আগামীর চিকিৎসার অস্ত্র: স্টেম সেল

পাঠসংখ্যা: 👁️ 539

অনেক সময় সায়েন্স ফিকশনের মুভিগুলিতে দেখা যায়- কিছু মানুষেরা সুনির্দিষ্ট ক্ষমতার (স্পেশাল পাওয়ার) অধিকারী থাকে৷ বাচ্চাদের অতি প্রিয় Ben-10 কার্টুনের কথায় যদি ধরি সেখানে নায়ক বেনের হাতের ঘড়ির কারণে সে চাইলেই কোন অ্যালিয়েনে রূপান্তরিত হতে পারে৷ আবার, টিন টাইটানস কার্টুনে দেখা যায় বিস্ট বালক (Beast boy) চাইলেই যে কোন প্রাণীর আকার ধারণ করতে পারে। Marvel এর অতিপরিচিত X-men মুভির কথাতে যদি আসি সেখানেও অধিকাংশ চরিত্রের ক্ষেত্রে এরকমটা লক্ষ করা যায়। যেমন: রেবেন নামক মেয়ে চাইলেই যে কোন রুপ ধারণ করতে পারে আবার একই মুভির নায়ক লোগানের রয়েছে  আক্রান্ত হলে দ্রুত সেড়ে যাওয়া (healing power) ক্ষমতা। আবার, এ মুভিতে কাউকে আকাশে উড়বার ক্ষমতায়ও দেখা যায়৷ একইভাবে, Deadpool মুভির নায়কের অনেকগুলি ক্ষমতার মধ্যে একটি হলো কোন অঙ্গের বিনাশে নতুন করে সে অঙ্গ তৈরীর ক্ষমতা। অনেক মুভি কিংবা কমিক্সের কার্টুনেই এসব সুপার হিরো চরিত্র আমাদের কাছে অতিপরিচিত। বাস্তব জীবনও কিন্তু এসব অলীক স্বপ্ন কিংবা কল্পনার বাহিরে নয়৷ আমাদের নিজেদের ক্ষেত্রেও অনেক সময় এরকমটা মনে হওয়া স্বাভাবিক৷ যেমন: কখনো মনে হতেই পারে – “ইশ! আমি যদি আকাশে উড়তে পারতাম” “আমি যদি চাইলেই অদৃশ্য হয়ে যেতে পারতাম! ” কিংবা “আমি যদি অতীতে কিংবা ভবিষ্যতে যেতে পারতাম” ইত্যাদি ইত্যাদি। আর মানুষের এসব কল্পনার রূপটাই কিন্তু ফিকশান মুভিগুলিতে বাস্তব রূপে দেখা যায়।  

বাস্তবে পুরোপুরি এরকমটা সম্ভব না হলেও এর কিছুটা আঁচ আমরা মানবদেহের “স্টেম সেল/ স্টেম-কোষ / মাতৃকোষ” নামক এক বিশেষ প্রকৃতির কোষের এর মধ্যে লক্ষ্য করতে পারি। অদূর ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যানে স্টেম-কোষের মাধ্যমে হয়ত মানবসভ্যতা কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে তা বলা দুরূহ৷ 

স্টেম-কোষ কি? 

এটি হলো বিশেষ ধরণের মানব কোষ, যা বিভিন্ন ধরণের কোষের বিকাশে সক্ষম। যার ব্যপ্তি পেশী কোষ থেকে মস্তিষ্কের কোষ পর্যন্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, তারা ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যুগুলিও ঠিক করতে পারে। গবেষকরা বিশ্বাস করেন যে, স্টেম-কোষ ভিত্তিক থেরাপি একদিন অসাড়তা (paralysis) এবং স্মৃতিশক্তি লোপ (Alzheimer) রোগের মতো গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্টেম কোষ সম্পর্কে জানার পর থেকেই সাধারণ মানুষ এবং বিজ্ঞানী উভয়ের মাঝেই নানা আগ্রহ এবং বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও স্টেম কোষগুলির মূল বৈশিষ্ট্য সবাই বোঝে না। তবে এভাবে বলা যায় যে, একের অধিক প্রকারের কোষ এই “স্টেম কোষ” বিভাগের মধ্যে পড়ে। এই স্টেম-কোষ আমাদের “সঞ্জীবনী বা পুনরুৎপাদনশীল” চিকিৎসা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয় বলেই একে নিয়ে জল্পনা-কল্পনারও নেই কোন শেষ। 

স্টেম-কোষ সম্পর্কে বিস্ময়কর কিছু তথ্য:

