Share
   
পাঠ সংখ্যা : 349

এলিয়েন সম্পর্কে কোন একটা তথ্য দেখলেই আমরা খুব আগ্রহ নিয়ে তা জানতে চাই৷ “এলিয়েন কোন গ্রহে আছে?” কিংবা, “কোথায় তার বসবাস?” “কি তাদের জীবনপ্রণালী?” এসবে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের যেমন কমতি নেই, আমাদেরও। কিন্তু, এখন আমি যদি বলি আপনি নিজেই এলিয়েন ! কথা না বাড়িয়ে আসুন তবে জেনে আসা যাক সেই “জীবের” সম্পর্কে। হতে পারে “আমরা” কিংবা “তারা” এলিয়েন৷

তার নাম ইকো। ভারী পোশাকের বদলে পাতলা পোশাক পড়তে পছন্দ করে (Gram-negative), অক্সিজেন-সমৃদ্ধ বাতাস তার ভালো লাগে কিন্তু এর বিপরীত পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে (facultative anaerobic), লম্বা-চওড়া গড়নের (rod-shaped), নিজে সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হলেও অনেক নোংরা রাঘব বোয়ালদের সাথে তার পরিচয় (coliform bacteria)। বাস করে কিছুটা উষ্ণ ও আর্দ্রতাপূর্ণ ‘ইন্সটাগ্রাম’ (lower/large intestine) নামক আকর্ষণীয় এক গ্রামে৷ আকর্ষণীয় বলার কারণ হলো, এখানে ভিটামিনযুক্ত খাবার সংগ্রহের কষ্ট কম। তাই, এখানে একবার মরন কামড়ের মত কোন বাড়িতে আশ্রয় করে নিতে পারলেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম রেলগাড়ীর মত বগি সংযোগ করে যেতে পারে। 

[ব্যাকটেরিয়াগুলি large intestine এর এপিথেলিয়াল কোষের বাহিরের দিকে অবস্থিত মিউকোসাতে বংশবিস্তার করে] 

ইকো তার দু নাতিকে নিয়ে বসে আছে লোহিত এক সাগরের (Blood vein) পাড়ে৷ আসলে গ্রামটায় হরেক ধরণের গোষ্ঠী/ clan (Species) এর বসবাস। ল্যাকবেসি, সাসুকে, বিফিডাম, মিথানো, ব্যাকরো, এনকো, কলোডি, ক্যানডি’সহ রয়েছে ইশেরি নামক ইকোর নিজস্ব ক্ল্যান৷ 

 [Lactobacillus, Salmonella, Bifidobacterium, Methanogens, Bacteroides, Enterococcus, Clostridium, Candida, Escherichia coli

বিভিন্ন ক্ল্যান একই সাথে থাকায় এদের মধ্যে মারামারি লেগেই থাকে৷ এজন্যই অবশ্যি প্রতিটি ক্ল্যানগুলিরও রয়েছে আত্নরক্ষায় নিজস্ব কৌশলগত ব্যবস্থা৷ ল্যাকবেসি ক্ল্যানের সদস্যরা শত্রু দেখলে এক ধরণের বিষ (Bacteriocins) এবং এসিড (Lactic acid) ছুড়ে মারে। এই এসিড এতই শক্তিশালী যে সাসুকে ক্ল্যানের সদস্যরা মারাই পরে৷ আবার, এই সাসুকে (Salmonella) ক্ল্যানের রয়েছে বাসভূমিকে নিজের শরীরের বহিঃআবরণ তৈরী করে অন্যান্য ক্ল্যানের থেকে নিজেকে রক্ষা করা৷

 [Salmonella protect themselves within special membrane-bound compartments, called vacuoles, inside gut epithelial cells.]

