্যান পরীক্ষা। এটি মূলত কমপ্লিমেন্ট ফিক্সেশন পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটি রক্ত পরীক্ষা [27]। তবে অনেক সময় এটি ভুল ফলাফল দেয়। পরবর্তীতে ১৯৩০ সালে উইলিয়াম আগষ্টাস হিনটন, একটি নতুন পরীক্ষা প্রতিষ্ঠিত করেন যা হিনটন পরীক্ষা নামে পরিচয় [28]। এর মধ্যেও ত্রুটি রয়েছে, তবে তা পূর্বের ওয়াসসারম্যান টেষ্ট থেকে কম। যাই হোক, বর্তমানে সিফিলিস রোগ নির্ণয় এর জন্য নানাবিধ আধুনিক পরীক্ষা রয়েছে। যার মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হলো। 

এখন যেভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

সরাসরি অনুসন্ধানঃ এক্ষেত্রে রোগীর ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বা টিস্যু নিয়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে পরীক্ষা করা হয়। খুঁজে দেখা হয় ট্রিপোনেমা প্যালিডাম এর উপস্থিতি আছে কিনা [21, 29]। আগেই বলেছি ট্রিপোনেমা প্যালিডাম একটি সর্পিলাকার ব্যাকটেরিয়া। এরা দৈর্ঘ্যে ৬-২০ মি মি লম্বা। স্ক্রু এর মতন চলাচল করে [11]। এছাড়াও পি.সি.আর., ফ্লোরিসেন্স অ্যান্টিবডি টেস্ট এর মাধ্যমে সিফিলিস সরাসরি অনুসন্ধান করা যায় [30]।

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেঃ রক্ত পরীক্ষা দুই উপায়ে করা যায়। এর মধ্যে, একটি হলো ট্রিপোনেমা নির্ভরশীল টেস্ট, যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ইমিউনো পরীক্ষা (EIAs), কেমিলুমিনিসেন্স ইমিউনো পরীক্ষা (ClAs), ট্রিপোনেমা প্যালিডাম পারটিকেল অ্যাগ্লুটিনেশন(TP-PA) পরীক্ষা, ফ্লোরিসেন্স ট্রিপোনেমাল অ্যান্টিবডি এবজর্পশন ( FTA-ABs) পরীক্ষা উল্লেখযোগ্য। এই পরীক্ষা গুলো দ্বারা ট্রিপোনেমা প্যালিডাম সৃষ্টি এন্টিজেন ও এন্টিবডির অস্তিত্ব খুঁজে বের করা হয়। দ্বিতীয়ত, কিছু  ট্রিপোনেমা অনির্ভরশীল পরীক্ষা রয়েছে যার মধ্যে ভেনেরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ ল্যাবোরেটরি(VDRL) পরীক্ষা এবং রেপিড প্লাজমা রেইগেন  (RPR) পরীক্ষা উল্লেখযোগ্য। তবে এই পরীক্ষা গুলো তে কখনো কখনো ভুল ফলাফল আসার সম্ভাবনা আছে [29, 31]। 

চিত্র: সিফিলিস নির্ণয় এর প্রক্রিয়া (চিত্রসূত্র:12)

সিফিলিস রোগ এর চিকিৎসা

ঐতিহাসিক চিকিৎসা 

পারদ চিকিৎসা

অবাক করা তথ্য হলেও এটি সত্যি যে পূর্বে সিফিলিস রোগ এর চিকিৎসার জন্য পারদ ( মারকিউরি) ব্যবহার করা হতো [32]। পারস্যের চিকিত্সক ইবনে সিনার, “দ্য ক্যানন অফ মেডিসিন” বই এ কুষ্ঠরোগের প্রাথমিক পর্যায়ে পারদ দিয়ে চিকিত্সা করার পরামর্শ দিয়েছেন। সুইডিশচিকিৎসক ও আলকেমিস্ট প্যারাসেলসাস, একইভাবে কুষ্ঠরোগের আরবিয় চিকিৎসায় পারদের ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন [33]। পারদ সাধারণত আক্রান্ত স্থানে ঘসে বা প্লাস্টার করে লাগানো হতো। এমনকি তখন পারদ মুখ দিয়ে এবং সিরিঞ্জ দিয়ে পুশ করা হতো [34]। এছাড়াও উত্তপ্ত পারদের বাষ্পের সংস্পর্শে রোগীকে রাখা হতো, যা “ফিউমিগেশন” নামে পরিচিত ছিল। যার উদ্দেশ্যে ছিল রোগীর মুখ দিয়ে লালা বের করা। তখন বিশ্বাস করা হতো এই লালার সাথে রোগ বেরিয়ে যাবে এবং আরগ্য লাভ করবে [35]। মানুষ তখন পারদ এর ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতো না, ফলে তারা পারদ চিকিৎসার পার্শ প্রতিক্রিয়া হিসাবে নানা জটিলতায় ভুগতো যেমনঃ মাড়িতে আলসার, দাত আলগা হয়ে যাওয়া, এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতো [35]।