‘রোগ এবং আঘাতের’ বিরুদ্ধে লড়াইকারী দেহের সবচেয়ে অলৌকিক-কোষ সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনেকেরই রয়েছে৷ আমাদের শৈশবকালের কথায় যদি ধরি, খেলতে গিয়ে অনেক সময় কেটে যাওয়া কিংবা আঘাত লাগার মত ব্যাপার অহরহ ঘটতো৷ দুষ্টু বাচ্চার ক্ষেত্রে এর মাত্রা হয়ত আরো বেশি হবে৷ কিন্তু, এর কিছুদিন পরেই আশ্চর্যজনক ভাবেই দেহ নিজেকে পুনরুদ্ধার করে ফেলতো। যেমন: X-men মুভির নায়ক লোগানের সাথে সাথেই কাটা-ছেঁড়া ঠিক হয়ে যায়। তবে, আমাদের এত দ্রুত না হলেও ধীরে ধীরে অনেকটাই আগের মত হয়ে যায়। কিন্তু, কিভাবে এই সেড়ে যাওয়া প্রক্রিয়াটি ঘটতো তা কি কখনো মনে হয়েছে? এর পিছের দৃশ্যটা কিন্তু বেশ অদ্ভুত। সৌভাগ্যবশত, আমাদের দেহ মূলত স্টেম-কোষ গুলির সাহায্য নিয়েই এই ক্ষতগুলি সাড়াতে সক্ষমতা অর্জন করে থাকে৷ আর এই স্টেম-কোষগুলি আমাদের দেহে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান। এই কোষের অদ্ভুত কিছু ব্যাপার জেনে নেয়া যাক

১. গবেষক এবং চিকিৎসকেরা আশা করছেন স্টেম-কোষ নিয়ে গবেষণার ফলে, ‘কিভাবে জীবিত জিনিসগুলি কাজ করে?‘ এবং ‘রোগের সময় বিভিন্ন ধরণের কোষে কী ঘটে?’ তার মূল বায়োলজি বুঝতে আমাদের সহায়তা করবে। অর্থাৎ, কিভাবে দেহে রোগ তৈরী হয় তা বোঝা সহজ হবে। যেমন: হাড়, হৃদপেশী, স্নায়ু কিংবা অন্যান্য অঙ্গ এবং টিস্যুর কোষগুলিতে স্টেম-কোষের রূপান্তর হবার প্রক্রিয়াটি দেখেই কীভাবে রোগ এবং নানা অবস্থার সৃষ্টি হয় তা আরও ভালভাবে বুঝতে পারা যাবে। 

২. স্টেম-কোষগুলি সমদর্শী (নিরপেক্ষ) কোষ: এই কোষগুলি সমদর্শী।  যার অর্থ- তারা শরীরের প্রয়োজনে অন্য যে কোন ধরণের কোষে পরিণত হতে পারে। যা এ কোষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। একোষগুলি বিভিন্ন ধরণের পরিণত কোষে পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয়ে থাকে৷ যেমন: তা হতে পারে হৃদপিণ্ডের পেশী কোষ কিংবা অগ্নাশয় কোষ যা ইনসুলিন তৈরী করে। টিন-টাইটানস কার্টুনের বিস্ট বালকের মত সুবিধামত যে কোন অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়া। জন্মের সময় দেহে প্রচুর পরিমাণে থাকলেও বয়সের সাথে সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। এই কোষগুলি অনেক দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতি এবং রোগের ক্ষেত্রে শরীরের সুস্থতায় সহায়তা করে।

৩. স্টেম-কোষগুলি অনেক অনারোগ্যের উপশম করতে সক্ষম: পুনরুত্থিত ওষুধ হিসাবে অর্থাৎ রোগাক্রান্ত কোষের প্রতিস্থাপনে সুস্থ কোষের সৃষ্টিতে অবদান রাখে। স্টেম-কোষগুলির মানুষের কোন নির্দিষ্ট রোগাক্রান্ত কোষ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর পুনরায় জন্মানো এবং মেরামতে ভূমিকা রয়েছে৷ 

স্টেম-কোষ থেরাপির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত/ আঘাতপ্রাপ্ত- মেরুদণ্ড, ডায়াবেটিস (টাইপ-১), পার্কিনসন রোগ (স্নায়বিক জটিলতা), পেশীক্ষয়মূলক পার্শ্বিক কাঠিন্য রোগ (amyotrophic lateral sclerosis), আলঝেইমার রোগ (স্নায়বিক রোগ), হৃদরোগ, স্ট্রোক, পুড়ে যাওয়া, ক্যান্সার, অস্টিওআর্থ্রাইটিস (হাড়ের বাত) এবং রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস (সন্ধিবাত) ইত্যাদির চিকিৎসায় সুফল পাওয়া যায়৷ এছাড়াও, স্টেম-কোষগুলির অঙ্গ-প্রতিস্থাপন (transplant) এবং পুনরুৎপাদনশীল ওষুধ হিসাবে নতুন টিস্যুতে পরিণত হবার মতো সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে, এ বিষয়গুলিতে আরো গবেষণা প্রয়োজন৷ 

