সত্যের আদালতে জৈব বিবর্তন

সত্ত্যের আদালতে জৈব বিবর্তন। ছবিঃ techgnotic.deviantart.com

জীববিজ্ঞানের মজার কিছু শাখার মধ্যে ‘বিবর্তন’ একটি। আমরা জানি, এক বংশধর থেকে অন্য বংশধরে জীব পপুলেশনের জিন ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তনই জৈব বিবর্তন। একে ডারউইন “Descent with modification” বলে উল্লেখ করেছিলেন। অল্প বিজ্ঞান জানা কিছু বক্তি একটা ভুল ধারণা দিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করে; সেটা হলো ডারউইনিজম আর জৈব বিবর্তন একই বিষয়। ন্যূনতম বিবর্তন ভিত্তিক জ্ঞান থাকলে কেউ এই কথা বলতে পারেনা। আসলে ডারউইন জৈব বিবর্তন নিয়ে একটি মতবাদ দিয়েছিলেন। তিনি ছাড়াও অনেকেই এ ব্যাপারে তাদের মতামত ও ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন। তবে বিবর্তনের পথকে প্রশস্ত করতে ডারউইনের ভূমিকাই সর্বাধিক।

বর্তমানে জৈব বিবর্তন নিয়ে নানাবিধ গবেষণা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়তই চোখের সামনে নতুন কিছু ভেসে উঠছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আজকের দিনে জৈব বিবর্তন প্রমাণিত সত্য। তাই একে ওভারটেক করে চলে যাওয়া মাঝে জীববিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখানো। কেননা বিবর্তনের ওস্তাদ রিচার্ড ডকিন্স বলেছেন, “The evidence for evolution is at least as strong as the evidence for the Holocaust.” বিবর্তন সম্পর্কে থিয়োভসিয়াস ডবঝনস্কি একটি চমৎকার কথা বলেন। তিনি বলেছেন, “Nothing in biology makes sense except in the light of evolution.”

এতসব কারণেই আজকে আমি বিবর্তনের সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে কথা বলব। তবে বিবর্তনের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য আমাকে দেখাতে হবে যে জীবদের একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ রয়েছে এবং জীবেরা পারস্পরিকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। চলুন, শুরু করা যাক।

অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ

বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন জীবের অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে উল্লেখযোগ্য আঙ্গিক সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন, যেগুলো প্রমাণ করে যে তাদের একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিল। প্রথমেই বলব মাছ, উভচর সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ীর হৃৎপিন্ডের কথা। মাছেদের হৃৎপিন্ড একটি অলিন্দ ও একটি নিলয় দ্বারা গঠিত, যা জলজ পরিবেশে ঠিকমতো খাপ খাওয়াতে পারে। আবার পানি থেকে মাটিতে বসবার করার জন্য উভচরদের হূৎপিন্ডে স্ট্রাকচারাল পরিবর্তন ঘটেছে। এক্ষেত্রে দুটো অলিন্দ ও একটি নিলয়ের দেখা পাওয়া যায়। সরীসৃপদের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ওদের হৃৎপিন্ডে নিলয়ের সংখ্যা একটা হলেও এর মধ্যে একটি মাংসল প্রাচীর রয়েছে। যেটি পাখি ও স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে নিলয়টিকে সম্পূর্ণ দুইভাগে (ডান নিলয় ও বাম নিলয়) ভাগ করেছে। এখান থেকে বোঝা যায় যে অভিযোজনের তাগিদে মাছ, উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী এবং পাখিদের হৃৎপিন্ডে পরিবর্তন এসেছে। তবে একটি সাধারণ কাঠামো এদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করেছে।

