“বোবায় ধরা” বা ঘুম-পক্ষাঘাত কেন হয়

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। তখন আমি সপ্তাহদুয়েক ধরে অসুস্থ। ডাক্তারের সন্দেহ টাইফয়েড, পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। একদিন মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল। চারপাশ ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকার। টের পেলাম, বুকের উপরটায় যেন চেপে বসে আছে কেউ। হাত-পা-দেহ নাড়াতে পারছিনা একেবারেই। তখনই বুঝলাম আমাকে বোবায় ধরেছে। তবে একেবারেই ভয় পাই নি, কারণ আমি বোবায় ধরার বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা জানতাম। বোবায় ধরাকে বলে Sleep Paralysis। জানতাম, ঘুমের এই পক্ষাঘাত সাময়িক। একটু পরেই সেরে যাবে। ঠিক তাই হলো। কিছুক্ষণ পর আমার শরীর নড়াচড়া করার ক্ষমতা ফিরে এলো। আসলে ‘বোবায় ধরা’-য় কিছুই ধরে না। এটা বলতে গেলে ঘুমের সমস্যাও নয়। বরং আমাদের মস্তিষ্কে স্বপ্ন দেখা সম্পর্কিত প্রক্রিয়ার বিস্তারিত

স্মৃতি কিভাবে তৈরি হয়?

পড়া কেন মনে থাকে না? স্মরণশক্তিটা যদি আরেকটু ভালো হতো? আহা লোকটার নাম ভুলে গেলাম? বাড়ির ঠিকানাটা যেন কি ছিলো? স্মৃতি নিয়ে আমাদের অভিযোগের শেষ নেই। তবে বিভিন্ন তথ্য মনে রাখতে পারি জন্যেই আমরা দৈনন্দিন কাজ করতে পারি। নাইলে কবেই সব ভেস্তে যেত। তথ্য মনে রাখার প্রক্রিয়াটা কি ধরণের? আমরা কি মাথার কোটরের মধ্যে একেকটা তথ্য গুঁজে রাখি? মস্তিষ্ক কি একটা ফাইল কেবিনেটের মতো যার একেকটা ড্রয়ারে একেকটা তথ্য স্মৃতি হিসেবে জমা হয়? স্নায়ুবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে মস্তিষ্কে স্মৃতি জমা রাখার প্রক্রিয়াটা ভিন্ন ধরনের। আসলে জীবনের ঘটনাবহুল স্মৃতিগুলোর টুকরো টুকরো অংশ মস্তিষ্কের একেক জায়গার স্নায়ুসংযোগে জমা থাকে। আমরা যখন মনে বিস্তারিত

দুর্ঘটনার আশীর্বাদঃ সাভান্ট সিন্ড্রোম

আমাতো ডেরেক, ৩৯ বছর বয়সী সেলস ট্রেইনার ছুটি কাটাতে এসেছেন তার নিজ শহরে। এক সকালে তিনি তার দুই বন্ধু রিক এবং স্টার্ন- কে নিয়ে গেলেন এলাকার হেল্থ ক্লাবে। বন্ধুদের সাথে মজা করার এক পর্যায়ে ডেরেক সুইমিংপুলের পাটাতনে গিয়ে দাড়ালেন আর জাকুজিতে আরাম করতে থাকা রিক কে বললেন ফুটবলটা তার দিকে ছুড়ে দিতে, আর তখনই দুই বাহু প্রসারিত করে লাফ দিলেন। তার ইচ্ছা শুন্যে থাকা অবস্থায় বলটি ধরে ডিগবাজি খেয়ে পানিতে পড়া। কিন্তু হিসাবে ভুল হয়ে যায়, বল যায় ফসকে আর মাথাটা পড়ল কনক্রিটের মেঝেতে। তার মনে হল যেন মাথার উপর বোমা ফেটেছে। কান দিয়ে যে তরলের প্রবাহ অনুভব করলেন তার বিস্তারিত

মস্তিষ্কের কর্মকান্ডঃ অভ্যন্তরীণ বাচন

ধরুন, আপনি বাজার করতে গিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা শেষে দাম মিটিয়ে দিয়ে চলে আসছেন। হঠাৎ আপনার মাথার ভেতর কেউ বলে উঠলো, “মরিচ তো কেনা হয়নি!!” পড়িমড়ি করে আবার বাজারে ছুটলেন মরিচ কিনতে। কেউ একজন আপনাকে মনে করিয়ে দিয়েছে মরিচ কেনার কথা। অথবা একটুপর বসের সাথে আপনার একটা জরুরী মিটিং আছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখে শান্ত মনে হলে ও ভিতরে ভিতরে আপনি নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন সেই মিটিং এর জন্য, নিঃশব্দে মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন আর উত্তর তৈরি করে। এরকম মগজ ঘরে কথা বলা, আওয়াজবিহীন শব্দ আর বাক্য তৈরির প্রক্রিয়ার অনেক উদাহরণ আমরা আমাদের চারপাশে পাই। রাশিয়ান মনস্তত্ত্ববিদ লেভ ভিগোতস্কি সর্বপ্রথম ১৯৩০ বিস্তারিত

