করোনা মহামারীর চেয়েও নীরব প্রাণঘাতী যে ভাইরাস

লিখেছেন

লেখাটি , বিভাগে প্রকাশিত

যদি জিজ্ঞাস করা হয় এমন একটি  সঙ্ক্রামক রোগের নাম যার কারণে গত বিশ বছরে প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ মারা গিয়েছে। মৃতের এত বড় সংখ্যা দেখে হয়ত অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যাবে। কিন্তু রোগের নামটি মাথায় আসবে না। এই নিরব প্রাণঘাতী রোগটির নাম ইনফ্লুয়েঞ্জা অথবা সিজলান ফ্লু। এটি হয়ে থাকে ইনফ্লুএঞ্জা ভাইরাস দ্বারা। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (WHO) মতে ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর বিশ্বে তিন থেকে ছয় লাখের মত মানুষ মারা যায়। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্য।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকারভেদঃ  

এখন পর্যন্ত মোট চার প্রকারের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছে। এদেরকে বলা হয় টাইপ-এ, টাইপ-বি, টাইপ-সি, এবং টাইপ-ডি। আশার কথা হল এই চার ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জার ভিতর মূলত টাইপ-এ এবং টাইপ-বি দ্বারা মানুষ আক্রান্ত হয়। টাইপ-সি দ্বারাও আক্রান্তের ইতিহাস আছে তবে সেক্ষেত্রে হালকা সর্দি, কাশি ছাড়া শরীরে তেমন কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। অপরদিকে টাইপ-ডি তুলনামুলক ভাবে নতুন। মাত্র কয়েক বছর আগে ২০১৬ সালে আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে এ্টি দিয়ে কোন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এমন তথ্য এখন পযন্ত পাওয়া যায়নি।  মানুষ প্রধানত যে দুই প্রকারের ইনফ্লুএঞ্জা দিয়ে আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে টাইপ-এ সবচেয়ে মারাত্নক। একে এভিয়ান ইনফ্লুএঞ্জা নামেও অভিহত করা হয়। টাইপ-এ ভাইরাসটির গঠনপ্রণালীর দিকে তাকালে দেখা যায় এটি আট ধরনের প্রোটিন দিয়ে ঘঠিত। এদের ভিতর দুই ধরনের প্রোটিন ভাইরাসের শরীরের উপরিভাগে রয়েছে। এদেরকে বলা হয় হেমাগ্লুটিনিন (Hemagglutinin) এবং নিউরামিনিডেজ (Neuraminidase) বা সংক্ষেপে বলা হয় যথাক্রমে HA এবং NA প্রোটিন। এখন পযন্ত আঠারো রকমের HA এবং বার রকমের NA প্রোটিন পাওয়া গিয়েছে। এই HA এবং NA প্রোটিনের উপর ভিত্তি করে ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-এ ভাইরাসকে আবার বিভিন্ন উপ-ভাগে (সাব-টাইপ) ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্য H1N1 এবং H3N2 কে দেখা হয় মানুষের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক হিসাবে। অপরদিকে টাইপ-বি ভাইরাস শরীরের উপর চরম মাত্রার কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। তবে এদেরকে বেশিরভাগ সময় টাইপ-এ ভাইরাসের সাথে মিলিতভাবে আক্রান্তের শরীরে পাওয়া যায়। যাকে বলা হয় কো-সারকোলেশন। এই টাইপ-বি ভাইরাসকে জীনগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ভিক্টোরিয়া এবং ইয়ামাগাতা নামে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

সিজলান ফ্লুর কারনে গত বিশ বছরে প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ মারা গিয়েছে

