করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আপনার যা কিছু জানা উচিত

Also called: 2019 Novel Coronavirus, COVID-19, SARS-CoV-2, 2019-nCov

২০২০ সালের গোড়ার দিকে, এক নতুন ধরণের ভাইরাস সংক্রমণের অভূতপূর্ব গতির কারণে সারা বিশ্বজুড়ে শিরোনাম তৈরি করতে শুরু করে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানের একটি খাদ্য বাজারে থেকে এটা চিহ্নিত করা হয় আর সেখান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইনের মতো সুদূর প্রান্তের দেশগুলিতেও ভাইরাসটি (অফিশিয়ালি SARS-CoV-2 নামে পরিচিত) ছড়িয়ে পড়েছে । বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত (১৯ মার্চ, ২০২০), ১৫৩ টি দেশে কমপক্ষে ২৪৬,৫২২ (±) মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে । আর মৃত্যুর সংখ্যা এপর্যন্ত ১০, ০৫৯ (±) [*]। তথ্য মোতাবেক বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ জন যার প্রায় সবাই প্রবাসি বা প্রবাসি থেকে সংক্রমিক হয়েছে । করোনায় বাংলাদেশের মৃত্যু ১ জনের; ৭০ বছর বয়সী।

SARS-CoV-2 এর সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট এই রোগটিকে COVID-19 বলা হয়, যা করোনা ভাইরাস ১৯ হিসাবে বলা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই ভাইরাস সম্পর্কিত খবরে আমরা আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছি যেটা আমাদের পরিবেশকে আরো অস্থির করে তুলছে, মনে রাখবেন আপনি যদি সম্প্রতি চীনের, ইতালির সহ আরো কিছু দেশে কিছু অংশে ভ্রমণ করেছেন এমন ব্যক্তির বা যিনি সংক্রমিত তার সংস্পর্শে না আসেন তাহলে আপনার COVID-19 তে আক্রান্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আসুন কিছু গুজবকে গুলি করি আর এই ২০১৭ নোবেল করোনভাইরাস কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, এটি অন্যান্য ধরণের করোনভাইরাস থেকে কতটা আলাদা, কীভাবে সংক্রমণ বন্ধ করা যায় এবং যদি আপনি সন্দিহান হোন যে আপনি এই ভাইরাসকে সংক্রামিত হয়ে থাকেন তাহলে কেন হবে তার ট্রিটমেন্ট, কীভাবে সেটা ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করবেন সহ আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজি।

SARS-CoV-2 বা করোনা ভাইরাসের উপসর্গ গুলো কি?

চিকিৎসকরা প্রতিদিন এই ভাইরাস সম্পর্কে নতুন জিনিস জানতে পারছেন। এখনও পর্যন্ত, আমরা যতদুর জানি যে, COVID-19 প্রাথমিকভাবে [তৎক্ষণাৎ] কোনও লক্ষণ দখা যায় না । লক্ষণগুলি লক্ষ্য করার আগে বাহকের শরীর ২ দিন থেকে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত ভাইরাসটি বহন করতে পারেন [1]

কিছু সাধারণ লক্ষণ যা বিশেষত COVID-19 এর সাথে সম্পর্কযুক্ত:[2]

  • শ্বাস প্রশ্বাসের অসুবিধা বা শ্বাসকষ্ট
  • কাশি হওয়া যা সময়ের সাথে আরও তীব্র হয়ে ওঠে
  • প্রথমে নিম্ন তাপমাত্রায় জ্বর যা ধীরে ধীরে তাপমাত্রায় বৃদ্ধি পায়
  • গলা ব্যথা*
  • সর্দি*
  • বুকে ক্রমাগত ব্যথা বা চাপ
*পরিবর্তনশীল উপসর্গ
বি.দ্রঃ সব উপসর্গ এখানে যোগ করা হয়নি। অবস্থা বেগতিক দেখলে মেডিকেল টিমের সাথে যোগাযোগ করুন; সতর্কীকরণঃ ০১৯৪৪-৩৩৩৪৪৪ । জাতীয় হেল্পডেস্কে কল করুন: ১৬২৬৩ বা, ৩৩৩

যদি আপনার COVID-19 এর লক্ষণ থাকে তবে কি করবেন?