৪. সুরক্ষা এবং কার্যকারীতার জন্যে নতুন ওষুধ তৈরীর দ্বার সৃষ্টি: স্টেম-কোষ গবেষণার নতুন ক্ষেত্রটির মধ্যে রয়েছে, নতুন ওষুধ তৈরীতে জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার করে স্টেম-কোষের কোনো সুনির্দিষ্ট টিস্যুর কোষে পরিণত হবার ক্ষমতা পরীক্ষার সুযোগ৷ যেমন: নতুন ওষুধের যাচাই হতে পারে স্নায়ুরোগের ক্ষেত্রে স্নায়ুকোষের তৈরী হচ্ছে কিনা তার পরীক্ষা৷ পাশাপাশি নতুন ওষুধ প্রয়োগে কোষীয় কি প্রভাব বিদ্যমান কিংবা কোষসমূহ ক্ষতিগ্রস্ততার সম্মুখীন হচ্ছে কিনা তাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

৫. স্টেম-কোষগুলি ভ্রূণ ছাড়াও বিভিন্ন উৎস থেকে তৈরী হয়: এ কোষগুলি ভ্রূণ (এমব্রায়ো) ছাড়াও দেহের পেশী কোষ, নানা অঙ্গ, অস্থি মজ্জা এমনকি চর্বি থেকেও তৈরী হতে পারে৷ যার ফলে গবেষণার ক্ষেত্রে এর সহজলভ্যতা রয়েছে৷ যদি আমরা স্টেম-কোষের বিকাশ ভালোভাবে বুঝতে পারি তবে এই প্রক্রিয়াটির প্রতিলিপির মাধ্যমে নতুন কোষ, টিস্যু এবং অঙ্গ তৈরি করতে পারবো৷ পাশাপাশি এসব অঙ্গ কিভাবে কাজ করে এবং ওষুধের দ্বারা প্রভাবিত হয় তা নির্ধারণেও সক্ষম হবো৷

 স্টেম-কোষের কিছু ধরণ 

বেশিভাগ কোষই একটি সুনির্দিষ্ট কাজ করে থাকে৷ যেমন: লোহিত রক্ত কণিকা দেহে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং পাশাপাশি বিভাজনক্ষম নয়৷ কিন্তু, স্টেম-কোষগুলির এমন বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যার ফলে তারা বিভাজনের ফলে নতুন কোষ তৈরী করতে পারে। যা আমাদের দেহ গঠনে অবদান রাখে৷ তবে, সকল স্টেম-কোষ একই রকমের নয়৷ স্বতন্ত্র কাজের ভিত্তিতে স্টেম-কোষগুলির রয়েছে বিভিন্ন ভাগ–

   ক) ভ্রূণীয় (আদি) স্টেম-কোষ :– এ কোষগুলি মানুষের ভ্রূণ থেকে পাওয়া যায় যা ৩-৪ দিন বয়সের৷ এ স্টেম-কোষগুলি ভ্রণের জন্যে নতুন কোষ সরবরাহ করে এবং বাচ্চার বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে৷ আবার, মাতৃগর্ভের পরিবর্তে পরীক্ষাগারে (ইন-ভিট্রো) একটি ভ্রূণের নিষেক চলাকালীন সময়ে একোষগুলি তৈরী করা যায়। এ কোষগুলিকে টটিপোটেন্ট/ প্লুরিপোটেন্ট (totipotent/ pluripotent) স্টেম-কোষও বলা হয়৷ যার অর্থ- তারা দেহের যে কোন কোষে পরিবর্তিত হতে পারে৷ অনেকটা X-men মুভির রেবেনের মতো যেকোন মানুষের রূপ ধারণ করার ক্ষমতার ন্যায় একোষগুলির যেকোন কোষে রূপান্তরিত হবার মতো ব্যাপার। আর, বিজ্ঞানীরা এ ভ্রূণীয় স্টেম-কোষ সম্পর্কে আলোড়িত হবার কারণ হলো- মানব বিকাশের সময় এটি প্রকৃতিগতভাবেই  দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও কোষ তৈরী করে থাকে৷ উদাহরণস্বরূপ: রক্তের স্টেম-কোষ কেবল রক্ত ​​তৈরি করতে পারে, তবে একটি ভ্রূণীয় স্টেম-কোষ রক্ত, হাড়, ত্বক, মস্তিষ্ক ইত্যাদি তৈরি করতে পারে। এমনকি রোগাক্রান্ত অঙ্গগুলি ঠিক করার বৃহত্তর প্রাকৃতিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। 

