বিজ্ঞানের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রয়োগ দেখা যায় ফরেনসিক বিজ্ঞানে।অপরাধ তদন্তে। অপরাধী চোখকে ফাঁকি দিতে চাইলেও নীরব প্রমাণকে কথা বলিয়ে সত্য তুলে আনে বিজ্ঞান। পিটার থমাসের অসাধারণ ধারাভাষ্যে জনপ্রিয় সত্যঘটনাভিত্তিক অনুসন্ধানমূলক টিভি ধারাবাহিক ‘ফরেনসিক ফাইলস’-এর পর্বে পর্বে রয়েছে চাঞ্চল্যকর অপরাধ, রহস্যময় দুর্ঘটনা ও জটিল রহস্য সমাধানের গল্প। প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং নিরলস তদন্তের মাধ্যমে কীভাবে শত রহস্যের জট খুলেছে, তারই জীবন্ত দলিল এই সিরিজ। পাঠক, প্রতি সপ্তাহে আপনার জন্য থাকছে এই ধারাবাহিকের একটি পর্ব।
১৯৮৬ সালের এক মেঘলা দিন। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের নিউটাউনে হঠাৎ যেন উধাও হয়ে যান উড়োজাহাজের অ্যাটেনডেন্ট হেলা ক্রাফটস। কেউ তাঁকে সরিয়ে দিতে চায়, সেটা বুঝতে পেরেছিলেন। ফলে তিনি তাঁর আইনজীবী ও বন্ধুদের একবার বলেছিলেন, ‘আমার কিছু একটা হয়ে গেলে, সেটা নিছক দুর্ঘটনা হবে না।’
ব্যক্তিগত জীবনে হেলা ছিলেন ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের পাইলট রিচার্ড ক্রাফটসের স্ত্রী। তবে তাঁদের ১২ বছরের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। দীর্ঘ দিন পরপর বাড়িতে এসে হেলার ওপর চালাতেন শারীরিক নির্যাতন। ৩৯ বছর বয়সী হেলা ৩ সন্তানের জননী। এই বয়সে এসে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হেলা ‘অন্য সম্পর্কের’ গন্ধ পান। নিশ্চিত হতে একজন প্রাইভেট গোয়েন্দা নিয়োগ দেন তিনি। এবং হেলা ভুল ছিলেন না। গোয়েন্দা জানায়, রিচার্ড অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছেন।

১৯৮৬ সালের ১৮ নভেম্বর ফ্লাইট শেষে ফেরার পর হেলাকে আর কেউ দেখেনি। স্বামী রিচার্ড একবার জানান, হেলা ডেনমার্কে তাঁর অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়েছেন, আরেকবার বলেন, হেলা এক বন্ধুর সঙ্গে ছুটিতে ঘুরতে গিয়েছেন।
রিচার্ডের এলোমেলো কথায় সন্দেহ দানা বাঁধে। হেলার বন্ধুরা গেলেন পুলিশের কাছে। কিন্তু পুলিশ তাঁদের কথা আমলে নেয়নি। ফলে হেলার নিয়োগ করা সেই প্রাইভেট গোয়েন্দাই তদন্ত শুরু করেন। হেলার গৃহপরিচারিকা জানান, শোবার ঘরের কার্পেটে অদ্ভুত কিছু কালো দাগ ছিল। যা রিচার্ড পরে ছিঁড়ে ফেলেন এবং নতুন কার্পেট বসান। সন্দেহ বাড়তে থাকে, যখন দেখা গেল গ্যারেজের বড় ডিপ ফ্রিজটা উধাও। একইসঙ্গে রিচার্ডের ক্রেডিট কার্ডের রশিদ অনুযায়ী, হেলার নিখোঁজ হবার পরপরই বড় একটি কাঠ কাটার যন্ত্র ভাড়া করা হয়।
প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও এবার পুলিশ নড়েচড়ে বসে। কানেকটিকাট স্টেট পুলিশ রিচার্ডের মিথ্যা শনাক্তকরণ বা পলিগ্রাফ টেস্ট করে। ‘আপনি আপনার স্ত্রীকে খুন করেছেন’, ‘আপনি জানেন তিনি কোথায়’— পরীক্ষায় করা সকল প্রশ্নের জবাবে রিচার্ড ‘না’ বলেন। তার উত্তরের ধরন বা পরীক্ষা থেকে পলিগ্রাফ বিশেষজ্ঞরা ধরতে পারলেন না রিচার্ড মিথ্যা বলছে কি না।
এবার কানেকটিকাট স্টেট পুলিশ তাঁদের তুরুপের তাসটি সামনে নিয়ে আসেন। ড. হেনরি লি। স্টেট পুলিশের ফরেনসিক ডিরেক্টর। বিখ্যাত এই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নিলেন তদন্তেরর ভার।
রিচার্ডের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হেনরি লি তোশকের ওপর মানুষের রক্তের পাঁচটি খুব ক্ষুদ্র দাগের সন্ধান পান। যা ছিল ‘ও’ পজেটিভ গ্রুপের রক্ত। হেলার রক্তের গ্রুপও এটিই ছিল। রক্ত ছিটকে ছড়িয়ে পরার ধরন দেখে হেনরি নিশ্চিত হন— ভোঁতা কিছু দিয়ে আঘাতের ফলে এমন রক্তক্ষরণ হয়েছে।
তোশকের সুতো পরীক্ষায় অর্থোটোলিডিন দ্রবণ দিলে তা নীল রং ধারণ করে। রক্তে উপস্থিত আয়রন-সমৃদ্ধ হিমোগ্লোবিন পারঅক্সিডেজের মতো কাজ করে, যা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2) ভেঙে অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এই মুক্ত অক্সিজেন অর্থোটোলিডিন দ্রবণকে জারিত করে রং পরিবর্তন করে। এভাবে নমুনায় রক্তের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রজাতি পরীক্ষায় এটি যে মানুষের রক্ত, তা প্রমাণ হয়। অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় নির্ধারিত হয় রক্তের গ্রুপ। এবং শেষে, আণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটা ছিল সাধারণ রক্ত, মাসিকের নয়।

