ডেঙ্গুতে মৃত্যু ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

বর্ষা, আর্দ্রতা আর শহরের ছোটো ছোটো জলা জায়গা—এই তিনটি যখন একসঙ্গে আসে, ঠিক তখনই আমাদের পরিচিত কালো-সাদা ডোরাকাটা এডিস মশা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়। ডেঙ্গু শুধু সাধারণ জ্বর নয়। অনেকের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না বা সামান্য জ্বর হয়, কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। ডেঙ্গুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেক সময় জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে। তাই জ্বর কমে গেলেই পুরোপুরি নিরাপদ মনে করা ঠিক নয়। এই লেখায় সহজ ভাষায় ডেঙ্গু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে—ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায়, শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটায়, কোন লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হতে হবে, কখন কোন পরীক্ষা করা প্রয়োজন, চিকিৎসার সময় কী করা উচিত এবং কী এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সবাই কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে।

সূচী

ডব্লিউএইচও (WHO) দেওয়া তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখন ডেঙ্গু ঝুঁকিতে, এবং প্রতি বছর আনুমানিক ১০-৪০ কোটি সংক্রমণ হতে পারে। সংস্থাটিতে ২০২৪ সালে ১ কোটি ৪৪ লাখের বেশি ডেঙ্গু কেস রিপোর্ট হয়। [1,2]

ডেঙ্গু কী?

ডেঙ্গু হলো একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই রোগের কারণ হলো ডেঙ্গু ভাইরাস। এটি ফ্ল্যাভিভাইরাস নামের একটি ভাইরাস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধানত চারটি ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে—ডেনভি-১, ডেনভি-২, ডেনভি-৩ এবং ডেনভি-৪ (DENV-1, DENV-2, DENV-3 এবং DENV-4)। কোনো ব্যক্তি একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে সাধারণত সেই একই ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে অন্য তিনটি ধরনের বিরুদ্ধে এই সুরক্ষা খুব বেশি কার্যকর হয় না বা কিছু সময়ের জন্য থাকে। তাই একজন মানুষ তার জীবনে একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। [1,3,12]

পুনরায় ভিন্ন সেরোটাইপের ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এর কারণ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তখন জটিলভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এ ক্ষেত্রে “অ্যান্টিবডি-ডিপেন্ডেন্ট এনহেন্সম্যান্ট” (ADE- antibody-dependent enhancement) নামের একটি প্রক্রিয়া বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন। তবে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলেই যে রোগটি গুরুতর হবে, তা নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির বয়স, ভাইরাসের ধরন, আগের সংক্রমণের প্রভাব এবং শরীরের সামগ্রিক অবস্থার মতো বিভিন্ন বিষয় রোগের তীব্রতা নির্ধারণ করে। [12,14]

ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায়?

ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর প্রধান কারণ হলো এডিস এজেপ্টি নামক মশকি। এছাড়া এডিস অ্যালবোপিক্টাস মশকিও ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষকে মশা কামড়ালে তার শরীরে থাকা ভাইরাস মশার দেহে ঢুকে পড়ে। পরে সেই মশা অন্য কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তার শরীরেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণে বাড়িতে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শুধু চিকিৎসা করলেই হবে না, তাকে মশার কামড় থেকেও রক্ষা করতে হবে। কেননা আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ালে সেই মশার মাধ্যমে পরিবারের সুস্থ সদস্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন। মশার মাধ্যমে সংক্রমণের এই চক্র বন্ধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। [13]

এডিস মশা মানুষের কাছাকাছি, বাড়ির ভেতরে এবং আশপাশের জলা জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। আঙিনায় জমে থাকা পরিষ্কার স্থির পানিতে এরা ডিম দেয়। যেমন: বালতি, ফুলের টব, পুরোনো বোতল, গাড়ির টায়ার, ড্রাম, ফ্রিজের নিচের ট্রে বা নির্মাণস্থলে জমা পানিতে এদের বংশবিস্তার হয়। এডিশ মশা দিন-রাত উভয় বেলায়ই কামড়ায়। তাই শুধু রাতে মশারি ব্যবহারই যথেষ্ট নয়; দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। [1,13]