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে যেভাবে ফাঁকি দেয়ঃ    

এখন পর্যন্ত মানব সভ্যতা যতবার ফ্লু মহামারী কিংবা অতিমারীর শিকার হয়েছে তার সবগুলোই ছিল এই টাইপ এ ইনফ্লুএঞ্জা দিয়ে। এই ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দিয়ে বারবার মহামারী ছড়িয়ে যাবার পিছনে দুটো প্রধান কারন রয়েছে। একটিকে বলা হয় এন্টিজেনিক ড্রিফট আর অন্যটিকে বলা এন্টিজেনিক শিফট। আমাদের শরীরের ইউমিউনো সিস্টেম বা শরীরের রোগ প্রতিরোধে যারা কাজ করে তারা মূলত জীবাণুর প্রোটিনকে সনাক্ত করে। একে আমরা বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলি এন্টিজেন (Antigen)। প্রথমবার যখন এন্টিজেন শরীরে প্রবেশ করে তখন এর বিরুদ্ধে এন্টিবডি (Antibody) তৈরি হয়। এমনকি রোগ থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরেও এই এন্টিবডির কিছু মেমোরি আমাদের শরীরে থেকে যায়। জীবনের কোন পর্যায়ে যদি একই ভাইরাস বা এন্টিজেন শরীরে শনাক্ত হয় তখন পূর্বের মেমোরি থেকে দ্রুত এন্টিবডি তৈরি হয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় আক্রান্তের শরীরে রোগের কোন লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই এন্টিবডি জীবাণুকে ধ্বংস করে ফেলে। কিন্তু এন্টেজেনিক ড্রিফট অথবা এন্টিজেনিক শিফটের ফলে বদলে যাওয়া এন্টিজেনকে পূর্বের তৈরি হওয়া এন্টিবডি পুরোপুরি চিনতে পারে না। ফলে এই ভাইরাসের এন্টিবডি থাকা সত্ত্বেও আমরা আবার রোগাক্রান্ত হই।  

এন্টিজেনিক ড্রিফটঃ  

 এই এন্টিজেনিক ড্রিফট খুবই সুক্ষ মলিকুলার শ্রেণির বিষয়। তবু সহজ করে বললে প্রধান যে কারণটি সামনে চলে আসে তাহল এই ভাইরাসের গঠন প্রণালী। আমরা জানি ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি আর এন এ (RNA) ভাইরাস। জীবনের মূল ভিত্তি ডি এন এ (DNA) কিংবা আর এন এ  যখন সংখ্যাবৃদ্ধি (Replication) করে তখন অনেক সময় এদের নিউক্লিউটাইড সিকোয়েন্সে অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল বা  মিউটেশন হয়ে যায়।  ভাইরাস থেকে শুরু করে সকল প্রাণীর ক্ষেত্রেই এটি হয়। কিন্তু ডিএনএ রেপ্লিকেশনের সময় সংগঠিত ভুলগুলো সংশোধন করার জন্য প্রকৃতি প্রদত্ত একটি বিশেষ এনজাইম আছে। যাকে বলা হয় ডিএনএ ডিপেন্ডেন ডিএনএ পলিমারেজ এনজাইম। এই এনজাইমের কাজ হল এই ভুলগুলো সংশোধন করে দেয়া। আমরা যাকে সহজ করে বলি প্রুফ রিডিং। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় যাদের শরীর শুধু আর এন এ দিয়ে তৈরি। এদের এই পলিমারেজ এনজাইমের প্রুফ রিডিং ক্ষমতা থাকেনা। ফলে একবার জেনেটিক সিকোয়েন্সে কোন ভুল হয়ে গেলে তা দিয়ে নতুন ধরনের আমাইনো এসিড তৈরি হয়। এই এমাইনো এসিড তৈরি করে প্রোটিন। ফলে এক কথায় সহজ করে বলা যায়, আর এন এ ভাইরাসের জেনেটিক সিকোয়েন্সের মিউটেশনের কারনে এর প্রোটিনের পরিবর্তন হয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়াকে বলা হয় এন্টিজেনিক ড্রিফট।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রতিনিয়ত বিবর্তনের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। হয়ত মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই বিবর্তনের হার কতটুকু? ডিএনএ এর ক্ষেত্রে প্রতি ১ কোটি থেকে ১০০ কোটির নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্সের ভিতর মাত্র একটি এই মিউটেশন সংগঠিত হয়। এর সাথে তুলনা করলে আর এন এ তে মিউটেশনের হার অনেকগুন বেশি। সংখ্যাটি চমকে দেয়ার মত। দেখা গিয়েছে মাত্র ১০০০-১০০০০০ জেনেটিক বেইসের ভিতর একটি জেনেটিক বেইসের মিউটেশন হয়ে যায়। যেমন একটি আদর্শ ভাইরাসের জেনোমে যদি ১০০০০ টি নিউক্লিওটাইড বেইস থাকে তাহলে প্রতি রেপ্লিকেশনে একটি মিউটেশন হয়ে যাবে।  

