পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণ-১৭

অধ্যায়-৪ : নিউক্লিয়াস অনুচ্ছেদ-১: পরমাণু অনুসন্ধান (১ম খন্ড) বিজ্ঞানীরা যখন সন্দেহ করতে শুরু করেছিলেন যে ইলেক্ট্রন পরমাণুর মধ্যেই অন্তুর্ভুক্ত থাকে তখন একটি সমস্যা দেখা দিল; ইলেক্ট্রন ঋনাত্মক চার্জ বহন করে কিন্তু পরমাণু মোটের উপর বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ। তার মানে ইলেক্ট্রনের ঋনাত্মক চার্জের সমপরিমাণ ধনাত্মক চার্জ পরমাণুর মধ্যে থাকতে হবে যা ইলেক্ট্রনের চার্জের সাথে মিলে মোটের উপর পরমাণুকে নিরপেক্ষ করে রাখবে। যদি তা-ই তাহলে তাহলে পরমাণু থেকে ইলেক্ট্রন সরিয়ে দেওয়ার পর যা থাকবে তাকে অবশ্যই ধনাত্মক চার্জ বহন করতে হবে। আর একটি পরমাণুতে যদি বাড়তি ইলেক্ট্রন যোগ করা হয় তাহলে অতিরিক্ত ইলেক্ট্রনটির ঋনাত্মক চার্জের কারনে পরমাণুকে ঋনাত্মক চার্জযুক্ত হয়ে উঠতে হবে। এই ব্যাপারটিই ফ্যারাডে এবং আরহেনিয়াসের ধনাত্মক এবং ঋনাত্মক আয়ন সৃষ্টির কারন হওয়ার কথা। এই পরিস্থিতিতে তড়িৎ চার্জকে আমলে নিয়ে একটি পরমাণু…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণ-১৬

অধ্যায়-৩ : ইলেক্ট্রন অনুচ্ছেদ-৬: তরঙ্গ ও কণা যদি আলো কোয়ান্টাম হিসেবে বিরাজিত থাকে এবং যদি প্রতিটি কোয়ান্টাম স্থানের মধ্য দিয়ে পৃথকভাবে গতিপ্রাপ্ত হয় তাহলে কোয়ান্টাম একটি কণার মতোই আচরণ করে। সেই কারণে কোয়ান্টামকে কণাধর্মী একটি নামও প্রদান করা হয়। ইলেক্ট্রনের নামের সাথে মিল রেখে অধিকাংশ কণাই নামের শেষে ‘অন’ প্রাপ্ত হয় এবং এই বিবেচনায় ১৯২৮ সালে আমেরিকান পদার্থবিদ আর্থার হোলি কম্পটন (Arthur Holly Compton, ১৮৯২-১৯৬২) এই ধরনের একটি গতিময় কোয়ান্টামকে নাম দেন ‘ফোটন’ গ্রীক ভাষায় যার অর্থ হচ্ছে আলো। এই নামকরণের বিষয়টি বেশ যুক্তিসঙ্গত ছিলো কেননা ১৯৯৩ সালে কম্পটন দেখালেন যে বিকিরণ কণার মতোই আচরণ করে, শুধু মাত্র পৃথক পৃথক ভাবে গতিময় হওয়ার জন্যই নয় বরং বিকিরনের সাথে কণার আচরনের মিল আছে বলেই। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ক্ষুদ্র হয় তথা কোয়ান্টামের শক্তি…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আইল্যান্ড অফ স্ট্যাবিলিটি

প্রকৃতিতে প্রাপ্ত মৌলসমূহকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের পর্যায়বৃত্ততা অনুযায়ী সাজানোর জন্য পর্যায় সারনির উদ্ভব। মেন্ডেলিভ তার পর্যায় সারনি তৈরি করেছিলেন মৌলের পারমাণবিক ভর অনুযায়ী। বর্তমানে ব্যবহিত পর্যায় সারনির মূলভিত্তি, মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা। পর্যায় সারনির এরকম পরিবর্তন সত্ত্বেও এর অন্যতম ত্রুটি, “একই মৌলের একাধিক আইসোটোপের সহ-অবস্থান” -র সমাধান হয়নি।   এরকম আরও বিভিন্ন কারণে পরবর্তীতে প্রতিটি মৌলের সকল আইসোটোপকে একসাথে নিয়ে আরেকটি সারনি তৈরি হয় যা, Table of Isotopes বা Table of Nuclides নামে পরিচিত। এর ব্যবহার সাধারণত নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও নিউক্লীয় রসায়ন এ হয়। এই সারনি থেকে আইসোটোপের তেজস্ক্রিয়তার ধরন, তার half-life প্রভৃতি সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। এই সারনির অধিকাংশ আইসোটোপই অস্থায়ী ও মানবসৃষ্ট। সাধারণত মৌলের স্থায়িত্ব নির্ভর করে তার nucleus এর উপর। nucleus যত বড়…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণ-১৫