মানুষের উন্নত হৃৎপিন্ড অভিযোজনের ধারায় রূপান্তরিত হয়েছে

একইভাবে এদের অ্যাওর্টিক আর্চ ও মস্তিষ্কেও লক্ষণীয় সাদৃশ্য রয়েছে। সকল মেরুদন্ডী প্রাণীতে ভ্রুণাবস্থায় যে ৬ জোড়া আর্চ থাকে সেগুলো পরবর্তীতে গিয়ে চাহিদানুসারে রূপান্তরিত হয়ে যায়। সকল প্রকার টেট্রাপডে (স্তন্যপায়ী, উভচর, সরীসৃপ ও পাখি) ১ম ও ২য় জোড়া অ্যাওটিক আর্চ অনুপস্থিত। আবার অ্যামনিয়টার (স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ ও পাখি) ৫ম জোড়া অ্যাওটিক আর্চ অনুপস্থিত। অর্থাৎ সকলের ক্ষেত্রেই ৩য়, ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ জোড়া আর্চ উপস্থিত। সুতরাং, জীবনধারার পরিবর্তনের সাথে সাথে এই বৈশিষ্ট্যের ও রূপান্তর ঘটেছে। আবার মাছ থেকে শুরু করে সকল স্তন্যপাঠী প্রাণীর মস্তিক ৫টি লোবে বিভক্ত। এদের মস্তিষ্কের গঠন (বিশেষ করে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার ও সেরিবেলাম) প্রগতিশীল বিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে।

এবার সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গাবলি (Homologous & Analogous Organs) নিয়ে টুকটাক কথা বলবো। যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও মৌলিক গঠনে মিল থাকলেও কাজে ভিন্নতা রয়েছে, তাদেরকে সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন: মানুষের হাত, তিমির অগ্রপদ, ব্যাঙের অগ্রপদ, পাখির ডানা, বাদুড়ের ডানা, ইত্যাদি। এগুলো পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে অভিযোজিত হয়েছে। এদের অজ্ঞাসংস্থানিক বৈশিষ্ট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে প্রতিক্ষেত্রে অগ্রপদে ৫টি আঙুল রয়েছে এবং অগ্রপদগুলো একই ধরণের অস্থির সমন্বয়ে গঠিত।

শুধুমাত্র এদের কাজগুলো ভিন্ন। ব্যাঙের পা লাফিয়ে চলার জন্য পরিবর্তিত, পাখি ও বাদুড়ের অগ্রপদগুলো উড্ডয়ন ক্ষমতা লাভের জন্য রূপান্তরিত, তিমির অগ্রপদ সাঁতার কাটার জন্য বিবর্তিত এবং আমার আপনার অগ্রপদ বহুমুখী কাজের জন্য পাঁচ আঙুলে পরিণত হয়েছে। এটা প্রমাণ করে যে এদের উৎপত্তি একই পূর্বপুরুষ থেকে হয়েছে।

আবার যেসকল অঙ্গের কাজে মিল থাকলেও উৎপত্তি গঠনে ভিন্নতা রয়েছে, তাদেরকে সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে। যেমনঃ গঠন ও উৎপত্তিতে বাদুড়-পাখির ডানার সাথে প্রজাপতি-তেলাপোকার ডানার কোনো মিল নেই। তবে তাদের কাজে মিল আছে আর তা হলো উড়ে বেড়ানো। আসলে এই বৈশিষ্ট্যটি পারস্পরিক সম্পর্কের (আত্মীয়তা) বড় একটি প্রমাণ, যা বলে দেয় যে অঙ্গগুলোর উৎপত্তি আলাদা হলেও এদের অভিব্যক্তি একই ধারার সংঘটিত হয়েছে।

ওহ হো! ভেস্টিজিক্যাল অর্গানগুলো নিয়ে কথাই বলা হলো না। অনেকে ভেস্টিজিয়্যাল অর্গানকে “অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ” হিসেবে অভিহিত করেন, যেটা মারাত্মক একটি ভুল। ভেস্টিজিক্যাল অর্গান সবক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বা অকেজো হয় না, বরং স্বল্প প্রয়োজনীয় হয়। এ ধরণের অঙ্গগুলো কোনো একটি প্রাণীতে অত্যাবশ্যকীয় না হলেও অন্য একটি প্রাণীতে এগুলো জরুরি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছেন যে একটা সময়ে এই অঙ্গগুলো সক্রিয় থাকলেও অভিব্যক্তির ধারার বর্তমান প্রজাতিতে তা প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এগুলো একেবারেই হারিয়ে যেতে পারে।

মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে অ্যাপেনডিক্স “বাধ্যতামূলক” অঙ্গ না হলেও তৃণভোজী স্তন্যপাঠীদের জন্য এটি “অত্যাবশ্যকীয়”

