কাকতালীয় ঘাতক

কাকতালীয় ঘাতক
মানুষকে আক্রমণ করার জন্য অণুজীবরা বিবর্তিত হয়েছে বলে আমরা ভাবি। তবে আমরা হয়তো আদিকাল থেকে চলমান যুদ্ধে বেসামরিক হতাহত ছাড়া অন্য কিছু নই।   ১. এইচ জি ওয়েলসের ক্লাসিক দ্য ওয়ার অফ দ্যা ওয়ার্ল্ডস (১৮৯৮) উপন্যাসে মঙ্গল গ্রহের প্রাণী কর্তৃক ইংল্যান্ড আক্রমণের আখ্যান পাওযা যায়। উপন্যাসটি কোন চনমনে বীরত্বপূর্ণ বিজয় দিয়ে শেষ হয় না, বরং দৈবভাবে গল্পের শেষ হয়। ভিনগ্রহের প্রাণী  তাপীয়-রশ্মি ও কালো-ধোঁয়া দিয়ে মানুষকে আয়ত্বে আনতে চায়। কিন্তু জয়ের একেবারে কাছাকাছি এসে তারা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভাইরাসও কিন্তু ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে

ভাইরাস শব্দটা শুনলেই আমাদের রোগের কথা মনে পড়ে। ভাইরাস আমাদের রোগ সৃষ্টি করে। ভাইরাস আমাদের কোষকে আক্রান্ত করে আবার কোন কোন ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকেও আক্রান্ত করে। তবে আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হল ভাইরাসও ভাইরাসকে আক্রান্ত করে ; অর্থাৎ ভাইরাসও ভাইরাসের রোগ সৃষ্টির কারণ হতে পারে । এই ভাইরাসের ভাইরাসকে আবিষ্কার করেন Bernard La Scola এবং Christelle Desnues. তারা এর নামকরণ করেন সেই চিরচেনা স্যাটেলাইট স্পুটনিক এর নামে। ব্যাকটেরিওফেজের নামের সাথে মিল রেখে এদের অনন্যতার কারণে তাদের অন্য…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ছোঁয়াচে প্রাণরসঃ টোবাকো মোজাইক ভাইরাস এবং ভাইরাস জগতের আবিষ্কার

ছোঁয়াচে প্রাণরসঃ টোবাকো মোজাইক ভাইরাস এবং ভাইরাস জগতের আবিষ্কার
(লেখাটি কার্ল জিমারের বই A plantet of virus এর প্রথম অধ্যায়ের অনুবাদ) মেক্সিকান সিটির চিহুয়াহুয়া প্রদেশের ৫০ মাইল দক্ষিণে একটা শুষ্ক ও বিরান পাহাড় আছে যার নাম সিয়েরা দে নাইসা। ২০০০ সালে খনি শ্রমিকরা পাহাড়ের গুহা খনন করছিলো। কয়েক হাজার ফুট গভীরে প্রবেশ করার পর তারা এমন এক জায়গার সন্ধান পেল যেটা দেখে মনে হবে তা হয়তো ভিন গ্রহের কোন এক জায়গা। তারা এমন একটা প্রকোষ্ঠে দাড়িয়ে ছিলো যা ৩০ ফুট চওড়া এবং ৯০ ফুট…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুজীব পরিচিতিঃ ই. কোলাই

ইশেরশিয়া কোলাই বা ই. কোলাই হলো অণুজীব জগতের সেলিব্রেটি। যারা অন্তত একটা অণুজীবের নাম জানেন তাদের ক্ষেত্রে এ অণুজীবটির নাম হয় ই কোলাই। ১৮৮৫ সালে জার্মান-অস্ট্রিয়ান শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ থিওডোর ইশেরিখ মানুষের মলে ই. কোলাই আবিষ্কার করেন। তিনি দেখেন অনেক শিশু ডায়েরিয়ায় মারা যাচ্ছে। জার্ম থিওরি তখনও প্রতিষ্ঠিত হয় নি। কিন্তু এশেরিখ ধারণা করলেন জার্ম থিওরির মাধ্যমেই এই রোগের কারণ বের করা যাবে। জার্ম থিওরিই প্রথম বলেছিলো যে অণুজীবের কারণের রোগের সৃষ্টি হয়।  তিনি শিশুদের মল সংগ্রহ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুজীব পরিচিতিঃ Mycobacterium tuberculosis

