ক্রায়োনিক্স: যেভাবে মৃত মানুষ জীবিত করা সম্ভব

আমরা মৃত্যু বলতে কি বুঝি? মৃত্যু হলো হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়া এবং মস্তিষ্কের সাথে সমস্ত দেহের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া। ক্রায়োনিক্স হলো সেই গবেষণা যেখানে একটি মৃতদেহকে অক্ষতভাবে সংরক্ষণ করা হয় এই আশায় যে একদিন সেই মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা যাবে। চলুন জেনে নিই কি সেই বিষ্ময়কর ক্রায়োনিক্স।
CNET

 বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের অগাধ বিশ্বাস। আর হবে নাই বা কেন, বিজ্ঞানের কল্যানে আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে মুহূর্তেই যোগাযোগ করতে পারি। ভিডিও রেকর্ড করে স্মৃতিতে রেখে দিতে পারি বিভিন্ন ঘটনা। এক সময় এসব আমাদের কল্পনা ছিল, আর আজ তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। যেকোনো কিছু একবার বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হলে আমরা আর সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না। বিজ্ঞানের একটি সফলতা অনেকগুলো বিস্ময়ের জন্ম দেয়। আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি ঘটেছে। আগের তুলনায় এখন গড় আয়ু অনেক বেড়েছে। একসময় সামান্য কলেরা, ডায়রিয়ার কারণে মানুষ মারা যেত। আর এখন এসব তেমন কোনো রোগই না। একসময় মানুষের কিডনি বিকল হলে মারা যেত, কিন্তু এইতো কিছুদিন আগেই মার্কিন বিজ্ঞানীরা মানবদেহে শুকরের কিডনি প্রতিস্থাপনে সফল হয়েছে। হয়তো আর কিছুদিন পরে কিডনির অভাবে মারা যেতে হবে না। তবে এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের বড় স্বপ্ন মৃত মানুষকে জীবিত করা!  শুনে অবাক হওয়ারই কথা। এই পদ্ধতিটার নাম “ক্রায়োনিক্স”(Cryonics)। তাহলে চলুন জেনে নেই কি সেই ক্রয়োনিক্স, যেভাবে মৃত মানুষ জীবিত করা সম্ভব।

ক্রায়োনিক্স কি

সময়টা ১৯৬৭। একজন ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্টকে হিমায়িত করা হয়েছে। অপেক্ষা সেই দিনের যেদিন তার প্রধান শত্রু গভীর বরফ থেকে উঠে আবার বিশ্বকে ধ্বংসের হুমকিতে ফেলে দিবে। অবশেষে সেই দিনটি আসে ১৯৯৭ সালে। এজেন্টটি ৩০ বছর বরফে থাকার পর পুনরুজ্জীবিত হয় এবং সে পৃথিবীকে আসন্ন ধ্বংস থেকে বাঁচায়

এটা অবশ্য সত্যি নয় –  হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা “Austin Powers: International Man of Mystery” (1997)” এরকম হিমায়িত করে পুনরুজ্জীবনের ঘটনা দেখানো হয়েছিলো।  হিমায়িত করে পুনরুজ্জীবন ঘটানোকে ক্রায়োনিক্স বলে। ক্রয়োনিক্সকে আরো কিছু সিনেমাতে দেখা যায়, যেমন- Vanilla Sky” (2001), “Sleeper” (1973) and, “2001: A Space Odyssey” (1968)। 

যদিও চলচিত্রগুলো কল্পাকাহিনী ঘরানার, তবে এই ধারণার পিছনে এক ধরণের বিজ্ঞান বিদ্যমান। এটাকে বলা হয় ক্রয়োনিক্স। অনেক কম তাপমাত্রায় পদার্থের সাথে কি ঘটে তার বিদ্যাকে ক্রায়োনিক্স বলে । মানবদেহকে (মৃতদেহ) অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয় এই আশায় যে একদিন তাকে পুনরুজ্জীবিত করা যাবে – এই কৌশলকে ক্রয়োনিক্স বলে। যদিও এই প্রযুক্তিটি এখনো অব্যাহত আছে, কিন্তু এই প্রযুক্তিটি শুরুর দিকে যেমন ছিল এখনো প্রায় তেমনি আছে। এর তেমন কোনো উন্নত ঘটেনি।  