বিভিন্ন প্রাণীদের মধ্যে এই লুপ্তপ্রায় অঙ্গগুলোর চমৎকার সাদৃশ্য রয়েছে। যেমন: মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে অ্যাপেনডিক্স “বাধ্যতামূলক” অঙ্গ না হলেও তৃণভোজী স্তন্যপাঠীদের জন্য এটি “অত্যাবশ্যকীয়”। আবার বানরের লেজ থাকলেও মানুষে লেজ নেই, বরং এর বদলে কক্কিক্স নামক বিলুপ্ত প্রায় একটি অংশ দেখা যায়। (এক্ষেত্রে  বলে নেওয়া ভালো যে ডারউইন কখনোই বলেননি বানর থেকে মানুষের সৃষ্টি। এটা একটি গুজব মাত্র) আবার হাতি, বিভিন্ন গবাদিপশু ইত্যাদি প্রাণী কানের পিনা নাড়াতে পারলেও আমাদের ঐ অংশের মাংসপেশিগুলো আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় হতে থাকায় আমরা কর্ণছত্র বা পিনা নাড়াতে পারি না। এগুলোর পাশাপাশি তৃতীয় নেত্রপল্লবের কথাও বলা যায়। আসলে এসকল উদাহরণ প্রাণীদের ক্রমবিকাশের একটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ।

আজকের আলোচনায়  অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণের শেষ উদাহরবণটা দিবো “সংযোগকারী প্রাণী” এর মাধ্যমে। এদেরকে Connecting Link বলা হয়। “নেচার” জার্নালে কানেক্টিং লিংকের ব্যাপারে ভুড়ি ভুড়ি আর্টিকেল রয়েছে। শ্রেণিবিন্যাসের সময় কিছু প্রাণীকে শ্রেণিবিন্যস্ত করতে গিয়ে, দেখা যায় যে তাদেরকে সহজে কোনো নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ফেলা যায় না। কারণ তারা দুটো ভিন্ন ক্যাটাগরির বৈশিষ্ট্য একই সাথে বহন করে এবং অঙ্গাসংস্থানিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ঐ দুটো শ্রেণির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। যেমন: আর্কিওপটেরিক্স। এটি একইসাথে সরীসৃপ ও পাখির বৈশিষ্ট্য ধারণ করতো, যেকারণে বহু বছর আগের এই জীবটির জীবাশ্ম বিজ্ঞানীদেরকে অবাক করেছে। Connecting Link এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো প্লাটিপাস ও এডিকনা। এদেরকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। এরা একই সাথে স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপের বৈশিষ্ট্য বহন করে। জীব দুটি যেমন ডিম পাড়ে, তেমনি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ার। ডিম পাড়া সরীসৃপের এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো যথাক্রমে স্তন্যপায়ীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এটা একটা বড় প্রমাণ যে সরীসৃপের বির্বতনের ফলে স্তন্যপায়ীদের আবির্ভাব ঘটেছে।

আর্কিওপটেরিক্স একইসাথে সরীসৃপ ও পাখির বৈশিষ্ট্য ধারণ করতো। ছবিঃ বিবিসি

মোটামুটি এগুলোই জৈব বিবর্তনের পক্ষে সবচেয়ে বড় অঙ্গসংস্থানিক সাক্ষ্য-প্রমাণ। এতক্ষণ এই একটা বিষয় নিয়েই কথা বলায় অনেকে হয়ত বা ভবছেন আর কোনো প্রমাণ নেই? আছে। এখনো ডজন খানেক প্রমাণ দেওয়া বাকি আছে। চলুন, সামনের ধাপগুলোতে যাই।

বংশগতীয় প্রমাণ

আজকের দিনে আমরা ব্রিডিং, সিলেকশন ইত্যাদির মাধ্যমে কৃত্রিম পন্থা অবলম্বন করে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করতে পেরেছি। তাই এটা বোঝা যায় যে প্রকৃতিতেও কোনো না কোনো পরিবর্তনের মাধ্যমে কোটি কোটি বছরের পরিক্রমায় জীব প্রজাতির সৃষ্টি ও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তবে মূল জেনেটিক স্ট্রাকচার অনেকাংশেই অপরিবর্তিত থেকেছে।

