ডাইনোসর এর উত্তরাধিকার

লেখাটি , বিভাগে প্রকাশিত

পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে আজ থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে ক্রেটাসিয়াস যুগের শেষদিকে। ডাইনোসর কি একেবারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে পৃথিবীর মাটি থেকে? না, তা হয় নি। ডাইনোসররা রেখে গেছে তাদের উত্তরসূরি। বিবর্তন বলে আধুনিক পাখি’রা হল ডাইনোসরদের উত্তরসূরি। কিন্তু কি করে? এই লেখায় সে বিষয়টাই পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। বিবর্তন তত্ত্বের একটা শক্তপোক্ত প্রমাণ হল জীবাশ্ম বা ফসিল। জীবাশ্ম রেকর্ড বলে আজ থেকে সত্তর মিলিয়ন বছর আগেও পাখি ছিল। তবে প্রায় দু শ মিলিয়ন বছর আগে বাস করত থেরোপড ডাইনোসররা। এদের কোনোটাই পাখি সদৃশ ছিল না। পাখিরা যে ডাইনোসরদের উত্তরসূরি সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হলে, সন্ধান পেতে হবে পাখি আর সরীসৃপদের তথা ডাইনোসরদের সংযোগকারী জীবাশ্মের। তাও সে ফসিল খুঁজে পেতে হবে সত্তর থেকে দু শ মিলিয়ন বছরের পুরোনো কোনো শিলাস্তরে। 

বিস্ময়কর ভাবে সরীসৃপ ও পাখিদের প্রথম সংযোগকারী সেই ফসিলটির সন্ধান পাওয়া গেছে। তাও আবার একেবারে ঠিক সময় সীমায়। ১৮৬০ সালে আর্কিওপ্টেরিক্স লিথোগ্রাফিকা (Archeopteryx lithographica) নামের এই জীবাশ্মের সন্ধান মেলে জার্মানির একটা চুনাপাথরের খনিতে। এটিই হয়ত পাখি ও সরীসৃপদের সবচাইতে বিখ্যাত অন্তর্বর্তীকালীন প্রজাতি। দারুণ বিষয় হচ্ছে, এই জীবাশ্মটির কথা ডারউইন তাঁর “দি অরিজিন অব স্পিসিস” বইটায় উল্লেখ করেছিলেন। আর্কিওপ্টেরিক্স এ আছে পাখি আর ডাইনোসরদের সম্মিলিত বৈশিষ্ট্য। এর সরীসৃপ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে দাঁতসহ চোয়াল, লম্বা হাড় দিয়ে তৈরি লেজ, ধারালো নখ, ডানায় থাকা আঙুল গুলো ছিল পৃথক এবং এর কাধটি মাথার খুলির ঠিক পেছন থেকে যুক্ত। আর এর পাখির মতন বৈশিষ্ট্য আছে দুইটা- বড় বড় পালক আর বিপরীত মুখোমুখি করা যায় এমন পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল। আর্কিওপ্টেরিক্স এর পালক ছিল অসম ধরনের। এরা হয়ত উড়তেও পারত। কিন্তু উড়তে পারলেও আর্কিওপ্টেরিক্স ছিল মূলত ডাইনোসর। এদের কিছু অংশ পাখিদের মত হলেও, বেশিরভাগই ছিল সরীসৃপদের মতন। 

১৮৬০ সালে আর্কিওপ্টেরিক্স লিথোগ্রাফিকা (Archeopteryx lithographica) নামের এই জীবাশ্মের সন্ধান মেলে জার্মানির একটা চুনাপাথরের খনিতে।