  খ)  অ-ভ্রূণীয় (প্রাপ্ত বয়স্ক) স্টেম-কোষ :– এ স্টেম-কোষের নামে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। কেননা, এ কোষগুলি সদ্য শিশু এবং ছোট বাচ্চাদের মাঝেও পাওয়া যায়৷ এ প্রাপ্তবয়স্ক (adult) স্টেম-কোষগুলি দেহের পরিণত(/ উন্নত) অঙ্গ এবং কোষ থেকে আসে। আমাদের দেহ ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যুগুলিকে মেরামত ও প্রতিস্থাপনে এধরণের স্টেম কোষগুলিকে ব্যবহার করে৷ তবে, এ স্টেম-কোষগুলিকে মাল্টিপোটেন্ট কোষ বলা যায়৷ যার অর্থ- তারা দেহের সুনির্দিষ্ট কিছু (সকল নয়) কোষে পরিবর্তিত হতে পারে। উৎপত্তি স্থলের উপর ভিত্তি করে এরমধ্যে কয়েক ধরণের স্টেম-কোষে রয়েছে: হিমাটোপয়েটিক স্টেম-কোষ, মেসেনকাইমাল স্টেম-কোষ, স্নায়বিক স্টেম-কোষ এবং ত্বকীয় স্টেম-কোষ। উদাহরণস্বরূপ: হিমাটোপয়েটিক (রক্তের) স্টেম-কোষসমূহ অস্থিমজ্জাতে পাওয়া যায়৷ যা লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অন্যান্য রক্ত কোষ তৈরী করে থাকে৷ আবার, লিভারের থেকে প্রাপ্ত স্টেম-কোষগুলি শুধু লিভারের কোষ তৈরী করে, ত্বকের স্টেম-কোষগুলি দেহের ত্বক এবং চুলের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ধরণের কোষ তৈরী করে৷ অনেকটা Deadpool মুভির নায়কের যেভাবে হাত বা পা কেটে গেলে সেখান থেকে পুনরায় আবার নতুন একই অঙ্গের তৈরী হয়। কয়েক দশক ধরে, ডাক্তারেরা কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের চিকিৎসায় হিমাটোপয়েটিক স্টেম-কোষের প্রতিস্থাপন করে আসছে যা অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপন (bone marrow transplants) নামেও পরিচিত। 

 গ) প্রভাবিত প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষ (iPSCs): সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা, ল্যাবরেটরিতে প্রাপ্ত বয়স্ক কোন কোষকে প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষেগুলিতে পরিণত করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এই নতুন ধরণের কোষগুলিকেই প্রভাবিত/ প্ররোচিত প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষ (induced pluripotent stem cells- iPSCs) বলা হয়। অর্থাৎ, ত্বক কিংবা রক্ত কণিকার মতো সাধারণ প্রাপ্ত বয়স্ক কোন কোষ নিয়ে সেগুলিকে ল্যাবরেটরিতে পুনরায় প্রোগ্রাম (জিনগত কার্যক্রমের পরিবর্তন) করে স্টেম-কোষে পরিণত করা হয়৷ এ কোষগুলি দেহের কোন অঙ্গ বা টিস্যুর জন্যে সুনির্দিষ্ট যে কোন কোষ তৈরী করতে পারে। যা ভ্রূণীয় স্টেম-কোষের অনুরূপ৷ অনেকটা মুভির মিউটেড চরিত্রগুলির ন্যায় এগুলি কৃত্রিমভাবে তৈরী করা হয়। কিছু জিনগত পরিবর্তনের (কিছু জিনকে চালু/ কিছু জিনকে বন্ধ) মাধ্যমে দেহের কোষকে সংকেত দেয়া হয় বিশেষিত কোষ হতে। আবার, এধরণের কোষ তৈরীতে বিজ্ঞানীরা কখনো সংকেতগুলি পুনরায় প্রবর্তন করেন যা সাধারণত স্টেম-কোষকে প্রাথমিক ভ্রূণের স্টেম-কোষ তৈরীতে প্রভাবিত করে। 