চিত্র: সিফিলিস রোগ এর চিকিৎসায় পারদ এর ব্যবহার (চিত্রসূত্র:13)

গুয়াইয়াকুম গাছ দিয়ে চিকিৎসা 

ষোড়শ শতাব্দীতে সিফিলিস রোগ এর চিকিৎসার জন্যে গুয়াইয়াকুম নামক একটি ভেষজ ফুল গাছ ব্যবহার করা হতো। ধারণা করা হয় গুয়াইয়াকুম, হিসপানিওলা দ্বীপ (এটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি দ্বীপ যা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ অবস্থিত) পাওয়া যায়। ক্রিস্টোফার কলম্বাস তার অনুসন্ধানের জন্যে এখানে এসেছিলেন। তাই মানুষজন মনে করতো কলম্বাস-ই হিসপানিওলা দ্বীপ থেকে সিফিলিস রোগটি নিয়ে আসেন। আর এর প্রতিকার হিসেবে এই দ্বীপে গুয়াইকুম গাছের জন্ম হয়েছে [35]। 1525 সালে, স্প্যানিশ যাজক ফ্রান্সিসকো ডেলিকোডা একসময় সিফিলিস  এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ”এল মোডো দে অ্যাডোপেরার এল লেগনো ডি   ইণ্ডিয়া অক্সিডেন্টাল” নামে একটি বই লিখেন। বইটায় তিনি সিফিলিস এর চিকিৎসায় গুয়াইকুম এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছিলেন [36]। গুয়াইকুম গাছের নির্যাস গরম পানির সাথে রোগীকে খাওয়ানো  হতো। [35]।

চিত্র: জিরোলামো ফ্রাকাস্টোরো এর লিখিত Syphilis sive morbus gallicus” বইটিতে উল্লেখিত সিফিলিস রোগ এর চিকিৎসায় ব্যবহৃতগুয়ািয়াকুম গাছ। (চিত্রসূত্র:14)

চিত্র: সিফিলিস রোগ এর চিকিৎসায় গুয়াইয়াকুম গাছ এর ব্যবহার (চিত্রসূত্র: 15)

গুয়াইয়াকুম এর কার্যকরীতা পারদ এর চেয়ে কম ছিল, তবে এর অপ্রীতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছিল না। কিছু চিকিৎসক রোগীদের উপর পারদ এবং গুয়াইকাম উভয়ই ব্যবহার করতো। 1522 সালের পর, ব্ল্যাটারহাউস (সিফিলিস আক্রান্ত জন্য একটি হাসপাতাল) এ, প্রথম চিকিৎসা হিসেবে গুয়াইয়াকুম ব্যবহার করতো এবং শেষ অবলম্বনের চিকিৎসা হিসেবে পারদ ব্যবহার করতো [36]।

আধুনিক চিকিৎসাঃ

এভাবেই নানা যৌক্তিক অযৌক্তিক বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে চলছিল অভিশপ্ত সিফিলিস এর চিকিৎসা। কিন্তু যখন মানুষ জানতে পেরেছিলযে সিফিলিস একটি ব্যকটেরিয়া সংক্রমিত রোগ এবং আলেকজান্ডার ফ্লেমিং এর পেনিসিলিন (এন্টিবায়োটিক) আবিষ্কার করলো [37], তখন থেকেই সিফিলিস এর চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আসল। তখন থেকেই সিফিলিস এর চিকিৎসা জন্য পেনিসিলিন জাতীয় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার শুরু হয়।