এরপর বহু সময় কেটে গেছে। পাখি আর ডাইনোসরদের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন আর তেমন কোনো প্রজাতির খোঁজ পাওয়া যায় নি। ফলে আধুনিক পাখি এবং তাদের পূর্বসূরিদের মধ্যে একটা শূন্যতা রয়ে যায়। এই শূন্যতা পূরণ করে নব্বই দশকের মধ্যভাগে চীনে খুঁজে পাওয়া অসংখ্য অসাধারণ জীবাশ্ম। ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে, আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে সোসাইটি অব ভার্টিব্রেট প্যালিওন্টোলোজি’র বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি খোঁজে পাওয়া একটি জীবাশ্মের কিছু ছবি সভায় উপস্থিত বিজ্ঞানী মহলে হইচই ফেলে দেয়। জীবাশ্মটির সন্ধান মেলে চীনের বেইপিয়াও এবং লিংগুয়ান অঞ্চলে। এটা ছিল পশ্চিমে খোঁজে পাওয়া প্রথম কোনো পালকযুক্ত নন-অ্যাভিয়ান ডাইনোসরের ফসিল। বিজ্ঞানীরা এর নাম দেন সাইনোসরোপটেরিক্স (Sinosauropteryx)। পাখিরা যে ডাইনোসরদের উত্তরসূরি, সাইনোসরোপটেরিক্স এর ফসিল বিজ্ঞানীদের এই ব্যাপারে প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিত করে।  

Sinosauropteryx. Carnegie Museum of Natural History, Pittsburgh, PA.

ছিয়ানব্বই সাল থেকে এই অবধি প্রায় হাজার সংখ্যক ডাইনোসর এবং পাখির জীবাশ্মের সন্ধান মেলে চীনে। সবগুলোই জুরাসিক এবং ক্রেটাসিয়াস যুগের। জীবাশ্ম গুলো পাওয়া যায় চীনের একটা প্রাচীন হ্রদের পাললিক শিলাস্তরে। অধিকাংশ ফসিলেই অস্থি ছাড়াও নরম টিস্যু বিশেষ করে পালক বেশ ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল। এই আবিষ্কার কেবল পাখি এবং পালক সম্পর্কে ধারণার স্পষ্টতা দেয় তা নয়, এই আবিষ্কার উড্ডয়ন, উষ্ণ রক্ত এবং ডাইনোসরদের আচরণের বিবর্তন সম্পর্কে একটা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। ফসিলগুলোর অসাধারণত্বের পেছনে কারণ হল এগুলো তৈরি হয়েছিল রাসায়নিক ভাবে বিরল এক পরিবেশে। আজ থেকে একশ ষাট থেকে একশ দশ মিলিয়ন বছর পূর্বে, চীনের উত্তর অঞ্চলে নিয়মিত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এর ঘটনা ঘটত। ইতালির প্রাগৈতিহাসিক স্থান পম্পেই এর মতই কিছু প্রাণীর জীবন্ত সমাধি ঘটেছে ছাইয়ের তলায়। অনেক প্রাণী চাপা পড়েছে প্রাচীন হ্রদের তলদেশে, যেখানে সূক্ষ্ম দানাদার পলির সাথে আগ্নেয়গিরির ছাই মিশে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। ফলত জীবাশ্মগুলো ক্ষয়ে গিয়ে হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা কমে গিয়েছিল। 

সেই সাথে এটি জীবাশ্মের বিভিন্ন নরম টিস্যু যেমন পালক, এমনকি দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ, পাকস্থলীর অংশ এবং জৈব অণু যেমন প্রোটিন, লিপিড ও শর্করা- সংরক্ষিত হওয়ার সঠিক পরিবেশ দিয়েছিল। বর্তমানে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির পাখি আছে। টিকে থাকার লড়াইয়ে পাখিদের এতটা সাফল্যের পেছনে অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে তাদের পালক। সাইনোসরোপটেরিক্স এর জীবাশ্ম আবিষ্কারের পূর্বে মনে করা হত পালক কেবল পাখিদেরই একটা অনন্য বৈশিষ্ট্য। চীনে পাওয়া ফসিল এই ধারণাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দেয়। ১৯৯৮ সালের দিকে সাইনোসরোপটেরিক্স এর ফসিলের উপর একটা গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞানীরা সেখানে দাবি করেন সাইনোসরোপটেরিক্স কমসোগনাথিডি থেরোপড  ডাইনোসর পরিবারের সদস্য। বিবর্তন বৃক্ষে এদের অবস্থান পাখিদের পূর্বপুরুষদের থেকে বেশ দূরে। সম্ভবত প্রায় শ খানেক ডাইনোসর প্রজাতির দেহে পালক ছিল।