চিত্র ১. মানুষ–মশা–মানুষ ডেঙ্গু সংক্রমণচক্র। তথ্যসূত্র: WHO ও CDC [1,13]।

ডেঙ্গু সংক্রমণের সময় শরীরে কী ঘটে: জ্বরের পরের সময়টাই কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সাধারণত সংক্রমণের ৪-১০ দিন পর ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ দুই দিন থেকে প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। রোগাক্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগকে তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়— ফেব্রাইল ফেজ (Febrile phase), ক্রিটিক্যাল ফেজ (Critical phase) এবং রিকভারি ফেজ (Recovery phase)। রোগীভেদে ধাপগুলো আলাদা হয়। রোগীর অবস্থা বুঝতে এই ধাপগুলো সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। [1,3]

ফেব্রাইল ফেজে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরের পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ত্বকে লালচে দাগ (র‍্যাশ) দেখা দিতে পারে। কয়েকদিন পর যখন জ্বর কমতে শুরু করে, তখন কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ২৪–৪৮ ঘণ্টার একটি ঝুঁকিপূর্ণ সময় বা ক্রিটিক্যাল ফেজ শুরু হতে পারে। এই সময়ে রক্তনালি থেকে রক্তের তরল অংশ বা প্লাজমা বেরিয়ে যেতে পারে, একে প্লাজমা লিকেজ বলে। ফলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, শরীরে পানি জমতে পারে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। [3,6]

সুস্থ হওয়ার ধাপ বা রিকভারি ফেজে শরীরের তরল ঘাটতি পূরণ হতে থাকে। এ সময় রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে, ধীরে ধীরে দুর্বলতা কমে, ক্ষুধা ফিরে আসে এবং প্লাটিলেট বা অনুচক্রিকার সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। তাই শুধু “প্লাটিলেট কত আছে”—এটি দেখে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বোঝা যায় না। রোগীর রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, প্রস্রাবের পরিমাণ, শ্বাসের অবস্থা, হেমাটোক্রিটের পরিবর্তন এবং অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ একসঙ্গে বিবেচনা করে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। [3,6]

চিত্র ২. ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল তিন ধাপের সরলীকৃত টাইমলাইন। দিনের সংখ্যা আনুমানিক; ব্যক্তিভেদে পরিবর্তন হয়। তথ্যসূত্র: CDC [3,6].

সাধারণ উপসর্গ, সতর্কসংকেত ও সিভিয়ার ডেঙ্গু

সিডিসি’র (CDC) দেওয়া তথ্য মতে, ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ প্রকাশ পায়। যারা অসুস্থ হন, তাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রে রোগটি মৃদু বা মাঝারি ধরনের থাকে এবং সাধারণ চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। তবে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় বিশজনে একজন সিভিয়ার বা গুরুতর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই “সব ডেঙ্গুই ভয়ংকর” – এই ধারণা যেমন সঠিক নয়, তেমনি “ডেঙ্গু হলে কোনো সমস্যা হয় না” – এই ধারণাটিও ভুল ও বিপজ্জনক। [3,4]

সাধারণ উপসর্গসতর্কসংকেতসিভিয়ার ডেঙ্গুর বৈশিষ্ট্য
উচ্চ জ্বর; মাথাব্যথা; চোখের পেছনে ব্যথাতীব্র/স্থায়ী পেটব্যথাপ্লাজমা লিকেজ ও শক
পেশি, হাড় ও জয়েন্টে ব্যথাএকটু পর পর বমি হওয়াতীব্র রক্তক্ষরণ
বমি বমি ভাব বা বমি; র‍্যাশনাক, দাঁতের মাড়ি বা অন্য মিউকোসাল রক্তপাতগুরুতর অঙ্গ-সম্পৃক্ততা (যেমন যকৃত, মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র)
ক্লান্তি; কখনও গ্রন্থি ফুলে যাওয়াঅস্বাভাবিক দুর্বলতা, ঘুমঘুম ভাব বা অস্থিরতাশ্বাসকষ্ট, চেতনার পরিবর্তন বা হেমোডাইনামিক অস্থিতিশীলতা