আপনি যদি COVID-19 দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন বলে মনে করেন, তবে যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।* আর অন্যকে সংক্রমন থেকে বাঁচাতে নিজেই পদক্ষেপ গ্রহ করুন। সবার সাথে সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন। হাঁচি, কাশি সাবধানে দিবেন । ২০১৯ নোভেল করোনাভাইরাস মৌসুমী ফ্লুর চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক। কেননা এর সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণ কী?

করোনা ভাইরাস জুনোটিক। এর অর্থ তারা মানুষের মধ্যে বিকাশের আগে প্রাণীদের মধ্যে প্রথমে বিকাশ লাভ করে। ভাইরাসটি উক্ত প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে যাওয়ার জন্য ঔ প্রাণীর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে যার ফলে সেটা সংক্রমিত হতে পারে। যেমন: প্রাণীটিকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা । তবে অবশ্য সেটা কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ অবস্থায় কেননা ৬৫° সেলসিয়াসের ওপরে কোনো ভাইরাসা টিকে থাকতে পারে না।[3]

মানুষের মধ্যে বিকাশের পরে, করোনাভাইরাস শ্বাস ফোঁটা (আপনি হাঁচি বা কাশি দিলে যে ভেজা জিনিসগুলি বাতাসের মধ্যে প্রবাহিত হয়) মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে যেতে পারে।

যখন এই ভাইরাস এই শ্বাস ফোঁটার মধ্যে ঝুলে থাকে সেটা বাতাসের উড়ে-উড়ে ১ মিটার পর্যন্ত যেতো পারে। আবার সেটা কোনো সারফেসে পরলে সেখানে থেকে সংক্রমিত হতে পারে । কারণ COVID-19 ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত বাহক দেহ ছাড়া টিকে থাকতে পারে । করোনাভাইরাস সাধারণত শুধুমাত্র চোখ, মুখ, নাক দিয়েই দেহে প্রবেশ করতে পারে। তো সেক্ষেত্রে এটা দু’ভাবে ছড়াতে পারে । আক্রান্ত ব্যক্তির ১ মিটারে মধ্যে থাকলে যদি সে হাঁচি-কাশি দেয় তাহলে সেই শ্বাস ফোঁটা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে আপনার শ্বাসনালী হয়ে এবং ফুসফুস চলে যাবে আর যেখানে ভাইরাস সংক্রমণিত হতে পারে । আর নাহলে করোনাভাইরাস জীবানু কোনো ভাবে আপনার হাতে লাগলে সে হাত দিয়ে যদি নাক-মুখে লাগান তাহলে ।

আমরা ঘন্টায় গড়ে ১৬ বারের মত হাত আমাদের মুখে লাগাই, তাই সতর্ক থাকবেন । মাস্ক বা টিস্যু ব্যবহার করা এক্ষেত্রে ভালো ।

আর একটা ব্যাপার ২০১৯ নোভেল করোনা ভাইরাস কোনও নির্দিষ্ট প্রাণীর সাথে সংযুক্ত নয়। গবেষকরা বিশ্বাস করেন যে ভাইরাসটি বাদুড় থেকে অন্য কোনও প্রাণীতে —সাপ বা পাঙ্গোলিনে সংক্রমিত হয়েছে এবং পরে সেখান থেকে সেটা মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়েছে। এই সংক্রমণ সম্ভবত চীনের উহানের খোলা খাবারের বাজারে ঘটেছে। [4]

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

বয়স্ক পুরুষরা বিশেষত এই ভাইরাসের প্রতি সংবেদনশীল বলে মনে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)-এর জানুয়ারির শেষের একটা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে এই করোনা ভাইরাসটির পজেটিভ পরীক্ষার মানুষের বেশিভাগের বয়স প্রায় ৪৫ বছর বা তার ওপরে এবং এই তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পুরুষ ছিলেন।[5]

সঠিক ভাবে আপনার হাত এবং পৃষ্ঠতল জীবাণুনাশক সাবান ব্যবহার করে ধৈত করুন এবং ভাইরাস থেকে আপনার ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায্য করুন।