হেনরি নিশ্চিত, রক্ত তোশকের ওপর ১০ ডিগ্রি কোণে পড়েছিল। এর অর্থ বিছানার উপর ঝুঁকে থাকা বা হাঁটু গেড়ে বসা কোনো ব্যক্তির শরীর থেকে লেগেছে এই রক্ত। এর বাইরে, তোশকে ৬ ইঞ্চি দীর্ঘ একটি দাগের নমুনাও পাওয়া যায়। রিচার্ড যে তোয়ালগুলো ধুয়ে মুছে রেখেছিল, সেগুলোতেও অর্থোটোলিডিন দ্রবণ পরীক্ষায় রক্তের ছাপ পাওয়া যায়। হেলা আর বেঁচে নেই, এটা মোটামুটি নিশ্চিত হন ড. হেনরি। কিন্তু মানুষের মরদেহ তো উধাও হয়ে যেতে পারে না। সেটি কোথাও না কোথাও থাকবেই। সেটা বের করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

হেলা নিখোঁজ হওয়ার পর সপ্তাহজুড়ে তুষারপাত হয়। তেমনই এক ভোরে একজন চালক যখন স্নোপ্লাউ দিয়ে সেতুর বরফ সরাচ্ছিলেন, সেখানে একটা কাঠ কাটার যন্ত্র দেখতে পান। হঠাৎ এক ঝলকের জন্য কমলা রঙের পনচো (এক ধরণের ঢিলেঢালা জ্যাকেট) পরা এক লোক দেখেন তিনি। ঘণ্টাখানেক পর রিভার রোডে এই চালক আবারও সেই কাঠ কাটার যন্ত্রটির দেখা পান।
তদন্তকারীরা এই চালককে যন্ত্রটি যেখানে দেখা গিয়েছিল, সেই জায়গায় নিয়ে যান। হাওসাটোনিক নদীটি ঠিক এই জায়গাতেই এসে জোহর হ্রদের সঙ্গে মিশেছে।
নদীর তীরে তল্লাশিতে পুলিশের চোখে পড়ে কাঠের গুঁড়োর কয়েকটি স্তূপ। আর তার ভেতরেই লুকিয়ে ছিল একটা ছেঁড়া খামের টুকরো, যাতে স্পষ্টাক্ষরে লেখা হেলা ক্রাফটের নাম ও ঠিকানা। একইসঙ্গে সোনালি চুল, নীল রঙের সুতো, একটা ধূসর ধাতব টুকরো, ছোট ছোট হাড়ের মতো দেখতে কিছু উপাদানও ছিল সেগুলোর মধ্যে।
সূর্যের তাপে কাছের একটি দেওয়ালের বরফ গলে বা ঝরে পড়ে। সেই দেওয়ালের গায়ে, শুকনো পাতার ওপর লেগে ছিল নেলপলিশ লাগানো একটা নখ। এদিকে ডুবুরিরা নদীর তল তল্লাশি চালিয়ে একটা চেইন-স বা করাতের কিছু টুকরো খুঁজে পায়। অদ্ভুত বিষয় হলো, করাতটির সিরিয়াল নম্বর ঘষে তোলা ছিল।
করাতের খাঁজে লুকিয়ে ছিল মূল সত্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান— কিছু চুল, মাংসপেশির টিসু এবং অতি ক্ষুদ্র এক টুকরো সুতো। করাতের দাঁতে আটকে থাকা সুতোটি ছিল প্রায় অদৃশ্য। যা ছিল নীলচে-সবুজ রঙের সুতি কাপড়ের অংশ। যেমনটি হেলা রাতের পোশাক হিসেবে পরতেন। এবং নদীর পাড়ে কাদা ও আবর্জনার ভেতর পাওয়া অন্য সুতার সঙ্গে এই সুতাও হুবহু মিলে গেল।
এখন, এই করাতের মালিকের নাম বের করতে পারলে অনেক জট খুলে যাবে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এক বিশেষ রাসায়নিক তরল ব্যবহার করলেন। নম্বর মুছে ফেলতে বল প্রয়োগে করাতের ওপর একটি ঝাপসা স্তর তৈরি হয়, তা এই কেমিক্যাল ক্ষয় করে ফেলে। পদ্ধতিটা কাজে দিল।
ধাতব বস্তুর ওপর হাইড্রোলিক প্রেস বা ডাই দিয়ে কোনো সিরিয়াল নম্বর লেখা/খোদাই করা হলে, সেই নম্বর কেবল ধাতুর সঙ্গে আলতোভাবে বসে না, বরং নম্বরের ঠিক নিচের ধাতব স্তরটির পরমাণুগুলোও প্রচণ্ড চাপে বিকৃত ও সংকুচিত হয়। অপরাধী যখন নম্বরটি ঘষে বা অ্যাসিড দিয়ে মুছে ফেলে, তখনও ভেতরের সেই সংকুচিত ধাতব স্তরটি অক্ষত থাকে। তীব্র অম্লীয় রাসায়নিক মিশ্রণ (অ্যাসিড এচিং সলিউশন) বা ফ্রাইস রিএজেন্ট লুকিয়ে থাকা স্তরটি বের করতে সহায়তা করে। যা মূলত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, কিউপ্রিক ক্লোরাইড, পানি ও অ্যালকোহলের মিশ্রণ।