অনেক সময় জ্বর কমে যাওয়ার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিভিয়ার ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ সময় প্রচণ্ড পেট ব্যথা, বারবার বমি, নাক বা দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তপাত, বমি বা পায়খানায় রক্ত আসা, অত্যাধিক দুর্বল অনুভব হওয়া বা অস্থিরতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। [4,6]

চিত্র ৩. সিভিয়ার ডেঙ্গুর প্রধান সতর্কসংকেত। তথ্যসূত্র: CDC ও WHO [1,4,6]।

কাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি নজরদারির প্রয়োজন?

সিভিয়ার ডেঙ্গু যেকারো হতে পারে। তবে কারু ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা প্রয়োজন। যেমন: যাদের আগে ডেঙ্গু হয়েছিল, ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, বা যাদের শরীর আগে থেকেই দুর্বল। এছাড়া যারা পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বা তরল পান করতে পারেন না, সময়মতো হাসপাতালে যেতে পারেন না, কিংবা যাদের মধ্যে ডেঙ্গুর সতর্কসংকেত দেখা দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে দ্বিতীয় সংক্রমণের বেলায় যদি ভিন্ন সেরোটাইপের ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তাহলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। [1,3,6]

গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। খুব কম ক্ষেত্রে হলেও, মা থেকে শিশুতে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। একইভাবে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীরে পানিশূন্যতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া বা অন্য কোনো অঙ্গের সমস্যা তুলনামূলক দ্রুত দেখা দিতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে “বাড়িতে দেখি, পরে হাসপাতালে যাব” বলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। [13]

ডেঙ্গু পরীক্ষা: এনএস১, পিসিআর, আইজিএম আর সিবিসি—কখন কী বোঝায়?

ডেঙ্গু শনাক্ত করার জন্য সাধারণত রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তবে ডেঙ্গু সন্দেহ হলে পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করে চিকিৎসায় বিলম্ব করা উচিত নয়। অসুস্থতার প্রথম ৭ দিনের মধ্যে এনএএআরটি/আরটি-পিসিআর (NAAT/RT-PCR) বা এনএস১ অ্যান্টিজেন (NS1 antigen) পরীক্ষার সঙ্গে আইজিএম (IgM) অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা যেতে পারে। ৭ দিনের পর সাধারণত IgM পরীক্ষা বেশি কার্যকর হয়। কোন পরীক্ষা করা হবে তা নির্ভর করে স্থানীয় ল্যাবের সুবিধা, পরীক্ষণ কিটের মান এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের ওপর। [5]

সিবিসি ও প্লাটিলেট: কী দেখবেন?

শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা বা প্লাটিলেট কমে গেলে তা সিবিসি (CBC) পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়। তবে শুধু প্লাটিলেটের পরিমাণ দিয়ে রোগীর অবস্থা বোঝা যায় না; বরং সময়ের সঙ্গে প্লাটিলেট কমছে না বাড়ছে—এটা খেয়াল রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রক্তের হেমাটোক্রিটের মাত্রা বাড়ছে কি না, রোগীর রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক আছে কি না, প্রস্রাবের পরিমাণ ঠিক আছে কি না, এবং রোগী পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কি না—এসব বিষয়ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। [3,6]

ভুল ধারণা ভাঙুন: প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলেই যে ডেঙ্গু গুরুতর (সিভিয়ার) হয়ে গেছে—এমনটা সবসময় নয়। আবার অনেক সময় প্লাটিলেট খুব বেশি না কমলেও শরীরে পানি জমা (প্লাজমা লিকেজ), রক্তচাপ কমে শকের মতো সমস্যা বা অন্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। তাই শুধু প্লাটিলেটের রিপোর্ট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। রোগীর জ্বর, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য লক্ষণ ও পরীক্ষার ফল—সবকিছু মিলিয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