ইকোর ক্ল্যানের নাম ইশেরি। এরা সংখ্যায় অন্যান্য ক্ল্যানের থেকে কিছুটা কম। যদিও সংখ্যায় বেশি হলে যুদ্ধে জয়লাভের সম্ভাবনাও থাকে বেশি৷ তাই বলে এদের দুর্বল বলা যাবে না৷ কারণ, এ ক্ল্যানের সদস্যের নির্দিষ্ট কোন প্রতিরক্ষা নেই। কেউ (ETEC) একইসাথে শীতে কার্যকরী বিষ (heat-labile toxin) এবং গরমে কার্যকরী (heat-stable toxin) বিষ উভয়ই ত্যাগ করে৷ কেউ (EHEC/STEC) সিগা-বিষ (Shiga like toxin) ত্যাগ করে যা, এলাকার একটা অংশ পুরোপুরি অকেজো (kidney failure/ haemolytic uraemic syndrome) করে দিতে পারে৷ আবার, কেউ (EIEC) কিছুটা সাসুকে ক্ল্যানের মত বাসভূমিকে বিদীর্ণ করে তার ভিতর ঢুকে পরে এবং বিস্ফোরণ ঘটায়৷ এসবই হলো বিভিন্ন ক্ল্যানের নিজস্বতা।  

মূলত, সমস্যাটা বাঁধে খাবার সংগ্রহ আর নতুন বংশবিস্তারের ফলে নতুন প্রজন্মের জন্যে জায়গা করে দেবার সময় ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে। তাই, বলে কেউ কিন্তু বংশবিস্তার থামিয়ে রাখে নি৷ ফলে বিভিন্ন ক্ল্যানের সদস্যদের মারাও পরে প্রচুর৷ আবার, এসব ক্ল্যানের নিজেদের মধ্যেই আবার কখনো সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ 

এসবের মাঝেও একইসাথে মজার ও হৃদয়বিদারক ঘটনা তখনই ঘটে যখন নিজের ক্ল্যানেরই কেউ বিশ্বাসঘাতকতা (Vaccines) করে৷ ক্ষমতার লোভ হয়ত সকল দেশ, সকল গ্রহ ছাপিয়ে গেছে। সরকারের থেকে সুযোগ সুবিধা পেতে নিজের ক্ল্যানের সদস্যদের ধরিয়ে দেয় এরা। মানবতা বলে যদি কিছু থাকত তাদের! 

এসব সম্পর্কেই দু নাতিকে বোঝাচ্ছে ইকো এক লোহিত সাগরের পাশে বসে৷ ইন্সটাগ্রাম থেকে খানিকটা দূরে এই সুন্দর জায়গাটি৷ দূরে আসবেই বা না কেন? গ্রামে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বেশি, সারাক্ষণ হই-হট্টগোল। কখন সরকারী প্রতিরক্ষা-বাহিনী (Immune cells) এসে বিশৃঙ্খলার দায়ে বিভিন্ন ক্ল্যানের সদস্যকে সমানে ক্রস ফায়ারে (kill/ destroy) দেই সেটা কে জানে! এজন্যই জনপদ থেকে কিছুটা দূরে তারা এসেছে৷ 

ইকোর এক নাতি গল্প শুনছিলো আর পানিতে পা দুলছিলো৷ গল্পটা মাত্র শেষ না হতেই ইকোর সে নাতিটা বললো- “দাদু আমি বড় হয়ে সবচেয়ে বড় যোদ্ধা হবো৷ আমি হবো এ গ্রামের রাজা” বলেই সাগরে দিলো ঝাঁপ৷   বলা নাই কওয়া নাই ঠিক সে সময়েই হঠাৎ এক বিশাল বোমার মত (অ্যান্টিবায়োটিক/ড্রাগ) কি যেন আছড়ে পড়লো লোহিত সাগরের (রক্ত) ভেতর। ভয়ে কুঁচকে  গেলো সে নিজেও। ভেবেছিলো পারমাণবিক-বোমা (Broad-spectrum antibiotic) আজ বুঝি আর রক্ষা নেই৷ কিন্তু, রকেট-বোমা (narrow-spectrum) হওয়ায় তার আগ্রাসীতা  সাগরের তীরে আক্রমণ করে নি। মহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল তার সাগরে ঝাঁপ দেয়া নাতিটা চোখের সামনেই। চোখ জুড়ে কান্না নেমে আসলো তার৷ এভাবেই কি উদীয়মান শক্তি হারিয়ে যাবে! কি জবাব দিবে সে তার পরিবারে ফিরে?  

