যে ভাইরাসটি মানুষকে বৃক্ষে পরিণত করতে পারে

বৃক্ষমানব বাজনদার

১.

আবুল বাজনদার গান-বাজনা করতেন কি না জানি না, তবে খবরে পাওয়া যায় তিনি পেশায় ছিলেন ভ্যান-চালক। কিন্তু গত-দশ বছর ধরে তার দু’হাতের আঙ্গুলে গাছের শেকড়-বাকড়ের মতো অদ্ভূতদর্শন অংশ গজিয়ে ওঠা শুরু করলে তার পক্ষে স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে এই অস্বাভাবিক অসুখের খবর বাংলাদেশের তথ্যমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. সামন্ত লাল সেন। চিকিৎসার ব্যয়ভার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নিয়মিত খোঁজ-খবর নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অন্তত ষোলটি অপারেশনের মাধ্যমে হাতের বৃক্ষ-ঝুড়িগুলো কেটে ফেলা হলে এখন তিনি সুস্থ। বাজনদার এখন নিজের মেয়েকে কোলে নিয়ে খেলতে পারেন। তবে ২০১৯ সালে আবারো খবরে আসেন বাজনদার — আর ভালো নেই তিনি। পঁচিশবার অপারেশনের পরেও তার হাত জ্বালাপোড়া তো রয়েছেই, শেকড়গুলোও বাড়া শুরু করেছে।

চিকিৎসাশাস্ত্রে ‘বৃক্ষমানব’ রোগের খটোমটো নাম এপিডার্মো ডিসপ্লাসিয়া ভেরুসিফরমিস। এ রোগটি অত্যন্ত দূর্লভ। ইতিপূর্বে এ রোগে পৃথিবীতে মাত্র দুই জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় – তাঁরা ছিলেন ইন্দোনেশিয়া ও রোমানিয়ার বাসিন্দা। সম্প্রতি বাংলাদেশের মেয়ে ১০ বছর বয়েসী শাহানা খাতুনও এই রোগে আক্রান্ত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে যে ভাইরাসের কারণে এ রোগটি তৈরি হয় তা মোটেই দূর্লভ নয়। এটি হলো হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV), যার দ্বারা আমাদের অনেকেই সংক্রমিত।

২.

ভাইরাস এখন কোন অপরিচিত শব্দ নয়। ভাইরাস হলো একধরণের পরজীবি। অধিকাংশ জীববিজ্ঞানী ভাইরাসকে কোন জীব হিসেবে গণ্য করতে রাজী নন। কারণ পোষক কোষের বাইরে ভাইরাসের কোন বিপাকীয় কাজ করতে পারে না। তবে ভাইরাস যদি কোনভাবে পোষক কোষের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে তাহলে পোষক কোষের নিয়ন্ত্রণ ছিনতাই করে সে নিজের সংখ্যাবৃদ্ধি করে। ভাইরাসের পোষক সুনির্দিষ্ট – নির্দিষ্ট পোষক ছাড়া অন্য কোন পোষক কোষে কোন ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে না।

ঠিক তেমনি হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসও মানুষের এপিথেলিয়াল কোষ ছাড়া অন্য কোন কোষে প্রবেশ করতে পারে না। আমাদের চামড়ার যে আবরণ, তা এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। পাশাপাশি দেহের অভ্যন্তরে মুখগহ্বর থেকে শুরু করে অন্ত্র ইত্যাদি সহ শ্লেমা (মিউকাস) উৎপাদনকারী কোষও এপিথেলিয়াল ধরণের। সহজভাষায় এপিথেলিয়াল হলো আবরণী কোষ। তবে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ছাড়াও অন্যান্য প্যাপিলোমা ভাইরাস আছে যারা গরু, ঘোড়া, খরগোশ সহ বিভিন্ন মেরুদন্ডী প্রাণীদের সংক্রমণ করে।  এরা প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট-প্রজাতীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এক প্রজাতীতে সংক্রমণকারী ভাইরাস সাধারণত অন্য প্রজাতীতে সংক্রমণ করতে পারে না।

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের সংক্রামণ মোটেই দূর্লভ কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে ৬০% ব্যক্তি জীবনের কোন না কোন সময় এ ভাইরাস দিয়ে সংক্রমিত হয়েছেন। এ ভাইরাসটি ‘বৃক্ষমানব’ রোগ নয়, বরং অন্য কারণে কুখ্যাত। নারীদের জরায়ু-মুখ ক্যান্সার সহ নারী ও পুরুষে বিভিন্ন যৌনবাহিত ক্যান্সারের জন্য দায়ী এই ভাইরাস। ২০০২ সালের একটি গবেষণায় সারা পৃথিবীতে ক্যান্সারের যতগুলো নতুন ঘটনা তৈরি হয়, তার ৫.২%-র জন্য HPV-কে দায়ী করা হয়।