অধ্যায়-৩ : ইলেক্ট্রন অনুচ্ছেদ-৫: ইলেক্ট্রন এবং কোয়ান্টাম ১৯০২ সালে ফিলিপ লেনার্ড আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া নিয়ে গবেষনা করেন। তিনি দেখাতে সক্ষম হলেন যে বিভিন্ন ধাতু থেকে উৎসরিত ইলেক্ট্রনের ধর্ম সর্বদাই মিলে যায়। অন্য ভাবে বলা যায়, যদিও প্রকৃতিতে বিভিন্ন ধরনের পরমাণু বিদ্যমান আছে কিন্তু তারা প্রত্যেকেই এক ধরনের ইলেক্ট্রনই ধারন করে। বিজ্ঞানীরা সর্বদা সরলতা পছন্দ করেন এটি বিবেচনা করলে এই ছোট তথ্যটি বেশ আশাব্যাঞ্জক। অন্যদিকে লেনার্ড দেখতে পেলেন আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া আবিষ্ট করার ক্ষেত্রে সব আলো সমান নয়। লাল আলোর ক্ষেত্রে দেখা গেলো ইলেক্ট্রন কখনোই উৎসরিত হয় না এমনকি যদি আলোর তীব্রতা বৃদ্ধি করা হয় তার পরেও ইলেক্ট্রন উৎপন্ন হয় না। কিন্তু যদি কেউ একটি নির্দিষ্ট ধাতুকে ক্রমশঃ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর নিচে ধরে তাহলে তাহলে একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে ইলেক্ট্রন নিঃসরণ শুরু…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণ-১৪

অধ্যায়-৩ : ইলেক্ট্রন অনুচ্ছেদ-৪: ইলেক্ট্রন এবং পরমাণু এটি পরিস্কার যে প্রাপ্ত তথ্য থেকে ইলেক্ট্রনকে ভরযুক্ত পদার্থ হিসেবে কল্পনা করা যায়। মনে করি, আমরা বিদ্যুতের প্রাথমিক অবস্থার গবেষনা নিয়ে চিন্তা করছি যখন আমরা দেখেছিলাম কাচদন্ডের সাথে অ্যাম্বারের ঘর্ষনের মাধ্যমে কিছুটা তড়িৎচার্জ উৎপন্ন হয়। এটি কি এই কারনে নয় যে ইলেক্ট্রন যে বস্তুকে ঘষা হয় সে বস্তু থেকে যে বস্তুর মাধ্যমে ঘষা হয় সে বস্তুতে ভ্রমন করে, কিংবা এর উল্টোটা? যে বস্তুকে অতিরিক্ত ইলেক্ট্রন নিতে বাধ্য করা হয় তার মধ্যে ঋনাত্মক চার্জ জড়ো হয় আর যে বস্তু কিছুটা ইলেক্ট্রন হারায় তার মধ্যে ধনাত্মক চার্জ জড়ো হয়। এবং যদি তাই হয়, তাহলে ইলেক্ট্রনকে সেই বস্তুর মধ্যে অবশ্যই বিদ্যমান থাকতে হবে যা থেকে সে স্থানান্তরিত হবে। আবার, একটি বৈদ্যুতিক প্রবাহ কোন একটি বস্তুর মধ্য…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণ-১৩