আমরা জানি, সকল জীবের ক্রোমোজোম নিউক্লিওপ্রোটিন সমৃদ্ধ, যেখানে নিউক্লিক এসিড থাকে। RNA ভাইরাস ব্যতীত মোটামুটি সকল জীবের জেনেটিক বস্তু হলো DNA। এ জায়গায় একটু পার্থক্য থাকলেও সকল জীবের নিউক্লিক এসিড প্রায় একই রকম। শ্যুগার এবং থায়মিন-ইউরাসিল ছাড়া DNA ও RNA এর রাসায়নিক গঠনে তেমন কোনো তফাৎ নেই। উভয়েরই অ্যাডেনিন, গুয়ানিন এবং সাইটোসিন রয়েছে। আর এগুলোর গঠন ও অনুপাত বংশ পরম্পরায় অক্ষুণ্ণ রয়েছে। আরেকটি বড় সাদৃশ্য হলো, অধিকাংশ জীবেই DNA জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলোকে পুরুষানুক্রমে বহন করে এবং RNA প্রোটিন সংশ্লেষণে সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখে।

তবে মিউটেশনের প্রভাবে এই DNA পরিবর্তিত হয় এবং এর ফলে অ্যামিনো অ্যাসিডের বিন্যাসে রকমফের দেখা দেয়। এক্ষেত্রে যেসকল নতুন বৈশিষ্ট্যের উৎপত্তি হয়, সেগুলোই বিবর্তনকে ডেকে আনে। সব মিলায়ে ব্যাপারটা দাঁড়ায়, আমাদের সবার জেনেটিক বস্তু একই। তবে মিউটেশনের প্রভাবে বিভিন্ন প্রজাতিতে Variation দেখা দিয়েছে। আমাদের কোষের ডিএনএতে ভিটামিন-সি তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় GULOP জিন রয়েছে। তবে মিউটেশনের প্রভাবে ঐ জিনগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বেশ কিছু মেরুদন্ডী প্রাণীদের মধ্যে দিব্যি এই বৈশিষ্ট্যটি সক্রিয় আছে। তাদের দেহে ঠিকই ভিটামিন-সি উৎপাদিত হয়। এটি জীবের আত্মীয়তাকে নির্দেশ করে।

সম্প্রতি আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষ নিয়ে গবেষণা করায় নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন সুইডিশ বিজ্ঞানী সোয়্যান্তে প্যাবো। তিনি হোমো স্যাপিয়েন্স (আধুনিক মানুষ) এর বিলুপ্ত পূর্বপুরুষ নিয়ানডার্থালদের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করেছেন। আধুনিক মানুষের সাথে বিলুপ্ত পূর্বপুরুষদের কী কী জেনেটিক পার্থক্য আছে, সেটাও উঠে এসেছে তারঁ গবেষণার মাধ্যমে। আর এই পার্থক্য মূলত আমাদেরকে বিবর্তনের দিকে নিয়ে গিয়েছে।

প্রত্নজীবতত্ত্বীয় প্রমাণ

আমরা জানি যে অভিযোজনে ব্যর্থ হওয়ায় বহু জীব বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। তবে তাদের অনেকেরই জীবাশ্ম (Fossil) পাওয়া গিয়েছে। যেগুলো বির্বতনের এভিডেন্স হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা এই জীবাশ্মগুলোকে বিশ্লেষণ করে জীবজগতের অভিব্যক্তি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পেয়েছেন, যেগুলো জীবের ক্রমবিকাশের ধারাকে ইঙ্গিত করে। জীবাশ্মের বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে বিবর্তন বিদগণ বলেছেন যে বর্তমান কালের চতুষ্পদী ঘোড়াগুলো  পূর্বের ইয়োসিন যুগের Eohippus থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, যাদের সামনের পায়ে ৪টি ও পেছনের পায়ে ৩টি আঙুল ছিল। অভিব্যক্তির ধারায় Eohippus হতে Orohippus, Orohippus হতে Mesohippus, Mesohippus হতে Merychippus, Merychippus হতে  Pilohippus, pilohippus হতে Eqqus (আধুনিক ঘোড়া) এর আবির্ভাব ঘটেছে। এই আধুনিক ঘোড়ার চারটি পা বির্বতনের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী হয়েছে, যেখানে এর পূর্বপুরুষদের অবস্থা অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছিল।