বর্তমানে সিফিলিস এর চিকিৎসা জন্য “বেনজাথিন পেনিসিলিন জি” জাতীয় এন্টিবায়োটিক সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।[21] তবে যাদের পেনিসিলিন এর প্রতি এলার্জি রয়েছে তাদের কে ডক্সিসাইক্লিন, টেট্রাসাইক্লিন, সেফট্রাইএক্সন, এরিথ্রোমাইসিন ব্যবহার এর পরামর্শ প্রদান করা হয় [38, 39]। যাই হোক, এই এন্টিবায়োটিক এর আর্শীবাদে আমরা সিফিলিস এর মতো ভয়াবহ ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছি। তবে বর্তমানে এন্টিবায়োটিক এর অপব্যবহার এর ফলে অধিকাংশ এন্টিবায়োটিকই তার কার্যকরীতা হারিয়ে ফেলছে। যা আমাদের ভবিষ্যৎ সময়ের জন্য হুমকি বার্তা দিচ্ছে। এমন ও হতে পারে সিফিলিস বা অন্য যেকোনো রোগের ভয়াবহতা আমাদের কে পূর্বের তুলনায় অধিকতর ভয়ংকর রূপে গ্রাস করবে এবং আমাদের হাতে তখন অকেজো কিছু এন্টিবায়োটিক থাকবে, যা কোনো উপকারেই আসবে না। তাই আমাদের এখনই এন্টিবায়োটিক এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। 

চিত্র: সিফিলিস রোগ এর চিকিৎসায় সর্বাধিক ব্যবহার এন্টিবায়োটিক বেনজাথিন পেনিসিলিন জি (চিত্রসূত্র: 16)

সিফিলিস রোগ থেকে কিভাবে আমরা বাঁচতে পারি?

সিফিলিস রোগের জন্য এখনো তেমন কোন শক্তিশালী প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার হয় নি। তবে এটি তৈরির কাজ চলছে। হয়তো খুব দ্রুতই আমরা সিফিলিস এর প্রতিষেধক টিকা হাতে পাবো [40]। যাই হোক টিকা ছাড়াও আমরা কিছু বিষয় মেনে চললে এই সিফিলিস রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারি যেমনঃ সিফিলিস এ আক্রান্ত এমন ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন পরিহার করা, কনডম ব্যবহার করা, ঋতুস্রাবের সময় পরিষ্কার কাপড় বা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করা [12, 41]। এছাড়াও গর্ভবতী মায়েদের সন্তান প্রসবের পূর্বে সিফিলিস পরীক্ষা করে নেওয়া এবং সিফিলিস ধরা পড়লে প্রসবের পূর্বেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে গেলে নবজাতকের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না [42]। এই বিষয়ে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করতে পাড়লেই আমরা সিফিলিস এর ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে পারব।

চিত্র: সিফিলিস রোগটি থেকে যে উপায়ে আমরা পারি। (চিত্রসূত্র:17)

 তথ্যসূত্রঃ

1.           Rice, E.F. and A. Grafton, The foundations of early modern Europe, 1460-1559. 1994: WW Norton.

2.           Franzen, C.J.E.j.o.c.m. and i. diseases, Syphilis in composers and musicians—Mozart, Beethoven, Paganini, Schubert, Schumann, Smetana. 2008. 27(12): p. 1151-1157.

3.           Tagarelli, A., et al., The relation between the names and designations of syphilis in the 16th century and its clinical gravity. 2011.

4.           Kent, M.E. and F.J.A.o.P. Romanelli, Reexamining syphilis: an update on epidemiology, clinical manifestations, and management. 2008. 42(2): p. 226-236.

5.           Farhi, D. and N.J.C.i.d. Dupin, Origins of syphilis and management in the immunocompetent patient: facts and controversies. 2010. 28(5): p. 533-538.

6.           Lester, P.M.J.V.A., Looks are deceiving: the portraits of Christopher Columbus. 1993. 5(3-4): p. 211-227.

7.           Maatouk, I. and R.J.T.j.o.s.m. Moutran, History of syphilis: between poetry and medicine. 2014. 11(1): p. 307-310.