টাইরানোসরাস রেক্স এর ফসিল।

পরবর্তীতে চীনে খনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৫৫ টা ডাইনোসর এবং পাখি প্রজাতির জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছিল। এদের মধ্যে ত্রিশটারও বেশী সংখ্যক প্রজাতির ডাইনোসরই পালকযুক্ত ছিল। যদিও জীবাশ্ম বলে টাইরানোসরাস রেক্স (T.rex- Tyrannosaurus rex) নামের ডাইনোসরদের ত্বক আঁশযুক্ত, কিন্তু চীনে পাওয়া একটি টাইরানোসরাস এর ফসিলে বেশ ভালো পরিমাণে পালক ছিল। তার মানে এই গ্রুপের সকল সদস্যদের দেহে অন্তত শিশু অবস্থায় পালক থাকবার কথা। হয়ত হাতি এবং শূকর’দের মতই যুবক অবস্থায় এদের দেহের পালক ঝরে যেত। কেননা তখন তারা যথেষ্ট বড় হয়ে যায় এবং তাদের আর পালকের উষ্ণ অন্তরণের দরকার পড়ে না। কিংবা তখনো হয়ত টি রেক্স দের (T.rex) মাথার ঝুঁটিতে পালক ছিল অথবা মোহিকান শৈলীতে মাথা থেকে ঘাড় এর নীচ অবধি পালক ছিল যা শিকারিদের ভয় দেখাতে কাজে লাগত। 

টাইরানোসরয়েডরা ছিল মাংসাশী থেরোপড ডাইনোসর। এদের থেকেই পাখিরা বিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু চীনে পাওয়া জীবাশ্ম বলছে, ওরনিথিশিয়ান নামের তৃণভোজী ডাইনোসরদেরও পালক ছিল। এদের মধ্যে আছে দুই মিটার লম্বা চঞ্চুবিশিষ্ট সিটাকোসরাস (Psittacosaurus) এবং সত্তর সেন্টিমিটার লম্বা তিয়ানুলং (Tianyulong) নামের দ্বিপদ ডাইনোসর। ২০১৪ সালে রাশিয়ায় পাওয়া কুলিন্দাড্রোমাস (Kulindadromeus) ডাইনোসরদেরও সাড়া শরীর জুড়ে পালক ছিল। এদের পা এবং লেজ ছিল আঁশযুক্ত। তবে সরোপডোমরফ গ্রুপের ডাইনোসর যেমন ব্রন্টোসরাস (brontosaur) এবং টাইটানোসর’দের (titanosaurs) দেহে কোনো পালক ছিল না। এতসব জীবাশ্ম রেকর্ড জানান দিচ্ছে, আজ থেকে আড়াই শ মিলিয়ন বছর আগে ট্রায়াসিকের শুরুর দিকেই ডাইনোসরদের দেহে পালক এর আবির্ভাব ঘটে। 

টেরোসরদেরও পালক ছিল  

ডাইনোসর ছাড়া অন্য প্রাণীদেরও পালক ছিল। টেরোসররা ডাইনোসর না কিন্তু এদের পালক ছিল। এরা বাস করত ট্রায়াসিকের শুরু দিকে। এদের মাথা এবং শরীর জুড়ে ছিল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোম। টেরোসরদের দেহে বিভিন্ন ধরনের পালক শনাক্ত করা হয়েছে। সরল ধরনের ক্ষুদ্র লোম ছাড়াও এদের দেহে ডাইনোসরদের অনুরূপ গঠনের পালকও ছিল। জীবাশ্ম রেকর্ড বলছে পাখিদের আবির্ভাবের আরো অনেক আগেই পালকের আবির্ভাব ঘটেছে। চীনে পাওয়া জীবাশ্ম পাখিদের বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণার পরিবর্তন করে নি। এখনো অবধি এটাই সর্বজনস্বীকৃত যে, আজ থেকে দেড় শ মিলিয়ন বছর আগে জুরাসিকের আর্কিওপ্টেরিক্স-ই হচ্ছে পাখিদের পূর্বসূরি। তবে চীনের ফসিলগুলো পাখিদের বিবর্তন এর আরো স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি দিয়েছে। আর্কিওপ্টেরিক্স এবং আশি মিলিয়ন বছর আগের আধুনিক পাখিদের মধ্যে যেই শূন্যতা ছিল তা পূরণ করেছে ডজন সংখ্যক পাখি সদৃশ ডাইনোসর এবং প্রাচীন পাখিদের ফসিল। চীনের ফসিল গুলো পুরোপুরি ভাবে নিশ্চিত করে যে, পাখিরাই ডাইনোসরদের উত্তরসূরি। প্যারাভিয়ান নামে থেরোপডদের মধ্যে নতুন ডাইনোসর গ্রুপ শনাক্ত হয়। এই গ্রুপের মধ্যে আছে পাখি এবং পাখি সদৃশ ছোট ডাইনোসর। জীবাশ্ম গুলো আরো বলে যে, পালকসহ পাখিদের অনেক বৈশিষ্ট্যেরই শেকড় নন-অ্যাভিয়ান ডাইনোসরদের মধ্যেই শুরু হয়েছে। 