এই যুগান্তকারী স্টেম-কোষের মাধ্যমে কীভাবে রোগের বিকাশ ঘটে তা বোঝার ইতিহাস সহজ হবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, কোনও রোগের চিকিৎসা করার জন্য কারও নিজের ত্বক থেকে এ স্টেম-কোষ তৈরি করা যেতে পারে। যা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ফলে রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থার ‘প্রত্যাখ্যান’ (rejecting) সমস্যা রোধ করতে সহায়তা করবে।

 ঘ)  তন্ত্রীয় (Cord) রক্তের স্টেম-কোষ এবং অ্যামনিয়োটিক তরলের স্টেম-কোষ : সন্তান প্রসবের পর নাভিরজ্জু (/নাড়ি/umbilical cord) থেকে তন্ত্রীয় রক্তের স্টেম-কোষগুলি সংগ্রহ করা যায়৷ ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সেগুলিকে কোষ ব্যাংকে হিমায়িত করা যায়। যা শিশুদের রক্তের ক্যান্সার, যেমন: লিউকেমিয়া এবং কিছু জিনগত রক্তজনিত রোগের  চিকিৎসার জন্য সফলভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

মাতৃগর্ভে বিকাশমান শিশুকে ঘিরে অ্যামনিয়োটিক তরলেও কিছু স্টেম-কোষ রয়েছে। তবে, এধরণের স্টেম-কোষের সম্ভাব্য ব্যবহারগুলি বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। 

স্টেম-কোষের কিছু অতীত ইতিহাস:

উনবিংশ শতাব্দীতে, ভ্রূণের-বিকাশ নিয়ে কাজ করা গবেষকরা প্রথমে স্টেম-কোষের ধারণাটি প্রস্তাব করেছিলেন। তারা জীবতত্ত্বিক (/ জৈবিক) প্রক্রিয়ার প্রারম্ভিক বিন্দু হিসাবেই এই জাতীয় কোষ আবিষ্কার করেন। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে স্টেম-কোষগুলিকে বিভিন্ন ধরণের রক্তকণিকার উৎস হিসাবে দেখা যেতে শুরু করে। তবুও, এই সময়ের মধ্যে রক্তের স্টেম-কোষগুলি দৃষ্টিগোচর করা যায়নি, তাই অনেকে তাদের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন। যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্ঞানের পরিসীমা আরো বৃদ্ধি পায়, তখন অস্থিমজ্জার পুনরুদ্ধার ফ্যাক্টরের (দায়ী) শনাক্তের কারণ হিসাবে ধারণা করা হয় একোষগুলিই রক্ত ​​সিস্টেমকে পুনরুত্থানে সহায়তা করেছিলো। হিমাটোলজিস্ট (রক্ত সম্পর্কিত গবেষক) উইলিয়াম ব্লুম এবং লিওন জ্যাকবসন প্রবাহিত রক্তের উপর রেডিয়েশনের প্রভাব সম্পর্কে তাদের গবেষণার অংশ হিসাবে এটি আবিষ্কার করেছিলেন। যেটি ছিলো তাদের প্রথম পারমানবিক-বোমা তৈরির জন্য ম্যানহাটন প্রকল্পের একটি অংশ। এই পর্যবেক্ষণই রক্তের-ক্যান্সার (লিউকেমিয়া) চিকিৎসা  ‘বিএমটি’ (Bone Marrow Transplant) পদ্ধতি বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। ১৯৬০-এর দশকেই বিএমটি পদ্ধতি অস্থিমজ্জার মধ্যে স্টেম-কোষের সনাক্তকরণ এবং বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করার পথ দেখিয়েছিলো। ১৯৭৮ সালে মানুষের তন্ত্রীয় রক্তে (cord/ প্লাসেন্টার রক্ত) স্টেম-কোষের   উপস্থিতি আবিষ্কৃত হয়। এর তিন বছর পরে বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ব্লাস্টোসিস্ট থেকে প্রথম ভ্রূণীয় স্টেম-কোষ তৈরীতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এক নজরে স্টেম-কোষ গবেষণায়- সময়রেখার ইতিহাস

উনিশ শতক থেকেই বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা রোগ নিরাময়ের সন্ধানে স্টেম-কোষ নিয়ে গবেষণা করেছেন। যার ব্যাপ্তি ছিলো উদ্ভিদ থেকে শুরু করে ইঁদুর, মানুষ পর্যন্ত৷ 

১৮৬৮ :— “স্টেম-কোষ” শব্দটি বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে প্রকাশিত হয়, যখন জার্মান জীববিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল শব্দটি ব্যবহার করে ‘নিষিক্ত ডিম’ সম্পর্কে বোঝাতে। যেটি জীব হয়ে যায় এবং সেই এককোষী জীবকেও বর্ণনা করে যা- ইতিহাসে সবার কাছে জীবনের সূচনার পূর্বপুরুষ কোষ হিসাবে পরিচিত।