সে তার নাতিদের অনেক গল্প পূর্বেও বলেছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় এখনও শুনাচ্ছিলো। কিন্তু, বলেনি লোহিত সাগর লোভনীয় হলেও এখানে নামা বারণ৷ যে কেউ চাইলেই এ সাগরে নামতে পারে না৷ যদি বলতো তাহলে আজ আর এই ঘটনা ঘটতো না৷ 

গ্রামে বিশৃঙ্খলা বেশি হলেই সরকার থেকে এরকম আক্রমন চলে৷ কখনো এই বোমাগুলি (ড্রাগ) সরাসরি তাদের গ্রামে (Digestive tract) সরকারের পাঠানো খাবারের সাথেই মিশে চলে আসে৷ এরপর কারো সাথে সেই বোমার স্পর্শ লাগলেই আর নিস্তার নেই৷ ক্ল্যানের সদস্যরা সতর্ক থাকায় মাঝে-মাঝে বেঁচে যায়৷ সে বোমাগুলি লোহিত সাগরে (Blood stream) টেনে নিলে, সাগরের মধ্যে ভেসে বেড়ায়৷ এরপর, সাগর দিয়ে কোথায় কোথায় যায় তার জানা নেই। হয়তবা সাগর দিয়ে অন্য কোন গ্রামে (Different organ/ target area) পৌছায়। আবার, কখনো দেখা যায় শুরুতেই সাগর মাধ্যমেই বোমাগুলি (directly Intravenous injection) ভেসে আসে। কখন কিভাবে এসব আক্রমণ আসবে কেউ বলতে পারে না৷  

তবে, বোমাগুলির বেশ রকমফেরও দেখা যায়। সব বোমা সব ক্ল্যানকে ঘায়েল করতে পারে না৷ অনেক ক্ল্যানই এসব বোমাতে নিজেদের সহনীয় (Antibiotic Resistance) করে ফেলেছে দীর্ঘসময় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে৷ এধরণের যোদ্ধাদের সম্মান দিয়ে বলা হয় “সুপার-বাগ”। 

[The term ‘superbug’ refers to any microorganisms that have become resistant to treatment with common anti-infective agents that were previously effective against them]

আবার, কিছু রোবট-বোমা আছে যা নির্দিষ্ট ক্ল্যানের বসতবাড়ির চারপাশ ঘিরে রাখে এবং ধীরে ধীরে এগুতে থাকে। 

[After a drug is absorbed into the bloodstream, it rapidly circulates through the body. The drug moves from the bloodstream into the body’s tissues. Stay within the blood and the fluid that surrounds cells (interstitial space). Drugs penetrate different tissues at different speeds, depending on the drug’s ability to cross membranes.]

এই বোমাগুলির ভয়ংকারীতা চিন্তা করলেও গা শিউরে ওঠে৷ কোনটি দেহের চামড়া খসিয়ে দেয়, কোনটি আজীবনের জন্যে অক্ষম বানিয়ে দেয়, কোনটি শরীরের শক্তি কেড়ে নেয়।  

[Antibiotics work by disrupting bacterial cells in several ways, such as inhibiting the bacterium’s ability to build its cell wall, blocking its reproduction, or interfering with its ability to store and use energy.]

ইকো যখন এসব চিন্তা করছে তার মাঝেই তার অবুজ আরেক নাতি আবেগপ্রবণ হয়ে সহোদরের খোঁজে সাগরে নামতে পা বাড়াল। এরপর আর কি! যা হবার তাই হলো। অপরাধ সাইরেন বেজে উঠলো৷ আসলে তাদের অনেকটা জেলখানাতেই বসবাস৷ সাথে সাথেই সাগরে নামার পদক্ষেপের অপরাধে NSI বাহিনীর (Immune Cells: neutrophils, eosinophils, basophils, monocytes, T-cells and B-cells) আগমন৷ চারদিক থেকে ঘিরে জেলের মধ্যে পুরে ফেললো (phagocytic engulf)। ধরে ফেললো ইকোর অপর নাতিকেও৷ সবই চোখের সামনেই ঘটছে ইকোর৷ যেন কোন দুঃস্বপ্ন দেখছে সে! কিন্তু, প্রতিরক্ষা বাহিনী এতই শক্তিশালী যে ইকোর কিছুই করার নেই! সে এখন যেটা পারে তা হলো শুধুমাত্র নিজেকে রক্ষা করা৷ প্রতিশোধ নিতে হলেও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে তার। আর, এই NSI বাহিনীর থেকে পালিয়ে বাঁচার কয়েকটা পদ্ধতিই সে রপ্ত করেছে বহুদিন ধরেই। কিন্তু, কোন পদ্ধতি এমুহূর্তে প্রয়োগ করবে বুঝতে পারছে না সে৷ মাথার মধ্যে তার ভাবনার বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হচ্ছে। পদ্ধতিগুলি একটু মনে করার চেষ্ঠা চালাচ্ছে৷ 

