প্লাস্টিকখোর মাছ আর তার করুণ কাহিনী!
এক দেশে এক মাছ ছিলো। সে মনের আনন্দে পানির গভীরে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াত। আর খিদে পেলে খেতো শ্যাওলা আর ছোট ছোট প্ল্যাঙ্কটন। একদিন হঠাৎ সে একটা প্লাস্টিক কণা দেখলো। লোভ সামলাতে না পেরে সে ওটা খেলো। আর রীতি ভঙ্গের জন্যে সে হলো অভিশপ্ত! এটা কোন রূপকথার চমৎকার গল্প হতে পারতো। কিন্তু এটা এখন বাস্তব অবস্থা!
প্লাস্টিক দূষণ এখন মানব সভ্যতার অন্যতম হুমকির একটি। Uppsala University বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন যেসব বাচ্চা মাছ মাইক্রোপ্লাস্টিক খায় তারা অন্য মাছের শিকারে বেশি পরিণত হয়। তার মানে যারা প্লাস্টিক খাচ্ছে তাদের কিছু একটা হচ্ছে যার ফলে তারা অন্য মাছের শিকারে পরিণত হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। গবেষকরা আরো বলছেন মাছগুলো তাদের সচারাচর খাবারের চেয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি পছন্দ করছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক হচ্ছে প্লাস্টিকের কণা যারা ১ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট।
দেখে যাচ্ছে বাল্টিক সমুদ্রে ইউরোপিয়ান পার্চ মাছ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, ব্যাপারটা ঘটছে মাছের লার্ভা থাকা অবস্থায়। যেহেতু বাল্টিক সমুদ্রে প্লাস্টিকের দূষণ সবচেয়ে বেশি হয় তাই গবেষকরা ধারণা করছেন পার্চ মাছ কমার পেছনে প্লাস্টিকের হাত আছে! গবেষকরা পার্চ মাছের উপর প্লাস্টিকের প্রভাব দেখার জন্য বাল্টিক সমুদ্র থেকে পার্চের উর্বর ডিম নিলেন। তারপর তা একই পরিবেশে মানে পলিসটারিন সমৃদ্ধ একুইরিয়ামে রাখলেন। আর কিছু ডিমকে প্লাস্টিকবিহীন একুরিয়ামে রাখলেন। দেখা গেলো যে একুইরিয়ামে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল তার লার্ভা মাছগুলো হলো ছোট। তারা সাতার কেটে বেশি দূর যেতে পারে না এবং বেশিরভাগ সময় নির্জীবভাবে পরে থাকে। ঘ্রাণ শক্তির মাধ্যমে এরা শিকারির উপস্থিতি টের পায়। কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক তাদের ঘ্রাণ শক্তিও নষ্ট করে দেয়। ফলে যেসব মাছ প্লাস্টিকসমৃদ্ধ পরিবেশে থাকে তারা শিকারির আক্রমণে মারা যায়। দেখা গেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক যুক্ত পানিতে যদি পাইক মাছ পার্চ মাছকে আক্রমণ করে তবে ১৬ ঘণ্টার মধ্যে সব মাছ মারা যায়। কিন্তু যদি প্লাস্টিকমুক্ত পানিতে আক্রমণ করে তবে ২৪ ঘণ্টা পরে দেখা যায় মোট সংখ্যার অর্ধেক তখনও জীবিত।
বাল্টিক সমুদ্রে যে শুধু পার্চ মাছের সংখ্যা কমছে তা না। পাইক মাছের সংখ্যাও কমছে। ধারণা করা হচ্ছে পার্চের মাইক্রোপ্লাস্টিক পাইকে জমা হয়ে পাইক মাছের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে।
এখন একটা প্রশ্ন মাথায় আসে নিজেদের খাবার ফেলে কেন পার্চ মাছরা প্লাস্টিক খাচ্ছে। Lönnstedt বলছেন, ব্যাপারটা অনেক ছোটদের ফাস্ট ফুড খাওয়ার মত! এটা হয়তো তাদের খাবার সম্পর্কিত কেমিক্যাল রেসপন্সকে উদীপ্ত করে। Lönnstedt আরও অনেক প্রজাতিতে এই পরীক্ষা চালাচ্ছেন এবং damselfish ও একই ধরণের আচরণ লক্ষ্য করেছেন।
লেখাটি নিচের লেখার ভাবানুবাদ!

ফেসবুকে আপনার মতামত জানান

লিখেছেন সৈয়দ মনজুর মোর্শেদ

অজানাকে জানার চেষ্টা সবসময় রোমাঞ্চকর ও আনন্দের। সেই আনন্দ পাবার লোভে বিজ্ঞান নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করার চেষ্টা করি ।অণুজীববিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করেছি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করছি একই বিষয়ে। https://www.facebook.com/syedmonzur.morshed

সৈয়দ মনজুর মোর্শেদ বিজ্ঞান ব্লগে সর্বমোট 22 টি পোস্ট করেছেন।

লেখকের সবগুলো পোস্ট দেখুন

মন্তব্যসমূহ

  1. আরাফাত রহমান Reply

    পার্চ মাছের সংখ্যা কমে গেলে সেটাতে যেমন পাইক মাছরাও ক্ষতিগ্রস্থ হবে, ঠিক তেমনি মাইক্রোপ্লাস্টিক দিয়ে ছোট ছোট জীবরা ক্ষতিগ্রস্থ হলে খাদ্য-পিরামিডের উপরে থাকা মানুষও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আগে বা পরে।

আপনার মতামত