বির্বতনের ধারায় চতুষ্পদী ঘোড়ার উৎপত্তি

অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণের আলোচনার আর্কিওপটেরিক্সের কথা বলেছিলাম। এখন আবার নতুন করে বলবো। এর জীবাশ্ম থেকে জানা যায় যে লম্বা লেজ বিশিষ্ট দ্বিপদী সরীসৃপ থেকে সম্ভবত বর্তমানকালের পাখিদের আবির্ভাব ঘটেছে। একারণে পাখিদেরকে “মহিমান্বিত সরীসৃপ” বলা হয়। এভাবেই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো জীবাশ্ম সংগৃহীত হয়েছে, যেগুলো জৈব বিবর্তনের জ্বলন্ত প্রমাণ। আর্কিওপটেরিক্স ছাড়াও আরও অনেক উল্লেখযোগ্য “ট্রানজিশনাল ফসিল” রয়েছে। যেমনঃ থেরিজাইনোসোরাস, টিকটালিক, কনফুসিয়াসোর্নিস ইত্যাদি।

ভ্রূণতত্ত্বীয় প্রমাণ

মজার বিষয় হলো, পূর্ণ ও পরিণত বিভিন্ন প্রার্থীদের মধ্যে দৈহিক গঠনে পার্থক্য থাকলেও তাদের ভ্রূণ অনেকক্ষেত্রে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। যেমন: মাছ, উভচর,পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী জীবের ভ্রূণের বাহ্যিক গঠনে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য রয়েছে। ব্যাঙ লার্ভা অবস্থায় মাছের বৈশিষ্ট ধারণ করে। বাঙাচির দেহে ফুলকা, পাখনা ও লেজ থাকে, যা সম্পূর্ণ মাছের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ। কয়েকদিন আগে বিজ্ঞানীরা এমন একটি ডাইনোসরের ভ্রূণ পরীক্ষা করেছেন, যেই ভ্রূণের সাথে পাখির ভ্রূণের মিল আছে।

মাছ, উভচর,পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী জীবের ভ্রূণের বাহ্যিক গঠনে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য রয়েছে

আসলে প্রাণীজগতের এরকম বিস্ময়কর সাদৃশ্যতার মূল কারণ হলো এদের পারস্পরিক আত্মীয়তা। অর্থাৎ মাছ, উভচর, পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ীদের একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিল। পরবর্তীতে বির্বতনের মাধ্যমে আলাদা আলাদা গোষ্ঠীর উৎপত্তি হয়েছে। হেকেলের মতবাদানুসারে, প্রতিটি জীব তার ভ্রূণাবস্থা হতে পরিণত ও পূর্ণ অবস্থায় পৌঁছানোর সময় তার পূর্বপুরুষের জীবন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে। Jens Schulze & Einhard Schierenberg এর লেখা গবেষণাপত্র বলছে যে নেমাটোডদের মধ্যেও বিবর্তনের ধারায় ভ্রূণগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

জীবভৌগোলিক প্রমাণ

বিবর্তনের স্বপক্ষে অন্যতম প্রমাণ হলো জীবভৌগোলিক প্রমাণ। বিজ্ঞানীদের মতে সম্ভবত পূর্বে পৃথিবীর সব জায়গায় একই পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহ একই রকম ছিল। তবে আবহাওয়া, দুর্যোগ, প্রয়োজন, অভিযোজন ইত্যাদির প্রভাবে পরবর্তীকালে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জীবের বিস্তার ঘটেছিল, যার ফলে জীবজগতে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। যেমন: একটা সময়ে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ দক্ষিণ আমেরিকার সাথে সংযুক্ত ছিল, যেকারণে উভয় অঞ্চলেই ক্যাঙ্গারু জাতীয় প্রাণী দেখা যায়, যাদের বৈশিষ্ট্য একে অপরের সাপেক্ষে কিছুটা আলাদা হলেও তাদের পূর্বপুরুষ একই।