কিন্তু এ ভাইরাসটি দ্বারা সংক্রমিত হলেই যে কারো ক্যান্সার হবে বিষয়টা এমনও নয়। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে খুব সামান্য অংশই ক্যান্সারে ভুগবেন। কেন ক্যান্সার হবে বা হবে না, তা জানার জন্য আমাদের বুঝতে হবে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসটি কিভাবে দেহের আবরণী (এপিথেলিয়াল) কোষের মধ্যে টিকে থাকে।

৩.

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসটি কাউকে সংক্রমিত করলে আবরণী কোষের নিউক্লিয়াসে নিজস্ব ডিএনএ প্রবেশ করিয়ে দেয়। পোষক কোষটি নিজ কাজে দরকারী প্রোটিন তৈরি করার সময় HPV-র প্রোটিনও তৈরি করে ফেলে। এই প্রোটিনগুলো কোষটিকে বদলানো শুরু করে।

ফ্লু-ভাইরাস, সর্দিকাশির রাইনো-ভাইরাস সহ অন্যান্য ভাইরাস পোষক দেহের মধ্যে চলে গেলে ব্যপক তীব্রতার সাথে নিজেদের সংখ্যাবৃদ্ধি করা শুরু করে। পোষক দেহে তারা যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের সংখ্যাবৃদ্ধি করে। এক সময় পোষক কোষটি ছিড়ে ফেটে গিয়ে মারা যায়। তবে HPV-র যুদ্ধকৌশল ভিন্ন। পোষক কোষটিকে মেরে ফেলার বদলে তারা কোষটিকে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে উৎসাহিত করে। পোষক কোষটি যত দ্রুত বিভাজিত হবে,  HPV-র সংখ্যাও ততো বাড়বে।

পোষক কোষের কোষ বিভাজনের গতি বাড়িয়ে দেয়া কোন সহজ কাজ নয়। মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজন খুব জটিল একটি প্রক্রিয়া। একটি কোষ বিভাজিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কোষের ভেতর ও বাহিরের অনেকগুলো সংকেতের পরিপ্রেক্ষিতে। কোষ বিভাজনের জন্য পুরো ডিএনএ-র একদফা অণুলিপি করতে হয়। এছাড়াও কোষ বিভাজন সুসম্পন্ন করার জন্য অসংখ্য প্রোটিনের এক সেনাবাহিনীকে সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালিত করতে হয়। অণুলিপনের সময় কিছু বিশেষ প্রোটিনের দায়িত্ব থাকে সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য। যদি কোন প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ হয়, যদি বিভাজন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ক্যান্সার-কোষ তৈরি করে ফেলতে যায়, তখন তত্ত্বাবধায়ক প্রোটিনগুলো কোষটিকে আত্মহত্যার জন্য সংকেত দেয়। তবে  HPV মাত্র অল্প কয়েকটি প্রোটিন নিয়েই কোষ বিভাজনের এই মহাযজ্ঞ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

শিশুকালে দেহের অনেক কোষই খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এদের বৃদ্ধি কমে যেতে থাকে। এমনকি বৃদ্ধি বন্ধও হয়ে যায়। তবে আবরণী কোষ সারা জীবনব্যাপী বাড়তে থাকে। আবরণী কোষ আমাদের বহিঃত্বকের নিচে একটি মাতৃ-স্তর থেকে বৃদ্ধিলাভ করতে থাকে। কোষ বিভাজনের সাথে সাথে এ স্তর থেকে একটি নতুন কোষীয় স্তর গজিয়ে ওঠে ও উপরের দিকে যেতে থাকে। উপরের দিকে যাওয়ার সময় এ নতুন স্তরটি তাদের মাতৃ-কোষস্তর থেকে বদলাতে শুরু করে। এদের মধ্যে কেরাটিন নামক একধরনের প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। কেরাটিন দেহত্বককে সূর্যালোক, বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ও তীব্র তাপমাত্রার ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। তবে এক সময় এই উপরের স্তরটি মারা যায়। তখন পরবর্তী প্রজন্মের আবরণী কোষ-স্তর এদের জায়গা নেয়।