এই মিশ্রণটি আলতো করে ক্ষয়ে যাওয়া অংশে মাখানো হলে, এটি সংকুচিত বা বেশি চাপ পড়া অংশকে গলিয়ে বা ক্ষয় করে দেয়। ফলে সংকুচিত অংশটি বাকি অংশের চেয়ে নিচু হয় এবং অদৃশ্য হওয়া আসল নম্বরটি (৫৯২১৬১৬) করাতের গায়ে ভেসে উঠে। আর নম্বরটি মিলে গেল রিচার্ড বি. ক্রাফটসের ওয়ারেন্টি কার্ডের নম্বরের সঙ্গে।
মাইক্রোস্কোপের নিচে মোট ২,৬৬০টি চুল পরীক্ষা করা হয়। অনেকগুলো চুল ছিল কাটা। তবে তা কাঁচি দিয়ে কাটা নয়। এই চুলগুলো কি তাহলে হেলার? তা নিশ্চিত হতে দরকার হেলার চুলের নমুনা। তাঁর চুল আঁচড়ানোর ব্রাশেই তা পাওয়া গেল। হেলার চুলের ল্যাব পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর চুলে খুব অদ্ভুত ও বিরল এক ধরনের বৈশিষ্ট্য আছে— বিশেষ ধরনের খাঁজ বা রিজ। ফলে, দুটোর মিল খুঁজতে সমস্যা হলো না।
চুল মিলে যাওয়ার পরে এবার নখ পরীক্ষা। একজন রসায়নবিদ হেলার ঘরে পাওয়া নেলপলিশের বোতলের সঙ্গে নদীর পাড়ে পাওয়া নখে লেগে থাকা পলিশের জৈব যৌগগুলোর নিখুঁত বিশ্লেষণ করেন। ল্যাবের গ্রাফ স্পষ্ট জানায়, দুটো নেলপলিশ একই। ফরেসনিক বিজ্ঞান এই পরীক্ষা নখ ও চুলের সমাধান করে দিলেও হেলা যে মৃত— তা এখনও অনিশ্চিত।

