কেন ক্ষুধা এবং একাকীত্ব মস্তিষ্কের একই অংশকে সক্রিয় করে তোলে ?

Share
   

(লেখাটি Smithsonian magazine এ প্রকাশিত Rasha Aridi লিখার ভাবানুবাদ)

কোভিড -১৯ প্যান্ডেমিক বিশ্বকে একাকী করে তুলছে, যেহেতু মানুষ ঘরে আবদ্ধ আছে। মানুষ চাইছে তাদের প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হতে।

একাকীত্ব কে এড়ানোর প্রবৃত্তি আমাদের মস্তিষ্কে সব সময় অন্তর্নিহিত আছে।

সম্প্রতি Nature Neuroscience এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, সামাজিক মেলামেশার জন্য আকাঙ্ক্ষা ঠিক একই ভাবে মস্তিষ্কে ক্রিয়া দেখায় যেমনটা একজন ক্ষুধার্ত মানুষ খাবারের জন্য করে ।

Loading...

Massachusetts Institute of Technology (MIT) এর একজন স্নায়ুবিজ্ঞানী লিভিয়া তমোভা ( Livia Tomova) এবং তার সহযোগীরা মিলে ১০ঘন্টা ব্যাপী ক্ষুধার্ত থাকা ৪০ জন মানুষের উপর একটি গবেষনা করেছেন। দিনশেষে তাদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করার সময় পিজ্জা এবং চকোলেট কেকের ছবি দেখানো হয়েছিল।

দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায়, ঠিক ওই মানুষদেরকেই সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় ১০ ঘন্টা ব্যাপী; কোন প্রকার সরাসরি বা ভার্চুয়ালি মানুষের সংস্পর্শ ছাড়া। তারপর তাদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করার সময় জনসমাগম এবং খেলাধুলা করার চিত্র দেখানো হয়েছিল।

এই স্ক্যানগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মস্তিষ্কের একই অংশ খাদ্য এবং লোক জমায়েতে একই ভাবে উদ্দীপিত হয়ে ক্রিয়া দেখায়!

উভয় অবস্থায় মধ্যমস্তিষ্কের Substantia nigra এবং Ventral tegmental area তে অবস্থিত নিউরণ ছবিগুলো দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে উঠে। মধ্যমস্তিষ্ক কে “অনুপ্রেরণার কেন্দ্র” বলা হয়ে থাকে এবং এটি ডোপামিন নিঃসরণ করে; এক ধরনের রাসায়নিক, যা পুরস্কারের(reward) অংশ হিসেবে জড়িত ।

অংশগ্রহণকারীরা এই অভিজ্ঞতা চলাকালীন কেমন অনুভব করেছে সেটাও জানায়।একদিন ক্ষুধার্ত থাকার পর তারা বলে যে, অনেক অস্বস্তি হচ্ছে এবং খাবার খাওয়ার তীব্র ক্ষুধা অনুভব করছে। সামাজিক ভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার পর তারা জানায়, চরম একাকীত্ব অনুভব করছে, অসুখী মনে হচ্ছে নিজেদের এবং আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেছে মেলামেশার।

Loading...

তমোভা বলেন Inverse কে- এই গবেষণা সমীক্ষা জোরালোভাবে সমর্থন করে যে, ” একাকীত্ব ও ক্ষুধার মতো সংকেত (signal) দেয় – যেটা বোঝায় একজন ব্যক্তিকে , তার কোন কিছুর কমতি আছে এবং সেটা পুষিয়ে নেয়ার জন্য তার পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এই গবেষণায় প্রতীয়মান হয় যে – সামাজিক মেলামেশা শুধুই আরাম আয়েশ বা মজা নয়, এটাও মস্তিষ্কের একটা চাহিদা!

তাই যৌক্তিকভাবে বলা যায় – যখনি আমরা বিচ্ছিন্ন( isolated) থাকি, আমাদের মস্তিষ্ক একাকীত্ব থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে থাকে।

তমোভা আরো বলেন Cosmos কে – ” সমগ্র বিশ্বের সাম্প্রতিক এই অবস্থায়; সামাজিক পারিপার্শ্বিকতার সংকটে মনোযোগ দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।সমগ্র বিশ্ব এমনিতেও ভুগছিলো “একাকীত্বের মহামারি” নামক ব্যাধিতে এবং কোভিভ -১৯ প্যান্ডেমিক সেটা আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। “

মস্তিষ্ক একাকীত্বের অভিজ্ঞতায় অনেক বেশিই সংবেদনশীল।

তমোভা বলেন, ” যদি একদিন একাকী থাকা পুরোদিন ক্ষুধার্ত থাকার মতো মস্তিষ্কে সমানভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় , তবে এটা অবশ্যই বুঝতে হবে যে – মস্তিষ্ক একাকীত্বের অভিজ্ঞতায় অনেক বেশিই সংবেদনশীল। পূর্ববর্তী গবেষণায় পর্যবেক্ষন করা হয়েছে যে, যখন কেউ ইচ্ছাকৃত একাকী থাকতে চায় তখন সেটা তার জীবনে ভাল প্রভাব ফেলে। যাই হোক, এখনকার পরিস্থিতিতে মানুষের কখন আইসোলেটেড থাকবে বা থাকবে না সেটা বেঁছে নেয়ার সুযোগ কম, তাছাড়া কিছু কিছু মানুষেরর ক্ষেত্রে এটা তেমন প্রভাব ফেলেও না। অবশ্য কিছু মানুষ অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্নতা থাকার সময় চরমভাবে ভুগতে থাকে।”

মূল লিখাঃ-

Why Hunger and Loneliness Activate the Same Part of the Brain

Loading...

মিঠুন পাল

পড়াশোনা করছি অণুজীব নিয়ে। স্নাতক শেষ করেছি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে। একই বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত আছি। কবিতা লিখি অবসরে। বই পড়ি। অমর একুশে বইমেলা-২০২০ এ প্রকাশিত হয়েছে প্রথম কাব্যগ্রন্থ " বিমূর্ত বিজয়িনী"।

You may also like...

২ Responses

  1. এটা বেশ মজার কিন্তু অর্থবহ একটা গবেষণা। বিশেষ করে এই কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে নিঃসঙ্গতা সম্পর্কিত বিষাদগ্রস্থতার রোগ ভয়াবহভাবে বেড়েছে। মানুষ দীর্ঘদিন ছোট ছোট শিকারী-সংগ্রাহকের ট্রাইবে ঘুরেছে, অন্য মানুষের সাহায্য ছাড়া বেঁচে থাকা কঠিন ছিলো। সে ঐতিহাসিক কারণেই হয়তো আমাদের মস্তিষ্ক অন্যদের সঙ্গের জন্য ক্ষুধার্ত হয়ে থাকে।

  2. মিঠুন পাল says:

    হ্যাঁ, স্যার। একাকীত্ব মহামারি দিন দিন গ্রাস করছে প্রজন্ম কে। ক্ষুধার মতো একাকীত্ব এখন জরুরি চাহিদার মত হানা দিচ্ছে সবাইকে।

আপনার মতামত

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

গ্রাহক হতে চান?

যখনই বিজ্ঞান ব্লগে নতুন লেখা আসবে, আপনার ই-মেইল ইনবক্সে চলে যাবে তার খবর।

%d bloggers like this: