রোগ চিকিৎসায় প্লাসিবো ইফেক্ট: কি এবং কেন

লেখাটি বিভাগে প্রকাশিত

ঘটনা ১

একবার এক হাসপাতালে বেশ কজন রোগী আসেন যাদের ভেতর অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা-বেদনায় ভুগছিলেন। তো এত রোগী দেখে চিকিৎসকরা ফন্দি আঁটলেন এক পরীক্ষা করার। তারা সকল রোগীকে দুই ভাগে ভাগ করলেন। এক ভাগকে মেডিটেশন/যোগব্যায়ামের মাধ্যমে চিকিৎসা দিলেন এবং অন্য ভাগকে দিলেন ঔষধ। উভয় ভাগের রোগীরা-ই প্রায় একই সময় সুস্থ হয়ে উঠলেন। তবে মজার কথা হচ্ছে তারা সুস্থ হয়ে ওঠার পর চিকিৎসকেরা জানালেন, যাদেরকে ঔষধ দেওয়া হয়েছিল তা মূলত চিনির দানা বৈ আর কিছুই ছিল না।

ঘটনা

পারকিনসন রোগের কথা তো আমরা কমবেশি সকলেই জানি। এই রোগের রোগীদের উপর পরীক্ষা করার জন্য একদল চিকিৎসক মিলে ভিন্ন এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করলেন। এক তীব্র রাসায়নিক তরল যাকে মোটা দাগে পারকিনসন রোগের যম বললে ভুল হবে না, তা ওই সমস্ত রোগীর রক্ত প্রবাহে ঢুকিয়ে দিলেন। আর খুবই আশ্চর্যজনকভাবে তারা সকলেই সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। তবে বাড়ি ফেরার পূর্বমুর্হুতেও তারা জানতে পারলেন না তাদেরকে যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল তা আসলে অতি পরিচিত “স্যালাইন” বা লবণ পানির দ্রবণ বৈকি বিশেষ কিছু ছিল না!

ঘটনা

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ‘ক’ সাহেবের কাছে বিষন্নতায় ভোগা এক যুবক এলেন। যুবকটি তার সমস্যার কথা সবিস্তরে খুলে বললেন। যুবকের সকল কথা মনোযোগ সহকারে শোনার পর ‘ক’ সাহেব তাকে ভালো কিছু কথা শোনানোর পাশাপাশি ব্যবস্থাপত্রে একটি অ্যান্টি-ডিপ্রেশন পিল লিখে দিলেন। যুবক ডাক্তারের কথামতো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঔষধ সেবন করলেন। কিছু দিনের মধ্যেই তিনি সেরে উঠলেন। তবে তিনি ভুলক্রমেও টের পাননি এতদিনের সেবন করা ঔষুধটি ছিল আসলে একটা ভিটামিন পিল।

ঘটনা

টানা এত গল্প পড়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন? একটু পানি খেয়ে গলা ভিজিয়ে না হয় শেষ গল্পটিও পড়ে ফেলুন?

পানির কথা যেহেতু এসেছে তবে শুনুন সেদিনের কাহিনি। বেশ বিখ্যাত এক দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন বিভিন্ন শহরের ক’জন দৌড়বিদ। প্রত্যেকেই নিজ নিজ শহরকে প্রতিবনিধিত্ব করবে বিধায় তাদের জন্যে উপযুক্ত কোচ নিয়োগ করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতা শুরুর কিছু সময় পূর্বে প্রত্যেক দৌড়োবিদকে এনার্জি ড্রিংক খাওয়ানো হয়। উদ্দেশ্য লম্বা সময় ধরে তারা যাতে শরীরে শক্তি পান।     

এক পর্যায় প্রতিযোগিতা শেষ হয় এবং অন্য সকল প্রতিযোগিতার মতো এখানেও কেউ জিতে যায় কেউ হেরে যায়। তবে প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরেও দেখা যাচ্ছিল সকলেই এনার্জি ড্রিংকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেননা দৌড়ানোর সময় তারা প্রত্যেকেই খুব ভালো অনুভূত করছিলেন। তাদের মতে পরবর্তী দৌড়েও তারা এই এনার্জি ড্রিংক পান করতে চান। কিন্তু যেই গোপন কথাটা তারা জানত না- আসলে উক্ত এনার্জি ড্রিংকটা ছিল সামান্য পানি! হা হা।

প্লাসিবো ইফেক্ট কি?