জৈব বিবর্তনের স্বপক্ষে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ জীবভৌগোলিক প্রমাণটি হলো গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের ফিঞ্চ পাখি। ডারউইন এই ফিঞ্চ পাখিদের নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন, যেকারণে অনেকে এদেরকে “ডারউইনের ফিঞ্চ” বলে থাকেন। বিবর্তনের আলোচনার মূলত – ১৪ প্রজাতির ফিঞ্চ নিয়ে কথা বলা হয়। এদের মধ্যে  ৬ প্রজাতির ট্রী ফিঞ্চ, ৬ প্রজাতির গ্রাউন্ড ফিঞ্চ, ১ প্রজাতির ওয়ার্বলার ফিঞ্চ এবং ১ প্রজাতির ককোস ফিঞ্চ রয়েছে। এদের চলন, জীবন যাপন ও দৈহিক গঠনে পার্থক্য থাকলেও মূল কাঠামো একই। খাদ্য – গ্রহণের উপর ভিত্তি করে এদের চক্ষু, জিহ্বা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন দেখা যায়। কারণ এরা বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করার সেই অঞ্চলের খাদ্য ও পরিবেশের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে বিবর্তিত হয়েছে। যেমন: Camarhynchus crassirostris উদ্ভিদভোজী, আবার Camarhynchus psittacula পতঙ্গভুক । অর্থাৎ ভৌগোলিক পরিবেশের ভিত্তিতে অভিযোজিত হয়ে ফিঞ্চদের মধ্যে পৃথক পৃথক প্রজাতি উৎপত্তি লাভ করেছে। একইভাবে বিভিন্ন পাখি ও তৃণভোজী স্তন্যপায়ীদেরও বিবর্তন ঘটেছে।

প্রাণরাসায়নিক ও শারীরবৃত্তীয় প্রমাণ

আমরা যদি পরস্পর নিকটাত্মীয় জীবদের দিকে নজর দিই তাহলে দেখতে পারো যে তাদের জৈবনিক বৈশিষ্ট্যে প্রকৃতিগত মিল রয়েছে। প্রথমে সিরাম ও অ্যান্টিজেন সম্পর্কে কিছু কথা বলা যাক। আমরা জানি, রক্তরস বা সিরামে অ্যান্টিজেন থাকে। এক প্রাণীর সিরাম আরেক প্রাণীতে প্রতিস্থাপন করলে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। একটা উদাহরণ দিই। যদি আমার দেহের সিরামকে খরগোশের দেহে প্রবেশ করানো হয়, তাহলে অ্যান্টি-হিউম্যান সিরাম উৎপন্ন হবে। আগেই বলেছি যে সিরামে অ্যান্টিজেন থাকে। তাই অ্যান্টি হিউম্যান সিরামে অ্যান্টি হিউম্যান অ্যান্টিজেন থাকবে। যদি এই অ্যান্টি-হিউম্যান সিরামকে আপনার সিরামের সাথে মেশানো হয়, তবে এক ধরণের তলানি দেখা যাবে। কারণ অ্যান্টিজেন আর অ্যান্টিবডির বিক্রিয়ার ঐ তলানি সৃষ্টি হবে। এই অ্যান্টি হিউম্যান সিরাম যদি বানর, লেমুর, শিম্পাঞ্জি ইত্যাদি জীতের সিরামের সাথে মেশানো হয়, তাহলে দেখা যাবে, যেই প্রাণী মানুষের যত নিকটাত্মীয়, তলানি বা অধঃক্ষেপের পরিমাণটাও তত বেশি। চমৎকার, তাই না ?

গরু, ভেড়া, ঘোড়া ও শূকরের ইনসুলিন প্রস্তুতকারী অ্যামিনো অ্যাসিডে যথেষ্ট মিল রয়েছে

এবার বলব গরু, ভেড়া, ঘোড়া ও শূকরের ইনসুলিনের কথা। অবাক করার মতো বিষয় হলো এদের ইনসুলিন যে ৫১টি অ্যামিনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত, সেগুলোর মধ্যে ৩টি ছাড়া বাকিগুলো মূলত একই বিন্যাসে সাজানো। তাহলে আমরা কী বলতে পারি? এটা প্রমাণ করে যে গরু, ভেড়া ঘোড়া ও শুকরের একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিল। তবে বিবর্তনের ধারায় এদের ইনসুলিনে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