করোনা ভাইরাস কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

COVID-19 অনান্য সংক্রমণ কারণে সৃষ্ট রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসের পরীক্ষার মত একইভাবে নির্ণয় করা যেতে পারে; রক্ত, লালা বা টিস্যুর নমুনা ব্যবহার করে।

এর জন্য একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান সিরিঞ্জের সাহায্যে আপনার রক্তের একটি নমুনা নিবেন অথবা আপনার নাক বা গলার ভেতরের অংশ থেকে লালা বা শ্বাসনালীর থেকে কটন সোয়াব/কটন বাড ব্যবহার করে একটু নমুনা নেবে । তারপর ভাইরাসটির প্রতিক্রিয়াশীল উপাদান বা অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য নমুনাটি একটি পরীক্ষাগাড়ে প্রেরণ করা হয়। সেখানে থেকে এর ফলাফল জানা যাবে।

করনা ভাইরাসের জন্য কোন চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে?

বর্তমানে COVID-19 এর জন্য নির্দিষ্টভাবে কোনও চিকিৎসার অনুমোদিত হয়নি এবং সংক্রমণের কোনও প্রতিকার নেই যদিও বর্তমানে এর জন্য চিকিৎসা এবং ভ্যাকসিনের ওপর একনাগাড়ে গভেষণা চলছে । সেজন্য এর চিকিৎসা মুলত ভাইরাসটির কোর্স চালানোর সাথে সাথে যেসব লক্ষণগুলি প্রকাশিত হয় সেগুলোর ওপর লক্ষ্য রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ।

আপনি যদি মনে করেন যে আপনার COVID-19 এ আক্রান্ত হয়রছেন তবে অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নিন। আপনার ডাক্তারই এর লক্ষণ বা জটিলতা বিকাশের জন্য চিকিৎসার পরামর্শ দেবেন।

তবে অন্যান্য করোনাভাইরাস যেমন সার্স এবং মার্স-এর ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা রয়েছে। এই জাতীয় ভাইরাসের চিকিৎসার হলো:

  • অ্যান্টিভাইরাল বা রেট্রোভাইরাল ওষুধ
  • কৃত্রিম শ্বাস চালন, যেমন যান্ত্রিক বায়ুচলাচল
  • ফুসফুসের ফোলা কমাতে স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ
  • রক্তের প্লাজমা স্থানান্তর ইত্যাদি

COVID-19-এর সম্ভাব্য জটিলতাগুলি কী কী?

SARS-CoV-2 সংক্রমণের সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা হলো এক ধরণের বিশেষ নিউমোনিয়াকে যাকে “২০১৯ নভেল কোরোনাভাইরাস-সংক্রামিত নিউমোনিয়া (NCIP)” বলা হয়।

২০২০ সালের এক স্টাডিতে [6] দেখা গেছে একটি নির্ভরযোগ্য উৎসের ফলাফল অনুযায়ী, চীনের উহানের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৩৮ জন লোকের যাদের NCIP আছে তাদের মধ্যে ২৬ শতাংশকেই গুরুতর অস্তার মধ্য দিয়ে Intensive Care Unit (ICU)-তে থাকতে হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ICU-তে ভর্তি হওয়া লোকদের মধ্যে প্রায় ৪.৩ শতাংশ এই ধরণের নিউমোনিয়াতে মারা গিয়েছে।

এখনও পর্যন্ত, NCIP হলো একমাত্র জটিলতা যা বিশেষ করে ২০১৯ করোনভাইরাসের সাথে যুক্ত। গবেষকরা COVID-19-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে নিম্নলিখিত জটিলতাগুলি দেখতে পেরেছেনঃ

  • তীব্র শ্বাস প্রশ্বাসেের সমস্যা (ARDS) [7]
  • অনিয়মিত হার্ট রেট (Arrhythmia) [8]
  • কার্ডিওভাসকুলার শক
  • শরীরের পেশীতে গুরুতর ব্যথা (Myalgia) [9]
  • অবসাদগ্রস্থ হওয়া
  • হার্টের ড্যামেজ বা হার্ট অ্যাটাক