১৯৫৭ :— সিয়াটলে কর্মরত চিকিৎসাবিজ্ঞানী ই. ডোনাল থমাস প্রথম মানব অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। (পরে তিনি ১৯৯০ সালে এই কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার পান)

২রা ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ :— দুজন কানাডিয়ান বিজ্ঞানী ইঁদুরের অস্থিমজ্জা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় লক্ষ্য করেন বিভিন্ন রক্তকণিকা একটি বিশেষ শ্রেণীর কোষ থেকে আসে। যা রক্তের স্টেম-কোষের প্রথম প্রমাণগুলির মধ্যে একটি।

১৯৮১ :— দুজন বিজ্ঞানী পৃথকভাবে ইঁদুরের ভ্রূণ থেকে প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষ আলাদা করেন। যা ছিলো পৃথককৃত প্রথম ভ্রূণীয় স্টেম-কোষ।

৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ :— ওয়াশিংটনের সিয়াটেলের অ্যান্ড্রু লাসার এবং হ্যারল্ড ওয়েইনট্রাব একটি পরীক্ষায় একটি একক জিন (MyoD) ব্যবহার করে রডেন্ট ফাইব্রোব্লাস্টস (এক ধরণের সংযোজক টিস্যু) কে মায়োব্লাস্টে (যা পেশিকোষ তৈরী করে) রূপান্তরিত করে। যা সঞ্জীবনী-ওষুধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

৯ আগস্ট, ২০০১ :—  রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লু. বুশ সীমিত সংখ্যক বিদ্যমান মানব ভ্রূণের স্টেম-কোষ গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যবহারের অনুমোদন আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন৷ 

২৫ আগস্ট, ২০০৬ :— জাপানি বিজ্ঞানীরা ভ্রূণীয় স্টেম-কোষের অনুরূপ প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষ তৈরীর ঘোষণা দেন৷ যা কোষীয় থেরাপির জন্যে মূল্যবান তথ্যের যোগান দেয়৷ 

২০১০ :— ক্ষয়প্রাপ্ত মেরুদণ্ডের চিকিৎসায় সর্বপ্রথম মানুষের ভ্রূণীয় স্টেম-কোষের ক্লিনিকাল ট্রায়াল হয়েছিলো৷ 

১৪ জুলাই, ২০১১ :— মানুষের অন্ধত্ব চিকিৎসার জন্য প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে ভ্রূণীয় স্টেম-কোষ থেরাপি শুরু হয়েছিল।

২০১২ :— জন গুরডন এবং সিনিয়া ইয়ামানাকা প্রাপ্তবয়স্ক কোষকে প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষে তৈরী করা পদ্ধতি আবিষ্কার করায় দেহতত্ত্ব বা মেডিসিনে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন।

২০১৪ :— জাপানের বিজ্ঞানীরা ৭০ বছর বয়স্ক রোগীর বার্ধক্যজনিত দৃষ্টিশক্তি লোপ (ম্যাকুলার অবক্ষয়জনিত) রোগের চিকিৎসায় ত্বক থেকে চোখের স্টেম-কোষ প্রতিস্থাপনে সক্ষম হন৷ 

২০১৬ :— বিশ্বে প্রথম শ্বাসনালী প্রতিস্থাপন থেকে শুরু করে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের মত রোগের ক্ষতির পুনরুদ্ধারে স্টেম-কোষের সুফল পাওয়া যায়৷ 

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ :— ইঁদুর এবং মানুষের ত্বকের কোষ নিয়ে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রতিরোধক কোষে হিসাবে পুনরায় প্রোগ্রাম করা হয়। 

৫ মার্চ, ২০১৯ :— স্টেম-কোষ থেরাপির মাধ্যমে দ্বিতীয় রোগী এইড’স রোগ থেকে মুক্তি পায়৷ 

স্টেম-কোষ চিকিৎসায় উদ্ভুত কিছু সমস্যা:

১. সাম্প্রতিক, মানুষের ভ্রূণীয় স্টেম-কোষ গ্রহণ করা ঘিরে রয়েছে বিতর্ক। ভ্রূণীয় স্টেম-কোষ সংগ্রহের প্রক্রিয়ার সময় ভ্রূণটি নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে মনে করেন, ভ্রূণ একটি জীবিত মানুষ। তাদের মতে নিষিক্ত ডিম্বাণু গবেষণার জন্য ব্যবহার করা অনুচিত। তাদের যুক্তিতে, ভ্রূণেরও প্রত্যেকটি মানুষের মতোই অধিকার থাকা উচিত এবং যা রক্ষা করা উচিত। ফলে, এটি নিষিক্ত ভ্রূণের ধ্বংস তাদের নৈতিকতা বিদ্ধ করে। 