একটি হলো- দ্রুতই আশেপাশের কোন গর্ত বা গুহার ভিতর (within cells) লুকিয়ে পড়া (intracellular pathogenesis)। লুকানোর মত জায়গা সব সময় পাওয়া যায় না৷ এর জন্যে অবশ্যি একধরণের এসিড (secreting enzymes) সাথে রাখতে হয় যা ছুড়ে মারলে গর্তে ঢোকার জন্যে সুন্দর সুরঙ্গ (hallow tube) করে দেয়৷ আর, প্রবেশের ফলে NSI-ও খুঁজে পায় না৷ আরেকটি পদ্ধতি হলো- তাদের ছদ্মবেশ ধারণ করা। 

(changing the non-essential epitopes on their surface/ blocking signals/ modulating their cell surfaces/ Capsule Production and Mimicry) 

চেহারা মুখোস পড়ে বদলে ফেললেই NSI-কে সহজে বোকা বানানো যায়৷ অন্যটি হলো- আইন সরাসরি নিজের হাতে তুলে নেয়ার মতো। এর জন্য দরকার হয় কালো-বন্দুক (secreting effector proteins to inhibit/ degrade host immune factors) উচিয়ে ভালো মত শাসিয়ে দেয়া বা কথা না শুনলে দু একটা NSI-এর লাশও ফেলে দেয়া৷ কিন্তু, শেষের এ পদ্ধতিটা ইকোর কাছে কোনভাবেই এ মহূর্তে সম্ভব না৷ সাথে করে বন্দুক নিয়ে আসা হয় নি৷ কল্পনাতে ছদ্মবেশ ধারণ করাকেই বেশি পছন্দ হলো তার। যেই ভাবা সেই কাজ৷ 

NSI-কে ফাঁকি দিয়ে জায়গাটি থেকে কোন রকম সটকে পড়েই প্রচুর দৌড়ানো লেগেছে তাকে। ভয়ে এখনও শরীরটা কাঁপছে৷ এতক্ষণ পর ইকো বুঝতে পারলো তার পিপাসার সাথে পেটে টানও পড়েছে। ক্ষুধা লেগেছে তার৷ ইকো কিংবা বিভিন্ন ক্ল্যানের সদস্যরা স্বাভাবিক জীব নয়৷ হয়ত অন্য কোন গ্রহের কাছে এলিয়েন হবে। সেজন্যই ক্ষুধা শব্দটাও তাদের কাছে আলাদা অর্থ বহন করে৷ 

খাবার গ্রহণের চেয়ে বরং “বাঁচার জন্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ” গ্রহন শব্দটাই বেশি মানানসই হবে৷ মূলত দু’ধরণের ঘটনা তারা ঘটিয়ে থাকে৷ প্রথমত: নিজস্ব খাদ্য উৎপাদন করার ক্ষমতা। দ্বিতীয়ত: বাহির থেকে বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ৷ প্রথম ব্যাপারটি আসলে বিভিন্ন ক্ল্যানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের৷ যেমন: কেউ (Heterotrophic) জৈব কার্বন (যেমন: গ্লুকোজ) গ্রহন করে শক্তি পায়৷ আবার, কেউ (Autotrophic) পৃথিবীর গাছের মতো কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে শর্করার চাহিদা পূরন করে৷ কেউবা (Phototrophic) আলোকে শক্তি হিসাবে গ্রহণ করে, কেউবা (Chemotrophic) শক্তির জন্যে বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ ব্যবহার করে৷ দ্বিতীয় ব্যাপারটি কিছুটা জটিল ধরণের। আসলে মানুষের মতো তাদের জটিল ধরণের পরিপাকতন্ত্র নেই। সে কারণেই পৃথক/ স্বতন্ত্রভাবেই বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান (C, H, O, N, P, S, vitamins, K, Mg, Fe) গ্রহণ করতে হয়৷ এ পদ্ধতিতে- মাঝেমাঝে তারা তাদের আশেপাশে কোন জটিল উপাদান (complex organic molecules) থাকলে একধরণের এসিড (excrete enzymes) ছুড়ে মারে যা জটিল উপাদানকে সহজে গ্রহণীয় উপাদানে (carbohydrates to glucose, proteins to Amino Acids) পরিণত করে ফেলে। যেহেতু, তাদের ভেতরে মানুষের মত জটিল পরিপাক সিস্টেম নাই৷ এরপর সেই সরল লোভনীয় উপাদানের দিকে তাকিয়ে একনাগারে বাতাস টানতে থাকে, মানে ঘ্রাণ (ব্যাপন/ Diffusion mechanism) নেবার মত আরকি। আর তাতেই ক্ষুধার কষ্ট দূর হয়।