8.           Tampa, M., et al., Brief history of syphilis. 2014. 7(1): p. 4.

9.           Schaudinn, F.R.J.A.G., Vorlaufiger Bericht uber das Vorkommen von Spirocheten in syphilitischen Krankheits produkten und bei Papilomen. 1905. 22: p. 527-534.

10.        Hassan, S.H.J.I.J.o.P.H., Prevalence of Syphilis in Blood Donors Over One Year in Karbala Governorate, Iraq. 2020. 11(04): p. 1545.

11.        Larsen, S.A., B.M. Steiner, and A.H.J.C.m.r. Rudolph, Laboratory diagnosis and interpretation of tests for syphilis. 1995. 8(1): p. 1-21.

12.        Aljamali, N.M., A.M. Jawad, and I.K.A.J.F.E. Alsabri, , Eliva Press, ISBN: 9798636352129, Public Health in Hospitals. 2020.

13.        Control, C.f.D. and P.J.A. CDC, Syphilis & MSM (men who have sex with men)—CDC fact sheet. 2014.

14.        Carlson, J.A., et al., The immunopathobiology of syphilis: the manifestations and course of syphilis are determined by the level of delayed-type hypersensitivity. 2011. 33(5): p. 433.

15.        Fitzgerald, T.J.I. and immunity, The Th1/Th2-like switch in syphilitic infection: is it detrimental? 1992. 60(9): p. 3475-3479.

16.        Arando, M., et al., Early syphilis: risk factors and clinical manifestations focusing on HIV-positive patients. 2019. 19(1): p. 1-9.

17.        Ho, E.L. and S.A.J.T.J.o.c.i. Lukehart, Syphilis: using modern approaches to understand an old disease. 2011. 121(12): p. 4584-4592.

18.        LaFond, R.E. and S.A.J.C.m.r. Lukehart, Biological basis for syphilis. 2006. 19(1): p. 29-49.

19.        Ghanem, K.G., S. Ram, and P.A.J.N.E.J.o.M. Rice, The modern epidemic of syphilis. 2020. 382(9): p. 845-854.

20.        Baughn, R.E. and D.M.J.C.M.R. Musher, Secondary syphilitic lesions. 2005. 18(1): p. 205-216.

21.        Workowski, K.A., et al., Sexually transmitted infections treatment guidelines, 2021. 2021. 70(4): p. 1.

22.        Workowski, K.A.J.C.I.D., Centers for Disease Control and Prevention sexually transmitted diseases treatment guidelines. 2015. 61(suppl_8): p. S759-S762.

23.        Xu, L. and F.J.M. Han, Neurosyphilis complicated with pial arteriovenous fistula: A rare case report. 2019. 98(45).

24.        Spoor, T.C., et al., Ocular syphilis. Acute and chronic. 1983. 3(3): p. 197-203.

25.        Peeling, R., et al., Syphilis Nat Rev Dis Primers. 2017; 3: 17073.

26.        Wassermann, A., A. Neisser, and C.J.D.-D.M.W. Bruck, Eine serodiagnostische reaktion bei syphilis. 1906. 32(19): p. 745-746.

27.        Beck, A.J.E. and Infection, The role of the spirochaete in the Wassermann reaction. 1939. 39(3): p. 298-310.

28.        Midgley, C.M., et al., Structural analysis of a dengue cross-reactive antibody complexed with envelope domain III reveals the molecular basis of cross-reactivity. 2012. 188(10): p. 4971-4979.

29.        Binnicker, M.J., D.J. Jespersen, and L.O.J.J.o.c.m. Rollins, Direct comparison of the traditional and reverse syphilis screening algorithms in a population with a low prevalence of syphilis. 2012. 50(1): p. 148-150.

30.        Heymans, R., et al., Clinical value of Treponema pallidum real-time PCR for diagnosis of syphilis. 2010. 48(2): p. 497-502.

31.        Morshed, M., et al., British Columbia’s Experience after Implementation of the Treponema pallidum Reverse Algorithm and PCR Detection, 2015 to 2020. 2022: p. e00686-22.