অন্যদিকে, স্টেম-কোষ গবেষণার সমর্থকেরা বিশ্বাস করেন যে, ভ্রূণগুলি এখনও মানুষ নয়। তাদের মন্তব্য হলো গবেষকেরা দাতা দম্পতির কাছ থেকে সম্মতি নিয়েই ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর দ্বারা ভ্রূণ তৈরি করেন। তাছাড়া, ইন-ভিট্রো (ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা) নিষেকের সময় তৈরিকৃত নিষিক্ত ডিমগুলি যে কোন উপায়ে ফেলে দেওয়া হয়। তাই এগুলি বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য আরও ভালভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে, প্রভাবিত প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষের (iPSC) আবিষ্কারে ভ্রূণীয় স্টেম-কোষ গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে গেছে৷ মজার ব্যাপার হলো, প্রভাবিত প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষকে ভ্রূনীয় স্টেম-কোষে রূপান্তরিত করা গেলে তাত্ত্বিকভাবে তা দাতার ক্লোন (clone) হয়ে যায়। কিন্তু, অনেক দেশেই ইতিমধ্যে এমন আইন রয়েছে যা কার্যকরভাবেই মানব ক্লোনিং নিষিদ্ধ করে।

২. ভ্রূণীয় স্টেম-কোষ ব্যবহারের পিছে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো, বর্তমানে প্রাপ্ত ভ্রূণীয় স্টেম-কোষগুলিকে আমাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা বহিরাগত হিসাবে ‘প্রত্যাখ্যান’ করতে পারে। তা ঠিক কাম্য নয়৷ 

৩. বিজ্ঞানীরা প্রাপ্তবয়স্ক প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষ ব্যবহার করার সময়ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এই কোষগুলি ল্যাবে তৈরী করাও বেশ কঠিন৷ তাই গবেষকেরা এখনও প্রক্রিয়াটির উন্নতির উপায় সন্ধান করছেন। একোষগুলি শরীরে স্বল্প পরিমাণেও পাওয়া যায়। কিন্তু, তাতে DNA-গত সমস্যা থাকার বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চিকিৎসা: স্টেম-কোষ থেরাপি

সমস্যাগুলি সমাধান করতে পারলে হয়ত স্টেম-কোষ থেরাপি হবে চিকিৎসাক্ষেত্রে দারুন একটি আস্থার জায়গা৷ কেননা, এর রয়েছে বহু সম্ভাবনাময়ী সফলতা।  

১)  রোগ, আঘাত এবং জিনগত কারণে কোষ, টিস্যু এমনকি অঙ্গ কখনো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বা নষ্ট হয়ে  যেতে পারে। আর, স্টেম-কোষের মাধ্যমেই ‘নতুন-কোষ’ তৈরি করে দেহের ক্ষতিগ্রস্থ বা হারিয়ে যাওয়া অংশের প্রতিস্থাপন একটি সুন্দর উপায় হতে পারে। প্রাপ্ত বয়স্ক স্টেম-কোষগুলি বর্তমানে কিছু চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ:

ক) রক্তের স্টেম-কোষগুলি রক্তের কিছু রোগের চিকিৎসায়, যেমন: থ্যালাসেমিয়া, ফ্যানকনি অ্যানিমিয়া এবং রক্ত-ক্যান্সার রোগীদের (রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি বা অন্য কারণে যারা নিজেদের রক্তের স্টেম-কোষ হারিয়ে ফেলেছেন) চিকিৎসায় স্বাস্থ্যকর রক্তকণিকা তৈরীতে একটি উৎস হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

খ) ত্বকের স্টেম-কোষগুলি গুরুতর পুড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের নতুন ত্বক তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

গ) বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গের প্রতিস্থাপনে কোন দাতার থেকে সুস্থ-অঙ্গ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু, তা  দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্বারা বহিরাগত হিসাবে ‘প্রত্যাখ্যাত’ হতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে রোগীর থেকে উৎপন্ন ‘প্রভাবিত প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষের’ (ips) মাধ্যমে নতুন অঙ্গগুলির বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা যেতে পারে যা প্রত্যাখ্যান হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। উদাহরণস্বরূপ: হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হৃদপেশিতে একোষগুলি প্রবেশ করা যেতে পারে৷ পাশাপাশি এটি দেশে ডোনার/ দাতা খুঁজে বের করার সমস্যারও সমাধান করবে।