এই প্রবন্ধে আমরা ক্রয়োনিক্সের অনুশীলন দেখব। এটি কীভাবে করা হয় তা জানবো এবং খুঁজে বের করব যে আসলেই মৃত মানুষকে গভীর হিমায়িত করার পর পুনরুজ্জীবিত করা যাবে কিনা।

সাধারণ মস্তিষ্ক, কার্ডিয়াক এরেস্টে মস্তিষ্ক, ও ব্রেইন ডেথ মস্তিষ্কের তুলনা।

কিভাবে ক্রায়োনিক্স কাজ করে 

ক্রায়োনিক্স হলো অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় মানবদেহ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া।  সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হলো যে ভবিষ্যতে কোনো সময় তাদের পুনরুজ্জীবিত করা যাবে। যদি আজ কেউ কোনো দুরারোগ্যের কারণে মৃত্যুবরণ করে তাহলে মৃত্যুর সাথে সাথে তাকে হিমায়িত করা হবে। ভবিষ্যতে সেই রোগের চিকিৎসা বের হলে তাকে আবার পুনরুজ্জীবিত করা যাবে। এভাবে কোনো ব্যাক্তিকে ক্রয়োনিক্স সাসপেনশোনে রাখা হয়।

ক্রায়োনিক্স সম্পর্কে বুঝতে হলে আগে এটা খেয়াল করুন- আপনি হয়তো শুনেছেন অনেকসময়  শীতপ্রধান দেশে কেউ দুর্ঘটনাবশত বরফের হ্রদে পড়ে যায় এবং ঘন্টা খানেক আটকেও ছিলো। এরকম দূর্ঘটনার মধ্যে পড়েও অনেকে বেঁচেও ফিরেছে, কারণ বরফের জল তাদের শরীরকে এক ধরণের স্থির-অ্যানিমেশনের মধ্যে ফেলে দেয়। তাদের বিপাক এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে অতন্ত্য ধীরগতির হয়ে যায় যে তাদের প্রায় কোনও অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না। 

যদিও বরফের হ্রদে পড়ে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ঘটনা থেকে ক্রায়োনিক্স কিছুটা আলাদা।কারণ  প্রথমত, জীবিত কাউকে ক্রায়োনিক্স সাসপেনশন করা এখনও বেআইনি। যারা এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাবে  তাদের প্রথমে আইনত মৃত ঘোষণা করা উচিত। অর্থাৎ, তাদের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হতে হবে। কিন্তু যদি তারা মারাই যায়, তবে কীভাবে তারা পুনরুজ্জীবিত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের আসলে মৃত্যুর সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক জানতে হবে। সচরাচর ‘হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে’ তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ক্রায়োনিকসে  কর্মরত  বিজ্ঞানীদের মতে, “আইনিভাবে মৃত” আর  “সম্পূর্ণ মৃত” এর মতো নয়। তারা বলে সম্পূর্ণ মৃত্যু এমন একটি বিন্দু, যেখানে সমস্ত মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যায়। আইনগত মৃত্যু ঘটে তখন যখন হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু মস্তিষ্কে কিছু কোষীয় কার্যকারিতা রয়ে যায়। ক্রায়োনিক্সের কাজ হলো সেই সামান্য অবশিষ্ট কোষীয় সংরক্ষণ করা, কারণ তাত্ত্বিকভাবে একসময় ঐ ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে পুনরুজ্জীবিত করা যেতে পারে।