আবারও বানর মানুষের কথায় চলে আসি। উভয়ের দেহেই ট্রিপসিন নামক এনজাইম নিঃসৃত হয়, যেটা মূলত প্রোটিন পরিপাকে ভূমিকা রাখে। এটা থেকে প্রমাণিত হয় যে মানুষ ও বানর নিকটাত্মীয়। এই দাবির স্বপক্ষে আরেকটা বড় প্রমাণ হলো হিমোগ্লোবিনের ক্রিস্টাল। বানরের রক্তের সাথে গ্লেসিয়াল অ্যাসির্টিক অ্যাসিড মিশিয়ে উত্তপ্ত করলে হিমোগ্লোবিনের স্ফটিক বা ক্রিস্টাল তৈরি হয়। এভাবে মানুষের হিমোগ্লোরিনের ক্রিস্টাল তৈরি করা যায়। মজার বিষয় হলো,উভয়ের হিমোগ্লোবিন-ক্রিস্টাল দেখতে একই রকম। অর্থাৎ সাদৃশ্যের প্রকটতা প্রমাণ করে যে আধুনিক কালের মানুষ ও বানরের পূর্বপুরুষ একই। হোমিনিড ফাইলোজেনিতে এরকম আরও অনেক প্রাণরাসায়নিক প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়, যেগুলো Morris Goodman এর লেখা Biochemical Evidence on Hominid Phylogeny শীর্ষক গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণা থেকে দেখা যায়, বিভিন্ন জীবের পরিপাক এনজাইম, শ্বসন ও সালোকসংশ্লেষণের এনজাইম, বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হরমোন প্রভৃতির মাঝে লক্ষণীর সাদৃশ্য রয়েছে। খেয়াল করে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় যে সকল জীবের শ্বসনে কোনো না মিল আছেই। বায়বীয় জীবদের (যাদের শ্বসনে অক্সিজেন বাধ্যতামূলক) সবাত শ্বসন এবং অবায়বীয় জীবদের (যাদের শ্বসনে অক্সিজেনের প্রয়োজন নেই) অবাত শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিস ধাপে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। সাধারণত অবায়বীয় জীবদের শ্বসনে ইলেকট্রন ট্রান্সপোট চেইন ও ক্রেবসচক্র না থাকলেও বায়বীয় জীবদের শ্বসনে অভিব্যক্তির ধারায় এ দুটি ধাপ যুক্ত হয়েছে। এসব কিছু সাধারণ পুর্বপুরুষের ইঙ্গিত দেয়।

প্রাণীদের হরমোনেও বেশ মিল আছে

কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোনো কোনো হরমোন এক জীব থেকে আরেক জীবে প্রবেশ করালে সেই জীবেও হরমোনটি সুষ্ঠভাবে  কাজ করে। যেমন: থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন। গরুর থাইররেড হরমোন আমাদের দেহে প্রতিস্থাপন করা হলে এটি কাজ করবে। শুধু এক্ষেত্রে নয়, বরং স্তন্যপায়ীর থাইরয়েড হরমোন যদি উভচরে প্রবেশ করানো হয়, তবুও সেটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এর কারণ হলো সকল মেরুদন্ডী প্রাণীর গ্রোথ হরমোন প্রায় অনুরপ। আবার উভচরের মেলানোফোর প্রলম্বনকারী হরমোন স্তন্যপায়ীতে থাকলেও নিষ্ক্রিয় রাসায়নিক দ্রব্য হিসেবে অবস্থান করে। তবে এটিকে সঠিক প্রক্রিয়ার উভচরের দেহে প্রতিস্থাপন করলে এটা ঠিকমতোই কাজ করে। সবশেষে বলব এসকল হরমোনের প্যাঁচাল  বিবর্তনকে নির্দেশ করে এবং একটি সাধারণ পূর্বপুরুষের উপস্থিতির জানান দেয়।