 

চিত্র: স্টেম কোষের মাধ্যমে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন।

২) বয়সের সাথে সম্পর্কিত ম্যাকুলার অবক্ষয় (দৃষ্টিশক্তিলোপ), এমন একটি রোগের উদাহরণ যেখানে স্টেম-কোষগুলিকে এই চিকিৎসার একটি নতুন রূপ হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে:

 বয়স বাড়ার সাথে চোখের অক্ষিপটের রঞ্জকময় আবরণের (রেটিনাল পিগমেন্ট এপিথেলিয়াম/ RPE) কোষগুলি কাজ করা বন্ধ করায় দৃষ্টিশক্তি লোপ পায়৷ বিজ্ঞানীরা ল্যাবে প্রভাবিত প্লুরিপোটেন্ট স্টেম-কোষের মাধ্যমে নতুন RPE কোষ তৈরীতে সক্ষম হয়েছেন যা চোখের ক্ষতিগ্রস্থ কোষগুলি প্রতিস্থাপনে ব্যবহার করা যেতে পারে৷ 

চিত্র: স্টেম-কোষগুলি কীভাবে ম্যাকুলার অবক্ষয়জনিত (Age-related macular degeneration/ AMD) রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে (জিনোম গবেষণা লিমিটেড)৷

৩) কে না চাই নিজের বয়স কমাতে? কিংবা, যুবক বয়সটা ধরে রাখতে? কিন্তু, এর উপায় কি হতে পারে। সহজকথায়, স্টেম-কোষ থেরাপি হয়ত এর সুস্থ সমাধান। মূলত স্টেম-কোষগুলি বয়সে বাঁধাদানকারী (anti- aging) এমন কিছু জিনের (যেমন: Klotho) সাথে একত্রে একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করতে পারে। যা হয়ত বার্ধক্যজনিত প্রক্রিয়ার প্রভাবগুলিকে বিলম্ব/ প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

স্টেম-কোষের সম্পর্কে  ‘ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিন’ -এর মেডিসিন এবং বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং প্রথম লেখক জেফ্রি আর মিলম্যান বলেছিলেন:

“তত্ত্ব অনুসারে, যদি আমরা কোন ব্যক্তির ক্ষতিগ্রস্থ কোষগুলিকে নতুন অগ্ন্যাশয় বিটা কোষগুলির সাথে প্রতিস্থাপন করতে পারি— যার প্রাথমিক কাজ রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন সংরক্ষণ এবং নিঃসরণ — তবে, টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের আর ইনসুলিন শট লাগবে না।”

সত্যি বলতে, স্টেম-কোষ চিকিৎসার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত প্রতিশ্রুতি এবং সম্ভাবনা তৈরী করে৷ যেমন: চিকিৎসকেরা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনে রোগীদের মধ্যে স্টেম-কোষের ইনজেকশন দেয়, বিজ্ঞানীরা ফুসফুসের ক্যান্সার কীভাবে বিকশিত হয় তা একটি মাইক্রোস্কোপের নীচে খুঁটিয়ে তদন্ত করেন ইত্যাদি। তবে, স্টেম-কোষ চিকিৎসার নতুনত্বের এই পথ দীর্ঘ এবং প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ এবং এখনও অনেক উত্তর অজানা। তবুও অগ্রগতি চলছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা চমকপ্রদ৷ গবেষকরা এই অগ্রগতিগুলি নৈতিক ও নিরাপদে চিকিৎসাযোগ্যে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: 

১. 5-astonishing-stem-cell-facts 

২. stem-cell-research 

৩. what-are-stem-cells/ipscell 

৪. What Are Stem Cells?

৫. bone-marrow-transplant/in-depth/stem-cells/ 

৬. what-is-a-stem-cell 

৭. stem-cells-repair-tissues-and-regenerate-cells 

৮. about-stem-cells-history 

৯. Stem cells and anti-aging genes: double-edged sword—do the same job of life extension

এফ, এম, আশিক মাহমুদ
আমি বর্তমানে 'নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়' এ 'মাইক্রোবায়োলজী' বিভাগের স্নাতকোত্তর ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত। স্নাতকও একই স্থান থেকে সম্পন্ন করেছি। ইতোপূর্বে, অমর একুশে বইমেলা-২০২০ এ আমার প্রথম বই "ব্যাকটেরিয়ার রাজত্ব" প্রকাশিত হয়েছে৷ বর্তমানে অণুজীববিজ্ঞানের একজন উৎসুক ছাত্র এটাই আমার বড় পরিচয়। নতুন নতুন অবাক করা তথ্য জানতে ভালো লাগে।