আবরণীকোষের এই চিরস্থায়ী বৃদ্ধির প্রবণতাকে কাজে লাগায় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। এপিথেলিয়াল কোষস্তরে এদের টিকে থাকার প্রক্রিয়াটা অনেকটা কনভেয়ার বেল্টের উপর বেঁচে থাকার মতো।  HPV বাহককোষের মধ্যে থেকে মাতৃ-স্তর হতে নতুন কোষস্তর তৈরির প্রক্রিয়াটির গতি বাড়িয়ে দেয়। কারণ আবরণী কোষের সংখ্যা যত বাড়বে,  HPV-র অণুলিপিও অনুরূপহারে বাড়বে। এই নবসৃষ্ট কোষস্তর সময়ের সাথে সাথে দেহত্বকের বহিরাবরণে চলে আসলে এক সময় তাদের মৃত্যু হওয়া শুরু হয়। HPV কোনভাবে বুঝতে পারে যে বাহক কোষটি বহিঃত্বকের দিকে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায়  HPV ভাইরাসটি অন্য কৌশল অবলম্বন করে। তারা বাহক কোষটিকে বিভাজনের জন্য উৎসাহিত না করে কোষীয় অঙ্গাণু ব্যবহার করে নতুন নতুন  HPV ভাইরাস তৈরি করা শুরু করে। যখন এই কোষস্তরটি বাহিরে চলে আসে, তখন বাহককোষগুলো ফেটে বিদীর্ণ হয়ে যায়। বের হয়ে আসে নতুন HPV ভাইরাস-কণা। এ ভাইরাসগুলো তখন নতুন বাহককে সংক্রমণ করার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।

চিত্র:  HPV আবরণীকোষের বৃদ্ধি ও দশা-পরিবর্তন প্রক্রিয়ার সুবিধা নেয়। মাতৃকোষস্তরে  HPV সংক্রমণের পর গোলাকার জিনোম প্রায় সুপ্তাবস্থায় থাকে। এ অবস্থায় ভাইরাসটি সামান্য পরিমাণে দুইটি প্রোটিন তৈরি করে যা পোষক-কোষ বিভাজনের হার বাড়িয়ে দেয়। কোষ বিভাজন শুরু হলে  HPV-জিনোমেরও অনুলিপিকরণ বেড়ে যায়। নববিভাজিত কোষস্তর যখন একেবারে বাহিরে চলে এসে চূড়ান্তভাবে পরিণতি পায়। তখন  HPV  অজস্র নতুন ভাইরাস তৈরি করে, যা একসময় আবরণী কোষ ভেদ করে বাহিরে চলে আসে। ছবিসূত্র: http://www.immunopaedia.org

৪.

মানুষে সংক্রমণের ক্ষেত্রে এইচআইভি, জিকা, ইবোলা, নিপাহ ইত্যাদি ভাইরাসগুলো নতুন। এদের তুলনায় HPV

পুরোনো ভাইরাস। এরা আসলে প্যাপিলোমা ভাইরাস পরিবারের অন্তর্গত। একেক প্যাপিলোমা ভাইরাস ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতীর পোষককে সংক্রমণ করে। হাজার হাজার প্রজন্ম ধরে প্যাপিলোমা ভাইরাস নির্দিষ্ট প্রজাতি সংক্রমণ করে থাকলেও মাঝে মাঝে তারা প্রজাতি পরিবর্তন করতে পারে। গরু, খরগোশ থেকে শুরু করে পাখি ও সরিসৃপেও প্যাপিলোমা ভাইরাসটির সংক্রমণ হয়। মানব প্যপিলোমা ভাইরাসটির (HPV) যতগুলো প্রকরণ রয়েছে, তাদের জেনেটিক ইতিহাস পুননির্মাণ করে দেখা গেছে আফ্রিকা থেকে মানুষের সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার সাথে  HPV-র জেনেটিক ইতিহাস মিলে যায়। অর্থাৎ মানুষের বংশ-ইতিহাসের সাথে HPV-র বংশ ইতিহাস মিলে যায়।