মানুষের মন এক অগাধ বিস্ময়! এই মনের প্রবল শক্তি সম্পর্কে ধারণা না থাকলে যে কেউ উপরের ঘটনাগুলোকে অলৌকিক কিংবা জাদু মনে করে ভুল করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে উপরের প্রত্যেকটি ঘটনা আমাদের সরল মনের দুর্দান্ত শক্তির স্বাভাবিক (কিংবা অস্বাভাবিক) বহিঃপ্রকাশ। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে প্লাসিবো। আর এই প্লাসিবোর মাধ্যমে যে সকল সমস্যার সৃষ্টি হয় তাকে “নোসিবো” এবং সমাধান হলে তাকে বলা হয় “প্লাসিবো” ইফেক্ট। রোগীর অজান্তেই তার মনের তীব্র শক্তিকে ব্যবহার করে সকল সমস্যা সমাধান করাই মূলত প্লাসিবো ইফেক্টের প্রধান কাজ।

প্লাসিবো ইফেক্ট কেন কাজ করে?

আমাদের মন এবং শরীর একে অপরের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আপনি শরীরে আঘাত পেলে মন নিজে থেকেই উদাস হয়ে যায়। আবার কোনো কারণে মনে কষ্ট পেলে শরীরের উপরও সেই ছাপ দেখা যায়। এর কারণ একটাই। আমাদের শরীর ও মন একে অপরের সাথে অদৃশ্য নাড়ির মাধ্যমে সংযুক্ত। অসুস্থ শরীরকে সুস্থ করার জন্য মরা গাছের মতো নেতিয়ে পড়া মনটাকে জাগিয়ে ওঠাতে পারলেই অনেকটা কাজ হয়ে যায়। কীভাবে এই মনকে জাগিয়ে তোলা যায়?

ইতিবাচক কথা উপযুক্ত বাচনভঙ্গিতে আওড়ালে মানুষ যখন তখন জেগে উঠতে পারে। আপনি রোগীকে যতটা পজিটিভ কথা শোনাবেন রোগী তত দ্রুত মানসিকভাবে ঠিক হতে শুরু করবে। ছোটোখাটো শারিরীক জটিলতায় ভোগা রোগীদের প্লাসিবো ইফেক্ট দিয়ে সহজেই সারিয়ে তোলা যায়। কেউ অনেকদিন ধরে ব্যাথায় ভুগছেন। তাকে যদি আপনি চিনির দানা কিংবা ভিটামিন পিল “ব্যাথানাশক” হিসেবে খাওয়ান তাহলে ৯৯% সুযোগ আছে সেই রোগী সুস্থ হয়ে যাবেন। কেননা রোগী মনে করছেন তিনি ব্যাথা নাশক ঔষধ খাচ্ছেন এবং তার এই মনে করার কারণে তার মস্তিষ্ক প্রাকৃতিক পেইনকিলার  তৈরি করছে। ফলে ব্যথাও কমে আসছে।

যখন আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি আমরা আমাদের শারিরীক জটিলতার জন্য চিকিৎসা নিচ্ছি তখন আমাদের মস্তিষ্ক বিশেষ কিছু রাসায়নিক উৎপাদন করা শুরু করে। যেমন এন্ডরফিন। এর গাঠনিক সংকেত মরফিনের মতো যা ব্যাথা নিরাময়ে সাহায্য করে। এটি একটি নিউরোট্রান্সমিটার যা আমাদের মস্তিস্কের হাইপোথ্যালামাস এবং পিটুইটারি গ্ল্যান্ড হতে নিষ্কাশিত হয়। এটি আমাদের দেহের ব্যাথা বিনাশে সহায়তা করে, মন ঠিক রাখে এবং বিগত কিছুদিন ধরে দেখতে পাওয়া শরীরের অস্বাভাবিক লক্ষণগুলোকেও লাঘব করে। এছাড়াও দেহ নিজস্ব কিছু এনজাইম/হরমোন নিঃসরণ করে যেমন এন্ডোক্যানাবিনয়েড কিংবা এন্ডজেনাস অপিওয়েডস হরমোন। এগুলো প্লাসিবোর প্রভাবের গতিকে ত্বরান্বিত করে দেয়।