[Bacteria rely on diffusion to move molecules into the cell through the cytoplasmic membrane. Sometimes simple diffusion needs assistance from proteins to allow molecules to pass into the cell, a process called facilitated diffusion. Also use another method called active transport: allow particles to pass through the membrane.]

তবে, এরকম দু’ভাবে ক্ষুধা নিবারণ ছাড়াও আরেকটি দুর্লভ প্রদ্ধতি কিন্তু তাদের রয়েছে। ব্যাপারটি একটু দৃষ্টিকটুই মনে হয় ইকোর কাছে৷ ঘ্রাণের মাধ্যমে খাবার গ্রহনের মত মজা নেই৷ প্রথমে খাবারের চারপাশ ঘিরে ফেলো ও খাবার ভিতরে নেবার জন্যে বড় করে “হা” (vacuole) তৈরী করো। ব্যাস এরপর “হা” বন্ধ করে দাও। শক্ত খাবার (phagocytosis), তরল খাবার (pinocytosis) দুটোই এই পদ্ধতিতে (endocytosis) ভেতরে চালান দেয়া হয়।

 ইকো (Chemoheterotrophic) এমুহূর্তে জৈব উপাদান (যেমন: Glucose) গ্রহণ করেই তার ক্ষুধা নিবারণ সেড়ে পেটটা ডলছে৷ হঠাৎ, তার নাতিদের সাথে ঘটে যাওয়া পুরানো ঘটনা মনে পড়ে গেলো৷ না সে আর গ্রামে ফিরে যাবে না৷ কারণ, কি জবাব দেবে সে ফিরে! মনটা খারাপ হয়ে গেলো। খুব একাকী লাগছে৷ হঠাৎ, তার সাথে তার এক পুরানো বন্ধুর দেখা হয়ে গেলো৷ 

শেষ কবে দেখা হয়েছিলো তাও ঠিকভাবে মনে নাই। তবে, সে যে তার কত উপকারী বন্ধু তা আজকে না থেকেও প্রমাণ করে দিয়েছে। এই যে NSI-কে ফাঁকি দিয়ে প্রাণে বাঁচলো এ অবদান সম্পূর্ণ তার। এবন্ধুই ইকোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে এসব উপায় (Genetic variation) শিখিয়ে দিয়েছিলো৷ যা আজ তার প্রাণ বাঁচিয়েছে৷ ব্যাপারটি আসলে কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার এক প্রকার অভিনব উপায় (Mutation and Horizontal gene transfer) বললেই ঠিক হবে। তার গ্রামের অনেক ক্ল্যানের সদস্যরাই এসব পদ্ধতি শিখে নিয়েছে আত্নরক্ষার তাগিদেই। একেক সদস্য একেকভাবে এসব আয়ত্বে নিয়েছে। মোটামুটি বলতে গেলে ৪ ভাবেই প্রশিক্ষণ নেয়া যায়৷ 

প্রথমটি হলো, আহোরন (Transformation) প্রকিয়া। যেখানে, সদস্যরা (bacteria) দামী কোন স্বর্ণ (DNA) চারপাশে পেলেই লুট দেয়৷ এসব স্বর্ণে কখনো অনেক শক্তিশালী ক্ষমতা থাকে৷ দেখা যায় এই স্বর্ণ কোন শক্তিশালী সদস্যের (pathogenic) হতে পারে৷ পরে সেও একই রকম শক্তিশালী হয়ে ওঠে৷  

[Taking up DNA directly from their enviroment and incorporating it into their genomes. This DNA usually comes from dead bacteria lysing (splitting open) and releasing their genetic contents into the surrounding area]