32.        Ozuah, P.O.J.C.p.i.p., Mercury poisoning. 2000. 30(3): p. 91-99.

33.        Berridge, V.J.A.o.S., Morality and medical science: concepts of narcotic addiction in Britain, 1820–1926. 1979. 36(1): p. 67-85.

34.        Walker, T.J.J.B.m.j., The treatment of syphilis by the hypodermic injection of the salts of mercury. 1869. 2(466): p. 605.

35.        Siena, K.P., Sins of the flesh: responding to sexual disease in early modern Europe. Vol. 7. 2005: Centre for Reformation and Renaissance Studies.

36.        Dangler, J., Mediating Fictions: Literature, Women Healers, and the Go-Between in Medieval and Early Modern Iberia. 2001: Bucknell University Press.

37.        Gelpi, A. and J.D.J.S.t.i. Tucker, A cure at last? Penicillin’s unintended consequences on syphilis Control, 1944–1964. 2015. 91(1): p. 70-70.

38.        Ghanem, K.G., et al., Doxycycline compared with benzathine penicillin for the treatment of early syphilis. 2006. 42(6): p. e45-e49.

39.        Novalbos, A., et al., Lack of allergic cross‐reactivity to cephalosporins among patients allergic to penicillins. 2001. 31(3): p. 438-443.

40.        Cameron, C.E. and S.A.J.V. Lukehart, Current status of syphilis vaccine development: need, challenges, prospects. 2014. 32(14): p. 1602-1609.

41.        English, W.H., Sexually transmitted infection.

42.        Hawkes, S., et al., Effectiveness of interventions to improve screening for syphilis in pregnancy: a systematic review and meta-analysis. 2011. 11(9): p. 684-691.

চিত্রসূত্রঃ

1. https://www.historycentral.com/explorers/Youngcolumbus.html

2. https://pixels.com/featured/christopher-columbus-embarkation-everett.html 

3. https://olivialongueville.com/2020/06/30/charles-viii-of-france-accidental-death-after-a-momentary-glory-in-italy/

4. https://olivialongueville.com/2020/06/30/charles-viii-of-france-accidental-death-after-a-momentary-glory-in-italy/

5. https://twitter.com/c0nc0rdance/status/1447555275121176576

6. https://twitter.com/storiamedicina/status/1027001766011920385

7. https://en.wikipedia.org/wiki/Fritz_Schaudinn#/media/File:Fritz_Richard_Schaudinn.png

8. https://en.wikipedia.org/wiki/Fritz_Schaudinn#/media/File:Fritz_Richard_Schaudinn.png

9. https://www.jaypeedigital.com/book/9789350904527/chapter/ch23

10. https://labpedia.net/syphilis-part-1-diagnosis-vdrl-fta-abs-tpha-rpr-treponema-pallidum/

11. https://drmarie.com.vn/en/syphilis-cdc-fact-sheet/

12. https://www.verywellhealth.com/how-is-syphilis-diagnosed-3132768

13. https://www.eurekalert.org/multimedia/650155

14. https://www.alamy.com/stock-photo-medicine-epedemics-syphilis-abetment-description-of-guyak-tree-von-19884537.html?imageid=05A8E4B4-5B40-4DE8-8AE2-117D3205EDFB&p=58867&pn=1&searchId=5aad7ad0b4295392d1ab7fd41a709d78&searchtype=0

15.File:De ontdekking van Guaiacum als middel tegen syfilis, anoniem, Museum Plantin-Moretus, PK OPB 0186 007.jpg – Wikimedia Commons

16. https://www.squarepharma.com.bd/product-details.php?pid=800

17. https://www.mtpr.org/montana-news/2017-12-06/in-montana-gonorrhea-slowing-syphilis-skyrocketing

রেদোয়ান ফরাজী
বর্তমানে আমি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত আছি। প্রকৃতি ও জীবের সূক্ষাতিসূূক্ষ গঠন ও পরিচালনা, সুশৃঙ্খল ও সংঘবদ্ধ বিষয়গুলো আমার কৌতুহল ও আনন্দের জায়গা। আমার ভালোবাসার অনুজীব বিদ্যার জ্ঞান সবার মাঝে বাংলা ভাষায় ছড়িয়ে দিতে চাই।