এই হলো প্লাসিবো ইফেক্টের জাদু। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্লাসিবো ইফেক্ট চলাকালীন যদি মস্তিষ্কের এম.আর.আই করা যায় তবে লক্ষ্য করা যাবে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন। স্নায়ুবিজ্ঞানী ম্যাটলিবার ম্যান, এমেরান মেয়ার ও জোহানা জারকো মস্তিষ্ক ইম্যাজিং করেন। এই ইম্যাজিং করার পর তারা দেখাতে সক্ষম হোন প্লাসিবো, মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তন বেশ ভালো ভাবেই করতে পারে।

প্লাসিবো ইফেক্টের সীমা

শরীরের সকল সমস্যার সমাধান যদি প্লাসিবো দিয়ে সারিয়ে তোলা যেতো তবে হয়তো আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির জন্মই হতো না। বলে রাখা ভালো বিজ্ঞানীরা প্রায় ৪০০ বছর আগে ষোড়শ শতাব্দীতে প্লাসিবো আবিষ্কার করেছিলেন। প্লাসিবো কেবল ক্ষুদ্র জটিলতা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা এর মূল কাজ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় করা। তাই দেহের কোনো বাড়তে থাকা টিউমার প্লাসিবো ইফেক্ট দিয়ে সাড়িয়ে তোলা সম্ভব না। হাত পা ভেঙে গেলে প্লাসিবোর অপেক্ষা করে লাভ নেই কারণ তা কোনোভাবেই জোড়া লাগবে না। অন্যসকল কিছুর মতোই প্লাসিবো ইফেক্টেরও সীমা আছে। কেবল ছোটোখাটো সমস্যা সমাধানের জন্য এই প্লাসিবো ইফেক্ট গ্রহণযোগ্য। ক্যানসার কিংবা কিডনি পাথরের মতো রোগ উপশমের জন্য নয়।

কিছু কিছু রোগ চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা এমন ওষুধ ব্যবহার করেন যেখানে কোন Active Ingredients থাকে না।

প্লাসিবো ইফেক্ট বনাম চিকিৎসকের ছলচাতুরী

আজকে যদি আপনি জানতে পারেন আপনার ইনসমনিয়ার সমস্যার জন্য চিকিৎসকের প্রেসক্রাইব করা যেই ঔষধটা খান তা মোটেও আসল না। বরং এটি বানানো হয়েছে আসল ঔষধের আদলে এবং আপনাকেও বেশ দক্ষতার সাথে তিনি বুঝিয়েছেন ঔষধটি বেশ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন, তবে কেমন লাগবে? যেমনি লাগুক না কেন, আপনার আর ঘুম আসবে না এতটুকু তো নিশ্চিত। কারণ প্লাসিবোর দুষ্টুমি একবার মস্তিষ্ক ধরতে পারলে সে কাজ করা বন্ধ করে দেবে।  

আপনার মনের শক্তিকে সবচাইতে বেশি ব্যবহার করেন চিকিৎসকেরা। উপরের উদাহরণটি আশা করি বোঝার জন্য যথেষ্ট। আমাদের মস্তিষ্ক যেমন শক্তিশালী একই ভাবে আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেমও প্রাকৃতিকভাবে সাংঘাতিক রকমের শক্তিশালী। এই শক্তিকে যদি অসুস্থতার সময় বিশেষ কিছু এনজাইম বা হরমোন তৈরির মাধ্যমে আরও বাড়িয়ে তোলা যায় তবে আমাদের ইমিউনিটি ব্যবস্থা একাই একশ যেকোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। শুধু যে ঔষধের মাধ্যমেই চিকিৎসকেরা এমন কেরামতি করে থাকেন তা কিন্তু না! একধরনের সার্জারি আছে যাকে বলা হয় “শ্যাম সার্জারি” বা “ভুয়া অস্ত্রোপচার”। এই সার্জারিতে কেবল রোগীকে ভুল বোঝানোর জন্য শরীরে একটু আধটু কাঁটাছেড়া করা হয় যেন রোগী মনে করেন তার অপারেশন হয়েছে। আদতে এমন কিছুই হয়নি!