এন্টিজেনিক শিফটঃ    

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ইমিউনো সিস্টেমকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এন্টিজেনিক ড্রিফটের চেয়েও শক্তিশালী আরো একটি  ক্ষমতা রয়েছে। এটিই পৃথিবী জুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর প্রধান কারণ। এই প্রক্রিয়ায় মূলত বিভিন্ন প্রাণীর (মানুষ থেকে শুরু করে পশুপাখি পর্যন্ত) ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের হেমাগ্লূটিনিন প্রোটিন মিলে নতুন এক ধরনের HA প্রোটিন তৈরি হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে পূর্বে তৈরি হওয়া এন্টিবডি এই নতুন HA প্রোটিন বা এন্টিজেনকে একেবারেই চিনতে পারে না। একে বলা হয় এন্টিজেনিক শিফট। এটি এন্টেজেনিক ড্রিফট থেকে অনেক বেশি মারাত্নক ফল বয়ে আনে। কারণ এই এন্টেজেনিক শিফটের  ফলশ্রুতিতে সম্পূর্ণ নতুন ভাইরাস বা জীবাণুর মত এই ছোঁয়াচে রোগ হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে যায়। এমনকি অনেক সময় এটি প্যান্ডেমিক মহামারীতে রূপ নেয়।  উদাহরণস্বরূপ বলা যায়  ২০০৯ সালের সোয়াইনফ্লুর কথা। সেবার প্যান্ডেমিক আকারে ছড়িয়ে যাওয়া ভাইরাসটির (H1N1) HA প্রোটিন তৈরি হয়েছিল মানুষ, পাখি, এবং শুকুরের ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-এ ভাইরাসের HA প্রোটিনের মিশ্রণের মাধ্যমে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী যুগেযুগেঃ      

সহজ কথায় বলা যায় এন্টিজেনিক ড্রিফট ফলে প্রতিবছর বিশ্ব জুড়ে কোটির অধিক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা দ্বারা। যার ভিতর মারা যাচ্ছে লক্ষাধিক। এটি ছাড়াও এন্টিজেনিক শিফটের মাধ্যমে প্রায় কয়েক দশক পরপর ছড়ায় বিশ্বজুড়ে মহামারী। গত শতকের শুরু থেকে আজ পযন্ত বেশ অনেকগুলি ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। এদের মধ্য প্রথমটি ছড়িয়েছিল উনিশ শতকের গোড়ার দিকেই। এর পর থেকে প্রতি কয়েক দশক পর পর মহামারী আকারে ছড়িয়ে যাচ্ছে।       

১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লুতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য স্থাপিত হাসপাতাল

গত উনিশ শতকের প্রথম দিকে যে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী ছড়িয়ে গিয়েছিল তা স্প্যানিশ ফ্লু বা ১৯১৮ ফ্লু প্যান্ডেমিক নামে পরিচিত। প্রায় তিন বছর স্থায়ী এই মহামারীটি ছড়িয়ে গিয়েছিল পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তে। এর কারণ ছিল ইনফ্লুএঞ্জজা টাইপ-এ ভাইরাসের H1N1 সাব-টাইপ। ইউরোপের কোন দেশ থেকে প্রথম এই রোগটির সংক্রমন শুরু হয়েছিল এটা নিয়ে যদিও মতভেদ রয়েছে।  তবে এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউরোপের বুকেই প্রথম নেমে এসেছিল এই মহামারী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে সৈনিকদের চলাচলের মাধ্যমে এই ফ্লু আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দেখা যায় ১৯২০ সাল পযন্ত চলা সংক্রমণে বিশ্বব্যাপি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন। যার ভিতর মারা যায় কমপক্ষে ১৭ মিলিয়ন থেকে ৫০ মিলিয়নের বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে এটি ছিল তৎকালীন পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১ থেকে ৬ শতাংশ। সত্যি বলতে, একক কোন রোগের কারণে এত বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু পৃথিবীবাসী পূর্বে প্রত্যক্ষ করেনি। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে  দেখা যায় অল্প এবং বেশি এই দুই বয়সের মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়। কিন্তু স্প্যানিশ ফ্লু ছিল এ থেকে ব্যাতিক্রম। তখন বেশির ভাগ আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা ছিল মধ্যম বয়সের।     

এশিয়ান ফ্লু নিয়ে তৎকালীন সংবাদপত্রের খবর

স্প্যানিশ ফ্লু সংক্রমনের প্রায় আটত্রিশ বছর পর মানব সভ্যতা আরেকবার ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-এ ভাইরাসের (সাব-টাইপ H2N2) ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে। ১৯৫৭-১৯৫৮ সাল পযন্ত স্থায়ী হওয়া এই প্যান্ডেমিক মহামারীটি এশিয়ান ফ্লু নামে পরিচিত। এবার এর উৎপত্তিস্থল ছিল চীনের  দক্ষিণ-পশ্চিমের গুইজু প্রদেশে। পরবর্তীতে সেখান থেকে এই ভাইরাস হংকং, সিঙ্গাপুর, ও যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। এটা ধারণা করা হয়, দুই বছর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া এশিয়ান ফ্লুতে সারা বিশ্ব জুড়ে ১ থেকে ৪ মিলিয়ন মানুষের প্রাণহানি হয়। যার ভিতর শুধু আমেরিকাতেই এই মৃতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লক্ষ ১৬ হাজার।   