চিকিৎসা: ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তবে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে জীবন বাঁচানো সম্ভব

ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। তাই চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো শরীরে পর্যাপ্ত পানি ও তরলের ঘাটতি পূরণ, জ্বর ও ব্যথা কমানো, রোগীর অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া। রোগী যদি নিজে পর্যাপ্ত তরল পান করতে পারেন, প্রস্রাব স্বাভাবিক থাকে এবং কোনো বিপদের লক্ষণ না থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। [1,6,7]

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং বেশি করে তরল জাতীয় খাবার খাওয়া। পানি, খাবার স্যালাইন, স্যুপ এবং ইলেক্ট্রোলাইট পানীয় শরীরে লবণ ও পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
  • জ্বর বা ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সঠিক মাত্রায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।
  • অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা অন্য ধরনের ব্যথানাশক NSAID ওষুধ এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • যদি বারবার বমি হয়, শরীরের কোথাও রক্তপাত দেখা যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব হয়, অথবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে। [6,7]

স্যালাইন কেন নিজের ইচ্ছায় দেওয়া উচিত নয়?

ডেঙ্গু রোগীর শরীরে শিরার মাধ্যমে তরল (IV fluid) দেওয়ার সময় খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ, প্রয়োজনের তুলনায় কম তরল দিলে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে, ফলে রক্তচাপ নেমে গিয়ে রোগী শকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অন্যদিকে, অধিক পরিমাণে তরল দিলে তা শরীরে জমে যেতে পারে। বিশেষ করে ফুসফুসে পানি জমলে শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। রোগের জটিল পর্যায় বা ক্রিটিক্যাল ফেজ শেষ হওয়ার পর এই ঝুঁকি আরও বেশি থাকে। কারণ, এ সময় রক্তনালির বাইরে চলে যাওয়া তরল ধীরে ধীরে আবার রক্তের মধ্যে ফিরে আসে।

এই কারণে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তরলের পরিমাণ কমানো বা বাড়ানো হয়। এ সময় চিকিৎসকরা রোগীর রক্তের ঘনত্ব (হেমাটোক্রিটের মাত্রা), প্রস্রাবের পরিমাণ এবং শরীরে রক্ত সঠিকভাবে চলাচল করছে কি না—এসব বিষয় লক্ষ্য করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) গুরুতর ডেঙ্গু রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ ধরনের তরল (ক্রিস্টালয়েড ফ্লুইড) দেওয়ার পরামর্শ দেয়। এছাড়া রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য রক্ত সঞ্চালনের অবস্থা যাচাইয়ের সূচক ব্যবহার করা হয়। [7]

প্লাটিলেট কম মানেই সবসময় প্লাটিলেট দিতে হবে না—রোগীর অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি

প্লাটিলেট কমে গেলে দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। তবে রক্তপাত না হলে শুধু প্লাটিলেটের পরিমাণ বাড়াতে নিয়মিতভাবে প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আধুনিক চিকিৎসা নির্দেশনাতেও এমন রোগীদের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় প্লাটিলেট দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না। ডব্লিউএইচও (WHO)-এর ২০২৫ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, ডেঙ্গু বা অন্যান্য ভাইরাসজনিত গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীর প্লাটিলেটের সংখ্যা ৫০,০০০/µL-এর নিচে নেমে গেলেও যদি সক্রিয় রক্তপাত না থাকে, তাহলে শুধুমাত্র প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্লাটিলেট দেওয়া উচিত নয়। তবে কোনো রোগীকে প্লাটিলেট দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকই নেবেন। এ ক্ষেত্রে রোগীর রক্তপাতের অবস্থা, রক্তচাপ ও শরীরে রক্ত চলাচলের পরিস্থিতি, কোনো চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রয়োজন আছে কি না এবং অন্যান্য শারীরিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। [7]

