অপরাধী শনাক্তকরণে ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট

Share
   
পাঠ সংখ্যা : 224

আমি যখন ‘ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট(DNA Fingerprint)’ শব্দটা প্রথম শুনি তখন মনে করেছিলাম এটা হয়তো ডিএনএ সিকোয়েন্স থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আংগুলের ছাপ) বের করার কোনো একটা পদ্ধতি। এছাড়াও আমার আরেকটা ধারনা ছিল, ফরেনসিক কেসগুলো সমাধান করার জন্য ডিএনএ নমুনা ব্যবহার করা হয় ডিএনএ সিকোয়েন্স থেকে চেহারা বের করার জন্য। পরে জানলাম এই ধরনের কাজ এখনো গবেষনা পর্যায়ে আছে। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি গুলোতে কিভাবে ডিএনএ নমুনা ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত করা হয়?

Loading...


আসলে ডিএনএ নমুনা ব্যবহার করে বেশ কয়েক ভাবেই একজন ব্যক্তি কে শনাক্ত করা যায়। যেমন ধরো, সিঙ্গেল নিউক্লিওটাইড পলিমরফিজম (SNP), রেস্ট্রিকশন ফ্রাগমেন্ট লেংথ পলিমরফিজম (RFLP), ভ্যারিয়েবল নাম্বার ট্যন্ডেম রিপিট (VNTR) ইত্যাদি বিশ্লেষন সহ আরো বেশ কিছু পদ্ধতিতে। একটু কঠিন মনে হতে পারে শব্দগুলো, কিন্তু পদ্ধতিগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং। জেনে রাখা ভালো, একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের ডিএনএ তে মিল আছে ৯৯.৯%। সুতরাং, উল্লেখিত পদ্ধতিগুলোতে এই ০.১% অমিলের ভিত্তিতেই একজন থেকে আরেকজনকে পার্থক্য করা হয়।

তাহলে এখন আমরা বুঝতে পারছি, আঙুলের ছাপ একেক মানুষে একেকরকম এবং সেটি ব্যবহার করে যেমন নির্দিষ্ট মানুষকে শনাক্ত করা যায়, তেমনিভাবে ‘ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং’ হচ্ছে মানুষের ডিএনএ-র ভিন্নতার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি শনাক্তকরণ।

এবার তাহলে ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে একটা ফরেনসিক কেস সমাধান করা যাক,

মনে কর, একটা হোটেলে খুন হয়েছে। মৃত ব্যক্তিটির অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছে খুনটা করতে খুনিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ও বেশ রকমের ধস্তাধস্তি হয়েছে। খুন হওয়া ব্যক্তির হাতের নখে অল্পকিছু রক্তমাখা চামড়ার অংশ পাওয়া গেছে। আমরা ধরে নিতে পারি, এই রক্তমাখা চামড়াগুলো খুনির এবং ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মৃত ব্যক্তির আঁচড়ের মাধ্যমে তার নখে আসে। এখন আমাদের কাছে এই সামান্য চামড়াই এই খুনের রহস্য সমাধানের পাথেয়।

এখন নমুনাটি থেকে ডিএনএ বের করে, ‘আণবিক কাঁচি’ হিসেবে পরিচিত রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কাটা হয়। ফলে ডিএনএ গুলো বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের খন্ডে বিভক্ত হয়। এই ডিএনএ গুলোর টুকরা গুলোর দৈর্ঘ্যের কম্বিনেশন একেক মানুষের ক্ষেত্রে একেক রকমের হয়। ফলে যখন ‘জেল ইলেক্ট্রোফোরেসিস’ নামে এক পদ্ধতির মাধ্যমে ডিএনএ খন্ডগুলোকে দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে পৃথক করে পরবর্তিতে দৃষ্টিগোচর করানো হয়, তখন একেকজন মানুষের ক্ষেত্রে একেক রকম প্যাটার্ন দেখাবে। এই প্যাটার্নের ভিত্তিতে অপরাধী শনাক্ত করা যায়।

ধরে নেই, খুনি হিসেবে তিনজন ব্যক্তিকে সন্দেহ করা হয়েছিল। তাদের সবার কাছে থেকে নমুনা নিয়ে একই পদ্ধতিতে ডিএনএ খন্ডের প্যাটার্ন তৈরি করা হয়। এখন অপরাধ স্থলের ডিএনএ নমুনার প্যাটার্নের সাথে যার প্যাটার্ন মিলে যাবে সেই সন্দেহভাজনই হবে খুনি।

তাহলে ছবিটিতে দেওয়া ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেখে এখন বলো দেখি সন্দেহভাজন তিনজনের মধ্যে কে খুনি?
0
উত্তর: x
চিত্রঃ অপরাধস্থলে পাওয়া নমুনার এবং সন্দেহভাজনদের কাছে পাওয়া নমুনার ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট

রেফারেন্সঃ

Loading...

১। https://www.genome.gov/genetics-glossary/DNA-Fingerprinting

২। https://www.yourgenome.org/facts/what-is-a-dna-fingerprint

প্রচ্ছদছবি সূত্র: https://www.istockphoto.com/photo/amplifying-dna-helix-gm907327088-249990845

ছড়িয়ে দেয়ার লিঙ্ক: https://bigganblog.org/2021/04/অপরাধী-শনাক্তকরণে-ডিএনএ/

Md. Arko Ayon Chowdhury

Md. Arko Ayon Chowdhury MS Thesis Student Molecular Biology Laboratory Department of Biochemistry and Molecular Biology University of Dhaka

অন্যান্য লেখা | অন্তর্জাল ঠিকানা
3.2 5 ভোট
Article Rating
আলোচনার গ্রাহক হতে চান?
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

1 Comment
পুরানো
নতুন সবচেয়ে বেশি ভোট
লেখার মাঝে মতামত
সকল মন্তব্য