কিভাবে ক্রায়োনিক্স প্রয়োগ করা হয় 

যদি আপনি নিজেকে ক্রায়োনিক্স সাসপেনশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আপনার কী হবে? প্রথমে আপনাকে ক্রায়োনিক্স সুবিধা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে হবে এবং সদস্য হিসেবে বার্ষিক ফী (প্রতি বছর ৪০০ ডলার) দিতে হবে। এরপরে আপনার যখন হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবে এবং আপনাকে যখন “আইনিভাবে মৃত” ঘোষণা করা হবে, তখন ক্রায়োনিক্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি জরুরি দল এসে কিছু কাজ করবে। দলটি আপনার শরীরকে স্থিতিশীল করে, আপনার মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং রক্ত সরবরাহ করে ততক্ষন পর্যন্ত নূন্যতম ফাংশনে নিয়ে যাবে যতক্ষণ না আপনাকে সাসপেনসন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়। আপনার দেহ বরফে সংরক্ষণ করা হবে এবং একটি হেপারিন (একটি অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট) নামক ইনজেকশন করা হবে যা রক্ত চলাচলের সময় জমাট বাঁধতে বাধা দিবে। ক্রায়োনিক্স সেবার অধীনে থাকা একটি মেডিক্যাল টিম আপনার দেহের আগমনের জন্য অপেক্ষা করবে।

অঙ্গ সরাসরি ফ্রিজ করলে বরফ জমাট বাঁধার সমস্যা হয়। বিপরীতে ভিট্রিফিকেশন করলে অঙ্গকে যেভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

একবার আপনাকে ক্রায়োনিক্স  সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে হিমায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। ক্রায়োনিক্স সেবা তাদের সেবাগ্রহণকারী মৃতদেহকে তরল নাইট্রোজেনের বড় চৌবাচ্চায় রাখতে পারে না, কারণ এতে তাদের কোষের ভিতরে জল জমে যাবে। যখন জল হিমায়িত হয়ে বরফে পরিণত হয়, তখন এটির আয়তন বাড়ে।  এবং সেটা কোষগুলিকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। ক্রায়োনিক্স টিমকে প্রথমে আপনার দেহকোষ থেকে জল সরিয়ে ফেলতে হবে। এখন দেহের পানি প্রটিস্থাপনের জন্য ব্যবহার হয় একটি গ্লিসারল ভিত্তিক রাসায়নিক কেমিক্যাল মিশ্রণ যাকে ক্রায়োপ্রোটেক্ট্যান্ট বলা হয় (এটা এক ধরণের হিউম্যান অ্যান্টিফ্রিজ)। এর উদ্দেশ্য হলো অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় অঙ্গ ও টিস্যুগুলোকে বরফের ক্রিস্টাল হওয়া থেকে রক্ষা করা। এই প্রক্রিয়াকে ভিট্রিফিকেশন বলা হয় (হিমাংক ছাড়াই গভীর শীতল), যা কোষগুলোকে স্থগিত অ্যানিমেশনের অবস্থায় রাখে।

ফ্রিজ করলে কোষের মধ্যে ছোট ছোট বরফ জমে যায় যেগুলো কোষের জন্য ক্ষতিকর।

একবার শরীরের জল ক্রায়োপ্রোটেক্ট্যান্ট দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে গেলে আপনার শরীরকে শুকনো বরফের বিছানায় শীতল করা হবে যতক্ষণ না এটি -১৩০ সেন্টিগ্রেড (-২০২ ফারেনহাইট)-এ পৌঁছায়। এরপর ভিট্রিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হবে। পরবর্তী ধাপে আপনার শরীরকে একটি পৃথক বড় ধাতব ট্যাঙ্কে ঢোকানো হবে, যা তরল নাইট্রোজেন দিয়ে ভরা থাকে। এর ভিতরে প্রায় -১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-৩২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা থাকে। আপনার শরীরের সাথে মাথা নিচে সংরক্ষিত থাকবে, তাই ট্যাঙ্কে যদি কখনও ফুটো হয়ে যায়, আপনার মস্তিষ্ক হিমায়িত তরলে নিমজ্জিত থাকবে।