একইভাবে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বা নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনো বিশেষ চিকিৎসা নিয়মিতভাবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় না। অ্যান্টিবায়োটিক ডেঙ্গু ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণে হিতে বিপরীত হতে পারে। তবে রোগীর শরীরে কোনো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। [7]

ডেঙ্গু হলে কী খাবেন? কোনো ম্যাজিক ফুড নেই, পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই যথেষ্ট

ডেঙ্গু সারাতে কোনো নির্দিষ্ট ফল, জুস, পাতার রস বা বিশেষ খাবারকে এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। রোগী খেতে পারলে তাকে সহজে হজম হয় এমন খাবার দিতে হবে। পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত শক্তি ও আমিষযুক্ত খাবার এবং নিয়মিত পানি বা তরল খাবার খাওয়ানো জরুরি। ORS বা খাবার স্যালাইন শরীরে পানিশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে। তবে যাদের হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা বা অন্য কোনো জটিলতা আছে, তাদের কতটুকু তরল দেওয়া যাবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করতে হবে।

পেঁপে পাতার রস খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকুন: কিছু গবেষণায় দাবী করা হয়েছে, পেঁপে পাতার রস রক্তের প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি ডেঙ্গুর গুরুতর অবস্থা ঠেকানো বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। নিজের তৈরি বা পরিমাণ না জেনে কোনো হারবাল রস খেলে শরীরে ক্ষতি হতে পারে। এতে ওষুধের সঙ্গে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে বা লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। তাই ডেঙ্গু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং বিশ্রাম নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা কখনোই বাদ দেবেন না।

প্রতিরোধ: শুধু মশা নিধন নয়, মশার বংশবিস্তার ঠেকানোই অধিক কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী উপায়।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো মশার বংশবিস্তার রোধ করা। এডিস মশা শুধু বড় নর্দমায় নয়, বাড়ির আঙিনার ছোটো ছোটো পানি জমা পাত্রেও জন্মাতে পারে। মশার ডিম শুকনো জায়গাতেও অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। পরে সেই পাত্রে আবার পানি জমলে ডিম থেকে মশার লার্ভা বের হয়। তাই শুধু পানি ফেলে দিলেই হবে না, পাত্রের ভেতর ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করাও জরুরি। সপ্তাহে অন্তত একবার যেসব পাত্রে পানি জমতে পারে সেগুলো খালি করে ভালোভাবে পরিষ্কার ও ঘষে ধুয়ে নিতে হবে। [1,12]

চিত্র ৪. পরিবারভিত্তিক ডেঙ্গু প্রতিরোধের ৬টি বাস্তব পদক্ষেপ। তথ্যসূত্র: WHO [1,12]।

মশা নিধনে শুধু ফগিং যথেষ্ট নয়

ফগিং বা বিশেষ ওষুধের ধোঁয়া ছড়ানোর মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত বড় মশা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে এটি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী সমাধান নয়। বাড়ি ও আশপাশে যেখানে মশা জন্মায় সেই স্থানগুলো পরিষ্কার না করলে নতুন মশা আবার জন্মাবে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য একসঙ্গে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—পানি জমার স্থান পরিষ্কার করা, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, নিয়মিত নজর রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। [9,12]

ডেঙ্গু রোগীর পরিচর্যা যেভাবে করবেন

জ্বর কখন শুরু হয়েছে তা লিখে রাখুন এবং প্রতিদিন খেয়াল রাখুন। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার দিনটি মনে রাখুন, কারণ এই সময় রোগীর অবস্থা পরিবর্তন হতে পারে। রোগী কতটুকু পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খাচ্ছে, কতবার বমি করছে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় প্রস্রাব কম হচ্ছে কি না তা খেয়াল করুন।

নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

  • পেটব্যথা শুরু হওয়া
  • শরীরের কোথাও রক্তপাত হলে
  • ত্বক ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
  • অস্বাভাবিক বেশি ঘুম ঘুম ভাব বা অস্থিরতা
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • চিকিৎসক যদি রক্ত পরীক্ষা আবার করতে বলেন, তাহলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা করান। শুধু প্লাটিলেটে কমছে কি না তা নিয়ে বেশি চিন্তা না করে পুরো রক্ত পরীক্ষার ফলাফল এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করুন।
  • রোগীকে মশার কামড় থেকে রক্ষা করুন। এজন্য মশারি ব্যবহার করুন, মশা তাড়ানোর উপকরণ ব্যবহার করুন এবং ঘরের মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিন। [4,6,13]

ডেঙ্গুর টিকা: কী জানা জরুরি?

ডেঙ্গুর টিকা সম্পর্কে নিয়ম ও সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে। কোন দেশে টিকা দেওয়া হবে, কারা নিতে পারবেন এবং কীভাবে দেওয়া হবে—এসব বিষয় দেশভেদে আলাদা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বর্তমানে কিউডেঙ্গা (TAK-003) নামের একটি টিকাকে ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু ও কিশোরদের জন্য সরকারি টিকা কার্যক্রমে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে। এই টিকা সাধারণত দুইবার দিতে হয়, এবং দুই ডোজের মধ্যে প্রায় তিন মাসের বিরতি রাখা হয়।

তবে মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গুর টিকা নিলেই সব ধরনের ডেঙ্গু থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যায় না। তাই টিকার পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ ও মশার কামড় থেকে বাঁচার ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে। টিকা কখনোই মশা নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নয়। প্রথম আলোর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখনও ডেঙ্গু টিকার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। একটি দেশের জন্য দেওয়া আন্তর্জাতিক পরামর্শ অন্য সব দেশে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: ডেঙ্গু কেন এখন শুধু মৌসুমি রোগ নয়, বরং বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা?

বাংলাদেশে ডেঙ্গু অনেক বছর ধরেই একটি পরিচিত রোগ। সাধারণত বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যায়; কেননা এই সময়ে এডিস মশার বংশবিস্তার করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। তবে বর্তমানে ডেঙ্গু শুধু বর্ষাকালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সারা বছরই মানুষের জন্য একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠছে।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছিল, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, বেশি তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে এডিস মশার সংখ্যা বেড়ে যায়, ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জলবায়ুর পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ন, নির্মাণকাজ, বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা, পানি সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল—এসব কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার সহজ হচ্ছে। [9]

২০২৬ সালেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) স্বাস্থ্য জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করছে। ডেঙ্গুর আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়, তাই এই লেখায় নির্দিষ্ট দিনের সংখ্যা উল্লেখ না করে সরকারি সরাসরি তথ্য দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জাতীয় নির্দেশিকা (৫ম সংস্করণ, ২০২৫) বাংলাদেশে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। [10,11]

শেষ কথা: ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় শক্তি—সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া

ডেঙ্গুর বিষয়টি আসলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে জড়িত। প্রথমটি হলো মশা জন্মানোর আগের সময় এবং দ্বিতীয়টি হলো রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার আগের সময়।

প্রথম ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলো—এডিস মশার জন্মানোর জায়গা ধ্বংস করা, নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সবাই মিলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেওয়া।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—রোগীর বিপদের লক্ষণগুলো দ্রুত বুঝতে পারা, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, শরীরে প্রয়োজনীয় পানি ও তরলের ঘাটতি পূরণ করা এবং সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অনুসরণ করা।

ডেঙ্গু নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে অবহেলাও করা যাবে না। শুধু জ্বর আছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না; বরং জ্বর কমে যাওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন আছে—এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। অনেক সময় এই একটি বিষয় দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তে সাহায্য করে এবং জীবন বাঁচাতে পারে।

তথ্যসূত্র:

☕ Support Us