রোজেটা, ফাইলি ও হায়াবুসা – নামাকরণের নাটক

ফাইলি নামে একটি মহাকাশযান 67P চুরিউমভা-গেরাসিমেঙ্কো নামে একটি ধূমকেতুতে অবতরণ করেছে। এই ধূমকেতুটির নাম হয়েছে দুজন রুশ জ্যোতির্বিদের নামে যাঁরা ধূমকেতুটি ১৯৬৯ সনে আবিষ্কার করেছিলেন। ধূমকেতু ৬৭P চুরিউমভা-গেরাসিমেঙ্কো। ধূমকেতুটির একদিক থেকে অন্যদিক ছয় কিলোমিটারের বেশী নয়। আমার প্রথম অভিযোগ হল এরকম একটা নাম এই যানটিকে দেওয়া হয়েছে যার উচ্চারণ সম্পর্কে কেউই একমত নন। ইংরেজিতে লেখা হচ্ছে Philae – এর উচ্চারণ শুনলাম ফিলাই, ফিলে, ফিলি, ফাইলাই। ১৫ নভেম্বর ইউটিউবে এইজন্য একটা ছোট কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও দেয়া হয়েছে যেখানে এটাকে বলা হচ্ছে ফাইলাই। অথচ ৭ই জুনের ঐ একই উৎসের একটি ভিডিওতে বলা হচ্ছে উচ্চারণটা ফাইলিও হতে পারে। আমি কেন এটা নিয়ে মাথা বিস্তারিত

ধূমকেতুর কক্ষপথ

[যুগ্ম-লেখক: অারাফাত রহমান]   তুমি কি কেবলই ছবি, শুধু পটে লিখা। ওই যে সুদূর নীহারিকা যারা করিয়াছে ভীড়, আকাশেরো নীড় ওই যারা দিনরাত্রি আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী (তুমি কি কেবলই ছবি — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)   বিবর্তনের সাথে সাথে মস্তিষ্ক বিকাশের এক পর্যায়ে মহাকাশের দিকে তাকিয়ে মানুষ বিস্মিত হয়েছে। হাজার হাজার বছর ধরে রাতের আকাশে উজ্জ্বল বস্তুনিচয়দের মানুষ পর্যবেক্ষণ করেছে, তারার মানচিত্র রচনা করেছে। এই চিরচেনা নক্ষত্রদের মাঝে হঠাৎ করে উদয় হওয়া বাউন্ডেলে ধূমকেতুগুলোকে খেয়াল করেছে তারা সচকিত হয়ে। সেই অতীত পর্যবেক্ষকরা জানতো না ধূমকেতু আসলে কি, কোথা থেকেই বা তারা আসে, আর তারা দেখতে কেনই বা ধোঁয়াশা ঝাড়ুর মতো বিস্তারিত

পৃথিবীতে এতো জল কি ধূমকেতুই নিয়ে এলো?

পানি, যাকে জীবন বলে জানি পৃথিবীর তিন ভাগ জল, একভাগ স্থল। এ কথাটা সেই ছোটবেলা থেকে পড়ে এসেছি। কিন্তু এতো জল এখানে এলো কি করে? প্রথম দর্শনে প্রশ্নটা হয়তো বোকার মতো মনে হবে। খিলখিল করে হেসেও দিতে পারেন। মনে হতে পারে, পৃথিবীতে পানি সবসময়েই ছিলো নাকি আসলে অন্য কোন জায়গা থেকে এসেছিলো এধরনের চিন্তা একমাত্র পাগলরাই করতে পারে। কিন্তু এরকম নিরীহদর্শন প্রশ্নগুলো মাঝে মাঝে নাকানী-চুবানী খাওয়ায়। হাওয়ার ২১ ভাগ অক্সিজেনের তলে ডুবে থাকতে থাকতে যেমন আমরা কখনোই চিন্তা করতে পারি না যে একসময় বায়ুমন্ডলে বলতে গেলে কোন অক্সিজেনই ছিলো না। আবার পৃথিবীর আদি প্রাণের উদ্ভব হয়েছিলো যে ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে তাদের বিস্তারিত

২০১৩ – উজ্জ্বল ধূমকেতুদের বছর

ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে  চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে। -কাজী নজরুল ইসলাম   ধূমকেতু নিয়ে কিছুদিন আগেও আমাদের মধ্যে একটা সংস্কার প্রচলিত ছিল, মানুষ ধূমকেতুকে হয় দুঃসময় না হয় নতুন সামাজিক পটপরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখত। তাঁর অনুবাদ-চর্চা নামক সঙ্কলনে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘অষ্টাদশ শতাব্দী পর্য্যন্ত সকল যুগের সাহিত্যেই দেখা যায় যে, ধূমকেতুকে লোকে তখন দুঃখের ভীষণ অগ্রদূত বলিয়া বিশ্বাস করিত… Milton বলেন যে, ধূমকেতু তাহার ভয়াবহ কেশজাল ঝাড়া দিয়া মহামারী ও যুদ্ধবিগ্রহ বর্ষণ করে। রাজা হইতে আরম্ভ করিয়া দীনতম কৃষক পর্য্যন্ত সমগ্র জাতি এই অমঙ্গলের দূতসকলের আবির্ভাবে ক্ষণে ক্ষণে দারুণতম আতঙ্কে নিমগ্ন হইত। ১৪৫৬ খ্রীষ্টাব্দে, হ্যালির নামে পরিচিত ধূমকেতুর পুনরাগমনে যেমন সুদূরব্যাপী ভয়ের বিস্তারিত