করোনা ভাইরাসগুলি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

সংক্রমণের বিস্তার রোধ করার সর্বোত্তম উপায় হলো এমন লোকদের এড়িয়ে চলা যাঁদের COVID-19 বা যে কোনও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

পরবর্তী সর্বোত্তম কাজ হিসেব আপনি যেটা করতে পারেন সেটা হলো ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রতিরোধে ভাল স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা ।

প্রতিরোধের কিছু উপদেশ

• ঘনঘন হাত ধুয়ে ফেলুন এবং একবারে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হালকা গরম পানি এবং সাবান দিয়ে আপনার হাত ধুয়ে ফেলুন। ২০ সেকেন্ড সময় পার কার জন্য গান, দোআ, সূরা, লেখাপড়া মনে করা বা ক-খ, ABCD পড়তে পারেন ।
• আপনার হাত নোংরা হয়ে গেলে আপনার মুখ, চোখ, নাক স্পর্শ করবেন না।
• আপনি অসুস্থবোধ করছেন অথবা সর্দি বা ফ্লুর লক্ষণ দেখা দেয় তহলে বাইরে যাবেন না।
• কাশি বা হাঁচি দিচ্ছে এমন কারও থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরে অবস্থান করুন। [10]
• আপনি নিজে যখনই হাঁচি বা কাশি দিচ্ছেন তখন আপনার কনুইয়ের ভিতর মুখ ঢেকে হাঁচি দিন। আপনার ব্যবহৃত টিস্যু যতদ্রত সম্ভব সঠিক স্থানে ফেলে দিন।
• আপনি নিয়মিত স্পর্শ করা যে কোনও বস্তু পরিষ্কার করুন। ফোন, কম্পিউটার, বাসন, ডিশওয়্যার এবং ডোরকনবসের মতো বস্তুগুলিতে জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাসের অন্যান্য ধরণ

“করোনা ভাইরাস” নামিটি আসলে ভাইরাসটি মাইক্রোস্কোপের নীচে কেমন দেখায় সেখান থেকে এসেছে। “corona” শব্দটির অর্থ “crown” বা “মুকুট”। একে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে গোল ভাইরাসটির পেপলোমার্স নামক প্রোটিনগুলির “মুকুট”-এর মতো প্রতিটি দিক থেকে তার কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসেছে। এই প্রোটিনগুলি ভাইরাসটি এর হোস্টকে সংক্রামিত করতে পারে কিনা তা সনাক্ত করতে সহায়তা করে।

২০০০-এর গোড়ার Severe Acute Respiratory Syndrome (SARS) হিসাবে পরিচিত যেটাও একটা অত্যন্ত সংক্রামক করোনভাইরাস। যদিও SARS ভাইরাসটি তখন থেকে এখনো রয়েছে কিন্তু এর সফল চিকিৎসা এখন পাওয়া যায়।

COVID-19 বনাম SARS

করোনা ভাইরাস নিয়ে এটাই কিন্তু প্রথমবারের হৈচৈ নয়— ২০০৩ সালের এর SARS ক্রাইসিও একটি করোনভাইরাস দ্বারাই হয়েছিল। ২০১৯ নোভেল করোনভাইরাস বা COVID-19-এর মতো, SARS ভাইরাসটিও মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ার আগে প্রাণীদের মধ্যে প্রথম পাওয়া গিয়েছিল।

SARS ভাইরাসটি বাদুড় থেকে অন্য প্রাণীতে কাছে স্থানান্তরিত হয় এবং তারপরে মানুষের কাছে স্থানান্তরিত হয় বলে মনে করা হয়।[11]

একবার মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হওয়ার পরে, SARS ভাইরাস মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

২০১৯ নোভেল করোনা ভাইরাসের এখনো কোন কার্যকরী চিকিৎসা বা নিরাময় ব্যবস্থা বের হয় নি । এক্ষেতে আক্রান্ত ব্যাক্তিটির নিজের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয় । কিন্তু এক্ষেত্রে SARS ভাইরাস দমনের পরিপূর্ণ চিকিৎসা আছে।

COVID-19-এর অবস্থা কী?

