দিতার ঘড়ি

cove_of_ditar_ghori
পাঠসংখ্যা: 👁️ 171

দিতার ঘড়ি একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। এর লেখক ড. দীপেন ভট্টাচার্য । সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত এ কল্পকাহিনিটির অন্যতম উপজীব্য বিষয়বস্তু হচ্ছে সময়। সময় কি? এ প্রশ্ন তুললেই আমাদের মনে পড়ে ঘড়ির কথা। ঘড়ির কাঁটাটি নির্দিষ্ট গতিতে ঘুরছে আর কাঁটার অতিক্রান্ত দূরত্ব থেকে সময়কে মাপছি। সময় আমাদের জ্ঞান চর্চা, জীবন নির্বাহের সমগ্র স্তরে ও ক্রমবিকাশে বিশাল প্রভাব রেখেছে। আর সময় সম্পর্কে ধারণা লাভে ও আকর্ষণ সৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় প্রভাব রেখেছে পরিবর্তনশীল প্রকৃতি। ঘড়ি যদি বন্ধ হয়ে যায়? কেমন হবে যদি পৃথিবীকে সময়হীন করে রাখা যায়? সময়ের ধারায় বিঘ্ন হলে কি ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার অবতারণা হতে পরে? সেই অবস্থায় ঘড়ি কী দেশ-কাল কে কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারে?

কল্পকাহিনিটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র ঘড়িনির্মাতা অসিতোপল, তাঁর মেয়ে দিতা, ক্রান্তিক, দার্শনিক মৈনাক, তাঁর স্ত্রী আদ্রিকা, আর কাহিনির প্রধান চরিত্র ত.-যাকে ঘিরে গল্পটি এগিয়েছে।কোন এক অজানা সময়ে চিতা সামরিক বাহিনী দখল করে রেখেছিলো সমতল ভুমি। তাদের যুদ্ধ ছিলো সমতলের সময় নিরূপণের দর্শনের বিরুদ্ধে, ঘড়ি নির্মাণের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযান ছিলো সময়ের গঠন অক্ষুণ্ণ রাখতে। চিতাদের দর্শন ছিলো- সময়প্রবাহের জ্ঞান অজ্ঞতার নির্দোষ আনন্দকে ধ্বংস করে দেয়। প্রথমে চিতারা নিষিদ্ধ করেছিলো সেকেন্ডের কাটার ব্যবহার, তারপর মিনিটের কাটা, অবশেষে ঘন্টার কাটার ব্যবহার নিষিদ্ধ হলো।তাদের নির্মমতায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলো সমতল। সেই সমতলে অতীতে বাস করতেন মনীষী বিজ্ঞানীরা, যাদের যান্ত্রিক বলে আখ্যায়িত করা হতো। এই ভয়াবহ সংকট থেকে উদ্ধারের জন্য যান্ত্রিকেরা অতীতেই এক পথের সন্ধান দিয়েছিলেন। সমতলকে জয়ী করতে সেই সমাধানের পথে ভ্রমণ করে ত., যার সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে এক মহাবিশ্ব বিভক্ত হয়ে যেতে পারে অনুরূপ কতিপয় মহাবিশ্বে, তাই বিভিন্ন মহাবিশ্বে সমতলের কাহিনির পরিণতিও হয়েছে ভিন্ন।
সময়, কণা, তরঙ্গ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা থাকলে বইটি পাঠককে করে তুলবে অনেক বেশি কেৌতূহলী।
বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের প্রথমা প্রকাশন; জুলাই, ২০১২। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ২৮০ টাকা।

বইটির লেখক দীপেন ভট্টাচার্য বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় (রিভারসাইড) পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক। তিনি মহাশূণ্য থেকে আসা গামা রশ্মি পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে বায়ুমন্ডলের ওপরে বেলুনবাহিত ডিটেক্টর ওঠানোর অভিযানগুলোর সঙ্গে তিনি যুক্ত। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট ইনষ্টিটিউটের গবেষক ছিলেন। পত্রপত্রিকায় ও ব্লগে বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করেন। নিওলিথ স্বপ্ন ও অভিজিৎ নক্ষত্রের আলো নামে তাঁর দুটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী এর আগে প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি নাইজেল হিউজ রচিত মনীষার পাথরের বন শীর্ষক বইয়ের অনুবাদ করেছেন তিনি, যা কোলকাতার মনফকিরা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

দীপেন ভট্টাচার্য বাংলাদেশের বিজ্ঞান আন্দোলনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ১৯৭৫ সালে তিনি বন্ধুদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেন বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র। প্রকল্পভিত্তিক বিজ্ঞানচর্চার সীমিত গন্ডি ভেঙ্গে সামগ্রিক বিজ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করা এবং বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে সহজভাবে গণমানুষের কাছে পৌছে দেয়ার সংকল্প নিয়ে যাত্রা শুরু করে অনুসন্ধিৎসু চক্র। নানা প্রতিকূলতা ও সফল কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে অসংখ্য মানুষের ভালবাসা ও আস্থাধন্য হয়ে এরই মধ্যে সংগঠনটি পেরিয়েছে তিন যুগ। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় দেশের নানা স্থানে সংগঠনটির উদ্দ্যোগ বিস্তৃত হয়েছে।

ড.দীপেন ভট্টাচার্যের লেখার কয়েকটি লিঙ্ক দেয়া হলো:
http://mukto-mona.com/bangla_blog/?author=111
http://prothom-aloblog.com/posts/78/151282/
http://www.bigganblog.org/?author=30

বিজ্ঞাপন