দ্বিতীয়টি হলো, শত্রুর (bacteriophages) থেকে ক্ষমতা বাগিয়ে নেয়া (Transduction)। শত্রুটি সম্পর্কে বলতে গেলে বড় ধরণের জলদস্যু/ pirates বললেই ঠিক হবে। শিয়ালের কাছে মুরগী দেখাশোনার মত। জলদস্যু তার স্বর্ণ অনেক সময় এসব ক্ল্যানের সদস্যের কাছে জমা রাখে সম্পদ বৃদ্ধির জন্যে ব্যাকিং পদ্ধতিতে। মাঝেমাঝে সময় সুযোগ বুঝে নিজের ক্ল্যানের সদস্যদের কিছু চালান করে দেয় এরা। 

তৃতীয়টি হলো, বন্ধুত্বের ভালোবাসার (Conjugation) হাত বাড়ানো। এক বন্ধু তার স্বর্ণ (DNA) থেকে কিছু অংশ গরিব বন্ধুকে দান করে দুজনেই খুশি থাকে৷ 

আবার চাইলে ভ্যাম্পায়ারের সাথেও তুলনা করা যাবে। কারণ, ভ্যাম্পায়ার কাউকে কামড় দিয়ে ভ্যাম্পায়ার বানিয়ে ফেলে৷ বিভিন্ন ক্ল্যানের অনেক হিংসাত্মক সদস্যরাই এমনটা মনে করে। 

চতুর্থটি হলো, সুফল ভাগ্যের পরিণয় (Transposable elements)। অনেক সময় স্বর্ণই  লাফিয়ে কারো উপর পড়ে যায়। কখনো কেউ এভাবেই বোমা (antibiotic) থেকে বাঁচার ক্ষমতা (antibiotic resistance) অর্জন করে ফেলে৷ 

[DNA “jump” from one place to another within a genome, cutting and pasting themselves or inserting copies of themselves in new spots.]

তবে, ঘটনা যাই হোক ইকোর কাছে এভাবে বাঁচতে পারাটা বেশ আনন্দজনকই লেগেছে৷ তার বন্ধুকে অনেকেই খারাপ বলতো সেকারণেই প্রথম পরিচয়ে সে তার থেকে কোন প্রশিক্ষণ নিতে চাই নি। 

ইকো তাকে হয়ত সেরকম কিছু দিতে পারে নি। কিন্তু, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। সেটাই বা কম কি!  

ইকোর নাতি হারানোর গল্প শুনে তার বন্ধু খুব কষ্ট পেলো। আবার, সে নাকি বাড়ি ফিরে যাবে না। এভাবে, একা একা কতদিন!  এবারও সে যাবার আগে ইকোকে একটা পরামর্শ দিয়ে গেলো। যাতে তার আর একা না থাকা লাগে কষ্টটা কিছু হলেও কমে৷ সেটা অবশ্যি ইকো নিজেও জানতো। অনেকে হয়ত সেটাকে ‘shadow clone’ (Reproduction) বলে। সহজে বললে দাড়ায়, নিজেকে দুটো আত্না (binary fission) বানিয়ে ফেলো৷ তাতে গল্প করার জন্যে হলেও কাউকে পাওয়া গেল৷ কিছুক্ষণ আগে খাবার পর ইকোর মনটা কিছুটা ভালো হওয়ায় আইডিয়াটা তারও মনে ধরেছে বেশ। যেই ভাবনা সেই কাজ৷ 

নিজেকে হবহু দুটো আত্না বানানো বেশ সহজ এবং কম সময়ের ব্যাপার৷ সম্পদ গুলিকে দু’ভাগ করো এবং দেহটাকে সমান দু’ভাগে ভাগ করে দাও ব্যস৷ 

[During binary fission, the chromosome copies itself, forming two genetically identical copies. Then, the cell enlarges and divides into two new daughter cells. The two daughter cells are identical to the parent cell.]