ক্রায়োনিক্স কিন্তু একেবারে সস্তা নয় কারণ আপনার পুরো শরীর সংরক্ষণ করতে এটি $১৫০,০০০০, ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। কিন্তু যারা কমদামে দেহ সংরক্ষণ করতে চান, তাদের  জন্য “নিউরোসাসপেনশন” নামক একটি সংস্থা মাত্র $৫০,০০০ ডলারের বিনিময়ে মস্তিষ্ককে চিরস্থায়ী করার জন্য সংরক্ষণ করবে। আশা করা হয় যাদের এইভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, প্রযুক্তির কল্যানে একদিন ক্লোন বা শরীরের বাকি অংশ পুনর্জন্ম করার উপায় নিয়ে আসবে।

আপনি যদি ক্রায়োনিক্স সাসপেনশন নিতে চান, তাহলে কিছু কোম্পানির কাছে যোগাযোগ করতে পারেন। একই তরল-নাইট্রোজেন-ভরা ট্যাঙ্কে অনেকগুলি দেহ অথবা মাথা প্রায়শই একত্রে সংরক্ষণ করা হয়।

কাউকে কি ক্রায়োনিক্স ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা হয়েছে ?

কয়েক ডজন মানুষকে এই ক্রায়োনিক্স সেবায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন বিখ্যাত ব্যাক্তি রয়েছেন, তিনি হলেন বিখ্যাত বেসবল তারকা টেড উইলিয়াম

কিন্তু আসলে কেউই পুনরুজ্জীবিত হয়নি। কারণ পুনরুজ্জীবিত করার মতো প্রযুক্তি এখনো হয়নি।

সমালোচকেরা বলছে যে ক্রায়োনিক্স কোম্পানিগুলো লোকজনদের অমরত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছে, যা তারা দিতে পারবে না। এমনকি ক্রায়োনিক্সে কর্মরত বিজ্ঞানীরা  বলেছেন যে তারা সফলভাবে কাউকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারেননি। অদূর ভবিষ্যতে তা করতে সক্ষম হবেন বলে আশা করেন না। সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো  যদি উষ্ণায়ন প্রক্রিয়াটি সঠিক গতিতে না করা যায় তবে কোষগুলি বরফে পরিণত হতে পারে এবং ভেঙে যেতে পারে।

যদিও পর্যন্ত ক্রায়োনিক্স সাসপেনশনে থাকা মানুষদের এখন পর্যন্ত পুনরুজ্জীবিত হয়নি, তবে জীবন্ত প্রাণীদেরকে মৃত অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে এবং তা করাও হয়েছে। ডিফিব্রিলেটর (ইলেক্ট্রিক সক) এবং CPR (বুকের উপর চাপ দেওয়া) প্রতিদিনের নানা দুর্ঘটনা এবং হার্ট অ্যাটাকের শিকার মানুষদের মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছে। নিউরোসার্জনেরা রোগীর অ্যানিউরিজমের উপর অপারেশনের সুবিধার্থে শরীরকে ঠান্ডা করে নেয় যেন মস্তিষ্কের বর্ধিত রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্থ না হয় অথবা ফেটে না যায়। উর্বর ক্লিনিকগুলিতে হিমায়িত মানব ভ্রূণগুলিকে ডিফ্রোস্ট করা হয় এবং মায়ের জরায়ুতে রোপণ করা হয় যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানুষে পরিণত হয়। 

ক্রায়োবায়োলজিস্টরা একটা বিষয়ের উপর আশাবাদী যে ন্যানোটেকনোলজি নামে একটি নতুন প্রযুক্তি পুনরুজ্জীবনকে একদিন বাস্তবে পরিণত করবে। ন্যানোটেকনোলজিতে মানব কোষ এবং টিস্যুসহ আরো কিছু তৈরি বা মেরামত করতে একেকটি পরমাণুকে নিপুণভাবে ব্যবহার করার জন্য মাইক্রোস্কোপিক মেশিন ব্যবহার করা হয়। আশা করা যায় যে, একদিন, ন্যানোপ্রযুক্তি কেবল হিমায়িত প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট কোষের ক্ষতিই নয়, বার্ধক্য এবং রোগের কারণে সৃষ্ট ক্ষতিও মেরামত করবে। কিছু ক্রায়োবায়োলজিস্ট ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে প্রথম ক্রায়োনিক্স পুনরুজ্জীবন 2040 সালের কাছাকাছি কোনো এক সময় ঘটতে পারে।