চিকিৎসাবিদ্যায় ২০১৪ সালের নোবেল: মস্তিষ্কের অবস্থান-নির্ণয়-ব্যবস্থা

ছবি বাম থেকে ডানে যথাক্রমে এডভার্ট মোজার, জন ও’কেফে, মে-ব্রিট মোজার স্মার্টফোনের কল্যাণে অনেকেই জিপিএস-ব্যবহার করেছেন। জিপিএস হলো পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে থাকা কিছু স্যাটেলাইটের সাহায্য নিয়ে ভূমির স্থানিক তথ্য সুনির্দিষ্ট জানার একটি পদ্ধতি। কোন বস্তু ভূমির ঠিক কোথায় আছে সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয় জিপিএস সিস্টেম। এই তথ্য আসলে স্থানাঙ্ক; অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের হিসাব। জিপিএস-এর উপর ভিত্তি করে আধুনিক টেলিযোগাযোগ থেকে শুরু করে রকেট উড্ডয়ন প্রযুক্তি গড়ে ওঠেছে। জিপিএস মানেই হলো Global Positioning System, বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা। চিন্তা করুন, কোন এক দুপুর বেলা আপনি ফার্মগেট থেকে শাহবাগ হয়ে চাঙ্খারপুল যাবেন নান্নার বিরিয়ানি খেতে। এজন্য স্মৃতি ও ইন্দ্রিয়ের তথ্য থেকে আপনি মনে বিস্তারিত

ঘুম-চক্রের কাজের খোঁজে

It is a common experience that a problem difficult at night is resolved in the morning after the committee of sleep has worked on it. জন স্টেইনবেক (১৯০২-১৯৬৮), নোবেল জয়ী আমেরিকান সাহিত্যিক গত “ঘুম-গবেষণার আশ্চর্য-আরম্ভ” লেখায় আমরা ঘুমচক্র সম্পর্কে মোটাদাগে কিছু তথ্য জেনেছি। এখন তাহলে আগের প্রশ্নে ফেরত যাওয়া যায় — ঘুম কেন দরকার? অনেক সময় সহজ-সরল-ছোট প্রশ্নও মাথা ঘুরিয়ে দেয়। সোজা প্রশ্নের উত্তর দেয়া তাই আনায়সের কাজ নয়। আফ্রিকায় একটা প্রবাদ আছে — প্রতিবার এক-লোকমা মুখে দিয়ে একটা বড়ো হাতি একাই খেয়ে ফেলা সম্ভব। মানে একটা দুরূহ কাজ প্রথমে অসম্ভব মনে হলেও যদি কেউ সেটাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ বিস্তারিত

নেশা ১

আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের দেহকে খুব সহজে খেলাতে পারে। খেলানোর জন্য একধরনের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ চালু করেছে সে। ‘কোন একটা কাজ করলে আপনি পুরষ্কার পাবেন’ – এই মন্ত্র দিয়ে মস্তিষ্ক মানুষকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিতে পারে। পুরষ্কারটির নাম ডোপামিন, একধরনের রাসায়নিক যা মস্তিষ্ক কোষ নিঃসরণ করে। এই ডোপামিন নিঃসৃত হয়ে কোষের গ্রাহকে (রিসেপ্টর) লেগে যায় এবং আমাদের মধ্যে আনন্দের বা ভাললাগা অনুভূত হয়। যত বেশি ডোপামিন নিঃসৃত হবে তত বেশি আমাদের ভাল লাগার অনুভূতি কাজ করবে। তাই, মজার খাবার খেলে বা যৌনানুভূতিতে ডোপামিন নিঃসরণ হয়। কাজটা মস্তিষ্ক করে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই। আমরা খাবার না খেলে বাঁচবো না, তেমনি সঙ্গমে বিস্তারিত

লেখালেখির কাঁচামাল ১ | অসহায় পেশী-মেটাবলিজম ও অন্যান্য

ধ্যান আমাদের মস্তিষ্ককে বদলে দেয় মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশনের শুরু হয় বৌদ্ধ ধর্মে। এই ধ্যানে সবকিছুকেই খেয়াল করতে হয়। সম্প্রতি এই ধ্যানটি পাশ্চাত্যে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। না, ধর্মীয় কারণে নয়, বরং টেনশন কমানো ও চাপ সামলানোর পাশাপাশি বিভিন্ন থেরাপি-চিকিৎসাতে এই জনপ্রিয়তা লক্ষ্যনীয়। সম্প্রতি স্নায়ুবিজ্ঞানের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে এই ধ্যানের ফলে মস্তিষ্ক বদলে যায়। মস্তিষ্কের আদিম অ্যামিগডালার ধূসর পদার্থ কমে যায়, বেড়ে যায় আধুনিক ফ্রন্টাল কর্টেক্স। মস্তিষ্কের আদিম অংশ নিয়ন্ত্রণ করে বিপদ ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে আমরা পালাবো নাকি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাবো। আধুনিক ফ্রন্টাল কর্টেক্স নিয়ন্ত্রণ করে উন্নত বিশ্লেষণ-ক্ষমতা, পরিকল্পনা ইত্যাদি গুণ। [মস্তিষ্কের আধুনিক-আদিম বিষয় নিয়ে জানতে পড়ুন তিন মস্তিষ্কের টানাপোড়ন লেখাটি] সূত্র: বিস্তারিত