টেরোসররা ডাইনোসর না কিন্তু এদের পালক ছিল। এরা বাস করত ট্রায়াসিকের শুরু দিকে।

চীনে আবিষ্কৃত জীবাশ্ম পরিষ্কার ভাবে বলছে যে, পালক কেবল পাখিদেরই একটা অনন্য বৈশিষ্ট্য নয়। শুধু তা-ই নয় এই আবিষ্কার ডাইনোসরদের জীবনচর্যার প্রতি নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গির গোড়াপত্তন করে। পালক পাখিদের দেহে বিভিন্ন রকম ভূমিকা রাখে যেমন উড্ডয়ন, শরীর উষ্ণ রাখা এবং বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করা। প্রথমদিকে ডাইনোসররা উড়তে পারত না। তবে ফসিল রেকর্ড বলছে, চীনা ডাইনোসর গুলো ছিল উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট। উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীদের দেহে উৎপন্ন তাপ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সুতরাং অন্তরণ সর্বপ্রথম পালক বিবর্তনের একটা করণ হতে পারে। বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করানোর উদ্দেশ্যে পালক এর ভূমিকা আসে আরো পরে। 

বিজ্ঞানীরা মনে করেন ছোট পালকবিশিষ্ট ডাইনোসর তাদের সঙ্গীকে আকর্ষণ করানোর জন্যে এক পায়ে লাফাত এবং মাথা, লেজ ও ডানায় থাকা পালক এর সজ্জা ব্যবহার করত। ছোট বাহু এবং উড্ডয়নে অক্ষম ডাইনোসর যেমন সাইনোসরোপটেরিক্স এর বেলায়ও একই কথা সত্য। পালকের ফসিল ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখলে মেলানোসোম নামে ছোট ছোট ক্যাপসুল দেখা যাবে। বহু জীবেই মেলানিন নামে রঞ্জক পদার্থ উপস্থিত থাকে। পাখি এবং স্তন্যপায়ীদের শরীরে এটি দুইটা ফরমে থাকে- ফেওমেলানিন (phaeomelanin) এবং ইউমেলানিন (eumelanin)। ফেওমেলানিন লালচে-বাদামি বর্ণের রঞ্জক আর ইউমেলানিন হল কালো, বাদামি, ধূসর কিংবা গাঢ় বর্ণের।   