অধ্যায়-৩ : ইলেক্ট্রন অনুচ্ছেদ-৩: এক্স রে আগের অধ্যায়ে আমি উল্ল্যেখ করেছিলাম তড়িৎ-চৌম্বক তরঙ্গ অতিবেগুনীর সীমা ছাড়িয়ে ক্রমান্বয়ে আরো ক্ষূদ্রতর তরঙ্গের দিকেও আবিষ্কৃত হয়। এই বিষয়ে আমি সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করিনি তবে এখন আলোচনা করার সময় চলে এসেছে। ১৮৯০ এর দশকে জার্মান পদার্থবিদ উইলহেম কোনার্ড রন্টজেন (Wilhelm Konrad Roentgen, ১৮৪৫-১৯২৩) তাঁর নিজস্ব স্বকীয় পন্থায় ক্যাথোড রে নিয়ে গবেষনা করছিলেন। হার্জ এবং থমসনের মত তিনি এদের প্রকৃতি সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন না তবে বিশেষ বিশেষ রাসায়নিক দ্রব্যের উপর এদের প্রভাব সম্বন্ধে অবগত ছিলেন। ক্যাথেড রে এই দ্রব্যগুলোর উপর আঘাত হেনে এদের মধ্যে ঔজ্জ্বল্য তৈরি করে। এর মানে হচ্ছে রাসায়নিক দ্রব্যগুলো ক্যাথোড রে থেকে শক্তি গ্রহণ করে এবং এরপর দৃশ্যমান আলো রূপে এই শক্তি ত্যাগ করে। যেসব বস্তু ক্যাথোড রে-এর আঘাতে ঔজ্জ্বল্য প্রদর্শন করে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণ-১২

অধ্যায়-৩ : ইলেক্ট্রন অনুচ্ছেদ-২: ক্যাথোড রশ্মির কণিকা তড়িৎক্ষেত্রের উপস্থিতিতে একটি চার্জযুক্ত কণিকা কী পরিমান বেঁকে যাবে তা নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের উপর: কণিকাকর্তৃক পরিবাহিত চার্জের আকার, যে গতিতে কণিকা ভ্রমন করে এবং কণিকার ভর। চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতেও চার্জযুক্ত কণিকার বিচ্যুতি এই তিনটি বিষয়েরই উপর নির্ভর করে, কিন্তু তা তড়িৎক্ষেত্রের চেয়ে ভিন্ন ঢংএ। থমসন যদি দুই ধরনের বিচ্যুতিই পরিমাপ করতেন তাহলে তাদের পারস্পরিক পরিমান থেকে কণিকার চার্জ বনাম ভরের অনুপাত নির্ণয় করা সম্ভব ছিল। এবং এই অবস্থায় যদি কণিকার বৈদ্যুতিক চার্জ জানা থাকত তাহলে কণিকার ভরও বের করার সুযোগ ছিলো। কণিকার বৈদ্যুতিক চার্জ বের করা পুরোপুরি অসম্ভব ছিলো না। ফ্যারাডে বিদ্যুৎপ্রবাহ কিভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়াকে আবিষ্ট করে তা নিয়ে ব্যাপকতর গবেষনা করেন এবং ১৮৩২ সালে তড়িৎরসায়নের সূত্রাবলী প্রতিষ্ঠিত করেন। এসব সূত্র হতে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণ-১১

অধ্যায়-৩ : ইলেক্ট্রন অনুচ্ছেদ-১: তড়িৎ বিভাজন তড়িৎ বিষয়ক প্রাথমিক পরীক্ষা-নীরিক্ষাগুলো খুব অল্প বৈদ্যুতিক চার্জের উপর করা হয়েছিলো। তবে ১৭৪৬ সালে ডাচ পদার্থবিদ পিটার ভন মুশানব্রক (Pieter van Musschenbroek, ১৬৯২-১৭৬১) যখন লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছিলেন তখন লেইডেন জার নামক একটি জিনিস উদ্ভাবন করেছিলেন যা বিপুল পরিমান চার্জ জড়ো করতে পারে। চার্জ যতো বেশী জড়ো করা হবে ততোই সেই চার্জ নিষ্ক্রিয় করার জন্য বাইরে থেকে চাপ তৈরি হবে। লেইডেন জারকে যদি কোনো কিছুর সাথে স্পর্শ করানো হয় তাহলে বিদ্যুৎ সেই বস্তুতে প্রবাহিত হয়ে অতিরিক্ত চার্জ নিষ্ক্রিয় করে দেয় (যদি কোনো মানুষ তা স্পর্শ করে তাহলে তার মধ্য দিয়েই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে যা নিঃসন্দেহে যন্ত্রণাদায়ক)। যদি লেইডেন জার যথেষ্ট পরিমানে চার্জ উৎপন্ন করে তাহলে এমনকি স্পর্শ না করলেও চলে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে একটি…
বিস্তারিত পড়ুন ...