ডিএনএ সম্পর্কিত কিছু কথা

ডি এন এ ( Deoxyribonucleic acid) মূলত অক্সিজেন, কারবন, নাইট্রোজেন, এবং হাইড্রোজেন এর দ্বারা গঠিত মাইক্রোমলিকিউল। এটি একটি নিউক্লিক এসিড যার মাঝে বংশ বিস্তার এবং জীবের বেড়ে ওঠা এবং তার সম্পর্কে যাবতীয় সকল তথ্য (জেনেটিক  ইনফরমেশন) এনকোডেড থাকে। এর গঠন সাধারণত এর বেস পেয়ার মলিকিউলের চেইন হয়ে থাকে ।

যখন বাবা মায়ের ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর সংমিশ্রণ হয় , তখন দুটোর মিশ্রণে বাচ্চার প্রথম ডি এন এ তৈরি হয়, যা থেকে ধীরে ধীরে কোষ বিভাজনের সময় আরও ডি এন এ তৈরি হতে থাকে, ডি এন এ যে কোন সেল এর নিউক্লিয়াস এর মাঝে কন্ডেন্সেড এবং সামান্য পরিমাণে মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্ট এর মাঝে থাকে। যে কেন জীবের প্রায় সকল ডি এন এ একি হয়ে থাকে। যেমন যেকোনো পদার্থের সব এটম এক হয়ে থাকে।

ডি এন এ কে আপনার বংশ বিস্তারের ব্লু প্রিন্ট বলতে পারেন, ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর মিশ্রণের সময় শুক্রাণুর মাইটোকন্ড্রিয়াল ডি এন এ বাদ যায়, এবং শুধু মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডি এন এ স্থান পায়। তবে নিউক্লিয়ার ডি এন এ অপরিবর্তিত থাকে। এভাবে এ পরীক্ষা করে আপনি যে কার সাথে আপনার পূর্ব পুরুষের পরিচয় মিলাতে পারেন।

আমি আগের লেখায় বলেছিলাম এটি একটি ডাটা ব্যাংক কারণ এতে এত পরিমাণ তথ্য জমা থাকে যে তা লিখতে গেলে হয়ত মিলিওন কপি বিশ্বকোষ লেখা যাবে। আপনার যাবতীয় সকল তথ্য এবং আপনার পূর্ব পুরুষের সকল তথ্য এতে আছে।
যেমন আপনার ঠাণ্ডা লেগেছে? আপনি এর থেকে মুক্তি পেলেন। কিন্তু কিভাবে??? :O হাজার বছর আগে আপনার কোন পূর্ব পুরুষের ডি এন এ অ্যান্টিবডি ব্যক্টেরিয়ার এবং ভাইরাস এর সাথে যুদ্ধ করতে শিখেছিল যা আপনার থাইমাস গ্লান্ড এ সংরক্ষিত আছে। আপনার ইমিউন সিস্টেম আপনার সকল পূর্বপুরুষ (আদম আঃ পর্যন্ত) এর সকল তথ্য সম্বলিত।

একেকটি ডি এন এ যেন একটি একটি ছোট অন্তর, যা সবকিছু পরিচালনা করে, ধরুন আপনি নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। আপনার একটি রক্তকণিকায় ২৮০ মিলিওন হিমোগ্লোবিন এটম রয়েছে জাত প্রত্যেকটি আট টি অক্সিজেন এর সাথে রি-একশন করে। এভাবে আপনার শরীরে প্রতিটি নিঃশ্বাসে ১১০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০ (১০^২১) অক্সিজেন প্রবেশ করছে। আর এর সবকিছুই পরিচালিত হচ্ছে ডি এন এর মাধ্যমে, এমনকি আপনার চিন্তাশক্তি ও আপনার ডি এন এ দ্বারা পরিচালিত।

এক কথায় বলতে গেলে এর দ্বারা যে কত কিছু করা সম্ভব তা বলে শেষ করা যাবেনা ক্লোনিং, জেনেটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে অপরাধী বা লাশ শনাক্তিকরন পর্যন্ত অসংখ্য কাজ করা সম্ভব যা স্বল্প পরিসরে লিখে শেষ করা যাবে না।

৩ thoughts on “ডিএনএ সম্পর্কিত কিছু কথা

  1. আপনার লেখটা পড়লাম। বেশ কিছু কনফিউশন তৈরি হয়ে গেলো। যেমন:
    ১) যেকোনো পদার্থের সব এটম এক হয়ে থাকে।
    –> এটম মানে তো পরমাণু। কোন পদার্থের সব এটম কি এক? পানির সব এটম কি এক? এটা তথ্যগত ভুল।
    ২) (আদম আঃ পর্যন্ত)
    –> বিজ্ঞান ব্লগের নীতিমালা অনুযায়ী সরাসরি ধর্মের পক্ষে-বিপক্ষে কোন রকম বক্তব্যই আমরা দেই না। আপনার এই লাইনটি আমাদের নীতিমালার সাথে সংঘর্ষমূলক।
    ৩) একেকটি ডি এন এ যেন একটি একটি ছোট অন্তর
    –> অন্তর বলতে কি বোঝাতে চাইলেন? ডিএনএ কি ভাবে অন্তর হয়? যদি রূপক অর্থে বলে থাকেন তাহলে একটু ব্যাখ্যা করবেন।
    ৪) হিমোগ্লোবিন এটম
    –> ডিএনএ কিভাবে এটম হয়! এটা সর্বোচ্চ একটা মলিকিউল।
    ৫) আপনার চিন্তাশক্তি ও আপনার ডি এন এ দ্বারা পরিচালিত।
    –> আমি ‘কি’ চিন্তা করছি তার উপর ডিএনএর হাত আছে নাকি আমি ‘কিভাবে’ চিন্তা করছি তার উপর ডিএনএ-র হাত আছে? এটা পরিস্কার করে বলা উচিত।

    আশা করি ভুলগুলো ঠিক করবেন।

    1. আমার ভূলগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। DNA সম্পর্কে study করতেছি ।

  2. লেখক সম্ভবত এখনও শিখছেন বিষয়গুলি। তাই ভুলগুলি নিয়ে ধরলাম না। তবে আপনি একটা কাজ করতে পারেন, আরাফাত যেসব ভুলগুলির কথা বলল সেগুলি ঠিক করে আবার লিখে ফেলুন দেখি? লিখতে লিখতে (এবং জানতে জানতে) অন্যগুলি ঠিক হয়ে যাবে। আমি কিছু পয়েন্ট বলছি যেগুলি চিন্তা করতে পারেন:

    ১. মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্টে কেন এবং কিভাবে ডিএনএ এল বলুন তো। এই ডিএনএ গুলো কিরকম খুঁজে বের করে ফেলুন।
    ২. বাবার মাইটোকন্ড্রিয়ার ডিএনএ কেন সন্তানের কোষে যায়না বলুন তো

আপনার মতামত

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.