আরও কিছু

অনেক কিছু নিয়ে আজকে আলোচনা করলেও জীবের ক্ষুদ্রতম একক তথা কোষ নিয়ে বিশেষভাবে কিছুই বলা হয়নি। বেচারা হয়ত বা অভিমান করেছে। এখন সময় এই অভিমান ভাঙানোর। সকল জীবের কোষের গঠনে কিছু না কিছু মিল আছে। যেমন: ব্যাকটেরিয়া এবং মানুষ উভয়ের কোষেই রাইবোজোম রয়েছে। আবার ভলভক্স এবং মাশরুম উভয়ই মাইটোকন্ড্রিয়নের মতো উপাদান ধারণ করে। একইভাবে সকল বহুকোষী ইউক্যারিওট জীবে প্রায় একই রকম নিউক্লিয়াস বিদ্যমান।

খেয়াল করে দেখলে সুপার কিংডম-১ এবং সুপার কিংডম-২ এর জীবদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। সুপার কিংডম-১ এর জীবদেহের দেহে রাইবোজোম ছাড়া আর কোনো কোষীয় অঙ্গাণু নেই। কিন্তু পরবর্তীতে বিবর্তনের ধারার সুপার কিংডম-২ এর জীবদের মধ্যে এসব অঙ্গাণুর আবির্ভাব ঘটেছে।

আবার শ্রেণিবিন্যাসগত দিক দিয়েও জীবদের মধ্যে একটি বিবর্তনিক ধারা রয়েছে। যেমন: আধুনিক ট্যাক্সোনমি অনুসারে সকল এককোষী আদি জীবগুলো প্রোটোজোয়ার অন্তর্ভুক্ত। এই প্রোটোজোয়ার অন্তর্ভুক্ত প্রোক্যারিওটদের থেকেই পরিফেরা পর্বের সরলতম বহুকোষী প্রাণী (মেটাজোয়া) উৎপত্তি লাভ করেছে। এরপর পর্যায়ক্রমে নিডারিয়া, প্লাটিহেলমিনথেস, নেমাটোডা, অ্যানেলিডা, আর্থ্রোপোডা, মলাস্কা, একাইনোডার্মাটা এবং কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের আবির্ভাব ঘটেছে। এই ৯টি পর্বের উৎপত্তিতে “জৈব বিবর্তন” একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। আমরা দেখতে পাই, পরিফেরার জীবেরা সরল হলেও কর্ডাটার প্রাণীগুলো বেশ জটিল, যা অভিব্যক্তির  ধারাকে ইঙ্গিত করে।

উপসংহার

বিবর্তনবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা লাভ করার বিবর্তনবিদগন এর স্বপক্ষে বহু সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, যার উপর ভিত্তি করে, বিজ্ঞানের আদালত ঘোষণা করেছে যে জৈব বিবর্তন সত্য, প্রাকৃতিক এবং প্রমাণিত। আমি সেই সাক্ষ্যগুলোর ছিটেফোটা আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আর এতক্ষণের মহাভারত থেকে দুটো জিনিসকে আমি তুলে ধরতে পেরেছি বলে মনে করি, যেগুলোর কথা শুরুতেই বলেছিলাম।

১. জীবদের একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ রয়েছে
২. জীবেরা পারস্পরিকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ

অর্থাৎ, আমরা বিবর্তনকে অস্বীকার করতে পারি না, পারি না এটাকে বাদ দিয়ে জীববিজ্ঞান পড়তে। সবশেষে বলব, “বিজ্ঞানের জয়ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে”।

সহায়ক সূত্র

১. What is evolution?-Your Genome
২. Darwin’s Theory of Evolution: Definition & Evidence || Live Science
৩. Evolution -an overview | ScienceDirect
৪. Transitional fossil – Wikipedia
৫. Evolution of the horse
৬. On the monophyletic evolution of the metazoa
৭. বিবর্তন প্রত্নজীববিজ্ঞান প্রাণিভূগোল-প্রফেসর কে এম আওরওঙ্গজেব

তাহসিন আলম উৎস
লিখতে লিখতে শিখতে চাই। বর্তমানে বিজ্ঞান ব্লগের পাশাপাশি সায়েন্টিয়া সোসাইটি, বিজ্ঞান পত্রিকা, হিগজিনো সায়েন্স সোসাইটি এবং বোসন বিজ্ঞান সংঘ এর সাথে যুক্ত আছি। আমি সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে প্রতিটা সমাজে বিজ্ঞানশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণের জয়ধ্বনি বাজবে। আর এই লক্ষ্যে বিজ্ঞানের একজন সৈনিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।