প্রথমত, একদমই আতঙ্কিত হবেন না। সঠিক স্বাস্থ্যাভ্যাসই পারে এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে। একটু সচেতন হলেই আমার এর সংক্রমণ রুখতে পারি। সংক্রমন রুখতে পারলেই কিন্তু আমার একে প্রতিহত করতে পারবো। করোনাভাইরাসের আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার মাত্র গড়ে প্রায় ৩.৫ শতাংশ [12] । আর আপনি যদি SARS-CoV-2-এ আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত আপনার মাস্ক পরার দরকার নেই আর কোয়ারেন্টিনে [আলাদা করে রাখা] থাকতে হবে না।

সাধারণ স্বাস্থ্যকর দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে চললে আপনাকে এই ২০১৯ নোভেল করোনাভাইরাস এবং অন্যান্য ভাইরাসের দ্বারা সংক্রামণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

আপনি যখন নতুন মৃত্যু, কোয়ারেন্টিন এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার খবরটি পড়েন তখন সম্ভবত ২০১৯ নোবেল করোনাভাইরাসকে ভয়ংকর বলে মনে হয়। একদিক দিয়ে করোনাভাইরাসটি অনান্য ফ্লুর মতোই সাধারণ। তবে এর সংক্রমন আর মিউটেশন ক্ষমতা অনেক বেশি যার ফলে অনেক বেশি সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছে। সংক্রমণ রুখতে পারলেই আমার এর বিরুদ্ধে জিতে যাবে।

তো নিজে শান্ত থাকুন এবং যদি আপনার COVID-19 সনাক্ত করা হয় তবে আপনার ডাক্তারের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন যাতে আপনি রিকভার করতে পারেন এবং এটিকে সংক্রমণে বাধা দিতে সহায়তা করতে পারেন। নিজে সর্বদা নিরাপর থাকুন অন্যকে থাকতে উদ্ভুদ্ধ করুন। ভীড় বা লোকের ভীড় থেকে দুরে থাকুন আর সংক্রমণ না হতে সাহায্য করুন।

সুত্রঃ

http://gisanddata.maps.arcgis.com/apps/opsdashboard/index.html#/bda7594740fd40299423467b48e9ecf6

https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/coronavirus/diagnosis-treatment/drc-20479976

https://www.cdc.gov/coronavirus/2019-ncov/faq.html#symptoms

https://www.healthline.com/health/coronavirus-covid-19

https://www.cdc.gov/flu/about/burden/preliminary-in-season-estimates.htm

https://jamanetwork.com/journals/jama/fullarticle/2761043

https://www.who.int/publications-detail/laboratory-testing-for-2019-novel-coronavirus-in-suspected-human-cases-20200117

https://www.nejm.org/doi/full/10.1056/NEJMoa2001017

ফুটনোটঃ
[*] https://gisanddata.maps.arcgis.com/apps/opsdashboard/index.html#/bda7594740fd40299423467b48e9ecf6
[1] https://www.cdc.gov/coronavirus/2019-ncov/about/symptoms.html
[2] https://www.cdc.gov/coronavirus/2019-ncov/symptoms-testing/symptoms.html
[3] https://www.who.int/water_sanitation_health/dwq/Boiling_water_01_15.pdf
[4] https://www.healthline.com/health-news/coronavirus-can-be-deadly-but-they-also-cause-the-common-cold-what-to-know
[5] https://www.who.int/docs/default-source/coronaviruse/situation-reports/20200127-sitrep-7-2019–ncov.pdf
[6] https://jamanetwork.com/journals/jama/fullarticle/2761044
[7] https://www.healthline.com/health/acute-respiratory-distress-syndrome
[8] https://www.healthline.com/health/arrhythmia
[9] https://www.healthline.com/health/muscle-aches
[10] https://www.who.int/news-room/q-a-detail/q-a-coronaviruses
[11] https://www.who.int/ith/diseases/sars/en/
[12] https://www.worldometers.info/coronavirus/

Image source: Centers for Disease Control and Prevention (CDC)/Alissa Eckert, MS

আপনার মতামত

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.