হেনরি লি ধারণা করেন, নদীর পাড়ে পাওয়া হাড়গুলো সেখানে থাকা কাঠ কাটার যন্ত্রের ভেতর দিয়েই গেছে। যেটা রিচার্ড ভাড়া করেছিলেন। হেনরি নিশ্চিত হবার জন্য হুবহু একটি যন্ত্রে শূকর প্রবেশ করান। কারণ শূকরের হাড়ের সঙ্গে মানুষের হাড়ের কিছুটা মিল রয়েছে। হেনরি দেখলেন, কাঠ কাটার যন্ত্রটি নির্দিষ্ট ও অনন্য এক ছাপ বা কাটিং প্যাটার্ন তৈরি করে। যা নদীর পাড়ে পাওয়া টুকরোগুলোর কাটার ধরনের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
সেখানে পাওয়া টুকরোগুলোর মধ্যে কিছু অংশ যে একজন মানুষের তা বোঝা কঠিন ছিল না। নৃবিজ্ঞানী ড. হর্পার হাড়গুলো স্পেকট্রোগ্রাফের নিচে নিয়ে এর ছোটো ছোটো খাঁজ, দাগ পরখ করেন। সেই খাঁজগুলো কেবল মানুষের মাথার খুলির ওপরের অংশের রক্তনালীর কারণেই হয়। সম্ভব হয় মাথার একপাশের খুলির টুকরো শনাক্ত করা। একজন মানুষ মারা গিয়েছে, এটা নিশ্চিত। কিন্তু কে সে? হেলা? না অন্য কেউ?

ড. হর্পার তরল নাইট্রোজেনে হাড়ের কিছু টুকরো হিমায়িত করে সেগুলো পিষে মিহি গুঁড়ো তৈরি করেন। পরীক্ষায় দেখা গেল, হাড়গুলো ও-পজেটিভ রক্তধারী কোনো এক ব্যক্তির।
শেষে ড. হেনরি ধাতব টুকরোটির দিকে মন দিলেন। যা দেখে মনে হচ্ছিল ক্ষয়ে যাওয়া দাঁতে যে ধরনের ক্যাপ বসানো হয় তেমন কিছু একটা। তবে, এই ক্যাপে মানুষের শরীরের কোনো নমুনা ছিল না। কোনো উপায় না পেয়ে আবারও নদীর পাড়ে খোঁজ চালাতে বলেন হেনরি। পাঁচ দিন ধরে চলে নতুন তল্লাশি। এই তল্লাশিতে আরও কিছু নমুনা পাওয়া যায়। তার মধ্যে ছিল মানুষের একটা দাঁত। ডেন্টাল রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, দাঁতটি হেলা ক্রাফটসের।
সেই রাতে যা হয়েছিল
(পাঠক, পরবর্তী বর্ণনা আপনার জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।)
সকল প্রমাণ জড়ো করে তদন্তকারীরা ঘটনার একটি সম্ভাব্য চিত্র তৈরি করেন। ১৮ নভেম্বর রাতে হেলা বাড়ি ফেরার পর শোবার আগে নিজের পছন্দের রাতের নীল পোশাক পরেন। তখনই পকেটে চিঠিটা রেখে দেন। এ সময় রিচার্ডের সঙ্গে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে রিচার্ড ভারী টর্চলাইট দিয়ে হেলার মাথায় আঘাত করেন। রক্তক্ষণ শুরু হয়। দ্বিতীয় আঘাতে রক্ত তোশকের ওপর ছিটকে পড়ে। রিচার্ড হেলার মরদেহ চাদরে মুড়িয়ে বড় এক ফ্রিজারে রেখে দেন।

কয়েকদিন পর একটি বড় কাঠ কাটার যন্ত্র ভাড়া করেন। হেলার জমে যাওয়া দেহটি চেইন-স দিয়ে টুকরো টুকরো করেন এবং কাঠ কাটার যন্ত্রের মাধ্যমে নদীর তীরে ছড়িয়ে দেন। কাঠের সঙ্গে হেলার দেহাবশেষের টুকরো নদীতে পড়ে। কিছু নদীর পাড়ে ছড়িয়ে যায়। প্রমাণ লোপাটে রিচার্ড করাতের সিরিয়াল নাম্বার ঘষে তুলে ফেলেন। ভাঙার চেষ্টা করেন এবং শেষে নদীতে ছুড়ে ফেলে। রিচার্ড খুব সূক্ষ্ম বুদ্ধি এঁটে পুরো কাজটি করেছিলেন। কিন্তু ফরেনসিক বিজ্ঞান সেই সূক্ষ্ম বুদ্ধির চেয়ে সূক্ষ্ম প্রমাণ থেকে সত্য বের করে আনে। রিচার্ড ক্রাফটসকে তার স্ত্রীর হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং বিচার শেষে হয় ৫০ বছরের সাজার রায়। মানুষের শরীর নিজের ইতিহাস নিজেই কতটা স্পষ্টভাবে লিখে রাখে এই তদন্ত তা-ই প্রমাণ করে! মৃতদেহ ছাড়াও রহস্য-সমাধানে বিজ্ঞানের এ জয়, অপরাধ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক।
সূত্র: ফরেনসিক ফাইলস, সায়েন্স ডিরেক্ট।








Leave a Reply