প্রাচীন কালে কবিরাজ, হাতুড়ে চিকিৎসক কিংবা হোমিও চিকিৎসকেরাও মানুষের মনের এই অস্বাভাবিক জোরকে ব্যবহার করে এভাবেই বিভিন্ন ধরনের শারিরীক সমস্যা লাঘব করতেন। তবে এই একই পদ্ধতি ক্ষেত্র বিশেষে, রোগী ভেদে আধুনিক চিকিৎসকেরা আজও প্রয়োগ করে যাচ্ছেন এবং তা অমঙ্গল তো নয়ই বরং মঙ্গলই বয়ে আনছে।

ভ্যাকসিন আবিষ্কারে প্লাসিবো

কখন কোন মহামারী কোন দেশকে আক্রমণ করে তা আগে থেকে ঠিকঠাক বোঝা মুশকিল।  নতুন কোনো ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাসের আগমন হলে বিজ্ঞানীরা সর্বপ্রথম তা নিয়ে গবেষণা চালান। কিন্তু প্রথমেই সে সকল মাইক্রো অর্গানিজমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয় না। কেননা ভাইরাস প্রতিনিয়ত বিবর্তিত (mutation) হতে থাকে। একটা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করার পর গবেষকরা প্রথমে কিছু ক্লিনিকাল ট্রায়াল করেন। সেসব ট্রায়ালে অংশ নেয়াঅর্ধেক অংশগ্রহণকারীর উপর সেই ভ্যাকসিন এবং বাকিদের উপর প্লাসিবো ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। এই ক্ষেত্রে গবেষকদল কিংবা অংশগ্রহণকারী কেউই জানেন না তার ওপর কি প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে কিছু সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। তবে কিছু সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে ডেটা সংরক্ষণ করা হয়। একে ডাবল ব্লাইন্ড ফোল্ড পরীক্ষা বলা হয়। পরবর্তীতে ফলাফলের উপর ভিত্তি করে হয় প্লাসিবোর ভ্যাকসিন কে সার্বজনীন ভ্যাকসিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয় অথবা আসল ভ্যাকসিনটাই কার্যকরী হয়।

পরিশেষে প্লাসিবো ইফেক্টকে আপাতদৃষ্টিতে কল্যাণকর মনে হলেও এর অপকারী দিকও আছে। দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে প্লাসিবো চিকিৎসা চলতে থাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। প্লাসিবো চিকিৎসার অন্তরালে আসল সমস্যা ভাটা পড়ে যেতে পারে। প্লাসিবোর কারণে কবিরাজ কিংবা হাতুড়ে ডাক্তাররা ভুল চিকিৎসা দিয়ে মানুষের জীবন শঙ্কার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়া করিয়ে দিতে পারে। তাছাড়া প্লাসিবো কখনো কোলেস্টেরল, লিউকেমিয়ার মতো সমস্যাগুলো সারিয়ে তুলতে পারে না।

পারে কেবল মাথাব্যাথা, প্রেসারের সমতা বজায় রাখা, নির্ঘুম সমস্যার সমাধান, ক্লান্তি ভাব ইত্যাদি সারিয়ে তুলতে। একবার মস্তিষ্ক প্লাসিবোর চালাকি বুঝতে পারলে পরবর্তীতে তা কাজ করার সম্ভাবনা অনেক কম। কেননা আসল ঔষধকেও তখন অকার্যকর বলে মনে হবে। কেবল প্লাসিবোর মাধ্যমে সুস্থ হতে হবে বলে অনেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াও বন্ধ করে দেবেন, এমনটা কোনভাবেই উচিত নয়। ছোট ছোট সমস্যাগুলোই বড়ো বড়ো রোগের আলামত। সকল চিকিৎসক এমন করবেন তাও না, সবসময় প্লাসিবো কাজ করবে এমনও কথা নেই। তবে এটা বলাই যায়, এ জগতের অন্যতম অদৃশ্য শক্তিশালী বিষয়াদির মধ্যে একটা হচ্ছে মানুষের মন। সম্পূর্ণ পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

তথ্যসূত্র-

লেখাটি 83-বার পড়া হয়েছে।

ই-মেইলে গ্রাহক হয়ে যান

আপনার ই-মেইলে চলে যাবে নতুন প্রকাশিত লেখার খবর। দৈনিকের বদলে সাপ্তাহিক বা মাসিক ডাইজেস্ট হিসেবেও পরিবর্তন করতে পারেন সাবস্ক্রাইবের পর ।

Join 906 other subscribers