আমি যে সে শহরে থাকি ওখানে একটা বক্ষ ব্যাধি হাসপাতাল আছে। ছোটবেলায় আব্বু আম্মুর মুখে শুনতাম এখানে টিবি এর চিকিৎসা হয়। আমার কাছে টিবি নামটা কেমন জানি ইন্টারেস্টিং লাগতো কারণ এর সাথে ‘টিভি’ শব্দটার মিল আছে। পরে বুঝতে পারি টিবি আসলে যক্ষ্মা। আর এই যক্ষ্মা রোগের কারণ Mycobacterium tuberculosis নামের অণুজীব। ১৮৮২ সালে রবার্ট কখ (Robert Koch) এই অণুজীবটি আবিষ্কার করেন। তাঁর এই আবিষ্কারের জন্যে তিনি ১৯০৫ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পান। ওনার নাম অনুসারে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুজীব পরিচিতিঃ Clostridium tetani

ছোটবেলায় নানা রকম দুষ্টুমি করতে গিয়ে কত লোহা পেরেকের গুঁতো খেয়েছি। তখন যে কথাটি অবধারিতভাবে শুনতে হয়েছে তা হলো ‘লোহার গুঁতো খেলে কিন্তু টিটেনাস ইনজেকশন দিতে হবে’। এ অভিজ্ঞতা যে হয় নি তা নয়। লোহার গুঁতো খেয়ে ইনজেকশনের শরণাপন্ন আমাকে হতে হয়েছে। তখন যা জানতাম তা হলো ধনুষ্টঙ্কার হলে ঘাড় মটকিয়ে যায়। তাই ছোটবেলায় পেরেককে ভয় পেতাম খুব। মজার বিষয় হচ্ছে আজ এতদিন পর আমি সেই ধনুষ্টঙ্কারের জন্য দায়ী অণুজীব নিয়েই লিখতে বসেছি! প্রথমে জানা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বিস্মৃত একজন গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য

বেশ কিছু কাল আগের কথা  বলছি। তখন রাজশার্দূল এর শাসনামল বিরাজমান। শরীয়তপুরের লোনসিং নামের একটি গ্রামে বাস করতেন এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ। নাম অম্বিকাচরণ ভট্টাচার্য। পেশা যজমানি। অর্থাৎ পুজোর দক্ষিণার দাক্ষিণ্যই তাঁর  সংসারযন্ত্রকে সচল রাখতে সাহায্য করত।তবে মধ্যে কাজ করতেন স্থানীয় জমিদারের কাছারিতেও । তাঁর পরিবারেই ১৮৯৫ সালের পহেলা আগস্ট গৃহিণী শশিমুখী দেবী জন্ম দেন এক পুত্র সন্তানের। দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেওয়া পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তানটির কথাই আজকে বলতে বসেছি। তাঁর নাম গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য। ভারতীয় উপমহাদেশে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

প্রাণের প্রথম একশ কোটি বছর কেন একঘেঁয়ে ছিলো? [একমেবাদ্বিতীয়ম্ সংযোজন পর্ব-১]

প্রথম দেখায় একটি গাছ থেকে ঐ গাছের পাতা খাওয়া শুঁয়োপোকা, গাছের বাকল থেকে অঙ্কুরিত ব্যাঙের ছাতা, গুঁড়ির পাশে বর্ধনশীল ঘাস, কিংবা তরু ছায়ায় বসে গল্প করা যুগল – কোন কিছুই দেখতে এক রকম লাগবে না। তবে বাহ্য-রূপ ছলনাপূর্ণ হতে পারে। আণুবীক্ষণিক পর্যায়ে বিবর্ধিত করে দেখা হলে এদের কাঠামোগত সাদৃশ্য অবাক করে দেবে। কারণ এরা সকলে একই ধরনের গঠন-শৈলী মেনে চলা কোষ দিয়ে তৈরি। এ কোষগুলোতে রয়েছে একটি নিউক্লিয়াস যা সুক্ষ্ম ঝিল্লী দিয়ে ডি.এন.এ-কে ধরে রাখে।…
বিস্তারিত পড়ুন ...