সহজ বিজ্ঞান-এসো নিজে করি ১: আলোক বিচ্ছুরক ব্যাকটেরিয়া পৃথকীকরণ (আইসোলেশান)

(এই শিরোনামে জীববিজ্ঞানের কিছু সহজ পরীক্ষা যেগুলো আমাদের দেশের সাধারন পরীক্ষাগারেই করতে পারি তার প্রক্রিয়াগুলি তুলে ধরবো। যেসব বিষয়ের পরীক্ষা সেসব বিষয়ের খুব সাধারন টার্মগুলো এখানে বর্ণনা করছিনা। দয়া করে গুগল করে খুঁজে নেবেন। তবে কয়েকটি টার্মের লিংক বোঝার সুবিধার্থে এখানে দিয়ে দিচ্ছি।)

এটা একটা মজার কিন্তু সহজ মাইক্রোবায়োলজীর পরীক্ষা। আপনারা জানেন কিছু ব্যাকটেরিয়া আছে যারা আলো বিচ্ছুরণ করে এবং আমরা অন্ধকারে দেখতে পাই। এদেরকে লুমিনিসেন্ট ব্যাকটেরিয়া বলে। এদেরকে আইসোলেট করার একটা সহজ উপায় এখানে বলছি। যেহেতু আমরা সমুদ্রের কাছে থাকি সেহেতু এটা করা খুব বেশি কঠিন হবেনা। কারন সমুদ্রের পানিতেই লুমিনিসেন্ট ব্্যাকটেরিয়া পাওয়া যায় এবং সমুদ্রের প্রাণীদের থেকেই আমরা এদের কালচার করতে পারি।

 

লাগবে:
– কিছু সামুদ্রিক চিংড়ি বা অন্য মাছ  (কয়েক ঘন্টা আগে ধরা হতে হবে, ফ্রোজেন বা শুটকি নয়। চট্টগ্রাম বা সমুদ্্র উপকূলের কাছে যারা থাকেন তাদের জন্য এটা করা খুবই সহজ। যারা দূরে থাকেন তারা সমুদ্্রের কাছে বেড়াতে গেলে লোকাল বাজার থেকে মাছ কিনে একটা ফ্লাস্কে ঢুকিয়ে ৩% লবনের দ্রবণ দিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে আপনার শহরে চলে আসবেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে।)
– লুমিনিসেন্ট মিডিয়া ব্রথ এবং আগার
– অন্ধকার রুম এবং শেকার
– খাবার লবন

মিডিয়া-
ব্রথ:
Peptone 10.0 g
NaCl 30.0 g
K2HPO4 2.0 g
MgSO4 0.25 g
Glycerol 2.0 g
Distilled H2O 1.0 L

আগার:
Dehydrated Nutrient Broth 8.0 g (LB পাউডার হলেও চলবে)
NaCl 30.0 g
Glycerol 10.0 g
CaCO3 5.0 g
Agar 15.0 g
Distilled H2O 1.0 L

 

প্রক্রিয়া:
– প্রথমে চিংড়ি একটা পরিস্কার ফ্লাস্ক বা বিকারে নেই
– তারমধ্যে ৩% লবনের দ্রবণ এমনভাবে দেই যেন চিংড়ির স্তুপের ১০-১৫% দ্রবণের উপরে থাকে।
– অন্ধকার রুমে রুম তাপমাত্রাতেই রেখে দেই ২৪ ঘন্টা
– ২৪ ঘন্টা পরে দেখি চিংড়ির কোথাও উজ্জ্বল আলো দেখা দিয়েছে কিনা
– উজ্জ্বল আলো অংশ থেকে একটু অংশ নিয়ে আগার প্লেটে স্ট্রিক করি (স্টেরিলিটি মানতে হবে এখানে)
– ২৪ ঘন্টা রুম তাপমাত্রায় রেখে দেই
– অন্ধকারে দেখি আলো বিচ্ছুরণ করছে কিনা কোন কলোনী
– সেটাকে তুলি এবং আরেকটি আগার প্লেটে স্ট্রিক করি
– আবার ২৪ ঘন্টা রুম তাপমাত্রায় রেখে দেই
– একটা কলোনী তুলে স্ট্যাব বা স্ট্রিক কালচার করে সংগ্রহ রেখে দেই। যেসব পরীক্ষাগারে -২০ বা -৮০ ডিগ্রী ফ্রিজার আছে তারা গ্লিসারল স্টক করেও রাখতে পারেন।
– সুন্দর উজ্জ্বল আলোর ব্রথ দেখতে চাইলে কলোনী টাকে ব্রথ মিডিয়ায় শেকিং এর মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা রুম তাপমাত্রায় কালচার করে অন্ধকারে দেখতে পারি

 

সতর্কতাঃ

মাইক্রোবায়োলজি পরীক্ষাগুলোর সতর্কতা ধাপ গুলি মেনে চলতে ভুলবেন না যেন। বেশিরভাগ ব্যাকটেরিয়া মানুষের জন্য ক্ষতিকর না, কিন্তু কিছু কিছু ক্ষতিকর।

৫ thoughts on “সহজ বিজ্ঞান-এসো নিজে করি ১: আলোক বিচ্ছুরক ব্যাকটেরিয়া পৃথকীকরণ (আইসোলেশান)

  1. চমৎকার। এই সিরিজের আরো লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

  2. ইন্টারেস্টিঙ এক্সপেরিমেন্ট। আরো আগ্রোহোদ্দীপক হবে যদি জানা যায় কেন, কিভাবে ব্যাক্টেরিয়ারা অালো জ্বালে, সেই অালোর কোন তাপ আছে কি না ইত্যাদি। দারুণ উদ্যোগ ওসমান ভাই। এটা মনে হয় সবচেয়ে ভালো হবে চিটাগাঙ ইউনিভার্সিটি ও নোয়াখালী ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টের পোলাপানেরা করলে …

    1. অনেক ধন্যবাদ। আসলে আমি খুব বেশি থিওরি এখানে দিতে চাচ্ছিলাম না। তবে লিংক দিয়ে দিয়েছি কিছু। আর আগ্রহীরা খুঁজে খুঁজে ঠিকই বের করে ফেলবেন বলে আমার বিশ্বাস।

আপনার মতামত

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.