ইকোর গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু, তাতে কিছু একটা অপূর্ণ রয়ে যায়। কি সেটা? অবশ্যই সেটা হবে দূরে কোথাও ভ্রমণের ব্যাপারটা। যে ভ্রমণ পদ্ধতি সম্পর্কে আমাদের এখনও অজানা রয়ে গেছে৷  কিন্তু, ইকো কি এখন আছে? না, সে নাই তার বদলে রয়ে গেছে তারই দেহের দুই আত্না৷ বলতে গেলে এ গ্রহে তারা নতুন সদ্য জাত। শুরু হবে তাদের নতুন আরেক জীবনের গল্প। 

অবশ্যি ভ্রমণ করা বড্ড কঠিন কাজ৷ এর জন্যে দরকার অর্থ, ক্ষমতা (নিজেকে কঠিন পরিবেশে বাঁচিয়ে রাখা)। সহজভাবে বললে, যেহেতু তারা অনেকটা জেলখানাতে বন্ধি জীবন ধারণ করে৷ সে কারণে সরকারের আয়ত্ত্বধীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (immune system) ফাঁকি দিয়েই লোহিত সাগরে (blood) যাত্রা করতে হবে। কতদিন ভয়ংকর সাগরে টিকে থাকতে হবে (Bacteremia/ Septicemia) তা কে জানে৷ এরপর যে দেশে (another organ) গিয়ে পৌছায়! 

এভাবেই, না হয় অণুজীবের গল্পটি শেষ হলো৷ কিন্তু, কখনো ভেবেছেন আমরা যদি অণুজীব হিসাবে বেঁচে থাকতাম কারো অভ্যন্তরে তাহলে কেমন হতো জীবনটা??  

তাদের কাছে হয়তো আমরাও এলিয়েন হবো। কিন্তু, তারা আমাদের দেখতে পায় না সেভাবে৷

তথ্যসূত্র:

১. https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3279776/#!po=5.50000 

২.  https://microbewiki.kenyon.edu/index.php/Large_Intestine 

৩. https://www.frontiersin.org/articles/10.3389/fmicb.2019.00057/

৪.  https://www.nih.gov/news-events/news-releases/nih-scientists-describe-how-salmonella-bacteria-spread-humans 

৫. https://www.merckmanuals.com/home/drugs/administration-and-kinetics-of-drugs/drug-distribution 

৬. https://badgut.org/information-centre/a-z-digestive-topics/all-about-antibiotics/ 

৭. https://www.immunology.org/public-information/bitesized-immunology/pathogens-and-disease/ 

৮. https://bio.libretexts.org/Bookshelves/Microbiology/Book%3A_Microbiology_(Boundless)/14%3A_Pathogenicity/14.5%3A_Surviving_Within_the_Host_and_Exiting_the_Host/14.5B%3A_Extracellular_Immune_Avoidance 

৯. https://asm.org/Articles/2018/December/Microbial-Ninja-Warriors-Bacterial-Immune-Evasion 

১০. https://www.medicalnewstoday.com/articles/157973#feeding 

১১. https://sciencing.com/bacteria-feed-4573997.html 

১২. https://bio.libretexts.org/Bookshelves/Microbiology/Book%3A_Microbiology_(Bruslind)/11%3A_Microbial_Nutrition

১৩. https://www.quora.com/How-do-bacteria-consume-food

১৪. https://www.khanacademy.org/science/ap-biology/gene-expression-and-regulation/mutations-ap/a/genetic-variation-in-prokaryotes 

১৫. https://flexbooks.ck12.org/cbook/ck-12-middle-school-life-science-2.0/section/5.4/primary/lesson/bacteria-reproduction-ms-ls 

১৬. https://www.healthline.com/health/

Loading...
ছড়িয়ে দেয়ার লিঙ্ক: https://bigganblog.org/2021/05/ইকোর-বেঁচে-থাকার-গল্প/

এফ, এম, আশিক মাহমুদ

আমি বর্তমানে 'নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়' এ 'মাইক্রোবায়োলজী' বিভাগের স্নাতকোত্তর ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত। স্নাতকও একই স্থান থেকে সম্পন্ন করেছি। ইতোপূর্বে, অমর একুশে বইমেলা-২০২০ এ আমার প্রথম বই "ব্যাকটেরিয়ার রাজত্ব" প্রকাশিত হয়েছে৷ বর্তমানে অণুজীববিজ্ঞানের একজন উৎসুক ছাত্র এটাই আমার বড় পরিচয়। নতুন নতুন অবাক করা তথ্য জানতে ভালো লাগে।

অন্যান্য লেখা | অন্তর্জাল ঠিকানা
4.7 3 ভোট
Article Rating
আলোচনার গ্রাহক হতে চান?
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

4 Comments
পুরানো
নতুন সবচেয়ে বেশি ভোট
লেখার মাঝে মতামত
সকল মন্তব্য