ক্রায়োনিক্সের ইতিহাস 

১৯৬৭ সালে প্রথম একজনকে ক্রায়োনিক্সে হিমায়িত করা হয় যিনি হলেন একজন মনোবিজ্ঞানী ডক্টর জেমস বেডফোর্ড। “আলকর লাইফ এক্সটেনশন ফাউন্ডেশনে” তার শরীর এখনও ভাল অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক রবার্ট এটিংগারের লেখা বই “The Prospect of Immortality,” যা ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়। এই বই থেকেই এই ধারণা এসেছে যে একজন ব্যক্তিকে মৃত্যুর পর হিমায়িত করার পর ভবিষ্যতে যখন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় বিবর্তন ঘটবে তখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করা যাবে। ক্রায়োনিক্স শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে। এর গ্রিক অর্থ হলো ঠান্ডা। 

১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে যুক্তরাষ্টে ছয়টি ক্রায়োনিক্স কোম্পানি তৈরি হয়েও গেছে। তবে  প্রতিটি দেহকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা এত ব্যয়বহুল ছিল যে  এই কোম্পানিগুলির মধ্যে অনেকে পরবর্তী দশকে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। 

আজ, মাত্র কয়েকটি কোম্পানি যেমন “অ্যারিজোনার অ্যালকর লাইফ এক্সটেনশন ফাউন্ডেশন” এবং “মিশিগানের ক্রাইওনিক্স ইনস্টিটিউট” সহ সম্পূর্ণ ক্রায়োসাসপেনশন পরিষেবা সরবরাহ করে। ২০০৪ সালের প্রথম দিকে, অ্যালকোর ৬৫০ টিরও বেশি সদস্য এবং ৫৯জন রোগী ক্রায়োপ্রিজারভেশনে ছিল। 

শেষকথা

বলা যায় না কখন কি প্রমাণিত হয়ে যায়। একসময় নতুন কোনো তত্ত্ব উপস্থাপন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা উপহাসের পাত্র হতেন। ক্রায়োনিক্স গবেষণাতেও বিজ্ঞানীরা অনেক সমালোচনার শিকার হয়েছেন। কিন্তু এটা ফেলে দেওয়ার মতো গবেষণা নয়, কারণ এর পেছনে যুক্তিগুলো খুবই কড়া যুক্তি। আমরা বিজ্ঞানের একের পর এক সফলতা দেখেছি, তাই ক্রায়োনিক্সের সফলতা দেখার  আশা করাটাই স্বাভাবিক। আপাতত অপেক্ষা করতে হবে, সময়ই বলে দিবে সবকিছু।

তথ্যসূত্র: How Cryonics Work (কিভাবে ক্রায়োনিক্স কাজ করে ) by Stephanie Watson এর ভাষান্তর

ক্যুইজ!

বিজ্ঞান সম্পর্কে আপনি কতোটা জানেন?

নিজেকে বিজ্ঞানপ্রেমী মনে করেন? তাহলে চলুন পরীক্ষা করে দেখা যাক! মাত্র ৫টি প্রশ্নের এই কুইজ দিয়ে মেপে দেখি আপনি কতোটা বিজ্ঞান ভক্ত?

অন্তর চন্দ্র
আমি অন্তর চন্দ্র, বিজ্ঞানের ছাত্র। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় আমাকে অনেক আকৃষ্ট করে। তাই জানতে ও জানাতে পছন্দ করি। আমি গবেষণা করতে পছন্দ করি।