মানুুষকে HPV সংক্রমিত করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সার হয় না। কারণ মানুষের কোষ বিভাজন বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুনিয়ন্ত্রিত থাকে। HPVসচরাচর কোষ বিভাজনের গতি বাড়িয়ে দেয়। তবে প্রতিবার কোষ বিভাজনের সময় ডিএনএ-তে পরিব্যক্তি (মিউটেশন) ঘটার একটা সামান্য সম্ভাবনা থাকে। এ পরিব্যক্তিগুলো কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণকারী জিনেও হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা কোন সমস্যা না। কিন্তু HPV আক্রান্ত বাহক কোষে ব্যপারটা ভিন্ন। HPV ইতিমধ্যেই বাহককোষটিকে দ্রুত কোষ বিভাজনের জন্য তাড়া দিচ্ছে। সচরাচর নিরীহ পরিব্যক্তি HPVআক্রান্ত কোষটিকে প্রাকক্যান্সার কোষে পরিণত হতে পারে। তখন কোষ বিভাজনের লাগাম ছুটে গিয়ে কোষটি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত বিভাজিত হওয়া শুরু করে। এর বংশধররা তখন বহিঃত্বক স্তর মারা যাওয়ার তুলনায় দ্রুতবেগে বৃদ্ধিপেতে থাকে। ফলাফলে সৃষ্টি হয় টিউমার —  যা আশেপাশের দেহকলাতে ছড়িয়ে পড়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

৫.

আবুল বাজনদারের ‘বৃক্ষমানব’ রোগটি  HPV সংক্রমণের কারণেই হয়েছে। এ রোগটি ক্যান্সার না হলেও  HPV সংক্রমণ সম্পর্কিত পরিব্যক্তির কারণেই হয়েছে। আমাদের জিনোমের সতেরো নাম্বার ক্রোমোজমে EVER1 ও EVER2 নামক দুইটি প্রতিবেশী জিন রয়েছে। এদের সুনির্দিষ্ট কাজ আমরা এখনো জানি না। তবে এরা দেহকোষের নিউক্লিয়াসে জিঙ্ক বা দস্তা-র বন্টনে ভূমিকা রাখে। ভাইরাসের বিভিন্ন প্রোটিনের জন্য দস্তা খুব দরকারী ধাতু। কোষের নিজস্ব দস্তা-সংরক্ষণগারে ভাইরাস যাতে ভাগ বসাতে না পারে এ জিন দুইটি  সে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এ জিন-যুগলের যে কোন একটিতে পরিব্যক্তির ফলে দস্তার বন্টন/নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে ‘বৃক্ষমানব’ রোগটি হয়।

অধিকাংশ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব দেহকোষে ভয়াবহ পরিব্যক্তি ঘটার সম্ভাবনা কমিয়ে। এজন্য জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা দরকার। দরকার ধূমপান বন্ধ করা, ক্যান্সার সংঘটক রাসায়নিক এড়ানো, স্বাস্থকর খাবার খাওয়া ইত্যাদি নিয়ম মেনে চলা। তবে HPV-র জরায়ু-মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে নতুন একটি উপায় রয়েছে। তা হলো টীকা নেয়া। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইউরোপে প্রথমবারের মতো HPV-র টীকা অনুমোদিত হয়। এই টীকা HPV-র মাত্র দুইটি প্রকরণের বিরুদ্ধে কার্যকর। মানুষ  HPV-র একশ-রো বেশি প্রকরণের সংস্পর্শে আসলেও এই দুইটি প্রকরণ ৭০% জরায়ু-মুখ ক্যান্সারের জন্য দায়ী। তবে অন্যান্য প্রকরণে হঠাৎ পরিব্যক্তির ফলে তা আরো ভয়াবহ রোগ ছড়াবে না এরকম কোন নিশ্চয়তা নেই। যে ভাইরাসটি মানুষকে বৃক্ষে পরিণত করে দিতে পারে, তার সৃজনশীলতা কখনোই খাটো করে দেখা ঠিক হবে না।

তথ্যসূত্র:
১) বৃক্ষমানব বাজানদারের নতুন জীবন শুরু, দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ আগস্ট ২০১৬
২) Epidermodysplasia verruciformis, Wikipedia
৩) A Planet of Viruses, Carl Zimmer, The University of Chicago Press, 2011
৪) ‘Now I can hold my daughter’: Hope for Bangladesh ‘Tree Man’  after 16 surgeries to remove growths, The Telegraph, 6 January 2017

১ thought on “যে ভাইরাসটি মানুষকে বৃক্ষে পরিণত করতে পারে”

  1. সৈয়দ মনজুর মোর্শেদ

    খুবই ভালো লাগলো। গল্পের ফাঁকে HPV এর মেকানিজম জানা গেল।

আপনার মতামত

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

গ্রাহক হতে চান?

যখনই বিজ্ঞান ব্লগে নতুন লেখা আসবে, আপনার ই-মেইল ইনবক্সে চলে যাবে তার খবর।