ঠিক এক দশক পর ১৯৬৮ সালের জুলাই মাসে আবার ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যান্ডেমিক মহামারী বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এবার এর জন্য দায়ী ছিল ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ ভাইরাসের সাব-টাইপ H3N2। শুরুটা হংকং-এ হওয়ার কারণে  একে হংকং ফ্লু বা উৎপত্তি সনের সাথে মিলিয়ে ১৯৬৮ ফ্লু প্যান্ডেমিকও বলা হয়। তবে কিছুদিন পরেই পাশের দেশ সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, অট্রেলিয়া, জাপান হয়ে আমারিকাতেও আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যেতে থাকে। এটা ছিল ক্যাটাগরি ২ শ্রেণির প্যান্ডেমিক মহামারী। তা সত্ত্বেও এই ফ্লু সংক্রমনে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয়। এমন কি প্রায় ১ থেকে ৪ মিলিয়ন এর মানুষ মারা যায় এই ফ্লুতে।   

মাত্র কয়েক মাসের ভিতর সোয়াইন ফ্লু বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে

আমাদের অতি নিকট অতীতে যে ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যান্ডেমিকটি মহামারী হয়ে আতংক জন্ম দিয়েছিল তা সোয়াইন ফ্লু নামেই বেশি পরিচিত। ২০০৯ সালে মেক্সিকোর একটি শুকুরের খামার থেকে উৎপত্তি হয়ে অনেক দেশেই তা ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হয় প্রায় ১০০ কোটির বেশি মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে এটা স্পানিশ ফ্লুকে ছাড়িয়ে গেলেও মৃতের হার ছিল তুলনমূলক অনেক কম। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এর হিসাব মতে সোয়াইন ফ্লুতে মারা যায় মাত্র চৌদ্দ হাজারের মত মানুষ। আশাব্যঞ্জক সংখ্যায় এই প্রাণহানি কমানোর পিছনে দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরি রেখেছিল বড় অবদান। সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে যাওয়ার মাত্র নয় মাসের ভিতর ভ্যাকসিনেশন শুরু করতে পারায় দ্রুততম সময়ের ভিতর এর লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হয়।

একটি আশার কথা হল ২০০৯ সালের পর সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা ফ্লু বাদে নতুন করে মহামারীর মত কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তা সত্ত্বেও আমাদের তৈরি থাকতে হচ্ছে আরো একটি অনাগত ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর জন্য। এটি সম্পর্কে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (WHO) গ্লোবাল ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক ড. ওয়েনচিয়াং জাং একটি চমৎকার কথা বলেছেন। তার মতে-

“আরেকটি নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা প্যান্ডেমিক মহামারী তৈরি হবে, এটা নিশ্চিত। কিন্তু আমরা জানিনা, এটি কখন হবে, কোন স্ট্রেইন দিয়ে হবে, তা কেমন ভয়ানক আকার ধারন করবে।“

   -ড. ওয়েনচিয়াং জাং, ব্যবস্থাপক, গ্লোবাল ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রোগ্রাম, WHO

লেখাটি 464-বার পড়া হয়েছে।


আলোচনা

Responses

  1. আরাফাত Avatar
    আরাফাত

    চমৎকার তথ্যভিত্তিক লেখা। ফ্লু যে নিরবে এত প্রাণহানি ঘটাচ্ছে তা বোঝাই যায় না!!

    1. A T M Badruzzaman Avatar
      A T M Badruzzaman

      আপনাকে ধন্যবাদ মতামত জানানোর জন্য।
      যদিও WHO এর হিসাবে প্রতিবছর ৩-৬ লাখ মানুষ মারা যায়, তবে এর আসল সংখ্যা অনেকগুন বেশি হবে। যেমন, আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে শীতকালে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় অনেক মানুষ মারা যায়। কিন্তু তার পিছনের কারন খোঁজা হয়না। ধারনা করা যায় এদের বেশিরভাগ শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের সমস্যায় মারা যাওয়ার পিছনে ইনফ্লুয়েঞ্জা জড়িত।

Leave a Reply

ই-মেইলে গ্রাহক হয়ে যান

আপনার ই-মেইলে চলে যাবে নতুন প্রকাশিত লেখার খবর। দৈনিকের বদলে সাপ্তাহিক বা মাসিক ডাইজেস্ট হিসেবেও পরিবর্তন করতে পারেন সাবস্ক্রাইবের পর ।

Join 906 other subscribers