ত্বকে মেলানিন তৈরি হয়। পরবর্তীতে তা ফেওমেলানোসোম অথবা সসেজ এর মত দেখতে ইউমেলানোসোম এর মাধ্যমে চুল এবং পালকে পৌঁছায়। সাইনোসরোপটেরিক্স এর ফসিলে কেবল ফেওমেলানোসোম এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তার মানে এদের পালক ছিল লালচে-বাদামি বর্ণের। অন্যান্য ডাইনোসরদের ছিল লাল রঙের ঝুঁটি, ডানায় সাদা-কালো ডোরাকাটা, এবং সাড়া শরীর জুড়ে নানান রঙের ফুটফুটে দাগ। উড্ডয়নের ব্যাপারেও চীনা ফসিল নতুন ধারণার উত্তরণ ঘটিয়েছে। আধুনিক পাখিদের বায়ুগতিবিদ্যার (aerodynamics) উপর করা গবেষণা বলছে, উড্ডয়ন এই অবধি কেবল একবার নয় তিনবার বিবর্তিত হয়েছে। উড়ার জন্যে কোনো জীবের ডানাকে অবশ্যই একটা ন্যূনতম সংকট বিন্দুর চাইতে বেশী এলাকা জুড়ে প্রসারিত হতে হবে যাতে করে এটি তার দেহের ওজনকে সাপোর্ট দিতে পারে। প্যারাভিয়ানরা এই কাজটা বিভিন্ন উপায়েই সম্পাদন করেছে। আর্কিওপ্টেরিক্স এবং এর আত্মীয় প্রজাতিদের দুইটা করে পালকযুক্ত ডানা ছিল। কিন্তু চীনে পাওয়া গেছে চার ডানাবিশিষ্ট ডাইনোসর এর ফসিল। এদের নাম মাইক্রোর্যাপ্টর (Microraptor)। 

চার ডানাবিশিষ্ট ডাইনোসর এর ফসিল। এদের নাম মাইক্রোর্যাপ্টর (Microraptor)। 

এরা বাস করত আজ থেকে একশ পঁচিশ মিলিয়ন বছর পূর্বে। এদের সমসাময়িক ই কিউ (Yi qi) নামের ডাইনোসরদের ছিল বাঁদুরের পর্দার মতন ডানা। এই বৈচিত্র্যতার গোড়াপত্তন হয়েছিল একশ পঁচাত্তর মিলিয়ন বছর পূর্বে যখন থেরোপড ডাইনোসররা নাটকীয় বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। যেমন টি রেক্স এর মতন ডাইনোসররা সাইজে বড় হচ্ছিল। এটা এদের চাইতে বড় তৃণভোজী শিকারদের পরাস্ত করতে সাহায্য করেছিল। অন্যদিকে পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকা প্যারাভিয়ানরা ক্রমশ আকারে ছোট হচ্ছিল এবং তাদের পালক উড্ডয়ন, অন্তরণ এবং বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করার জন্যে বিশেষিত হচ্ছিল।  

ধারণা করা হয় থেরোপড ডাইনোসররা আধুনিক পাখিদের মতো আচরণও করত। চীনে আবিষ্কৃত একটি ফসিল এমনটাই দাবী করে। আমেরিকান জীবাশ্মবিদ মার্ক নোরেল এবং তার সহযোগীরা এই জীবাশ্মটির বর্ণনা করেন। জীবাশ্মটি খুব ছোট পালকযুক্ত একটি ডাইনোসরের। এটি তার ডানার মতো কনুইয়ের ভাজে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে, ঠিক যেমন করে আধুনিক পাখিরা ঘুমায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া হয়েছে মেই লং (Mei long), চীনা ভাষায় এর অর্থ দাঁড়ায় “গভীর ঘুমে নিমগ্ন ড্রাগন”। 

মেই লং (Mei long)

চীনে আবিষ্কৃত জীবাশ্ম বিজ্ঞানীদের ডাইনোসর এবং পাখিদের বিবর্তন এর ব্যাপারে জানাশোনাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। তারা দেখতে কেমন ছিল, তাদের শরীরের রং, বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করার প্রক্রিয়া, এবং কীভাবে তারা একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত- এসব ব্যাপারে আরো গভীরে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। চীনে অবিরতভাবে ডাইনোসরদের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হচ্ছে। কে জানে আগামী পঁচিশ বছরের মধ্যে এগুলো থেকে কি উন্মোচিত হয়।

তথ্যসূত্রঃ নিউ সায়ন্টিস্ট ম্যাগাজিন এর “চাইনা ডাইনোসর” নিবন্ধ আলোকে লেখা।

লেখাটি 120-বার পড়া হয়েছে।

ই-মেইলে গ্রাহক হয়ে যান

আপনার ই-মেইলে চলে যাবে নতুন প্রকাশিত লেখার খবর। দৈনিকের বদলে সাপ্তাহিক বা মাসিক ডাইজেস্ট হিসেবেও পরিবর্তন করতে পারেন সাবস্ক্রাইবের পর ।

Join 904 other subscribers